করোনাভাইরাস: সব আছে কিন্তু কিছুই নেই!

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২৪ মার্চ ২০২০, ২২:১৭:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

পৃথিবী হঠাৎ থেমে গেল। টাকা আছে ব্যবহার নেই। দেহ আছে মন নেই। জায়গা আছে যাবার ব্যবস্থা নেই। বন্ধু আছে দেখা নেই। পা আছে চলন নেই। মাথা আছে তাতে আবার ঘিলু নেই। কি হবে এখন বাক্স ভরা টাকা, সোনা, গহনা, বিশাল বসতবাড়ি এবং গাড়ি দিয়ে? যদি তা মন খুলে ব্যবহারই করতে না পারলাম?

খুব তাড়াতাড়িই সব শেষ হতে চলেছে। মার্চ মাসের শেষের দিকে সুইডেন যেমন কৃষি কাজে হাত দেয়, মাঠে নানা ধরনের ফসল ফলাতে ব্যস্ত হয়ে পরে, ইউরোপের অন্যান্য দেশের গেস্ট কর্মীরা এ সময়ে এখানে এসে এসব কাজে সাহায্য করে।

এখন কেউ আসতে পারছে না করোনা ভাইরাসের কারণে। ইন্ডাস্ট্রি একের পর এক বন্ধ হতে চলেছে। রেস্টুরেন্টে লোক নেই, ট্যুরিস্টদের আনাগোনা বন্ধ। বয়স্ক লোকদের ঘরের বাইরে দেখা যাচ্ছে না। সব থাকতেও কোথাও কেউ নেই, কিছু নেই। মনে হচ্ছে সবাই বেঁচে মরে আছি, কিন্তু কেন এমনটি হলো?

পৃথিবী সৃষ্টির পর নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন মানুষ জাতি হয়েছে। সব সমস্যার সমাধান মানুষ করতে পারেনি। যেমন খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এ সবগুলোই কিন্তু বেসিক চাহিদা। অন্যদিকে আমরা আমাদের ক্যাপাসিটির বাইরে অনেক কিছুর সমাধান করেছি।

মনে হচ্ছে ধাপে ধাপে সবগুলো স্টেপ পার না হয়ে জাম্প করে কয়েকটি স্টেপ উপরে উঠেছিলাম তাই হোমওয়ার্ক করা দরকার যে কাজগুলো শেষ না করে এসেছি, তার ওপর। যেমন বেসিক চাহিদার সমাধান করা। আজ যদি বেসিক চাহিদার সমাধান করা হতো তাহলে পৃথিবীর অবস্থা এমনটি হতো না।

সামান্য একটি ভাইরাস সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে ফেলছে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে। মনে হচ্ছে এত যুগ ধরে যা করেছি তাসের ঘরের মত তার সব ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যেখানে ছিলাম সেখানে কি আবার ফিরে যেতে পারব?

পারলেও কত দিন, কত মাস বা কত বছর লাগবে কেউ কি বলতে পারবে তা আজ এ মুহূর্তে? যাদের হাতে প্রচুর ক্ষমতা এবং প্রাচুর্য ছিল তারা কি পারত না মানুষ জাতির সেই বেসিক চাহিদাগুলোকে পূরণ করতে?

আজ তাদের সামনেই সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তারপরও কি তারা শপথ করছে যদি আবার সুযোগ আসে তাহলে বেসিক চাহিদা পূরণ করব প্রথমে? কি মনে হয়? আমি জানি অনেকে সত্যি মন প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে।

যেহেতু লিখছি বাংলায় তাই বাংলাদেশের ওপর আলোচনা করব আজ কিছুটা। বিল গেট বা জ্যাক মার মত ধনী মানুষের জন্ম হয়ত হয়নি সেখানে; তবে বড় লোকের অভাব নেই যারা দেশের এই বিপদে ডাক্তারদের জন্য কিছু মাস্ক, গাউন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু না, সে কাজগুলো করছে জ্যাক মা।

পাহাড় সমান যে অর্থ সঞ্চয় করলেন কি করবেন তা দিয়ে? মানুষ সত্যি বড় ভয়ঙ্কর জাতি তা না হলে এমন হবে কেন? এখনও না খেয়ে পৃথিবীর মানুষ মরছে, এখনও হাজারও শিশু জন্মের শুরুতেই ঝরে পড়ছে, এখনও অনেকের রয়েছে প্রচুর সম্পদ, তা স্বত্বেও তারা দিতে শেখেনি। শিখেছে শুধু দুর্নীতি করতে আর নিতে।

আজ মনে হচ্ছে কী হবে এত সব প্রাচুর্য থেকে যদি সত্যিই তার সঠিক ব্যবহার আর কোনদিন না হয়! মনে রাখা দরকার পৃথিবীর সমস্যা এখন বাংলাদেশের সমস্যা। করোনায় হয়ত মাত্র চারজন মারা গেছে কিন্তু ভেবেছেন কি গার্মেন্টসগুলো বন্ধ হতে যাচ্ছে এবং প্রায় এক কোটি বাংলার মানুষ সারা বিশ্ব জুড়ে কাজ করছে। যদি গ্লোবাল ক্রাইসিসের কারণে দেশে ফিরে আসে, কী নিয়ে দেশে ফিরবে? রেমিট্যান্স নাকি করোনা ভাইরাস?

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত