পর্তুগালে পাঁচ দিনের জরুরি সতর্কাবস্থা জারি
jugantor
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ
পর্তুগালে পাঁচ দিনের জরুরি সতর্কাবস্থা জারি

  ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৫১:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ন্যায় পর্তুগালের করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আক্রমণ শুরু করেছে এবং এখন এতটাই ব্যাপক যে শুরুতে যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছিল এখন তার তিন চার গুন বেশি হারে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় সপ্তাহান্তে একটি উৎসব থাকার কারণে জনসমাগম রোধ করে করোনা সংক্রমণ এড়ানোর জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর রাত বারোটা (বৃহস্পতিবার রাত ১১.৫৯ মিনিট এরপর থেকে) থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ছয়টা পর্যন্ত অতিরিক্ত জরুরি অবস্থা বজায় থাকবে।

এই জরুরি অবস্থার মাঝে এক সিটি কর্পোরেশন থেকে অন্য সিটি কর্পোরেশনে যৌক্তিক জরুরি কারণ ছাড়া ভ্রমণ করা নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার সকলকে তাদের নিজ নিজ এরিয়াতে থাকতে হবে।

তবে ব্যতিক্রম রয়েছে যে কিছু ক্ষেত্রে যেমন- স্বাস্থ্য সবার সাথে যুক্ত কর্মী এবং সমাজকর্মী, শিক্ষকতার সাথে যুক্ত পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী, সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্ত ব্যক্তি, প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বলে রাজনৈতিক দলের পরিচালক, সরকারের জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মী এবং জাতীয় সংসদের সাথে সম্পর্কিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি।

একই সিটি কর্পোরেশন এরিয়াতে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা গেলেও কোন অবস্থাতে ছুটি কাটানোর জন্য কোথাও যাওয়া যাবে না। অর্থাৎ ইতিপূর্বে হোটেল বুকিং করা থাকলেও ভ্রমণ বাতিল করতে হবে এবং পাবলিক এরিয়াতে উৎসব আয়োজনের কোন প্রকার আয়োজন করা যাবে না।

তবে কেউ যদি তার বসবাসরত এলাকার বাইরে থাকেন তাহলে তিনি তার এলাকায় ফিরতে পারবেন। তাছাড়া দেশের বাইরে ভ্রমণ করার জন্য এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে গমন করা যাবে।

নির্দিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে বিভিন্ন পাবলিক একটিভি খোলা থাকলে তা স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে উপলব্ধ সকল সেবা কার্যক্রম: থেকে শুরু করে সকল নতুন স্বাস্থ্যবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করা যাবে।

যদি কোন কারণে নির্দিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার বাইরে যেতে হয় যেমন সন্তানকে স্কুলে আনা-নেয়ার জন্য, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রমাণযোগ্য যে কোন প্রকার ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখতে হবে।

পয়লা নভেম্বর ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অল সেইন্টস' ডে পর্তুগালের অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে পালন করা হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে এবং বর্তমানে অতিমাত্রায় সংক্রমণ হওয়ার প্রেক্ষিতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ রোধ করার জন্য এই সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। রাস্তাঘাটে এবং প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনের হাইওয়ের মূল পয়েন্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবেন।

পর্তুগালে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৯২ জন জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৫ জন। গত মার্চ মাসের করোনা সংক্রমণ শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৮ অক্টোবর একদিনে সর্বোচ্চ ৩,৯৬০ জন। যা এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ

পর্তুগালে পাঁচ দিনের জরুরি সতর্কাবস্থা জারি

 ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ন্যায় পর্তুগালের করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আক্রমণ শুরু করেছে এবং এখন এতটাই ব্যাপক যে শুরুতে যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছিল এখন তার তিন চার গুন বেশি হারে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে। 

এই বাস্তবতায় সপ্তাহান্তে একটি উৎসব থাকার কারণে জনসমাগম রোধ করে করোনা সংক্রমণ এড়ানোর জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর রাত বারোটা (বৃহস্পতিবার রাত ১১.৫৯ মিনিট এরপর থেকে) থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ছয়টা পর্যন্ত অতিরিক্ত জরুরি অবস্থা বজায় থাকবে।

এই জরুরি অবস্থার মাঝে এক সিটি কর্পোরেশন থেকে অন্য সিটি কর্পোরেশনে যৌক্তিক জরুরি কারণ ছাড়া ভ্রমণ করা নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার সকলকে তাদের নিজ নিজ এরিয়াতে থাকতে হবে।

তবে ব্যতিক্রম রয়েছে যে কিছু ক্ষেত্রে যেমন- স্বাস্থ্য সবার সাথে যুক্ত কর্মী এবং সমাজকর্মী, শিক্ষকতার সাথে যুক্ত পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী, সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্ত ব্যক্তি, প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বলে রাজনৈতিক দলের পরিচালক, সরকারের জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মী এবং জাতীয় সংসদের সাথে সম্পর্কিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি।

একই সিটি কর্পোরেশন এরিয়াতে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা গেলেও কোন অবস্থাতে ছুটি কাটানোর জন্য কোথাও যাওয়া যাবে না। অর্থাৎ ইতিপূর্বে হোটেল বুকিং করা থাকলেও ভ্রমণ বাতিল করতে হবে এবং পাবলিক এরিয়াতে উৎসব আয়োজনের কোন প্রকার আয়োজন করা যাবে না।

তবে কেউ যদি তার বসবাসরত এলাকার বাইরে থাকেন তাহলে তিনি তার এলাকায় ফিরতে পারবেন। তাছাড়া দেশের বাইরে ভ্রমণ করার জন্য এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে গমন করা যাবে। 

নির্দিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে বিভিন্ন পাবলিক একটিভি খোলা থাকলে তা স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে উপলব্ধ সকল সেবা কার্যক্রম: থেকে শুরু করে সকল নতুন স্বাস্থ্যবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করা যাবে।

যদি কোন কারণে নির্দিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার বাইরে যেতে হয় যেমন সন্তানকে স্কুলে আনা-নেয়ার জন্য, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রমাণযোগ্য যে কোন প্রকার ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখতে হবে। 

পয়লা নভেম্বর ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অল সেইন্টস' ডে পর্তুগালের অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে পালন করা হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে এবং বর্তমানে অতিমাত্রায় সংক্রমণ হওয়ার প্রেক্ষিতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ রোধ করার জন্য এই সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। রাস্তাঘাটে এবং প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনের হাইওয়ের মূল পয়েন্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবেন।

পর্তুগালে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৯২ জন জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৫ জন। গত মার্চ মাসের করোনা সংক্রমণ শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৮ অক্টোবর একদিনে সর্বোচ্চ ৩,৯৬০ জন। যা এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]