সব ভালো তার, যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৮ মে ২০২০, ২৩:০২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

দরিদ্রের ঘরে জন্ম গ্রহণ করা যত সহজ, দরিদ্র হয়ে বেঁচে থাকা তত সহজ নয়। অনেকের মতে দারিদ্রতা একটি অভিশাপ। আমি মনে করি পৃথিবীতে যা কিছু এসেছে, ঘটেছে, ঘটছে বা ঘটবে তার কোন কিছুই অভিশপ্ত নয়। সব কিছুই আমাদের কর্মের ফল।

মানুষ জাতির অক্ষমতা, দুর্বলতা, অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং কু-শিক্ষাই এর জন্য দায়ী। কিছু কিছু ভণ্ডরা ধর্মকে ব্যবহার করে অনেক দরিদ্রের সর্বনাশের কারণ হয়েছে। তারা জন্ম নিয়ন্ত্রণে বাধা হিসাবে “রুজির মালিক খোদা” এমনটি স্লোগান ব্যবহার করে আসছে।

আমরা মানুষ জাতি ধর্মের ব্যাপারে খুব সংবেদনশীল, বিধায় অল্পতেই সবকিছু বিশ্বাস করি এবং করতে অভ্যস্ত। প্রায় প্রত্যেক মানুষ তার জন্মে সব কিছু পরিপূর্ণভাবে পেয়েছে। ব্যতিক্রম রয়েছে শুধু তারা, যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী।

তা স্বত্বেও জীবন গড়ার শুরুতেই পরিবেশ এবং পারিপার্শ্বিকতার কারণে জীবনের গতি বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় থেমে যায়। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে শিশুর লালন-পালনের ধরণের ওপর। দরিদ্র জনগণ তাদের দারিদ্রতা মোচন করতে যে সময় ব্যয় করে তার অর্ধেক সময় ব্যয় করে না সন্তানদের লালন পালনে।

কারণ তারা তাদের জন্মের শুরুতে অন্ধ বিশ্বাসী সেই “রুজির মালিক খোদা” স্লোগানে আস্থা রাখে। আমরা আমাদের নিজেদের জ্ঞান ভাণ্ডারকে কাজে না লাগিয়ে অন্য একজন কী বলে সেটাই শুনি এবং সেভাবে কাজ করি। নইলে কখনও কি প্রশ্ন আসেনি বিবেকে, যেমন খোদা তো শুধু রুজির মালিক নন, তিনি সব কিছুর মালিক।

আমরা জীবনের শেষের অংশটুকু ভালো দেখতে চাই। যাকে বলি সমাপ্তি। ছোটবেলা যেমন সিনেমা দেখেছি হাজারও সমস্যা, বিরহ বা জটিলতা চলছে ছবির জগতে, সব ঠিক হয়ে যায় যখন ছবির সমাপ্তিতে বিরহ নয় মিলন ঘটে।

আমরা এও বলে থাকি “সব ভালো যার, শেষ ভালো তার”। আমি মনে করি “সব ভালো তার, যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো।” এই শুরু থেকে শেষ অবদি যারা সব কিছু সঠিকভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে তারা জীবনের পুরো সময়টিকে উপভোগ করেছে।

দারিদ্রতায় ক্ষতি নেই, তবে সেখানে স্থির থাকায় ক্ষতি। যদি আবর্জনা ফেলতে গিয়ে নিজেই সেখানে ঢুকে যাই, তবে আবর্জনা আর আমার সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? আমরা ভুলে যাই যে মানুষ করেই স্রষ্টা আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এবং সব কিছুই পরিপূর্ণভাবে দিয়েছেন।

তা স্বত্বেও আমরা পারিপার্শ্বিকতার কারণে মানুষ না হয়ে অমানুষ বা দানব হই। কী কারণ রয়েছে এর পেছনে তা কি কখনও ভেবেছি? সুন্দর মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করা স্বত্বেও অসুন্দর হবার জন্য পৃথিবীর পাঠশালাগুলো দায়ী।

যে পাঠশালায় রয়েছে অন্ধকার, ঘৃণা, দুর্নীতি, অবিচার, অত্যাচার, ধর্ষণ এবং কু-শিক্ষা। যদি আমাদের পারিপার্শ্বিকতায় সু-শিক্ষা, সু-চিন্তা, সু-ভাবনা না থাকে, তবে সে পাঠশালার দরকার নেই। আমি বিশ্বাস করি আমাকে, আমি বিশ্বাস করি স্রষ্টাকে, আমি বিশ্বাস করি সু-শিক্ষাকে। আর তুমি?

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত