জার্মানির ডিএএডি ফেলোশিপ পেলেন ড. দেলোয়ার
jugantor
জার্মানির ডিএএডি ফেলোশিপ পেলেন ড. দেলোয়ার

  রাজীব আহসান, কানাডা থেকে  

২৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৭:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রবাসী বাঙালি ড. দেলোয়ার হোসাইন জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা DAAD (German: Deutscher Akademischer Austauschdienst) আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বৃহত্তম জার্মান সংস্থা।

ডিএএডি ফেলোশিপ হল জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সরকারি, বেসরকারি, আঞ্চলিক এবং স্ব-পরিচালিত অর্থায়িত জাতীয় সংস্থা, যেটা ৩৬৫টি জার্মান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (১০০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়, ১৬২টি ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় ও ৫২টি সংগীত এবং শিল্প কলেজ) উপস্থাপন করে। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৫ সালে।

এটি শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের আন্তর্জাতিক বিনিময়ের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম তহবিল সংস্থা। প্রতি বছর দুইবার বিশ্বের কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী এবং গবেষক একটি কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ২০২০ সালে এবারই প্রথম তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এ সিলেকশন দেন, জার্মানিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পোস্ট ডক্টোরাল নেটওয়ার্কিং ট্যুরের জন্য।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৮৯টি আবেদনের বিপরীতে ২০ জনকে এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়। কানাডা থেকে সর্বোমোট ২ জন প্রতিযোগী এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হন। আর সেই সিলেকশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগরি থেকে ড. দেলোয়ার হোসাইন ডিএএডি ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এই ফেলোশিপের অধীনে স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়, টিবিঞ্জেন বিশ্ববিদ্যালয়, অগসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মিউনিখ প্রযুক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়, সিমেন্স এজি, বোশ সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ভ্যালি, ম্যাক্স-প্ল্যাঙ্কইনস্টিটিউট ফর ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম, সাইবার ভ্যালি, জার্মান এরোস্পেস সেন্টার, মিউনিখ সেন্টার ফর মেশিন লার্নিং এবং হেলমহল্টজেন্ট্রাম মেনচেনের মতো বিখ্যাত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গবেষণাগারে ভ্রমণ করবেন।

প্রবাসী বাঙালি ড. দেলোয়ার হোসাইন বর্তমানে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরিতে ড. শন ডুকলো ও ড. টাইলার ক্লাফের অধীনে পোস্ট ডক্টরেট ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন।

বাংলাদেশের গর্ব মেধাবী এই কৃতীসন্তানের জন্ম রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে। তিনি হাজী আশরাফ হোসাইন ও হাজী মাহমুদা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র। তার বাবা পুইজোর ডিগ্রি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন। শিক্ষিত ও সভ্রান্ত এ পরিবারের প্রতিটি সদস্যই উচ্চশিক্ষিত।

তার বড় ভাই ও দুলাভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে এবং মেজোভাই অস্ট্রেলিয়াতে কর্মরত আছেন।

তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে ২০০৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।

বরাবরের মতো প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি ২০১০ সালে স্নাতক এবং ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। তিনি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছর শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি জাপানের তয়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ও মেশিন লার্নিং এর ওপর পিএইচডি করতে।

২০১৮ সালে মার্চে পিএইচডি শেষে তিনি জাপানের হসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক ও টোকিয়ো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠিত ফিয়ারি ডিভাইস কোম্পানিতে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ড. দেলোয়ার হোসাইন স্ত্রী ও এক কন্যাসহ ক্যালগেরিতে বসবাস করেন। অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র এই বিজ্ঞানী ও গবেষক যুগান্তরকে বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে এই ফেলোশিপে নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত গর্ববোধ করছি। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। লাল-সবুজের বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে- সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

জার্মানির ডিএএডি ফেলোশিপ পেলেন ড. দেলোয়ার

 রাজীব আহসান, কানাডা থেকে 
২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রবাসী বাঙালি ড. দেলোয়ার হোসাইন জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা ডিএএডি ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস বা DAAD (German: Deutscher Akademischer Austauschdienst) আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বৃহত্তম জার্মান সংস্থা।

ডিএএডি ফেলোশিপ হল জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সরকারি, বেসরকারি, আঞ্চলিক এবং স্ব-পরিচালিত অর্থায়িত জাতীয় সংস্থা, যেটা ৩৬৫টি জার্মান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (১০০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়, ১৬২টি ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় ও ৫২টি সংগীত এবং শিল্প কলেজ)  উপস্থাপন করে। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৫ সালে। 

এটি শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের আন্তর্জাতিক বিনিময়ের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম তহবিল সংস্থা। প্রতি বছর দুইবার বিশ্বের কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী এবং গবেষক একটি কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ২০২০ সালে এবারই প্রথম তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এ সিলেকশন দেন, জার্মানিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পোস্ট ডক্টোরাল নেটওয়ার্কিং ট্যুরের জন্য। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৮৯টি আবেদনের বিপরীতে ২০ জনকে এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়। কানাডা থেকে সর্বোমোট ২ জন প্রতিযোগী এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হন। আর সেই সিলেকশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগরি থেকে ড. দেলোয়ার হোসাইন ডিএএডি ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। 
এই ফেলোশিপের অধীনে স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়, টিবিঞ্জেন বিশ্ববিদ্যালয়, অগসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মিউনিখ প্রযুক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়, সিমেন্স এজি, বোশ সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ভ্যালি, ম্যাক্স-প্ল্যাঙ্কইনস্টিটিউট ফর ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম, সাইবার ভ্যালি, জার্মান এরোস্পেস সেন্টার, মিউনিখ সেন্টার ফর মেশিন লার্নিং এবং হেলমহল্টজেন্ট্রাম মেনচেনের মতো বিখ্যাত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গবেষণাগারে ভ্রমণ করবেন।

প্রবাসী বাঙালি ড. দেলোয়ার হোসাইন বর্তমানে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরিতে ড. শন ডুকলো ও ড. টাইলার ক্লাফের অধীনে পোস্ট ডক্টরেট ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। 

বাংলাদেশের গর্ব মেধাবী এই কৃতীসন্তানের জন্ম রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে। তিনি হাজী আশরাফ হোসাইন ও হাজী মাহমুদা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র। তার বাবা পুইজোর ডিগ্রি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন। শিক্ষিত ও সভ্রান্ত এ পরিবারের প্রতিটি সদস্যই উচ্চশিক্ষিত।

তার বড় ভাই ও দুলাভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে এবং মেজোভাই অস্ট্রেলিয়াতে কর্মরত আছেন।

তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে ২০০৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। 

বরাবরের মতো প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি ২০১০ সালে স্নাতক এবং ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। তিনি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছর শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি জাপানের তয়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ও মেশিন লার্নিং এর ওপর পিএইচডি করতে। 

২০১৮ সালে মার্চে পিএইচডি শেষে তিনি জাপানের হসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক ও টোকিয়ো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠিত ফিয়ারি ডিভাইস কোম্পানিতে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ড. দেলোয়ার হোসাইন স্ত্রী ও এক কন্যাসহ ক্যালগেরিতে বসবাস করেন। অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র এই বিজ্ঞানী ও গবেষক যুগান্তরকে বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে এই ফেলোশিপে নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত গর্ববোধ করছি। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। লাল-সবুজের বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে- সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]