পৃথিবীর মানুষের মানসিক পরিবর্তন দরকার
jugantor
পৃথিবীর মানুষের মানসিক পরিবর্তন দরকার

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

২৩ জুন ২০২০, ০২:৫১:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

গতকাল সুইডিশ টেলিভিশনে একটি খবরের মাধ্যমে জানতে পারলাম জার্মানির একটি কসাইখানার অনেক কর্মীদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে। এই কসাইখানায় কাজ করে সাতশত কর্মী। পৃথিবীর প্রায় ৮০টি দেশে বিভিন্ন পশুর গোস্ত এখান থেকে রপ্তানি হয়, তার মধ্যে গরুর গোস্ত উল্লেখযোগ্য। 

হঠাৎ এতগুলো কর্মীর আক্রান্তের বিষয়টি জার্মান সরকার তদন্ত করছে এবং একইসঙ্গে কারখানা মনিটরিং থেকে শুরু করে পশুর লালনপালন পদ্ধতি, পরিবেশও খুঁটিয়ে দেখবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে পরিষ্কার যে একটি কোম্পানিতে বড় ধরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে, বিধায় সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিষয়টির ওপর তদন্তে নেমেছে। 

বর্তমানে বিশ্বের নানা দেশে গবাদিপশুর খাবারে নানা ধরণের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে ভালো উৎপাদন পেতে। এসব ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী তা জেনে শুনেও অনেকে এর ব্যবহার করছে। আমি সুইডেনের দোকানে ঢুকলে প্রথমে খুঁজি একোলোজি খাবার, কারণ সেটা ন্যাচারাল। বাকি খাবার যা আসছে সাউথ আমেরিকা বা ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে সে খাবারের ওপর আমার কোন ধারণা নেই। সেক্ষেত্রে আমি যা খাচ্ছি জানি না এর মধ্য শতকরা কতভাগ ন্যাচারাল? 

এদিকে আর কিছুদিন পরই গোটা মুসলিম বিশ্বে কোরবানি ঈদ। সারাবিশ্বে লাখো লাখো গবাদিপশু কোরবানি করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই গরু। এসব গরুর চাহিদার কথা মাথায় রেখে বহু খামারি গরু মোটাতাজা করে। পেশাদার ও সৎ খামারিরা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে অর্থাৎ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু হৃষ্টপুষ্ট করে।

অন্যদিকে একশ্রেণীর অসাধু খামারি বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওষুধ প্রয়োগ করে গরু মোটাতাজা করে। তারা স্টেরয়েড গ্রুপের ওষুধ যেমন ডেকাসন, ওরাডেক্সন, প্রেডনিসোলন ইত্যাদি সেবন করিয়ে অথবা ডেকাসন, ওরাডেক্সন স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করে। এ ছাড়া হরমোন প্রয়োগ যেমন ট্রেনবোলন, প্রোজেস্টিন, টেস্টোস্টেরন করেও গরুকে মোটাতাজা করে।

বাংলাদেশে এবং ভারতে এর চর্চা হয়ে থাকে। এখন ভারতের হিন্দুধর্মে বিশ্বাসী মানুষ গো-পূজারী, গরুর গোশত খায় না তবে অনেকে গোচুনা পান করে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রত্যক্ষভাবে গবাদিপশুর শরীরে যা ঢুকাচ্ছি তার অংশবিশেষ পরোক্ষভাবে নিজেরাও গ্রহণ করছি।
 
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে বাংলাদেশে গবাদিপশুর পাশাপাশি এ সমস্ত ওষুধ অল্প বয়সের মেয়েদের শরীরে ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধগুলোর বেশিরভাগই ইস্ট্রোজেন (primary female sex hormone)। যদিও ইস্ট্রোজেন পুরুষ এবং নারী উভয়ের মাঝেই থাকে কিন্তু সচরাচর নারীদের প্রজনন বয়সে এর মাত্রা বেশি থাকে। এটি নারীদের সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য যেমন স্তন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একইসঙ্গে মাসিকচক্রের সময় এন্ডোমেট্রিয়ামের পুরুত্ব বেড়ে যায়। শুক্রাণুর পূর্ণতা প্রাপ্তিতে ইস্ট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
 
বর্তমান বিশ্বে একটি জিনিস লক্ষণীয় তা হলো গরীব অন্যায় করছে পেটের তাগিদে অন্যদিকে বড়লোক অন্যায় করছে বিলাসবহুল জীবন পেতে। বাংলাদেশে এক ধরণের দুষ্ট লোক অল্প বয়সের মেয়েদের শরীরে কেমিক্যাল ঢুকিয়ে তাদেরকে অনৈতিক ব্যবসায় ব্যবহার করছে। 

অন্যদিকে বিশ্বের বড়লোক জেনেশুনে নিজ শরীরে ব্যবহার করছে নানা ধরণের কেমিক্যাল প্রোডাক্ট। যেমন বোটক্স (Botox contains a neurotoxin called botulinum toxin) যা শরীরের নানা অংশ যেমন ঠোঁট, নিতম্ব বা শরীরের অন্যান্য গোপনীয় অংশে এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- অর্থ, দুর্নীতি, ঘুষ বা ক্ষমতার অপব্যবহার তাহলে কি বিলাসিতার প্রতিচ্ছবি? পশুপাখি এবং গরীব শিশুর প্রতি যে অন্যায় অত্যাচার আমরা করে আসছি তারই বিপরীত প্রতিক্রিয়া তাহলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ? 
কোভিড-১৯ কি মানুষ জাতির অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ? সময় এসেছে ভেবে দেখার। আমরা যত অর্থশীল এবং শিক্ষিত হচ্ছি ততই অন্যায় কাজ বেশি করছি এবং মনুষ্যত্ব হারাচ্ছি। আমাদের শিক্ষা কি তাহলে ভুল শিক্ষা? তাই যদি হয়- then we don't need no education.. 

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

পৃথিবীর মানুষের মানসিক পরিবর্তন দরকার

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
২৩ জুন ২০২০, ০২:৫১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গতকাল সুইডিশ টেলিভিশনে একটি খবরের মাধ্যমে জানতে পারলাম জার্মানির একটি কসাইখানার অনেক কর্মীদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে। এই কসাইখানায় কাজ করে সাতশত কর্মী। পৃথিবীর প্রায় ৮০টি দেশে বিভিন্ন পশুর গোস্ত এখান থেকে রপ্তানি হয়, তার মধ্যে গরুর গোস্ত উল্লেখযোগ্য।

হঠাৎ এতগুলো কর্মীর আক্রান্তের বিষয়টি জার্মান সরকার তদন্ত করছে এবং একইসঙ্গে কারখানা মনিটরিং থেকে শুরু করে পশুর লালনপালন পদ্ধতি, পরিবেশও খুঁটিয়ে দেখবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে পরিষ্কার যে একটি কোম্পানিতে বড় ধরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে, বিধায় সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিষয়টির ওপর তদন্তে নেমেছে।

বর্তমানে বিশ্বের নানা দেশে গবাদিপশুর খাবারে নানা ধরণের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে ভালো উৎপাদন পেতে। এসব ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী তা জেনে শুনেও অনেকে এর ব্যবহার করছে। আমি সুইডেনের দোকানে ঢুকলে প্রথমে খুঁজি একোলোজি খাবার, কারণ সেটা ন্যাচারাল। বাকি খাবার যা আসছে সাউথ আমেরিকা বা ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে সে খাবারের ওপর আমার কোন ধারণা নেই। সেক্ষেত্রে আমি যা খাচ্ছি জানি না এর মধ্য শতকরা কতভাগ ন্যাচারাল?

এদিকে আর কিছুদিন পরই গোটা মুসলিম বিশ্বে কোরবানি ঈদ। সারাবিশ্বে লাখো লাখো গবাদিপশু কোরবানি করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই গরু। এসব গরুর চাহিদার কথা মাথায় রেখে বহু খামারি গরু মোটাতাজা করে। পেশাদার ও সৎ খামারিরা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে অর্থাৎ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু হৃষ্টপুষ্ট করে।

অন্যদিকে একশ্রেণীর অসাধু খামারি বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওষুধ প্রয়োগ করে গরু মোটাতাজা করে। তারা স্টেরয়েড গ্রুপের ওষুধ যেমন ডেকাসন, ওরাডেক্সন, প্রেডনিসোলন ইত্যাদি সেবন করিয়ে অথবা ডেকাসন, ওরাডেক্সন স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করে। এ ছাড়া হরমোন প্রয়োগ যেমন ট্রেনবোলন, প্রোজেস্টিন, টেস্টোস্টেরন করেও গরুকে মোটাতাজা করে।

বাংলাদেশে এবং ভারতে এর চর্চা হয়ে থাকে। এখন ভারতের হিন্দুধর্মে বিশ্বাসী মানুষ গো-পূজারী, গরুর গোশত খায় না তবে অনেকে গোচুনা পান করে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রত্যক্ষভাবে গবাদিপশুর শরীরে যা ঢুকাচ্ছি তার অংশবিশেষ পরোক্ষভাবে নিজেরাও গ্রহণ করছি।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে বাংলাদেশে গবাদিপশুর পাশাপাশি এ সমস্ত ওষুধ অল্প বয়সের মেয়েদের শরীরে ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধগুলোর বেশিরভাগই ইস্ট্রোজেন (primary female sex hormone)। যদিও ইস্ট্রোজেন পুরুষ এবং নারী উভয়ের মাঝেই থাকে কিন্তু সচরাচর নারীদের প্রজনন বয়সে এর মাত্রা বেশি থাকে। এটি নারীদের সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য যেমন স্তন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একইসঙ্গে মাসিকচক্রের সময় এন্ডোমেট্রিয়ামের পুরুত্ব বেড়ে যায়। শুক্রাণুর পূর্ণতা প্রাপ্তিতে ইস্ট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমান বিশ্বে একটি জিনিস লক্ষণীয় তা হলো গরীব অন্যায় করছে পেটের তাগিদে অন্যদিকে বড়লোক অন্যায় করছে বিলাসবহুল জীবন পেতে। বাংলাদেশে এক ধরণের দুষ্ট লোক অল্প বয়সের মেয়েদের শরীরে কেমিক্যাল ঢুকিয়ে তাদেরকে অনৈতিক ব্যবসায় ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে বিশ্বের বড়লোক জেনেশুনে নিজ শরীরে ব্যবহার করছে নানা ধরণের কেমিক্যাল প্রোডাক্ট। যেমন বোটক্স (Botox contains a neurotoxin called botulinum toxin) যা শরীরের নানা অংশ যেমন ঠোঁট, নিতম্ব বা শরীরের অন্যান্য গোপনীয় অংশে এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- অর্থ, দুর্নীতি, ঘুষ বা ক্ষমতার অপব্যবহার তাহলে কি বিলাসিতার প্রতিচ্ছবি? পশুপাখি এবং গরীব শিশুর প্রতি যে অন্যায় অত্যাচার আমরা করে আসছি তারই বিপরীত প্রতিক্রিয়া তাহলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ?
কোভিড-১৯ কি মানুষ জাতির অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ? সময় এসেছে ভেবে দেখার। আমরা যত অর্থশীল এবং শিক্ষিত হচ্ছি ততই অন্যায় কাজ বেশি করছি এবং মনুষ্যত্ব হারাচ্ছি। আমাদের শিক্ষা কি তাহলে ভুল শিক্ষা? তাই যদি হয়- then we don't need no education..

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২০