লকডাউন থাকাকালীন প্রোমিজগুলো মনে আছে তো?
jugantor
লকডাউন থাকাকালীন প্রোমিজগুলো মনে আছে তো?

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

০৮ জুলাই ২০২০, ১৭:১২:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

মরতে তো একদিন হবেই জন্মেছি যখন। এটা জানা সত্ত্বেও আমরা বেঁচে থাকার জন্য, একটি সুন্দর জীবন পেতে সব কিছুই করতে প্রস্তুত। আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা সেভাবেই কিন্তু কাজ করে যাচ্ছি।

কিন্তু এখন হচ্ছে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে আর পিছে যাবার কোন উপায় নেই। এমতাবস্থায় কী করা যেতে পারে? নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এনে নতুন শক্তি সঞ্চয় করে প্রতিবাদ করতে হবে। বাধাকে মোচন করে সেখান থেকে সরতে হবে তা না হলে কাপুরুষের মতো ধুকে ধুকে মরতে হবে।

পৃথিবী সৃষ্টির পর যতটুকু জেনেছি সবকিছু যার যার মতো করে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চলছে। কোনোকিছু থেমে নেই সত্ত্বেও মানুষ জাতি হঠাৎ লকডাউনে। কিছু কিছু দেশের মানুষ স্লোডাউনে যেমন সুইডেন।

পরবর্তী স্টেপ স্লোডাউন থেকে সাধারণ পরিবেশে ফিরে আসা। এখন ফিরে আসার এই পরিবেশটা কি অতীতের পরিবেশের মতো হবে নাকি একটু ভিন্ন ধরণের হবে?

কোভিড-১৯ এর আগমনে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে অনেক প্রোমিজ করেছিলাম, যেমন যদি আবার সুযোগ আসে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলব সবাই মিলে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ রাখবো না। বিপদে পরস্পর পরস্পরের সাহায্যে হাত বাড়াবো ইত্যাদি।

মনে পড়ে কি সেসব কথা? নাকি সব ভুলে গেছি? কোভিড-১৯ কিন্তু সেই আগের মতই রয়েছে, তার কোনো পরিবর্তন হয়নি তবে হয়েছে আমাদের। আমরা কোভিড-১৯কে আর আগের মতো ভয় পাই না। আমাদের অনেকের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

আমরা অনেক প্রিয়জনদের হারিয়েছি। অনেকে কোভিড-১৯কে পরাজিত করে হিরো হয়ে ঘরে ফিরে এসেছে। সব মিলে ভয়কে জয় করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন কনফিডেন্স তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা পৃথিবীর মধ্যে একটি শক্তিশালী দেশ। সামনে সেখানে নির্বাচন, চলছে তার প্রস্তুতি পর্ব। ভারতের সঙ্গে দর কষাকষি চলছে চীনের। একইসঙ্গে পাশের দেশগুলো যেমন পাকিস্তান, নেপাল এবং বাংলাদেশও বেশ ঝামেলায় পড়েছে। আফ্রিকা, মিডল ইস্ট, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দরিদ্র দেশের মানুষ না খেতে পারার আর্তনাদে ভুগছে।

ইউরোপে কমবেশি সব বিষয়ের ওপর নতুন ক্রাইসিস দেখা দিয়েছে। ইউনাইটেড স্টেট অফ ইউরোপ নাকি আন-ইউনাইটেড স্টেট অফ ইউরোপ হতে চলছে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানব জাতির সামনে রয়েছে হাজারও প্রশ্ন তাই স্লোডাউনে থাকলে চলবে না।

তবে কোভিড -১৯ এর সময় লকডাউন বা স্লোডাউনে থাকাকালীন যে প্রোমিজগুলো মনে করেছিলাম সেগুলো পালন করব তো? এমনি করে আমি যখন ভাবছি, ঠিক তেমন একটি সময় দেখতে পাচ্ছি, আমরা দিনে দিনে পূর্বের চেয়ে আরও বেশি অমানুষ হয়ে যাচ্ছি।

বিস্তীর্ণ পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনতে শুরু করেছি। সব কিছু ঘটা সত্ত্বেও নিস্তব্ধ নীরবে পৃথিবী আমাদের আলো, বাতাস, পানি দিয়ে যাচ্ছে। নৈতিকতা এবং মানবতার পতন দেখেও নিঃশব্দে নীরবে বয়ে চলেছে প্রকৃতির সবকিছু।

জ্ঞানবিহীন নিরক্ষরের সংখ্যা যেমন বেড়ে চলেছে ঠিক খাদ্যবিহীন নাগরিক এবং নেতৃত্ববিহীন নেতার সংখ্যাও বেড়ে চলেছে পৃথিবীতে। তারপরও আমি বিশ্বাস করি মানুষকে। আমাদের চরিত্রের পরিবর্তন হয়তো খুব একটা হবে না। তবে আমাদের অতীতের কর্মের ফলাফল থেকে যে সু-শিক্ষাগুলো আমরা পেয়েছি সেগুলো হৃদয়ে গেঁথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এমনটি আশা নিয়ে কোভিড-১৯কে সাথী করে নতুন জীবন শুরু করবো ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে। কারণ এ মাসে পৃথিবীর প্রায় সব দেশ লকডাউন খুলে দিয়েছে। জুলাই মাস থেকে আলোর জোয়ার এবং আশায় ভরে দিক সবার মন, এমনটি প্রত্যাশা করি।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

লকডাউন থাকাকালীন প্রোমিজগুলো মনে আছে তো?

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
০৮ জুলাই ২০২০, ০৫:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মরতে তো একদিন হবেই জন্মেছি যখন। এটা জানা সত্ত্বেও আমরা বেঁচে থাকার জন্য, একটি সুন্দর জীবন পেতে সব কিছুই করতে প্রস্তুত। আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা সেভাবেই কিন্তু কাজ করে যাচ্ছি।
 
কিন্তু এখন হচ্ছে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে আর পিছে যাবার কোন উপায় নেই। এমতাবস্থায় কী করা যেতে পারে? নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এনে নতুন শক্তি সঞ্চয় করে প্রতিবাদ করতে হবে। বাধাকে মোচন করে সেখান থেকে সরতে হবে তা না হলে কাপুরুষের মতো ধুকে ধুকে মরতে হবে।
 
পৃথিবী সৃষ্টির পর যতটুকু জেনেছি সবকিছু যার যার মতো করে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চলছে। কোনোকিছু থেমে নেই সত্ত্বেও মানুষ জাতি হঠাৎ লকডাউনে। কিছু কিছু দেশের মানুষ স্লোডাউনে যেমন সুইডেন। 

পরবর্তী স্টেপ স্লোডাউন থেকে সাধারণ পরিবেশে ফিরে আসা। এখন ফিরে আসার এই পরিবেশটা কি অতীতের পরিবেশের মতো হবে নাকি একটু ভিন্ন ধরণের হবে? 

কোভিড-১৯ এর আগমনে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে অনেক প্রোমিজ করেছিলাম, যেমন যদি আবার সুযোগ আসে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলব সবাই মিলে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ রাখবো না। বিপদে পরস্পর পরস্পরের সাহায্যে হাত বাড়াবো ইত্যাদি।

মনে পড়ে কি সেসব কথা? নাকি সব ভুলে গেছি? কোভিড-১৯ কিন্তু সেই আগের মতই রয়েছে, তার কোনো পরিবর্তন হয়নি তবে হয়েছে আমাদের। আমরা কোভিড-১৯কে আর আগের মতো ভয় পাই না। আমাদের অনেকের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। 

আমরা অনেক প্রিয়জনদের হারিয়েছি। অনেকে কোভিড-১৯কে পরাজিত করে হিরো হয়ে ঘরে ফিরে এসেছে। সব মিলে ভয়কে জয় করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন কনফিডেন্স তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা পৃথিবীর মধ্যে একটি শক্তিশালী দেশ। সামনে সেখানে নির্বাচন, চলছে তার প্রস্তুতি পর্ব। ভারতের সঙ্গে দর কষাকষি চলছে চীনের। একইসঙ্গে পাশের দেশগুলো যেমন পাকিস্তান, নেপাল এবং বাংলাদেশও বেশ ঝামেলায় পড়েছে। আফ্রিকা, মিডল ইস্ট, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দরিদ্র দেশের মানুষ না খেতে পারার আর্তনাদে ভুগছে। 

ইউরোপে কমবেশি সব বিষয়ের ওপর নতুন ক্রাইসিস দেখা দিয়েছে। ইউনাইটেড স্টেট অফ ইউরোপ নাকি আন-ইউনাইটেড স্টেট অফ ইউরোপ হতে চলছে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানব জাতির সামনে রয়েছে হাজারও প্রশ্ন তাই স্লোডাউনে থাকলে চলবে না।

তবে কোভিড -১৯ এর সময় লকডাউন বা স্লোডাউনে থাকাকালীন যে প্রোমিজগুলো মনে করেছিলাম সেগুলো পালন করব তো? এমনি করে আমি যখন ভাবছি, ঠিক তেমন একটি সময় দেখতে পাচ্ছি, আমরা দিনে দিনে পূর্বের চেয়ে আরও বেশি অমানুষ হয়ে যাচ্ছি। 

বিস্তীর্ণ পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনতে শুরু করেছি। সব কিছু ঘটা সত্ত্বেও নিস্তব্ধ নীরবে পৃথিবী আমাদের আলো, বাতাস, পানি দিয়ে যাচ্ছে। নৈতিকতা এবং মানবতার পতন দেখেও নিঃশব্দে নীরবে বয়ে চলেছে প্রকৃতির সবকিছু। 

জ্ঞানবিহীন নিরক্ষরের সংখ্যা যেমন বেড়ে চলেছে ঠিক খাদ্যবিহীন নাগরিক এবং নেতৃত্ববিহীন নেতার সংখ্যাও বেড়ে চলেছে পৃথিবীতে। তারপরও আমি বিশ্বাস করি মানুষকে। আমাদের চরিত্রের পরিবর্তন হয়তো খুব একটা হবে না। তবে আমাদের অতীতের কর্মের ফলাফল থেকে যে সু-শিক্ষাগুলো আমরা পেয়েছি সেগুলো হৃদয়ে গেঁথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। 

এমনটি আশা নিয়ে কোভিড-১৯কে সাথী করে নতুন জীবন শুরু করবো ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে। কারণ এ মাসে পৃথিবীর প্রায় সব দেশ লকডাউন খুলে দিয়েছে। জুলাই মাস থেকে আলোর জোয়ার এবং আশায় ভরে দিক সবার মন, এমনটি প্রত্যাশা করি।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম