স্থানীয় উদ্বেগ বৈশ্বিক সমাধান
jugantor
স্থানীয় উদ্বেগ বৈশ্বিক সমাধান

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

০৩ অক্টোবর ২০২০, ১৩:১১:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

মনে কী পড়ে সেই ২০০০ সালের কথা? আমি তখন বিশ্বখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ফার্মাসিয়ার বায়োটেক প্রডাকশন ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে। পুরো ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেসটি অটোমেশনে পরিচালিত। চলছে অটোমেশন নিরাপত্তার ওপর নানা ধরনের প্লান।

১৯৯৯ সালের শুরু থেকেই চলছে মিলেনিয়াম সম্মেলন যার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল ২০০০ সালে যেন কোন সমস্যা ছাড়া প্রডাকশন ম্যানেজমেন্ট যথাযথভাবে চলে। আমরা তা সফল করতে পেরেছিলাম, কারণ কোন কিছুই থেমে যায়নি সেদিনের সেই রাত ১২টায়। তবে সবাই বেশ চিন্তিত ছিলাম এই ভেবে, যদি সব থেমে যায় তাহলে কী হবে? আজ এসব রূপকথার মতো শোনায়।

একই সময় জাতিসংঘ তার লক্ষ্য স্থির করেছিল শিশু-মৃত্যুর হার কমানো হবে, সব শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে, পরিবেশের উন্নয়ন করা হবে, এইডস ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের মোকাবিলা করা হবে ইত্যাদি।

২০০০ সালের জন্য স্থির করা সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রতি লক্ষ্য রাখতে নানা ধরণের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জাতিসংঘসহ অনেকেই অনেক প্রমিজ করেছিল। জাতিসংঘের সেই মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রায় শুধু একটি বিষয়ের অভাব ছিল না, তা হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

অন্যদিকে কেউ যদি এতটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে, তাহলে তাকে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিতে হয়। যে কোনো নির্বাচনের আগে যেমন গালভরা প্রতিশ্রুতি শোনা যায়, এই প্রতিশ্রুতিগুলো অনেকটা সেরকম বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। কারণ শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে কমিয়ে আনা মোটেই কোনো কঠিন কাজ নয়। তাছাড়া প্রশ্নটা এখানে শুধু দারিদ্রতাই নয়। এর সঙ্গে ক্ষুধা, রোগ ও মৃত্যুও জড়িত। প্রতিদিন শুধু দুষিত জলের কারণে প্রায় ছয় থেকে আট হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতির আমূল পরিবর্তন করতে হবে।

ইতিমধ্যে ২০ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোন কিছু থেমে থাকেনি ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত। তবে ২০২০ সাল গোটা বিশ্বকে থামিয়ে দিয়েছে। এ বছরের শুরুতে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ মহামারি রূপ দেখে গোটা বিশ্বের মানুষ জাতি বিভিন্ন প্রমিজ করেছিল।

যেমন যদি বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ আসে কী করবে আর কী না করবে। বছর শেষ না হতেই সব ভুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় জড়িত বিশ্বের অনেক দেশ। যেটা বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দিতে শুরু করেছে তা হলো মোড়াল ভ্যালুর অবক্ষয়, যা অতীতের চেয়ে এখন বেশি।

যুগে যুগে প্রাকৃতিক দুর্ভোগের কারণে আমরা পরিবর্তিত হতে বাধ্য হয়েছি। কোভিড-১৯ আমাদের চাহিদার ধরণকে বেশ পাল্টিয়ে দিয়েছে। যেমন ট্রাভেল ছাড়াই অনেক কাজের সমাধান করতে পারা, ঘরে বসে কাজ করা, শপিং মলে না গিয়ে শপিং করা, স্কুলে না গিয়েও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

২০২০ সালে এত কিছুর পরিবর্তন হয়েছে বা হচ্ছে সেক্ষেত্রে কী আমরা ভেবেছি ভবিষ্যতের কথা? কী ধরনের শিক্ষার প্রয়োজন এবং এর জন্য কী করণীয় রয়েছে আমাদের ইত্যাদি।

বাংলাদেশে কী ভাবছে এসব নিয়ে বা কারা এর ওপর কাজ করছে যারা দিতে পারবে একটি চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ যা মানব কল্যাণে ভবিষ্যতে দরকার হবে। সেক্ষেত্রে আমরা এখনই পরিকল্পনা করতে পারি ১৭/১৮ কোটি নাগরিকের ভবিষ্যৎ কী হবে?

যা আছে পৃথিবীতে তা হয়ত আমরা জানি কিন্তু যা নেই তবে সত্বর দরকার হবে, তা নিয়ে কী ভাবা যেতে পারে না? বর্তমানে জন্ম এবং মৃত্যু দুটোই ভীষণ ব্যয়বহুল বিশেষ করে বাংলাদেশে। একটি শিশুর স্বাভাবিক ডেলিভারি উপেক্ষা করে সিজারিয়ান সাহায্য নিচ্ছে। আবার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর শেষ সময়টিতে ভেন্টিলেটরের মত ব্যয়বহুল যন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে।

আমি মনে করি দেশের পরিকাঠামোতে অন্ন, বস্ত্র এবং বাসস্থানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য এবং সুপরিকল্পিত শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া আশু প্রয়োজন। লকডাউনে ঘরে বসে সময় না কাটিয়ে যার যার জায়গা থেকে সবারই ক্রিয়েটিভ ওয়েতে ইনোভেটিভ চিন্তা করা উচিত।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

স্থানীয় উদ্বেগ বৈশ্বিক সমাধান

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
০৩ অক্টোবর ২০২০, ০১:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মনে কী পড়ে সেই ২০০০ সালের কথা? আমি তখন বিশ্বখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ফার্মাসিয়ার বায়োটেক প্রডাকশন ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে। পুরো ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেসটি অটোমেশনে পরিচালিত। চলছে অটোমেশন নিরাপত্তার ওপর নানা ধরনের প্লান। 

১৯৯৯ সালের শুরু থেকেই চলছে মিলেনিয়াম সম্মেলন যার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল ২০০০ সালে যেন কোন সমস্যা ছাড়া প্রডাকশন ম্যানেজমেন্ট যথাযথভাবে চলে। আমরা তা সফল করতে পেরেছিলাম, কারণ কোন কিছুই থেমে যায়নি সেদিনের সেই রাত ১২টায়। তবে সবাই বেশ চিন্তিত ছিলাম এই ভেবে, যদি সব থেমে যায় তাহলে কী হবে? আজ এসব রূপকথার মতো শোনায়।

একই সময় জাতিসংঘ তার লক্ষ্য স্থির করেছিল শিশু-মৃত্যুর হার কমানো হবে, সব শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে, পরিবেশের উন্নয়ন করা হবে, এইডস ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের মোকাবিলা করা হবে ইত্যাদি।

২০০০ সালের জন্য স্থির করা সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রতি লক্ষ্য রাখতে নানা ধরণের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জাতিসংঘসহ অনেকেই অনেক প্রমিজ করেছিল। জাতিসংঘের সেই মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রায় শুধু একটি বিষয়ের অভাব ছিল না, তা হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

অন্যদিকে কেউ যদি এতটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে, তাহলে তাকে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিতে হয়। যে কোনো নির্বাচনের আগে যেমন গালভরা প্রতিশ্রুতি শোনা যায়, এই প্রতিশ্রুতিগুলো অনেকটা সেরকম বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। কারণ শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। 

বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে কমিয়ে আনা মোটেই কোনো কঠিন কাজ নয়। তাছাড়া প্রশ্নটা এখানে শুধু দারিদ্রতাই নয়। এর সঙ্গে ক্ষুধা, রোগ ও মৃত্যুও জড়িত। প্রতিদিন শুধু দুষিত জলের কারণে প্রায় ছয় থেকে আট হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতির আমূল পরিবর্তন করতে হবে।
 
ইতিমধ্যে ২০ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোন কিছু থেমে থাকেনি ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত। তবে ২০২০ সাল গোটা বিশ্বকে থামিয়ে দিয়েছে। এ বছরের শুরুতে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ মহামারি রূপ দেখে গোটা বিশ্বের মানুষ জাতি বিভিন্ন প্রমিজ করেছিল। 

যেমন যদি বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ আসে কী করবে আর কী না করবে। বছর শেষ না হতেই সব ভুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় জড়িত বিশ্বের অনেক দেশ। যেটা বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দিতে শুরু করেছে তা হলো মোড়াল ভ্যালুর অবক্ষয়, যা অতীতের চেয়ে এখন বেশি। 

যুগে যুগে প্রাকৃতিক দুর্ভোগের কারণে আমরা পরিবর্তিত হতে বাধ্য হয়েছি। কোভিড-১৯ আমাদের চাহিদার ধরণকে বেশ পাল্টিয়ে দিয়েছে। যেমন ট্রাভেল ছাড়াই অনেক কাজের সমাধান করতে পারা, ঘরে বসে কাজ করা, শপিং মলে না গিয়ে শপিং করা, স্কুলে না গিয়েও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

২০২০ সালে এত কিছুর পরিবর্তন হয়েছে বা হচ্ছে সেক্ষেত্রে কী আমরা ভেবেছি ভবিষ্যতের কথা? কী ধরনের শিক্ষার প্রয়োজন এবং এর জন্য কী করণীয় রয়েছে আমাদের ইত্যাদি। 

বাংলাদেশে কী ভাবছে এসব নিয়ে বা কারা এর ওপর কাজ করছে যারা দিতে পারবে একটি চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ যা মানব কল্যাণে ভবিষ্যতে দরকার হবে। সেক্ষেত্রে আমরা এখনই পরিকল্পনা করতে পারি ১৭/১৮ কোটি নাগরিকের ভবিষ্যৎ কী হবে? 

যা আছে পৃথিবীতে তা হয়ত আমরা জানি কিন্তু যা নেই তবে সত্বর দরকার হবে, তা নিয়ে কী ভাবা যেতে পারে না? বর্তমানে জন্ম এবং মৃত্যু দুটোই ভীষণ ব্যয়বহুল বিশেষ করে বাংলাদেশে। একটি শিশুর স্বাভাবিক ডেলিভারি উপেক্ষা করে সিজারিয়ান সাহায্য নিচ্ছে। আবার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর শেষ সময়টিতে ভেন্টিলেটরের মত ব্যয়বহুল যন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। 

আমি মনে করি দেশের পরিকাঠামোতে অন্ন, বস্ত্র এবং বাসস্থানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য এবং সুপরিকল্পিত শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া আশু প্রয়োজন। লকডাউনে ঘরে বসে সময় না কাটিয়ে যার যার জায়গা থেকে সবারই ক্রিয়েটিভ ওয়েতে ইনোভেটিভ চিন্তা করা উচিত। 

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম