মস্তবড় দুনিয়ায় ক্ষণিকের জীবন
jugantor
মস্তবড় দুনিয়ায় ক্ষণিকের জীবন

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

১১ জুন ২০২০, ১৯:০৪:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

এত চমৎকার পৃথিবী অথচ তাকে দেখারই সুযোগ এবং সময় হলো না, অথচ যে কোন সময় চলে যেতে হবে! তা তুমি কি সব কিছুর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছ নাকি সব কিছু ঝরে পড়ছে যার যার জায়গা থেকে? আমি বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাইলাম তার কাছে। 

তিনি আমার দিকে শুধু তাকিয়ে রইলেন। আমি যে বিনয়ী হয়ে, কাকুতি মিনতি করে, চিৎকার এবং আর্তনাদ করে তোমাকে ডাকি তুমি সব জানো তারপরও কেন নিস্তব্ধ নীরবে থাকো? কখনও কি তুমি আমাদের ডাকে সাড়া দাও? আকার ইঙ্গিতে এতটুকুই বুঝলাম সত্যিকার প্রয়োজনে তিনি আমাদের পাশে থাকেন। 

সেদিন শবেবরাতের রাতে অনেক কথাই বলার ছিল কিন্তু বলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি অনেকবার শেয়ারও করেছি কিছু লোকের সঙ্গে। তিনি নিরাকার তারপরও ইমাজিন করতে পারি কারণ যেহেতু মানুষ জাতি শ্রেষ্ঠ জীব এবং পরিপূর্ণতায় ভরা। 

যেখানে কোন কিছুরই অভাব নেই সেক্ষেত্রে আমাদের মাঝেই তার অস্তিত্ব খুঁজে পাবার মত দক্ষতা শুধু আমাদেরই আছে। কথাটি বলেছিলেন সৌদি আরবের একজন ধর্মপ্রাণ, জ্ঞানী এবং বয়স্ক ব্যক্তি। 

কয়েক বছর আগের কথা। মানসিকভাবে বেশ ঝামেলা চলছে তখন। মা অসুস্থ হয়েছেন, আমার শরীরটাও ভালো না। দুর্বল এবং মানুষিক অসুস্থতার মাঝে আমি হঠাৎ কখন ঘুমিয়ে গেছি, তাই নানা চিন্তার মাঝে ঘুমের ঘোরে এমনটি স্বপ্ন দেখেছিলাম সেদিন। আমি আবার জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি, বড় বড় কল্পনা করি এবং সেই রাজ্যে বেশ ঘোরাঘুরি করি। 

এর মাঝে বেশ উঠেপড়ে লেগেছি আমাদের অর্থাৎ মানুষ জাতির অস্তিত্ব এবং দীর্ঘায়ু লাভের উপায় নিয়ে। আমি মেনে নিলাম বা বুঝলাম অসুখ বা দুর্ঘটনার কারণে অকাল বা আকস্মিক মৃত্যু হতেই পারে কিন্তু তাই বলে কী দেড়শত বা দুইশত বছর বাঁচার সম্ভাবনা তৈরি করা যাবে না? 

আমরা যেমন দেখছি অনেকে একশত বছরের বেশি বেঁচে আছেন তাহলে কেন চেষ্টা করছি বা ভাবছি না যে দেড়শত বা দুইশত বছরও বেঁচে থাকা সম্ভব? আমরা জেনে গেছি জন্ম হলেই মৃত্যু অনিবার্য তবে মৃত্যু কবে এটা কিন্তু অজানা রয়েছে। 

এখন যদি আমরা আমাদের সম্পর্কে জানি যেমন আমাদের শরীর কীভাবে গঠিত, কী উপাদানগুলো শরীরের জন্য প্রয়োজন এবং কীভাবে তা পেতে পারি ইত্যাদি, তাহলে আমি নিশ্চিত আমরা আমাদের বেঁচে থাকার মেয়াদ বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি বাড়াতে পারি। 

পৃথিবীটা মস্তবড় অথচ আমাদের বেঁচে থাকার সময়টুকু খুবই কম। এই ধারণাটি মাথায় ঢুকে আমাদের সর্বনাশ করছে। যেমন আমরা সবাই ব্যস্ত কীভাবে তাড়াহুড়ো করে সব কিছু করতে হবে। কাজে যেমন নিয়ম রয়েছে আট ঘণ্টার মধ্যে দিনের যে কাজগুলো তা শেষ করতে হবে। এই শেষ করতে হবে বলেই কিন্তু আমরা তাড়াহুড়ো করি এবং যার কারণে প্যানিক সৃষ্টি থেকে শুরু করে প্যারালাইজড পর্যন্ত হয়ে যায়। 

এখন প্রশ্ন হতে পারে, যদি চাপ সৃষ্টি না করা হয় তাহলে তো আমরা কিছুই করবো না। অলস হয়ে ঘরে বসে শুয়ে পঙ্গু হয়ে মরবো। এটাও ঠিক। এক্ষেত্রে আমাদের দুনিয়ায় বেঁচে থাকার ভিসা বাড়াবার দরকার নাই? আমি মনে করি আমরা যেহেতু স্রষ্টার সেরা জীব সেক্ষেত্রে আমরা দুইশত বছর বাঁচতে চাই। 

পৃথিবীটাকে সুন্দর করে উপভোগ করতে চাই। এত সুন্দর পৃথিবী অথচ তাকে ঘুরে দেখাই হলো না! আমি তো তবুও কিছুটা দেখেছি, অনেকে তার সেই মাতৃভূমির বাইরে যাওয়ারই সুযোগ পেলো না, তার আগেই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। এ কেমন অবিচার! এই অবিচার আল্লার সৃষ্টি নয় এটা আমাদের কর্মের ফল। 

কথা উঠতে পারে জন্মে অবিচার রয়েছে। যেমন শিশু কী দোষ করেছে যে তার জন্মের শুরুটা গরিবের ঘরে হলো? শিশুর দোষ নয় ঠিকই তবে যারা শিশুকে জন্ম দিয়েছে এটা তাদের দোষ। তারা ভালো করেই জানে সঠিকভাবে শিশুকে গড়ে তুলতে না পারলে তার জীবনের পরিবর্তন হবে না। আমরা সব সময় নিয়তির ওপর আমাদের দায়ভার চাপিয়ে যা খুশি তাই করতে চেষ্টা করি। 

পশুপক্ষী এবং মাছ যেমন প্রচুর জন্ম দেয় কারণ তাদের অস্তিত্ব পারিপার্শ্বিকতার ওপর নির্ভরশীল। মানুষ জাতির ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা নয়। অতএব সেক্ষেত্রে ভাবতে হবে নিজ নিজ জায়গা থেকে কীভাবে আমরা আমাদের জীবনের শুরু থেকে শেষ দেখতে চাই। 

বিনোদন করব অথচ দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করবো না, তা হতে পারে না। আমার মনে হচ্ছে আমাদের অসমাপ্ত কাজ কর্মের দায়ভার প্রকৃতি সমাপ্ত করে চলছে। যার কারণে মাঝেমধ্যে প্রকৃতি তার নিজ জায়গা থেকে পৃথিবীকে ক্লিন আপ করে চলছে নানাভাবে যেমন ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় বা মহামারী। 

লকডাউনে আমাদের বিবেকের, কর্মের এবং ভবিষ্যতের চিন্তা চেতনার ওপর ক্লিনআপ করার যথেষ্ট সময় রয়েছে সত্ত্বেও আমরা কি সেভাবে কাজ করছি? যদি আমরা সৃজনশীল সুশিক্ষা বা ভেজালমুক্ত খাদ্য এবং ভেজালমুক্ত সমাজ গড়তে চাই তবে আমাদের প্রথম কাজ হবে সমস্যার মোকাবিলা করতে শেখা। 

এখন এ কাজগুলো নিজ নিজ জায়গা থেকে শুরু করতে হবে তাহলে আমার বিশ্বাস– We can make this world better and beautiful to live and love. If we are not born to be rich then we should be learned how to become rich. Make a choice and make it now while we are in lockdown, তাহলে সম্ভব বেঁচে থাকা দেড়শ থেকে দুইশত বছর।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

মস্তবড় দুনিয়ায় ক্ষণিকের জীবন

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১১ জুন ২০২০, ০৭:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এত চমৎকার পৃথিবী অথচ তাকে দেখারই সুযোগ এবং সময় হলো না, অথচ যে কোন সময় চলে যেতে হবে! তা তুমি কি সব কিছুর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছ নাকি সব কিছু ঝরে পড়ছে যার যার জায়গা থেকে? আমি বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাইলাম তার কাছে।

তিনি আমার দিকে শুধু তাকিয়ে রইলেন। আমি যে বিনয়ী হয়ে, কাকুতি মিনতি করে, চিৎকার এবং আর্তনাদ করে তোমাকে ডাকি তুমি সব জানো তারপরও কেন নিস্তব্ধ নীরবে থাকো? কখনও কি তুমি আমাদের ডাকে সাড়া দাও? আকার ইঙ্গিতে এতটুকুই বুঝলাম সত্যিকার প্রয়োজনে তিনি আমাদের পাশে থাকেন।

সেদিন শবেবরাতের রাতে অনেক কথাই বলার ছিল কিন্তু বলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি অনেকবার শেয়ারও করেছি কিছু লোকের সঙ্গে। তিনি নিরাকার তারপরও ইমাজিন করতে পারি কারণ যেহেতু মানুষ জাতি শ্রেষ্ঠ জীব এবং পরিপূর্ণতায় ভরা।

যেখানে কোন কিছুরই অভাব নেই সেক্ষেত্রে আমাদের মাঝেই তার অস্তিত্ব খুঁজে পাবার মত দক্ষতা শুধু আমাদেরই আছে। কথাটি বলেছিলেন সৌদি আরবের একজন ধর্মপ্রাণ, জ্ঞানী এবং বয়স্ক ব্যক্তি।

কয়েক বছর আগের কথা। মানসিকভাবে বেশ ঝামেলা চলছে তখন। মা অসুস্থ হয়েছেন, আমার শরীরটাও ভালো না। দুর্বল এবং মানুষিক অসুস্থতার মাঝে আমি হঠাৎ কখন ঘুমিয়ে গেছি, তাই নানা চিন্তার মাঝে ঘুমের ঘোরে এমনটি স্বপ্ন দেখেছিলাম সেদিন। আমি আবার জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি, বড় বড় কল্পনা করি এবং সেই রাজ্যে বেশ ঘোরাঘুরি করি।

এর মাঝে বেশ উঠেপড়ে লেগেছি আমাদের অর্থাৎ মানুষ জাতির অস্তিত্ব এবং দীর্ঘায়ু লাভের উপায় নিয়ে। আমি মেনে নিলাম বা বুঝলাম অসুখ বা দুর্ঘটনার কারণে অকাল বা আকস্মিক মৃত্যু হতেই পারে কিন্তু তাই বলে কী দেড়শত বা দুইশত বছর বাঁচার সম্ভাবনা তৈরি করা যাবে না?

আমরা যেমন দেখছি অনেকে একশত বছরের বেশি বেঁচে আছেন তাহলে কেন চেষ্টা করছি বা ভাবছি না যে দেড়শত বা দুইশত বছরও বেঁচে থাকা সম্ভব? আমরা জেনে গেছি জন্ম হলেই মৃত্যু অনিবার্য তবে মৃত্যু কবে এটা কিন্তু অজানা রয়েছে।

এখন যদি আমরা আমাদের সম্পর্কে জানি যেমন আমাদের শরীর কীভাবে গঠিত, কী উপাদানগুলো শরীরের জন্য প্রয়োজন এবং কীভাবে তা পেতে পারি ইত্যাদি, তাহলে আমি নিশ্চিত আমরা আমাদের বেঁচে থাকার মেয়াদ বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি বাড়াতে পারি।

পৃথিবীটা মস্তবড় অথচ আমাদের বেঁচে থাকার সময়টুকু খুবই কম। এই ধারণাটি মাথায় ঢুকে আমাদের সর্বনাশ করছে। যেমন আমরা সবাই ব্যস্ত কীভাবে তাড়াহুড়ো করে সব কিছু করতে হবে। কাজে যেমন নিয়ম রয়েছে আট ঘণ্টার মধ্যে দিনের যে কাজগুলো তা শেষ করতে হবে। এই শেষ করতে হবে বলেই কিন্তু আমরা তাড়াহুড়ো করি এবং যার কারণে প্যানিক সৃষ্টি থেকে শুরু করে প্যারালাইজড পর্যন্ত হয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, যদি চাপ সৃষ্টি না করা হয় তাহলে তো আমরা কিছুই করবো না। অলস হয়ে ঘরে বসে শুয়ে পঙ্গু হয়ে মরবো। এটাও ঠিক। এক্ষেত্রে আমাদের দুনিয়ায় বেঁচে থাকার ভিসা বাড়াবার দরকার নাই? আমি মনে করি আমরা যেহেতু স্রষ্টার সেরা জীব সেক্ষেত্রে আমরা দুইশত বছর বাঁচতে চাই।

পৃথিবীটাকে সুন্দর করে উপভোগ করতে চাই। এত সুন্দর পৃথিবী অথচ তাকে ঘুরে দেখাই হলো না! আমি তো তবুও কিছুটা দেখেছি, অনেকে তার সেই মাতৃভূমির বাইরে যাওয়ারই সুযোগ পেলো না, তার আগেই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। এ কেমন অবিচার! এই অবিচার আল্লার সৃষ্টি নয় এটা আমাদের কর্মের ফল।

কথা উঠতে পারে জন্মে অবিচার রয়েছে। যেমন শিশু কী দোষ করেছে যে তার জন্মের শুরুটা গরিবের ঘরে হলো? শিশুর দোষ নয় ঠিকই তবে যারা শিশুকে জন্ম দিয়েছে এটা তাদের দোষ। তারা ভালো করেই জানে সঠিকভাবে শিশুকে গড়ে তুলতে না পারলে তার জীবনের পরিবর্তন হবে না। আমরা সব সময় নিয়তির ওপর আমাদের দায়ভার চাপিয়ে যা খুশি তাই করতে চেষ্টা করি।

পশুপক্ষী এবং মাছ যেমন প্রচুর জন্ম দেয় কারণ তাদের অস্তিত্ব পারিপার্শ্বিকতার ওপর নির্ভরশীল। মানুষ জাতির ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা নয়। অতএব সেক্ষেত্রে ভাবতে হবে নিজ নিজ জায়গা থেকে কীভাবে আমরা আমাদের জীবনের শুরু থেকে শেষ দেখতে চাই।

বিনোদন করব অথচ দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করবো না, তা হতে পারে না। আমার মনে হচ্ছে আমাদের অসমাপ্ত কাজ কর্মের দায়ভার প্রকৃতি সমাপ্ত করে চলছে। যার কারণে মাঝেমধ্যে প্রকৃতি তার নিজ জায়গা থেকে পৃথিবীকে ক্লিন আপ করে চলছে নানাভাবে যেমন ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় বা মহামারী।

লকডাউনে আমাদের বিবেকের, কর্মের এবং ভবিষ্যতের চিন্তা চেতনার ওপর ক্লিনআপ করার যথেষ্ট সময় রয়েছে সত্ত্বেও আমরা কি সেভাবে কাজ করছি? যদি আমরা সৃজনশীল সুশিক্ষা বা ভেজালমুক্ত খাদ্য এবং ভেজালমুক্ত সমাজ গড়তে চাই তবে আমাদের প্রথম কাজ হবে সমস্যার মোকাবিলা করতে শেখা।

এখন এ কাজগুলো নিজ নিজ জায়গা থেকে শুরু করতে হবে তাহলে আমার বিশ্বাস– We can make this world better and beautiful to live and love. If we are not born to be rich then we should be learned how to become rich. Make a choice and make it now while we are in lockdown, তাহলে সম্ভব বেঁচে থাকা দেড়শ থেকে দুইশত বছর।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২০