আয় বুঝেই ব্যয় করতে হবে

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১৭ জুন ২০২০, ০০:৪০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্রই মানুষের মধ্যে কমবেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনা আমাদের বড় আকারে চাপের ওপর রেখেছে। যেহেতু কোভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধের তেমন কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান নেই সেহেতু এমন আতঙ্ক থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা ইতিহাসের শুরু থেকে আজ অবধি দেখি যখন যে মহামারী, গজব বা ভয়ংকর অঘটন পৃথিবীতে ঘটেছে তখন সেটা সে সময়ের জন্য জটিল ছিল।

সমস্যার সমাধান করতে সময় যত বেশি লেগেছে তত বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে মানবজাতি। কোনো না কোনো সময় মানুষ সমস্যার সমাধানে উপনীত হয়েছে। সমস্যা এসেছে সমাধান হয়েছে। হিন্দু, মুসলিম বা খ্রিষ্টান বলে কথা নয় মানুষ তার সমাধান করেছে।

এবারের কোভিড-১৯ আমাদের আতঙ্কে ফেলেছে। প্রথমদিকে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত ছিল। যেমন কেউ কেউ বলেছে এ ভাইরাস শুধু ননমুসলিমদের জন্য। কেউ কেউ হয়তো এর উল্টোটা বলেছে। আমি ধর্ম বা রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কিছু লিখব না, কারণ এ দুটি বিষয়ে সঠিক মন্তব্য করার জন্য আমাদের যে জ্ঞান রয়েছে তা যথেষ্ট নয়। তবে এতটুকু বলবো যে মানুষ বাধ্য হবে শেষে এর সমাধান খুঁজে বের করতে।

যেসব মানুষ এ সময় কাজ করছে সমাধানের জন্য আসুন আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাই। সমস্যাকে সঙ্গে রেখে বসবাস করতে শিখি এবং একইসঙ্গে শিখি অজানাকে জানতে।

কোভিড-১৯ এর কারণে গোটা বিশ্ব কিছুটা থেমে গেছে, প্রডাক্টিভ বা ক্রিয়েটিভ তেমন কিছু হচ্ছে না। অর্থ থাকতেও তার তেমন গ্রহণযোগ্য ব্যবহার নেই। আবার কিছু কিছু দেশ যেমন বাংলাদেশ অর্থ নেই অথচ বিশাল একটি বাজেট করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন দরকারে খরচ করবো পরে ভাবা যাবে আয়ের ব্যবস্থা ইত্যাদি।

আজ একটি ছোট্ট ইন্টারভিউ দেখলাম। বস্তির একটি মহিলা দুই বাচ্চার মা। স্বামী ছেড়ে চলে গেছে এবং সে নতুন করে বিয়ে করেছে। অথচ মহিলাটি বাচ্চা দুটোকে নিয়ে পরের জায়গায় একটি তাঁবুর তলে কোন রকম মাথা গুজে পড়ে আছে। তার তেল আনতে নুন নাই।

তাকে সাংবাদিক জিজ্ঞেস করছে, রাতের ডিনার হয়েছে? নাকি হবে না? মহিলা উত্তরে বললো নির্ভর করছে কিছু রোজগারের ওপর। মানে কী দাঁড়ালো এখানে? মহিলার কিছুই নেই, সকালে কিছু খেয়েছে, দুপুরে খাওয়া হয়নি, রাতের খাবার হবে কি না অনিশ্চিত সত্ত্বেও সে ভাবছে ইনকাম হলে ব্যবস্থা।

অথচ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রের বাজেট পাশ করেছেন, যেখানে কী খরচ করবেন তার পরিমাণ পরিষ্কার অথচ ইনকাম কীভাবে হবে সে বিষয়ে তিনি বলেছেন সে ভাবনা চিন্তা পরে হবে। একটি বিধ্বস্ত পরিবারের এক মহিলা যাকে তার স্বামী ফেলে চলে গেছে, যার দুইটি বাচ্চা ক্ষুধায় ছটফট করছে সেও সাংবাদিককে বলতে পারেনি যে সে কী খাবে রাতে? কারণ নির্ভর করছে তার আয়ের ওপর, অর্থাৎ আয় বুঝে ব্যয় হবে।

দেশের অর্থমন্ত্রী যে বাজেট পাশ করলেন তার গ্রহণযোগ্যতা সে দেশের মানুষ করোনার সময় কীভাবে দেখছে? এই বাজেটের পর বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা কেমন? বস্তির মহিলার এক দিনের বাজেট অনিশ্চিত। সেই দেশের রাষ্ট্রীয় বাজেট পাশ করেন দেশের ৩৫০ জন জনপ্রতিনিধি একত্রিত হয়ে। কীভাবে জনগণ দেশের এই ৩৫০ জন জনপ্রতিনিধির ওপর আস্থা রাখবে আগামী চার বছর? দেশের মানুষের ওপর দায়ভার চাপিয়ে দেশ পরিচালিত হবে?

একটি পরিকল্পিত সংকেত জাতি পেয়েছে দেশের ভবিষ্যৎ প্লান দেখে। তারপরও বিরোধী দল, দেশের মানুষের মাথায় এ ভাবনা এখন বড় ভাবনা নয়, কারণ তারা তাদের নিজেদের জীবনের ওপর ইয়া-নাফসি ইয়া-নাফসি করছে।

আমার প্রশ্ন বাংলাদেশ কোন গন্তব্যে তার যাত্রা শুরু করেছে? আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ চিন্তিত। অন্যান্যবার দেশে সমস্যা হয়েছে দেশি-বিদেশি সাহায্য পেয়েছে। এবার গোটা বিশ্ব সমস্যার সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, সেক্ষেত্রে জানি না বাংলাদেশ বিশ্বের থেকে তেমন আশানুপাত সাহায্য পাবে কিনা!

বস্তির মহিলার দুর্দিন দেখে খারাপ লেগেছে সত্ত্বেও তার পরিকল্পিত বাজেটের চিন্তাটি ভালো লেগেছে। সে লেখাপড়া জানে না, তবুও সে এতটুকু শিখেছে, বুঝেছে যে আয় বুঝে ব্যয় করতে হবে (cut your coat according to your cloth) অথচ বাংলাদেশ তার পুরো দেশের বাজেট করলো আগে ব্যয় পরে আয়! পুরো দেশ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে সব দেখছে অথচ কিছুই করছে না, আমি অবাক!

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত