পরিবার থেকে পরিবর্তন শুরু করতে হবে
jugantor
পরিবার থেকে পরিবর্তন শুরু করতে হবে

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

১১ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৩৮:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

আমরা প্রায়ই পাশ্চাত্যের দোষত্রুটি নিয়ে কটূক্তি করি। অনেকে পাশ্চাত্যে কখনও আসেনি, কোনো ধারণাই নেই সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সেও মন্তব্য করতে কৃপণতা করে না। যেমন অনেকেই বলে বিদেশে ছেলে-মেয়েরা বাবা-মাকে দেখে না, খোঁজ খবর নেয় না, একসঙ্গে বসবাস করে না ইত্যাদি।

কথাগুলো কিছুটা সত্য তবে জানতে হবে কেন এমনটি হয়। পাশ্চাত্যের সমাজব্যবস্থা আর বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা এক নয়। আমি যেহেতু পাশ্চাত্যে বহু বছর ধরে বসবাস করছি সেক্ষেত্রে যতটুকু জেনেছি এবং দেখেছি তা থেকে শুধু এতটুকু বলব যে, পাশ্চাত্যের চেয়ে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা আরও করুন।

আমরা অতি সহজেই পরনিন্দা এবং পরচর্চা করে থাকি অথচ নিজেদের মধ্যে যে একই সমস্যা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাও যে অপরিহার্য সেটা ভুলে যাই। ভবিষ্যতে কোন এক সময় এর ওপর বিস্তারিত বর্ণনা দিব।

আমরা বাংলাদেশে ধর্ষণ, ঘুষ, মাদক, দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে সব সময় কথা বলি, সংগ্রাম করি। কিন্তু আমরা কখনো বলি না বা বলতে চাই না যে এধরনের অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তারা আর কেউ নয়, আমাদের সমাজেরই পরিচিত মুখ।

আজ আমি বাংলাদেশের কিছু পারিবারিক সমস্যা তুলে ধরতে চাই। অনেক পরিবার শিক্ষা এবং অর্থে দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে চললেও সেসব পরিবারে রয়েছে ভাই-বোনদের বঞ্চনাকারী এক বা একাধিক সদস্য। এসব পারিবারিক সমস্যা আমি দুঃখের সঙ্গে তুলে ধরছি শুধুমাত্র পরিবর্তনের জন্য। কারণ যদি এমনভাবে চলতে থাকে তবে পুরো দেশ এক সময় অচল হয়ে যাবে এসব কুৎসিত চরিত্রের মানুষের জন্য।

দুশ্চরিত্র, দুর্নীতি, নিজ পরিবারকে ঠকানো, মিথ্যা কথা বলা এগুলোকে কুৎসিত চরিত্রের মধ্যে ধরা হয়েছে। আর এ ধরণের কুৎসিত চরিত্রের মানুষ বর্তমানে বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল। আমার এ লেখা পড়ার সময় হয়ত অনেকের মনে হবে এ তো নিজেরই এক আপনজনের চরিত্র। ইংরেজিতে বলে ট্রুথ হার্টস, তবুও সত্যকে তুলে ধরতে হবে।

বাংলাদেশের যৌথ পরিবারের সংখ্যা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। পরিবারে বড় ভাই-বোনদের সচ্ছলতা থাকা সত্বেও বাবা-মা এবং ছোটদের ছেড়ে আলাদা হয়ে যাওয়া, খোঁজ খবর না রাখা, এখন এসব ঘটনা সর্বত্র দেখা যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

দেখা যায় যে ভাইয়ের ওপর ছিল ভালোবাসা এবং মধুর স্মৃতি যখন সে বিয়ে করেনি। পরবর্তীতে সে মস্ত বড় অফিসার হয়ে সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে। সে পরিবার ছেড়ে নিজেকে লোভী করে ফেলেছে আর গড়েছে তার চারপাশে এক আত্মকেন্দ্রিক প্রাচীর। যে প্রাচীর বন্ধ করে রেখেছে তার মনুষ্যত্বকে, দিনের পর দিন আর বছরের পর বছর।

ছোট ভাই-বোনদের জন্য কিছু করে যদি কোনো বড় ভাই-বোন তা সুদে-আসলে তুলে নেয় এবং সারাক্ষণ কঠিনভাবে মানসিক অশান্তিতে রাখে তখন ভালোবাসার সম্পর্ক ঘৃণায় পরিণত হয়। অর্থনৈতিকভাবে ঋণগ্রস্ত ছোট ভাই-বোনের ওপর বড়দের জুলুমের পরিমাণ যখন সীমা লঙ্ঘন করে এবং তারা যখন ছোটদের প্রতি অত্যাচার এবং অবিচার করতে শুরু করে, তখন ঘৃণা ছাড়া ছোটদের আর কিছু করার থাকে না। সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় ভালোবাসা সেই সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। তখন সম্পর্ক আর ভাই-বোনের থাকে না।

সে সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতি বড় করে তুলে ধরে সবাইকে নিচু করতে দ্বিধা করে না। আবার অনেকে পরিবারের সব কিছু ভোগ দখল করে আসছে বছরের পর বছর, তারপরও খুশি নয়। এরা সেই বর্ণচোরা মুখোশধারী মানুষ নামের দানব যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো ফ্যামিলিকে ঠকিয়ে চলছে বহু বছর ধরে। এরা যখন সবে চাকরিতে ঢুকেছে কিন্তু বিয়ে করেনি তখন যা করেছে, শুধু সেই ইতিহাস বলে বেড়ায়। অথচ অনেক বছর পার হয়ে যায়, কারো খোঁজ খবর নেয় না।

বাংলাদেশের লাখ লাখ পরিবারে প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর একটা বিহিত করা প্রয়োজন। তবে পাছে লোকে কিছু বলে এই ভয়ে কেউ কিছু করছে না। সরাসরি কিছু করতে বা বলতে গেলে পরিবারের গুডউইল নষ্ট হবে। তা ছাড়া মিডিয়ায় তুলে ধরলে তেমন লাভ হবে না। মিডিয়া মানুষকে ছোট বা বড় করতে পারে, বিচার করতে পারে না।

আমরা সবাই দানবের নয়; মানবের সমাজ ফিরে পেতে চাই। কিন্তু এই দানবদের আলোর পথে না আনতে পারলে সমাজ এবং দেশে এদের সংখ্যা এত বাড়তে থাকবে যে, শেষ পর্যন্ত সৎ মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে।

যে চরিত্রহীন, অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্থ তাকে লজ্জা দেয়া যায় না। যে উলঙ্গ তাকে কে লজ্জা দেবে? কী করে সে দাবি করে সবার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা? একজন শিক্ষিত এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি যে শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, এমন স্বার্থপর আপনজন কেউ চায় না। সবাই সু-শিক্ষায় গড়া ভালোবাসার সমন্বয়ে ভরা সাধারণ পরিবার চায়।

দুর্নীতি হয় না এমন দেশ সারা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন প্রশ্ন কীভাবে দুর্নীতিবাজদেরকে সৎ চরিত্রে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? যদিও পরিবারের মধ্যে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না। তাহলে কীভাবে পরিবারে এ ধরণের মানুষদের চরিত্রের পরিবর্তন করা যায়? পারবে কি এরা নতুন করে প্রমাণ করতে যে তারা পরিবার ও সমাজের সত্যিকার আপনজন। তাহলে তাদেরকে প্রমাণ করে দেখাতে হবে, যে অন্যায় তারা করছে, তার জন্য তারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত।

আমি সব কিছু বিচার বিবেচনা করে আজ সারাদেশের মানুষের কাছে আমার এই বার্তাটি তুলে ধরছি। কারণ বাংলাকে সোনার বাংলা করতে হলে আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে এবং সে পরিবর্তন নিজ এবং নিজের পরিবারকে দিয়ে শুরু করতে হবে। সেক্ষেত্রে এগুলো পারিবারিকভাবে বসে মীমাংসা করতে চেষ্টা করার উদ্যোগ নিতে হবে।
এতে সীমিত সময়ের জন্য হয়ত পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটা পরিবারের তথা সমাজের জন্য সুফল বয়ে আনবে। সুশিক্ষা এবং মানবতার ধ্বংস নয়, ধ্বংস হোক তার নিজের কুশিক্ষা।

জীবন চলার পথে কিছু লক্ষ্য থাকা দরকার যা শিক্ষণীয় এবং যা সোনার বাংলায় আদর্শ মানুষ হতে সাহায্য করবে। আসুন সবাই ভাল চিন্তা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, ভালো আচরণ, ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে চেষ্টা করি। কারণ আমাদের ভালো চিন্তা কোন একসময় প্রতিজ্ঞায় পরিণত হবে। প্রতিজ্ঞা কোন একসময় আচরণে পরিণত হবে এবং আচরণ কোন একসময় অভ্যাসে পরিণত হবে আর সেই অভ্যাস কোন একসময় মর্যাদায় পরিণত হবে। সেই মর্যাদা কোন একসময় আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দিবে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

পরিবার থেকে পরিবর্তন শুরু করতে হবে

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমরা প্রায়ই পাশ্চাত্যের দোষত্রুটি নিয়ে কটূক্তি করি। অনেকে পাশ্চাত্যে কখনও আসেনি, কোনো ধারণাই নেই সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সেও মন্তব্য করতে কৃপণতা করে না। যেমন অনেকেই বলে বিদেশে ছেলে-মেয়েরা বাবা-মাকে দেখে না, খোঁজ খবর নেয় না, একসঙ্গে বসবাস করে না ইত্যাদি। 

কথাগুলো কিছুটা সত্য তবে জানতে হবে কেন এমনটি হয়। পাশ্চাত্যের সমাজব্যবস্থা আর বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা এক নয়। আমি যেহেতু পাশ্চাত্যে বহু বছর ধরে বসবাস করছি সেক্ষেত্রে যতটুকু জেনেছি এবং দেখেছি তা থেকে শুধু এতটুকু বলব যে, পাশ্চাত্যের চেয়ে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা আরও করুন। 

আমরা অতি সহজেই পরনিন্দা এবং পরচর্চা করে থাকি অথচ নিজেদের মধ্যে যে একই সমস্যা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাও যে অপরিহার্য সেটা ভুলে যাই। ভবিষ্যতে কোন এক সময় এর ওপর বিস্তারিত বর্ণনা দিব।

আমরা বাংলাদেশে ধর্ষণ, ঘুষ, মাদক, দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে সব সময় কথা বলি, সংগ্রাম করি। কিন্তু আমরা কখনো বলি না বা বলতে চাই না যে এধরনের অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তারা আর কেউ নয়, আমাদের সমাজেরই পরিচিত মুখ।
 
আজ আমি বাংলাদেশের কিছু পারিবারিক সমস্যা তুলে ধরতে চাই। অনেক পরিবার শিক্ষা এবং অর্থে দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে চললেও সেসব পরিবারে রয়েছে ভাই-বোনদের বঞ্চনাকারী এক বা একাধিক সদস্য। এসব পারিবারিক সমস্যা আমি দুঃখের সঙ্গে তুলে ধরছি শুধুমাত্র পরিবর্তনের জন্য। কারণ যদি এমনভাবে চলতে থাকে তবে পুরো দেশ এক সময় অচল হয়ে যাবে এসব কুৎসিত চরিত্রের মানুষের জন্য।

দুশ্চরিত্র, দুর্নীতি, নিজ পরিবারকে ঠকানো, মিথ্যা কথা বলা এগুলোকে কুৎসিত চরিত্রের মধ্যে ধরা হয়েছে। আর এ ধরণের কুৎসিত চরিত্রের মানুষ বর্তমানে বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল। আমার এ লেখা পড়ার সময় হয়ত অনেকের মনে হবে এ তো নিজেরই এক আপনজনের চরিত্র। ইংরেজিতে বলে ট্রুথ হার্টস, তবুও সত্যকে তুলে ধরতে হবে।

বাংলাদেশের যৌথ পরিবারের সংখ্যা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। পরিবারে বড় ভাই-বোনদের সচ্ছলতা থাকা সত্বেও বাবা-মা এবং ছোটদের ছেড়ে আলাদা হয়ে যাওয়া, খোঁজ খবর না রাখা, এখন এসব ঘটনা সর্বত্র দেখা যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। 

দেখা যায় যে ভাইয়ের ওপর ছিল ভালোবাসা এবং মধুর স্মৃতি যখন সে বিয়ে করেনি। পরবর্তীতে সে মস্ত বড় অফিসার হয়ে সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে। সে পরিবার ছেড়ে নিজেকে লোভী করে ফেলেছে আর গড়েছে তার চারপাশে এক আত্মকেন্দ্রিক প্রাচীর। যে প্রাচীর বন্ধ করে রেখেছে তার মনুষ্যত্বকে, দিনের পর দিন আর বছরের পর বছর।

ছোট ভাই-বোনদের জন্য কিছু করে যদি কোনো বড় ভাই-বোন তা সুদে-আসলে তুলে নেয় এবং সারাক্ষণ কঠিনভাবে মানসিক অশান্তিতে রাখে তখন ভালোবাসার সম্পর্ক ঘৃণায় পরিণত হয়। অর্থনৈতিকভাবে ঋণগ্রস্ত ছোট ভাই-বোনের ওপর বড়দের জুলুমের পরিমাণ যখন সীমা লঙ্ঘন করে এবং তারা যখন ছোটদের প্রতি অত্যাচার এবং অবিচার করতে শুরু করে, তখন ঘৃণা ছাড়া ছোটদের আর কিছু করার থাকে না। সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় ভালোবাসা সেই সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। তখন সম্পর্ক আর ভাই-বোনের থাকে না। 

সে সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতি বড় করে তুলে ধরে সবাইকে নিচু করতে দ্বিধা করে না। আবার অনেকে পরিবারের সব কিছু ভোগ দখল করে আসছে বছরের পর বছর, তারপরও খুশি নয়। এরা সেই বর্ণচোরা মুখোশধারী মানুষ নামের দানব যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো ফ্যামিলিকে ঠকিয়ে চলছে বহু বছর ধরে। এরা যখন সবে চাকরিতে ঢুকেছে কিন্তু বিয়ে করেনি তখন যা করেছে, শুধু সেই ইতিহাস বলে বেড়ায়। অথচ অনেক বছর পার হয়ে যায়, কারো খোঁজ খবর নেয় না।
 
বাংলাদেশের লাখ লাখ পরিবারে প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর একটা বিহিত করা প্রয়োজন। তবে পাছে লোকে কিছু বলে এই ভয়ে কেউ কিছু করছে না। সরাসরি কিছু করতে বা বলতে গেলে পরিবারের গুডউইল নষ্ট হবে। তা ছাড়া মিডিয়ায় তুলে ধরলে তেমন লাভ হবে না। মিডিয়া মানুষকে ছোট বা বড় করতে পারে, বিচার করতে পারে না।

আমরা সবাই দানবের নয়; মানবের সমাজ ফিরে পেতে চাই। কিন্তু এই দানবদের আলোর পথে না আনতে পারলে সমাজ এবং দেশে এদের সংখ্যা এত বাড়তে থাকবে যে, শেষ পর্যন্ত সৎ মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে।
 
যে চরিত্রহীন, অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্থ তাকে লজ্জা দেয়া যায় না। যে উলঙ্গ তাকে কে লজ্জা দেবে? কী করে সে দাবি করে সবার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা? একজন শিক্ষিত এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি যে শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, এমন স্বার্থপর আপনজন কেউ চায় না। সবাই সু-শিক্ষায় গড়া ভালোবাসার সমন্বয়ে ভরা সাধারণ পরিবার চায়।
 
দুর্নীতি হয় না এমন দেশ সারা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন প্রশ্ন কীভাবে দুর্নীতিবাজদেরকে সৎ চরিত্রে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? যদিও পরিবারের মধ্যে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না। তাহলে কীভাবে পরিবারে এ ধরণের মানুষদের চরিত্রের পরিবর্তন করা যায়? পারবে কি এরা নতুন করে প্রমাণ করতে যে তারা পরিবার ও সমাজের সত্যিকার আপনজন। তাহলে তাদেরকে প্রমাণ করে দেখাতে হবে, যে অন্যায় তারা করছে, তার জন্য তারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত।

আমি সব কিছু বিচার বিবেচনা করে আজ সারাদেশের মানুষের কাছে আমার এই বার্তাটি তুলে ধরছি। কারণ বাংলাকে সোনার বাংলা করতে হলে আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে এবং সে পরিবর্তন নিজ এবং নিজের পরিবারকে দিয়ে শুরু করতে হবে। সেক্ষেত্রে এগুলো পারিবারিকভাবে বসে মীমাংসা করতে চেষ্টা করার উদ্যোগ নিতে হবে। 
এতে সীমিত সময়ের জন্য হয়ত পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটা পরিবারের তথা সমাজের জন্য সুফল বয়ে আনবে। সুশিক্ষা এবং মানবতার ধ্বংস নয়, ধ্বংস হোক তার নিজের কুশিক্ষা।
 
জীবন চলার পথে কিছু লক্ষ্য থাকা দরকার যা শিক্ষণীয় এবং যা সোনার বাংলায় আদর্শ মানুষ হতে সাহায্য করবে। আসুন সবাই ভাল চিন্তা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, ভালো আচরণ, ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে চেষ্টা করি। কারণ আমাদের ভালো চিন্তা কোন একসময় প্রতিজ্ঞায় পরিণত হবে। প্রতিজ্ঞা কোন একসময় আচরণে পরিণত হবে এবং আচরণ কোন একসময় অভ্যাসে পরিণত হবে আর সেই অভ্যাস কোন একসময় মর্যাদায় পরিণত হবে। সেই মর্যাদা কোন একসময় আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দিবে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম