দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের পথচলা
jugantor
দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের পথচলা

  মোহাম্মদ হানিফ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে  

১০ জুলাই ২০২০, ১০:৪৯:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের পথচলা

ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো সামাজিক সংগঠন যেমন শক্তিশালী, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার্জনের অন্যতম প্রধান খাত রেমিট্যান্সের সঙ্গে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

শুধু রেমিট্যান্স দিয়ে দেশকে সচল রাখেনি, প্রতিটি 'মানবসেবা' বা সমাজসেবামূলক কাজেও অবদান কম নয় প্রবাসীদের।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় এক কোটি ২২ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। বিদেশ যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি ফেনী জেলায়। আর তার সিংহভাগই প্রবাসী হচ্ছে দাগনভূঞা উপজেলার।

বিশ্বজুড়ে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধ এই স্লোগান বুকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করেছে ‘দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরাম’।

গত ৬ মে ‘দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরাম’ নামক এই সামাজিক সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। ফোরামটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবুল কাশেম। তিনি বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী।

ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে ফেসবুক পেজ থেকে অতি অল্পসময়ে সাড়া মিলেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দাগনভূঞার ছয় হাজরেরও বেশি প্রবাসীর।

এই কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে পৃথিবীর যে যে দেশে দাগনভূঞা উপজেলার প্রবাসীরা অবস্থান করছেন, তাদের নিয়ে ইতিমধ্যে কমিটি গঠনের কাজ চলছে।

ইতিমধ্যে ওমান, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, নিউইয়র্ক, মালয়েশিয়া, পর্তুগাল, দুবাইসহ বেশ কয়েকটি দেশে দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের কমিটিও খুব শিগগির ঘোষণা করা হবে এবং অনলাইনে প্রতিটি দেশের কমিটির সঙ্গে আলোচনাসভা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবুল কাশেম।

মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা প্রবাসীরা কিন্তু সামাজিকভাবে অবহেলিত। অন্যদিকে করোনা মহামারীর কারণে চারদিকে চাকরি হারিয়ে পরিবার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন প্রবাসীরা। দেশভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে কর্মহীন প্রবাসীদের চাকরির ব্যবস্থা এবং সেই পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি গ্রামের অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই এমন উদ্যোগ। এমন ফ্ল্যাটফরম তৈরির জন্য অসংখ্য মানুষের সাড়া পাব তা কল্পনাও করতে পারিনি। আমি মনে করি, এই ফোরামটি আমার একার নয়, এটি দাগনভূঞার সব প্রবাসীর’।

দাগনভূঞার প্রবাসীরা এই ফোরামের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়ে সময়োপযোগী ও কল্যাণকর কর্মসূচি হাতে নেবে। এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধনের জন্য স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের মাধ্যমে, আত্মনির্ভরশীল সুখী ও সমৃদ্ধশালী অবক্ষয়মুক্ত সমাজ গঠন করা।

বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া সমাজের অনগ্রসর নারী-পুরুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনে সমন্বিত প্রচেষ্টায় উন্নয়ন কর্মসূচি হলো এই ফোরামের লক্ষ্য। তবে ইহা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। শুধূ সামাজিক উন্নয়নমূলক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছায় অসহায় মানুষের পাশে থাকার সংগঠন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের পথচলা

 মোহাম্মদ হানিফ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে 
১০ জুলাই ২০২০, ১০:৪৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের পথচলা
ছবি: সংগৃহীত

ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো সামাজিক সংগঠন যেমন শক্তিশালী, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার্জনের অন্যতম প্রধান খাত রেমিট্যান্সের সঙ্গে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 

শুধু রেমিট্যান্স দিয়ে দেশকে সচল রাখেনি, প্রতিটি 'মানবসেবা' বা সমাজসেবামূলক কাজেও অবদান কম নয় প্রবাসীদের। 

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় এক কোটি ২২ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। বিদেশ যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি ফেনী জেলায়। আর তার সিংহভাগই প্রবাসী হচ্ছে দাগনভূঞা উপজেলার।

বিশ্বজুড়ে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধ এই স্লোগান বুকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করেছে ‘দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরাম’।

গত ৬ মে ‘দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরাম’ নামক এই সামাজিক সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। ফোরামটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবুল কাশেম। তিনি বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী।

ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে ফেসবুক পেজ থেকে অতি অল্পসময়ে সাড়া মিলেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দাগনভূঞার ছয় হাজরেরও বেশি প্রবাসীর।

এই কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে পৃথিবীর যে যে দেশে দাগনভূঞা উপজেলার প্রবাসীরা অবস্থান করছেন, তাদের নিয়ে ইতিমধ্যে কমিটি গঠনের কাজ চলছে। 

ইতিমধ্যে ওমান, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, নিউইয়র্ক, মালয়েশিয়া, পর্তুগাল, দুবাইসহ বেশ কয়েকটি দেশে দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের কমিটিও খুব শিগগির ঘোষণা করা হবে এবং অনলাইনে প্রতিটি দেশের কমিটির সঙ্গে আলোচনাসভা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবুল কাশেম। 

মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা প্রবাসীরা কিন্তু সামাজিকভাবে অবহেলিত। অন্যদিকে করোনা মহামারীর কারণে চারদিকে চাকরি হারিয়ে পরিবার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন প্রবাসীরা। দেশভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে কর্মহীন প্রবাসীদের চাকরির ব্যবস্থা এবং সেই পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি গ্রামের অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই এমন উদ্যোগ। এমন ফ্ল্যাটফরম তৈরির জন্য অসংখ্য মানুষের সাড়া পাব তা কল্পনাও করতে পারিনি। আমি মনে করি, এই ফোরামটি আমার একার নয়, এটি দাগনভূঞার সব প্রবাসীর’।

দাগনভূঞার প্রবাসীরা এই ফোরামের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়ে সময়োপযোগী ও কল্যাণকর কর্মসূচি হাতে নেবে। এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধনের জন্য স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের মাধ্যমে, আত্মনির্ভরশীল সুখী ও সমৃদ্ধশালী অবক্ষয়মুক্ত সমাজ গঠন করা।

বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া সমাজের অনগ্রসর নারী-পুরুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনে সমন্বিত প্রচেষ্টায় উন্নয়ন কর্মসূচি হলো এই ফোরামের লক্ষ্য। তবে ইহা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। শুধূ সামাজিক উন্নয়নমূলক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছায় অসহায় মানুষের পাশে থাকার সংগঠন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর