ভালো কাজের ফলাফল সব সময় অর্থবহ হয়

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ৩০ জুন ২০২০, ১৪:১৯:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

আমি নিয়মিত লিখি দূরপরবাস থেকে। অনেকে আমাকে বলেছে ‘কেন এসব ঝামেলার মধ্যে জড়াও? কী দরকার এসব করার, তুমি থাকো বিদেশে, এ ছাড়া কোনো পরিবর্তন বা লাভ কোনটাই হবে না। শুধ শুধু তোমার সময় যাবে আর মন খারাপ হবে।’

আমি ব্যক্তিগতভাবে ঝামেলা আর লাভ এই দুইটি শব্দকে যেমন ঘৃণা করি তেমনি ভালোও বাসি। আমি ভিজুয়ালাইজ করতে পছন্দ করি। ভ্রমণে অনেক ভালোমন্দ দেখা যায় এবং তাকে বেশ সহজভাবেই ছবি তুলে তা প্রকাশ করা যায়। লেখার মাধ্যমেও আমরা সেইভাবে অনেক কিছুর বর্ণনা দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি।

আসুন আজ সবাই মিলে ঝামেলা এবং লাভের জগত সম্পর্কে কিছু জেনে নেই। আমরা সবাই জানি বা লক্ষ্য করেছি যে পিপড়া ও মৌমাছি কাজে সবসময় পরিশ্রমী। একই ধরনের কাজ বারবার করে এবং বেঁচে থাকা পর্যন্ত সেটাই করে। যার কারণে তাদের কাজের দক্ষতা আমাদের চোখে পড়ে। আমরা তাদের কাজের প্রশংসা করে থাকি।

আমরা মানুষ জাতি, একটু ভিন্ন ধরণের অন্যান্য জীব জন্তুর তুলনায়। জন্মের শুরুতেই আমরা আমাদের দায়ভার থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বহুকেন্দ্রিক। এ কারণে আমরা একই কাজ বারবার করতে পছন্দ করি না, যেটা সহজেই লক্ষণীয় পশুপক্ষীর ক্ষেত্রে। যার কারণে আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই।

প্রকৃতি নিজেই পরিবর্তিত হয়ে আমাদের সে আশা পূর্ণ করে থাকে। যেমন গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত এসে নানারূপে ও নানা-গুণে আমাদের মুগ্ধ করে। তারপর নানা ধরণের ফলমূল থেকে শুরু করে খাবারে রয়েছে ভ্যারাইটি যা আমাদের ক্ষুধা মিটায় এবং তৃপ্তি দেয়।

আমাদের চেহারায় মিল অমিল দুটিই রয়েছে। এ কারণে একজনকে পছন্দ না করলে অন্য আরেক জনকে পছন্দ করতে পারি। মতামতের ক্ষেত্রেও দেখা যায় আমরা ভিন্ন মত বা ভিন্ন ধর্ম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করি। এমনকি স্রষ্টার সৃষ্টির ওপরেও মাতব্বরি করার চেষ্টা করি।

যেমন যারা কালো তাদেরকে অপছন্দ করি বা বর্ণ বৈষম্যে দ্বিমত পোষণ করি। আমাদের চাওয়া-পাওয়া এবং আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই। বলা যেতে পারে আমাদের ডিমান্ড অনেক বেশি, যার কারণে যখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সবকিছু না মেলে তখনই আমরা না মেলার অভাবটিকে ফিল করি আর সেটা হচ্ছে সমস্যা। এখন সেই সমস্যার সমাধান যদি না মেলে তখনই আমরা ঝামেলায় পড়ি।

আমাদের চাওয়া-পাওয়া এবং আকাঙ্ক্ষার পরিমাণ এত বেশি যে আমরা শেষে লোভী হতে শুরু করি আর তখনই যা কিছু চিন্তা করি, বলি, পেতে এবং দিতে চাই সেখানে শুধু লাভ খুঁজি।

আমরা লাভ খুঁজতে পাকা, তবে ঝামেলায় জড়াতে খুব কাঁচা, তাই লাভের সঙ্গে ঝামেলায়ও জড়িয়ে পড়ি। তবে সবার ক্ষেত্রে যে এটা সত্য তা বললে ভুল হবে। আদিম যুগে মানুষ সমস্যায় পড়েছে ঠিকই কিন্তু একেক করে তার সমাধানও করেছে। যেমন আগুন থেকে শুরু করে বেগুন ভাজি করতে শিখেছে।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনেক নতুন ধরণের “টাচ এন্ড টেস্ট প্রযুক্তি পাচ্ছি” এবং তা সম্ভব হচ্ছে সীমিত কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য। এই সীমিত সংখ্যক মানুষ যেমন বড় বড় বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক বা গুণী মানুষ যারা পৃথিবীর উন্নয়নের পেছনে অবদান রেখে গেছেন, এখন যদি তাদেরকে ফলো করে পিপড়া এবং মৌমাছির মতো একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে শিখি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি ঝামেলা এবং লাভ অর্থবহ হবে।

ভালো কাজের ফলাফল সব সময় অর্থবহ হয়ে থাকে এবং তা সবসময় Creat good value for human and humanity. কীভাবে এটা পাওয়া সম্ভব সেটাই এখন একটি বড় প্রশ্ন।

এখন সবারই নেতা হবার শখ হয়েছে। শখ হবার কারণ প্রচুর ক্ষমতা সঙ্গে দুর্নীতি অনীতির মাধ্যমে প্রাচুর্যের পাহাড় গড়া। তবে একজন ভালো নেতার ডেফিনিশন কিন্তু অন্যরকম। যেমন একজন মহান নেতা নিজে নেতা না হয়ে অন্যকে নেতা হিসাবে মেনে নেয় এবং মেনে নেবার মতো দক্ষতা অর্জন করাটাও কিন্তু একজন বড় নেতার কাজ।

ব্যক্তিগতভাবে আমরা সবাই কিন্তু নেতা আমাদের নিজ নিজ জায়গায়। কিন্তু একটি কর্মক্ষেত্র, সমাজ বা দেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত সহজ নয়। কারণ যদি আমার কাজ-কর্ম অন্যদের মনঃ-পূত না হয়, আমাকে কেউ যদি নেতা হিসেবে মেনে নিতে রাজি না হয়, তবে জোড় করে তো সে পদটা আমি নিতে পারিনা।

আমি হয়তো মনে করতে পারি আমার যোগ্যতা বা চিন্তা-ভাবনা অন্যের চেয়ে ভালো, তা সত্ত্বেও যখন কেউ তা মেনে নিচ্ছে না তখন আমাকে ভাবতে হবে, আমার উদ্দেশ্য যদি কোন কাজ সম্পন্ন করা হয় এবং তা যদি আমার পরিবর্তে অন্য কেউ করতে পারে তবে ক্ষতি কী?

সবকিছুর জন্যই যদি আমি ক্রেডিট পেতে উঠেপড়ে লাগি, তাহলে তো আমি একজন ভালো নেতা নই, আমি একজন লোভী যে সারাক্ষণ লাভের খোঁজে থাকি। এ ধরণের মন-মানসিকতা যাদের মধ্যে বিরাজ করছে তারা ঝামেলা পছন্দ করে না। ঝামেলার থেকে দূরে থাকতে চায়।

অতএব যারা ঝামেলা ছাড়া এবং লাভের মাধ্যমে জীবন পেতে চায়, তারা পৃথিবীর সমস্যা। এদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে বিধায় পৃথিবীর সমস্যা বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি।

এখন বিষয়টি জানার পরও কি আমরা যেমন আছি তেমন থাকবো, নাকি পরিবর্তিত হবো, এটাই এখন প্রশ্ন? এ প্রশ্নের উত্তর শুধু সৃজনশীল ব্যক্তিই দিতে পারবেন। আমাদের বিবেককে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হই, তাহলে জয় আমাদের হবেই এবং আমরা শুধু লাভ নয় মানবতাবোধ ফিরে পাবো, পাবো ফিরে আমাদের মনুষ্যত্বকেও।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত