মানুষের সেবায় বাঁধা কেন?
jugantor
মানুষের সেবায় বাঁধা কেন?

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

০৩ মে ২০২০, ০৭:৫৭:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

দুর্যোগের সময় সরকারি ত্রাণ নিতে লজ্জা পাবার কিছু নাই। এটা ভিক্ষা নয়, জনগণের টাকায় রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডার থেকে ত্রাণ দেয়া হয় যা বিপদে জাতির অধিকার। সরকারি ত্রাণ দেওয়ার সময় ছবি তুলে নবাবের মত ভাব দেখানোর অধিকার কারো নাই। এ ত্রাণ কারও বাবার সম্পদ নয়। এ বিষয়টি সম্বন্ধে কি দেশের লোক সচেতন? 

আজ যখন ফেসবুকে দেখলাম ছেলে তার বাবার হাতে ত্রাণ তুলে দেবার সময় ছবি তুলে স্ট্যাটাস দিয়েছে তখন বেশ মনে আঘাত পেয়েছি। যেমনটি মনে আঘাত পেয়েছি ফেসবুকে কাঁচা ধান কাটতে দেখে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সংসদ সদস্যদের সাহায্যর হাত বাড়াতে কৃষকদের ধান কাটার কাজে। দেখা গেল সংসদ সদস্যসহ সেই এলাকার লোকজন গিয়ে কাঁচা ধান কাটছে। এসব ছবি তোলা বা এ ধরণের সিনক্রিয়েট করার আগে কেউই কি ছিল না সেখানে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার? 

নাকি জাতি তার সাহস এবং সততার পুরোটাই হারিয়ে ফেলেছে? শেরে বাংলার দেশের মানুষ এত ভীতু হতে পারে এর আগে জানতাম না! ইদানিং একটি নির্দেশনার মাধ্যমে সরকার প্রধান এবং সেই সঙ্গে জনগণ যেন সঠিক তথ্য না পায় তার চক্রান্ত চলছে। তথ্য প্রাপ্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে মিডিয়া। সেটার মাধ্যমে আমরা অনেক তথ্য জানতে পারি এবং এই তথ্য সরবরাহ বন্ধ করার জন্য অনেকে উঠে পড়ে লেগেছে। 

প্রশাসনের কাজ জনগণের সেবা করা কিন্তু তারা দেশ স্বাধীন হবার পরও আজ জনবিচ্ছিন্নভাবে তারা তাদের প্রশাসন চালাচ্ছে। এত সাহস তারা কোথা থেকে পায়? নাকি যারা প্রশাসনের ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত তাঁরা অনেক বেশি প্রভাবশালী?
 
৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে দেশের জাতীয় সংসদ গঠিত অথচ প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কাউকে এই দুর্যোগ সময়ে তাদের সক্রিয় অংশ গ্রহণ দেখছি না। কিছু দিন আগে সচিবদের নাম এসেছে জেলা পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্বে। দেশের এই দুর্দিনে মন্ত্রী এবং এমপি মহোদয়দের দায়িত্ব কর্তব্য কী, তা কি তারা জানেন? 

আমরা আর সইতে পারছি না। আট কোটি মানুষকে যে চেতনা, যে আশ্বাস আর বিশ্বাস দিয়েছিলেন জাতির পিতা তার কিছুই আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি না। আজকের তরুণ প্রজন্ম মনে করে স্বাধীনতার চেতনা অতীতের ভুত-পেত্নীর মত ভুয়া গল্প।
 
জানি উপদেশ নেবার মত কেউ দেশে নেই, কারণ আমরা শুধু উপদেশ আর আদেশ দিতে শিখেছি, নিতে নয়। পুরো দেশে সবাই ঘুষ নেয় কিন্তু উপদেশ নেয় না কেউ! আশ্চর্য? যদিও এর পেছনে কারণ রয়েছে। যেমন বলা হচ্ছে অন্যায় করা যাবে না, ধর্ষণ, ঘুষ বা দুর্নীতি করা পাপ অথচ সুযোগ পেলেই সেই কাজটি করা হচ্ছে। 

অপরাধীর যদি সঠিক শাস্তি না হয় তবে তা বন্ধ হবে কি করে? সবাই চেষ্টা করছে অন্যরা ভালো হোক, অন্যরা সব কিছু মেনে চলুক। কিন্তু আসল কথা হলো “শুধু নিজে ভালো হলে সব লেটা চুকে যায়” হতে আমরা রাজি নই। 

আমাদের এলাকায় (মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নে) আমরা চেয়েছিলাম সন্দেহজনক করোনা রোগীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করতে। তাদের জন্য আমাদের নিজেদের খরচে থাকা খাওয়াসহ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ স্বত্বেও এসব বাস্তবায়ন করতে মাগুরা জেলা প্রশাসন বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাগুরার ডিসির এমন দ্বিমতের কারণ কী? তা আমরা জানতে চাই।

৩৮ বছর ধরে এলাকার মানুষের বিপদে রয়েছি কোন দিন সেসব কাজে কেউ বাঁধা দেয়নি। কেন এবার কোভিড-১৯ মহামারীর সময় আমাদের ভালোবাসার মানুষদের পাশে থাকতে প্রশাসনের এই অনীহা? প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কি কেউ পকেটবন্দি করে রেখেছে নাকি কোভিড-১৯ মহামারীকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে?

দেশ স্বাধীন হবার পর বহু বছর ধরে দূরপরবাসে রয়েছি। স্বপ্ন ছিল একটি সোনার বাংলা গড়ব আমরা। এখন ভয় হয় সেখানে ফিরে যেতে, কারণ তাকে যেভাবে রেখে এসেছি সেটা যদি আগের চেয়েও খারাপ হয়ে থাকে? কী জবাব দিব সেই স্বাধীনচেতা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের? আমার অবদান যা বাংলাদেশকে দিয়েছি তার সবই কি দুর্নীতিবাজদের পকেটে গিয়েছে নাকি দেশ গড়ার কাজে লেগেছে? বড্ড জানতে ইচ্ছে করে।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

মানুষের সেবায় বাঁধা কেন?

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
০৩ মে ২০২০, ০৭:৫৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দুর্যোগের সময় সরকারি ত্রাণ নিতে লজ্জা পাবার কিছু নাই। এটা ভিক্ষা নয়, জনগণের টাকায় রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডার থেকে ত্রাণ দেয়া হয় যা বিপদে জাতির অধিকার। সরকারি ত্রাণ দেওয়ার সময় ছবি তুলে নবাবের মত ভাব দেখানোর অধিকার কারো নাই। এ ত্রাণ কারও বাবার সম্পদ নয়। এ বিষয়টি সম্বন্ধে কি দেশের লোক সচেতন?

আজ যখন ফেসবুকে দেখলাম ছেলে তার বাবার হাতে ত্রাণ তুলে দেবার সময় ছবি তুলে স্ট্যাটাস দিয়েছে তখন বেশ মনে আঘাত পেয়েছি। যেমনটি মনে আঘাত পেয়েছি ফেসবুকে কাঁচা ধান কাটতে দেখে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সংসদ সদস্যদের সাহায্যর হাত বাড়াতে কৃষকদের ধান কাটার কাজে। দেখা গেল সংসদ সদস্যসহ সেই এলাকার লোকজন গিয়ে কাঁচা ধান কাটছে। এসব ছবি তোলা বা এ ধরণের সিনক্রিয়েট করার আগে কেউই কি ছিল না সেখানে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার?

নাকি জাতি তার সাহস এবং সততার পুরোটাই হারিয়ে ফেলেছে? শেরে বাংলার দেশের মানুষ এত ভীতু হতে পারে এর আগে জানতাম না! ইদানিং একটি নির্দেশনার মাধ্যমে সরকার প্রধান এবং সেই সঙ্গে জনগণ যেন সঠিক তথ্য না পায় তার চক্রান্ত চলছে। তথ্য প্রাপ্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে মিডিয়া। সেটার মাধ্যমে আমরা অনেক তথ্য জানতে পারি এবং এই তথ্য সরবরাহ বন্ধ করার জন্য অনেকে উঠে পড়ে লেগেছে।

প্রশাসনের কাজ জনগণের সেবা করা কিন্তু তারা দেশ স্বাধীন হবার পরও আজ জনবিচ্ছিন্নভাবে তারা তাদের প্রশাসন চালাচ্ছে। এত সাহস তারা কোথা থেকে পায়? নাকি যারা প্রশাসনের ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত তাঁরা অনেক বেশি প্রভাবশালী?

৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে দেশের জাতীয় সংসদ গঠিত অথচ প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কাউকে এই দুর্যোগ সময়ে তাদের সক্রিয় অংশ গ্রহণ দেখছি না। কিছু দিন আগে সচিবদের নাম এসেছে জেলা পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্বে। দেশের এই দুর্দিনে মন্ত্রী এবং এমপি মহোদয়দের দায়িত্ব কর্তব্য কী, তা কি তারা জানেন?

আমরা আর সইতে পারছি না। আট কোটি মানুষকে যে চেতনা, যে আশ্বাস আর বিশ্বাস দিয়েছিলেন জাতির পিতা তার কিছুই আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি না। আজকের তরুণ প্রজন্ম মনে করে স্বাধীনতার চেতনা অতীতের ভুত-পেত্নীর মত ভুয়া গল্প।

জানি উপদেশ নেবার মত কেউ দেশে নেই, কারণ আমরা শুধু উপদেশ আর আদেশ দিতে শিখেছি, নিতে নয়। পুরো দেশে সবাই ঘুষ নেয় কিন্তু উপদেশ নেয় না কেউ! আশ্চর্য? যদিও এর পেছনে কারণ রয়েছে। যেমন বলা হচ্ছে অন্যায় করা যাবে না, ধর্ষণ, ঘুষ বা দুর্নীতি করা পাপ অথচ সুযোগ পেলেই সেই কাজটি করা হচ্ছে।

অপরাধীর যদি সঠিক শাস্তি না হয় তবে তা বন্ধ হবে কি করে? সবাই চেষ্টা করছে অন্যরা ভালো হোক, অন্যরা সব কিছু মেনে চলুক। কিন্তু আসল কথা হলো “শুধু নিজে ভালো হলে সব লেটা চুকে যায়” হতে আমরা রাজি নই।

আমাদের এলাকায় (মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নে) আমরা চেয়েছিলাম সন্দেহজনক করোনা রোগীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করতে। তাদের জন্য আমাদের নিজেদের খরচে থাকা খাওয়াসহ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ স্বত্বেও এসব বাস্তবায়ন করতে মাগুরা জেলা প্রশাসন বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাগুরার ডিসির এমন দ্বিমতের কারণ কী? তা আমরা জানতে চাই।

৩৮ বছর ধরে এলাকার মানুষের বিপদে রয়েছি কোন দিন সেসব কাজে কেউ বাঁধা দেয়নি। কেন এবার কোভিড-১৯ মহামারীর সময় আমাদের ভালোবাসার মানুষদের পাশে থাকতে প্রশাসনের এই অনীহা? প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কি কেউ পকেটবন্দি করে রেখেছে নাকি কোভিড-১৯ মহামারীকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে?

দেশ স্বাধীন হবার পর বহু বছর ধরে দূরপরবাসে রয়েছি। স্বপ্ন ছিল একটি সোনার বাংলা গড়ব আমরা। এখন ভয় হয় সেখানে ফিরে যেতে, কারণ তাকে যেভাবে রেখে এসেছি সেটা যদি আগের চেয়েও খারাপ হয়ে থাকে? কী জবাব দিব সেই স্বাধীনচেতা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের? আমার অবদান যা বাংলাদেশকে দিয়েছি তার সবই কি দুর্নীতিবাজদের পকেটে গিয়েছে নাকি দেশ গড়ার কাজে লেগেছে? বড্ড জানতে ইচ্ছে করে।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২০