দক্ষিণ আফ্রিকায় যেভাবে খুন করা হয় বাংলাদেশের আল আমিনকে
jugantor
দক্ষিণ আফ্রিকায় যেভাবে খুন করা হয় বাংলাদেশের আল আমিনকে

  শওকত বিন আশরাফ, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে   

২৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:০২:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে ব্যবসায়িক কোন্দলের জের ধরে সুজন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের হাতে খুন হয়েছেন তার ব্যবসায়িক পার্টনার আল আমিন৷ সুজন এবং আল আমিনের মধ্যে ২০১৮ সালের শেষদিকে বিচারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন শেষ হলেও আল আমিনকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিল সুজন।

সেই থেকে সুজন আল আমিনকে খুন করার নানা পরিকল্পনা করে আসছিল। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় আল আমিনকে খুনের পরিকল্পনা করে আসছে সে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯ অক্টোবর ভাড়া করা কৃষ্ণাঙ্গ খুনি দিয়ে কেপটাউনের সি-পয়েন্ট থেকে আল আমিনকে তুলে নিয়ে যায় সুজন। এরপর কেপটাউন শহরের অদূরে স্টেইনবার্গ নামক এলাকায় আল আমিনকে খুন করে লাশ সমুদ্রের পাড়ে বালিতে পুঁতে রাখে।

লাশ দুই দিন বালির নিচে থাকার পর ১২ অক্টোবর লাশটিকে কয়েকটি কুকুর বালির নিচ থেকে বের করে আনে। পরে লাশটি লোকজনের চোখে পড়লে তারা পুলিশের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

আল আমিনের লাশটি এখনও পর্যন্ত হাসপাতালের মর্গে রয়েছে এবং নিকটস্থ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছে। এদিকে আল আমিনের খুনি সুজন পলাতক রয়েছে। সুজন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব কেপটাউনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদের আপন ছোট ভাই। খুনি সুজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

তার বড়ভাই কমিউনিটি নেতা মাসুদ তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব কেপটাউনের নেতারা।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সুজন কমিউনিটি নেতা মাসুদের ছোট ভাই হওয়ার সুবাদে সুজনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই- এমনটি প্রমাণ করতে ওঠে-পড়ে লেগেছে তারা। হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আল আমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওই সব কতিপয় কমিউনিটি নেতার বিরুদ্ধে।

কমিউনিটি নেতার আপন ভাই খুনি হওয়ার কারণে আল আমিনের পরিবার খুনের বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিহত আল আমিন ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের ঢালীকান্দি কলাতিয়া গ্রামের দোখাই মিয়ার ছেলে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

দক্ষিণ আফ্রিকায় যেভাবে খুন করা হয় বাংলাদেশের আল আমিনকে

 শওকত বিন আশরাফ, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে  
২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে ব্যবসায়িক কোন্দলের জের ধরে সুজন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের হাতে খুন হয়েছেন তার ব্যবসায়িক পার্টনার আল আমিন৷ সুজন এবং আল আমিনের মধ্যে ২০১৮ সালের শেষদিকে বিচারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন শেষ হলেও আল আমিনকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিল সুজন।

সেই থেকে সুজন আল আমিনকে খুন করার নানা পরিকল্পনা করে আসছিল। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় আল আমিনকে খুনের পরিকল্পনা করে আসছে সে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯ অক্টোবর ভাড়া করা কৃষ্ণাঙ্গ খুনি দিয়ে কেপটাউনের সি-পয়েন্ট থেকে আল আমিনকে তুলে নিয়ে যায় সুজন। এরপর কেপটাউন শহরের অদূরে স্টেইনবার্গ নামক এলাকায় আল আমিনকে খুন করে লাশ সমুদ্রের পাড়ে বালিতে পুঁতে রাখে।

লাশ দুই দিন বালির নিচে থাকার পর ১২ অক্টোবর  লাশটিকে কয়েকটি কুকুর বালির নিচ থেকে বের করে আনে। পরে লাশটি লোকজনের চোখে পড়লে তারা পুলিশের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। 

আল আমিনের লাশটি এখনও পর্যন্ত হাসপাতালের মর্গে রয়েছে এবং নিকটস্থ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি ইউডি  মামলা দায়ের করেছে। এদিকে আল আমিনের খুনি সুজন পলাতক রয়েছে। সুজন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব কেপটাউনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদের আপন ছোট ভাই। খুনি সুজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। 

তার বড়ভাই কমিউনিটি নেতা মাসুদ তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব কেপটাউনের নেতারা। 

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সুজন কমিউনিটি নেতা মাসুদের ছোট ভাই হওয়ার সুবাদে সুজনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই- এমনটি প্রমাণ করতে ওঠে-পড়ে লেগেছে তারা। হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আল আমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওই সব কতিপয় কমিউনিটি নেতার বিরুদ্ধে।

কমিউনিটি নেতার আপন ভাই খুনি হওয়ার কারণে আল আমিনের পরিবার খুনের বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিহত আল আমিন ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের ঢালীকান্দি কলাতিয়া গ্রামের দোখাই মিয়ার ছেলে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]