করোনা: যদি অতীতকে নতুন করে দেখার সুযোগ আসে...

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৬ মে ২০২০, ০৭:৪৭:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

প্রেম ছিল, ভালোবাসা ছিল, শুধু করোনা ছিল বলে তুমি কাছে আসলে না। ভাষা ছিল, কথা ছিল, কাছে আসলে না বলে মন কথা বললে না। দিনগুলো সরে গেছে দূরে, রেখেছি তোমার স্মৃতি ধরে। তবুও পারিনি তো তোমায় থাকতে ভুলে। তাই ফোন করে জানতে ইচ্ছে করে তুমি কেমন আছো?

হাজারো প্রেমিক-প্রেমিকার মনে এই একটি আকুতি, একটি মিনতি। একই তাদের বাসনা, একই তাদের কামনা। কিন্তু লকডাউনের কারণে প্রেমিক তার প্রেমিকার থেকে দূরে সরে গেছে। প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হলেও স্বামী তার স্ত্রীকে আর স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে ফিরে পেয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দূরত্ব উধাও হয়ে গেছে। কোভিড-১৯ তুমি শুধু নিতে নয় দিতেও শিখিয়েছ আমাদেরকে!

মনে কি পড়ে স্বামী যখন কাজ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো তখন কী বলতো স্ত্রী? বলতো সারাদিন অফিস আর অফিস, আমার কথা কি ভাবার সময় আছে? দেখা না হবার যন্ত্রণা। আজ আর অফিসে যাবার তাড়া নেই। তাই তেমন কিছু করারও নেই। অফুরন্ত সময়, অফুরন্ত বিশ্রাম। কিন্তু সময় আছে কাজ নেই, দেহ আছে মন নেই, শুধু নেই আর নেই।

অতীতে সব ছিল, ছিল না শুধু সময়। আজ সময় আছে কিন্তু অন্য কিছু নেই। মনে কি পড়ে প্রেম একবার এসেছিল নীরবে কভুও পারিনি আমি জানতে? আকাশ-বাতাস কেউ মোরে বলেনি, তাই সেই রাতে দ্বীপ আমি জ্বালাইনি।

করোনা মহামারী পাঁচ মাস আগে এসেছে, সবাই যেমন জেনেছি পরে তিলে তিলে অনুভব থেকে ইনফেক্টেডও হয়েছি। তারপরও যদি কিছু না করি তাহলে বলবো প্রেমের ব্যথা বয়ে চলেছি না জানার কারণে। আর করোনা মহামারী থাকবে মনের মধ্যে সারা জীবন, যদি আমরা আমাদের দায়ভার না মেনে চলি।

কোভিড-১৯ একটি ইস্যু। এই ইস্যু কীভাবে, কার জন্য, কেন এবং কার কারণে এসেছে প্রশ্ন এখন সেটা নয়। অনেকেই বলছে সুইডেন লকডাউন করেনি অথচ গোটা বিশ্ব করলো। তাহলে কি সুইডেন পৃথিবীর নিয়মকানুন মেনে চলেনি? না, তারা প্রমাণ করতে চাইছে সময় এসেছে মানবতার পরিচয় দেবার?

বিশ্ব লকডাউন করেছে ঠিকই, তবে বিবেকের লকডাউন করেছে খুব কম লোকই। আমি সুইডেনের লকডাউনের সময়টা বেছে নিয়েছি কিছুটা ভিন্নভাবে কাটাতে। যেমন প্রকৃতির সঙ্গে থাকতে চেষ্টা করছি। আমি নিজেকে, নিজের অস্তিত্বকে, নিজের দেনা-পাওনার ব্যাল্যান্সকে ঠিক রাখতে চেষ্টা করছি। প্রতিদিন যা শিখছি তা জানাতে চেষ্টা করছি অন্যকে।

সারাজীবন আমরা অন্যের জন্য ভালো কিছু করতে কতই না চেষ্টা করি। অথচ আজ কিছু না করে শুধু লকডাউনে থাকার কারণে একজন নয়, হয়তো অনেকের জীবন বাঁচানোর একটি সময় এসেছে আমাদের। "What a great achievement!”

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আমার মতো অনেকেই ভাবছে। কতকিছু মিস করছি, কতকিছু দেখতে পারছি না। বর্তমানে যেমন পৃথিবীর অর্থনীতি যেভাবে থাকার কথা তা নেই। এখন আমাদের হাজারও সমস্যা যদি শুধু সমস্যা নিয়ে ভাবি। একই সঙ্গে যদি পাঁচ বছর বা দশ বছর পেছনে ফিরে যাই, তাহলে কী দেখতে পাব? কেমন ছিলাম, কী ছিল তখন, কেমন ছিল পৃথিবী তখন ইত্যাদি?

খোলা আকাশ কি এত ভালো লাগতো যদি কিছু কিছু মেঘ নাহি থাকতো? এই জীবন কি এত মধুর হতো যদি কিছু কিছু ব্যথা নাহি থাকতো? না, কোনোটাই সম্ভব নয়। মেঘ ছাড়া আকাশ, কলঙ্ক ছাড়া চাঁদ, ব্যথা ছাড়া জীবন! একদম পানসে, অকল্পনীয় বিরক্তিকর।

করোনা মহামারীর কারণে আমরা যদি পাঁচ বছর পেছনে চলে যাই, বর্তমান থেকে কী আসে যাবে তাতে? আমরা তো জানি পাঁচ বছর আগের সব ঘটনা। তখন তো আমরা খারাপ ছিলাম না। তো? তাই ভাবছি কী মজাটাই না হবে যদি সত্যি সত্যি ভবিষ্যতে অবস্থান করে অতীতকে নতুন করে দেখার ও উপভোগ করার সুযোগ আসে।

এমনটি সুযোগ এসেছিল জীবনে অতীতে। ১৯৮৫ সালের কথা। দেখেছিলাম রবার্ট জেমিসকিসের (Robert Zemeckis) অবাস্তব ছবি (Science fiction film) "ব্যাক ট্যু দ্যা ফিউচার" (Back to the Future)।

এই ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে মাইকেল জে. ফক্স (Michael J. Fox)। সবে সুইডেনে এসেছি তখন (১৯৮৫ সালে)। সব কিছুতেই ফুল অফ এক্সসাইমেন্ট। তারপর সেই অবাস্তব (unreal) ছবির কাহিনী যা আজও ভুলিনি। যদি তেমনটি ভ্রমণের সুযোগ আসে জীবনে, তাহলে কী মজাটাই না হবে। তার প্রতীক্ষায় বসে আছি পথও চেয়ে।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত