দুই যমজ শিক্ষার্থী ও শেক্সপিয়ারের রসিক গল্প
jugantor
দুই যমজ শিক্ষার্থী ও শেক্সপিয়ারের রসিক গল্প

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

১৪ নভেম্বর ২০২০, ১৫:১৮:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

ছোটবেলার বন্ধুদের কথা মনে পড়ছে। আমার স্মৃতিচারণে প্রায়ই পুরনো দিনে ফিরে যাই। এছাড়াও ভ্রমণের ঘটনা প্রবাহ সত্যি মধুময়। হাইস্কুল জীবনের কোনো এক সময়ের কথা। শিক্ষকরা ছিলেন যেমন কঠিন তেমন কোমল। হাসি-তামাশা যে করতেন না সেটা বললে ভুল হবে। ক্লাসে মনোযোগী হলে বা পড়াশোনাটা ঠিকমতো করলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়।

আমার শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভালই ছিল। যদিও দুষ্টুর হাড্ডি ছিলাম। কারণ একটাই, লেখাপড়ার জায়গাটি ঠিক রেখে দুষ্টুমি করেছি। শিক্ষকের নাম পতীত ঘোষ, বেশ মজার লোক ছিলেন তিনি।

অতীতের একটি ঘটনা হঠাৎ মনে পড়ে গেল। যমজ দুইভাই একই ক্লাসে পড়ে, আমার সিনিয়র। লেখাপড়ায় তারা এভারেজ। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে সবে স্কুলে বেড়াতে এসেছে। আমরা কয়েকজন বেশ কিউরিয়াস হয়ে জানতে চাইছি পরীক্ষা কেমন হলো ইত্যাদি।

হঠাৎ পতীত স্যার এসে হাজির। সবাই চুপ হয়ে গেলাম, যমজ ভাই দুজন স্যারকে নমস্কার দিল। স্যার জিজ্ঞেস করলেন পরীক্ষা কেমন হয়েছে। পতীত স্যার তখন স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক। প্রশ্ন করলেন তোমাদের ইংরেজি পরীক্ষা কেমন হয়েছে? রচনা কি কমন পড়েছিল?

হঠাৎ যমজ ভাই দুজন বললো, না স্যার, কমন পড়েনি তবে বানিয়ে লিখেছি। একথা শোনার পর স্যার বললেন, "এই তোরা শুনছিস ওরা কী বলছে? ইংরেজি রচনা বানিয়ে লিখেছে।"

আমি বললাম স্যার সমস্যা কি? উত্তরে স্যার বলেছিলেন ওরা বাংলা রচনাই তো ঠিকমতো লিখতে পারে না সেখানে ইংরেজি বানিয়ে লিখেছে। স্কুলের পাশের হার তো এবার গতবারের চেয়ে খারাপ হবে, সঙ্গে যাবে আমার চাকরি। হয়তো কথাগুলো ছিল অপ্রিয় সত্য, তারপরও সেদিনের সেই কথোপকথন মনে পড়ে গেল নিচের এই সংগৃহীত গল্পটি পড়ার পর।

ছাত্র ইংরেজি পরীক্ষা দিয়ে আসার পরে...
শিক্ষক : (গম্ভীর কণ্ঠে) কী রে পরীক্ষা কেমন দিলি?
ছাত্র : ভালো।
শিক্ষক : কী এসেছিল কোশ্চেন?
ছাত্র : ওই তো, শেক্সপিয়ারের পাঁচটা নাটকের নাম লিখতে বলেছিল, আর সেগুলো কী নিয়ে লেখা, সেইটা বলতে বলেছিল।
শিক্ষক : পারলি?
ছাত্র : হ্যাঁ, হ্যাঁ, ও তো আমার মুখস্থ।
শিক্ষক : (অবাক হয়ে) কী লিখলি?
ছাত্র : (দৃঢ় কণ্ঠে) লিখলাম, শেক্সপিয়ার খুব মামলেট খেতে ভালবাসতো। একবার ডিমের মধ্যে হ্যাম পড়ে গেছিল বলে সেটা হয়ে গেল হ্যামলেট। তাই নিয়ে একটা নাটক।
শিক্ষক : (শুকনো গলায়) বাহ! আর?
ছাত্র : তারপর একদিন ওর মা রান্নাঘরে দুধ গরম করতে বসিয়ে বাথরুমে গেছিল, বলে গেছিল, বাবা, একটু খেয়াল রাখিস। সেই দুধ উথলে উঠে পুড়ে গেল। তাই নিয়ে লিখলো "ওথেলো"।
শিক্ষক : (এক গ্লাস পানি এক নিঃশ্বাসে খেয়ে) তারপর?
ছাত্র : তারপর একবার ও আর ওর মা ভেনিসে গেছিল, সেখানে গিয়ে ওর মার গলার চেন হারিয়ে গেল। তাই নিয়ে একটা নাটক লিখল, "মার চেন অফ ভেনিস"।
শিক্ষক : (মাথার চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে) নেক্সট?
ছাত্র : জুলিয়েট নামে এক মেয়ে রোমে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এরপর হোমিও ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়। এই কাহিনী নিয়ে শেক্সপিয়ার লিখেছিলেন রোমিও জুলিয়েট।
শিক্ষক : (বুকে হাত বোলাতে বোলাতে) আর? পাঁচ নম্বর?
ছাত্র : আর একটা কী যেন, কী যেন, কী যেন? ও হ্যাঁ। শেক্সপিয়ারের মেয়ে হয়েছিল জুলাই মাসে সিজার করে, তার নাম দিয়েছিল জুলিয়া। সেই নিয়ে নাটক "জুলিয়া'স সিজার"।
শিক্ষক চেয়ার থেকে মাটিতে আছড়ে পড়লেন।

ঘটনাটি আমার এক বন্ধু প্রকাশ করেছে। পড়ে বেশ মজা পেয়েছি, সাথে রিফ্লেক্ট করেছি সত্যিকারার্থে একজন ভালো ছাত্রের দক্ষতা সব সময় শুধু মুখস্থ করে কিছু জানা এবং ভালো ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

কী চমৎকারভাবে সে শেক্সপিয়ারের নানা স্টোরিকে রসিকতার সাথে তুলে ধরেছে। সেইসাথে প্রতিটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্টোরিকে রসে পরিপূর্ণ করেছে। জানি না কে এই লেখাটি লিখেছেন। খুব ভালো লেগেছে এবং শিক্ষণীয় বার্তা যা ফলপ্রসূ।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

দুই যমজ শিক্ষার্থী ও শেক্সপিয়ারের রসিক গল্প

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ছোটবেলার বন্ধুদের কথা মনে পড়ছে। আমার স্মৃতিচারণে প্রায়ই পুরনো দিনে ফিরে যাই। এছাড়াও ভ্রমণের ঘটনা প্রবাহ সত্যি মধুময়। হাইস্কুল জীবনের কোনো এক সময়ের কথা। শিক্ষকরা ছিলেন যেমন কঠিন তেমন কোমল। হাসি-তামাশা যে করতেন না সেটা বললে ভুল হবে। ক্লাসে মনোযোগী হলে বা পড়াশোনাটা ঠিকমতো করলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। 

আমার শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভালই ছিল। যদিও দুষ্টুর হাড্ডি ছিলাম। কারণ একটাই, লেখাপড়ার জায়গাটি ঠিক রেখে দুষ্টুমি করেছি। শিক্ষকের নাম পতীত ঘোষ, বেশ মজার লোক ছিলেন তিনি।

অতীতের একটি ঘটনা হঠাৎ মনে পড়ে গেল। যমজ দুইভাই একই ক্লাসে পড়ে, আমার সিনিয়র। লেখাপড়ায় তারা এভারেজ। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে সবে স্কুলে বেড়াতে এসেছে। আমরা কয়েকজন বেশ কিউরিয়াস হয়ে জানতে চাইছি পরীক্ষা কেমন হলো ইত্যাদি। 

হঠাৎ পতীত স্যার এসে হাজির। সবাই চুপ হয়ে গেলাম, যমজ ভাই দুজন স্যারকে নমস্কার দিল। স্যার জিজ্ঞেস করলেন পরীক্ষা কেমন হয়েছে। পতীত স্যার তখন স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক। প্রশ্ন করলেন তোমাদের ইংরেজি পরীক্ষা কেমন হয়েছে? রচনা কি কমন পড়েছিল? 

হঠাৎ যমজ ভাই দুজন বললো, না স্যার, কমন পড়েনি তবে বানিয়ে লিখেছি। একথা শোনার পর স্যার বললেন, "এই তোরা শুনছিস ওরা কী বলছে? ইংরেজি রচনা বানিয়ে লিখেছে।"

আমি বললাম স্যার সমস্যা কি? উত্তরে স্যার বলেছিলেন ওরা বাংলা রচনাই তো ঠিকমতো লিখতে পারে না সেখানে ইংরেজি বানিয়ে লিখেছে। স্কুলের পাশের হার তো এবার গতবারের চেয়ে খারাপ হবে, সঙ্গে যাবে আমার চাকরি। হয়তো কথাগুলো ছিল অপ্রিয় সত্য, তারপরও সেদিনের সেই কথোপকথন মনে পড়ে গেল নিচের এই সংগৃহীত গল্পটি পড়ার পর। 

ছাত্র ইংরেজি পরীক্ষা দিয়ে আসার পরে...
শিক্ষক : (গম্ভীর কণ্ঠে) কী রে পরীক্ষা কেমন দিলি?
ছাত্র : ভালো।
শিক্ষক : কী এসেছিল কোশ্চেন?
ছাত্র : ওই তো, শেক্সপিয়ারের পাঁচটা নাটকের নাম লিখতে বলেছিল, আর সেগুলো কী নিয়ে লেখা, সেইটা বলতে বলেছিল।
শিক্ষক : পারলি?
ছাত্র : হ্যাঁ, হ্যাঁ, ও তো আমার মুখস্থ।
শিক্ষক : (অবাক হয়ে) কী লিখলি?
ছাত্র : (দৃঢ় কণ্ঠে) লিখলাম, শেক্সপিয়ার খুব মামলেট খেতে ভালবাসতো। একবার ডিমের মধ্যে হ্যাম পড়ে গেছিল বলে সেটা হয়ে গেল হ্যামলেট। তাই নিয়ে একটা নাটক।
শিক্ষক : (শুকনো গলায়) বাহ! আর?
ছাত্র : তারপর একদিন ওর মা রান্নাঘরে দুধ গরম করতে বসিয়ে বাথরুমে গেছিল, বলে গেছিল, বাবা, একটু খেয়াল রাখিস। সেই দুধ উথলে উঠে পুড়ে গেল। তাই নিয়ে লিখলো "ওথেলো"।
শিক্ষক : (এক গ্লাস পানি এক নিঃশ্বাসে খেয়ে) তারপর?
ছাত্র : তারপর একবার ও আর ওর মা ভেনিসে গেছিল, সেখানে গিয়ে ওর মার গলার চেন হারিয়ে গেল। তাই নিয়ে একটা নাটক লিখল, "মার চেন অফ ভেনিস"।
শিক্ষক : (মাথার চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে) নেক্সট?
ছাত্র : জুলিয়েট নামে এক মেয়ে রোমে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এরপর হোমিও ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়। এই কাহিনী নিয়ে শেক্সপিয়ার লিখেছিলেন রোমিও জুলিয়েট।
শিক্ষক : (বুকে হাত বোলাতে বোলাতে) আর? পাঁচ নম্বর?
ছাত্র : আর একটা কী যেন, কী যেন, কী যেন? ও হ্যাঁ। শেক্সপিয়ারের মেয়ে হয়েছিল জুলাই মাসে সিজার করে, তার নাম দিয়েছিল জুলিয়া। সেই নিয়ে নাটক "জুলিয়া'স সিজার"।
শিক্ষক চেয়ার থেকে মাটিতে আছড়ে পড়লেন।

ঘটনাটি আমার এক বন্ধু প্রকাশ করেছে। পড়ে বেশ মজা পেয়েছি, সাথে রিফ্লেক্ট করেছি সত্যিকারার্থে একজন ভালো ছাত্রের দক্ষতা সব সময় শুধু মুখস্থ করে কিছু জানা এবং ভালো ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। 

কী চমৎকারভাবে সে শেক্সপিয়ারের নানা স্টোরিকে রসিকতার সাথে তুলে ধরেছে। সেইসাথে প্রতিটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্টোরিকে রসে পরিপূর্ণ করেছে। জানি না কে এই লেখাটি লিখেছেন। খুব ভালো লেগেছে এবং শিক্ষণীয় বার্তা যা ফলপ্রসূ।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম