একটি বৈশ্বিক রিলেশনশিপের গল্প
jugantor
একটি বৈশ্বিক রিলেশনশিপের গল্প

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

১৫ নভেম্বর ২০২০, ১৫:২১:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

জীবনে বহু ব্যর্থ এবং সফল প্রেমের কাহিনী শুনেছি, কাহিনী করেছি তবে এমনটি শুনিনি এর আগে। কোথায় লাইলি মজনু, রোমিও জুলিয়েট, চণ্ডিদাস সব ফেল মেরেছে আমার এক বন্ধুর প্রেমের কাছে। বন্ধু প্রেমে ব্যর্থ না সফল, এ মূহুর্ত পর্যন্ত বলা কঠিন। তবে সে ছ্যাঁক খাওয়ার ওপর আছে সত্বেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অতীতের সব প্রেমে বিরহ বা বিচ্ছেদ ঘটেছে সেটা ছিল এলাকা ভিত্তিক অথবা স্কুল-কলেজে। সমাজে ধনী-গরীব বা ধর্মের ভিন্নতার কারণেও এমনটি ঘটেছে। আর এসব কারণে প্রেমের পূর্ণতা অনেক সময়ে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

বর্তমানে গ্লোবালাইজড পরিবেশে প্রেমের ধরণ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম তারপর ভাষা, বর্ণ বা ধর্মের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আবার প্রেম কখনও বা এক কেন্দ্রিক হয়ে থাকে যার ফলে মনে জ্বলে আগুন। প্রেম কী বয়স, সমাজ, পরিবার এসব মেনে চলে? নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। এবারের প্রেমের জটিলতা শুরু থেকেই। অনেকের কাছে এই বর্ণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনে হতে পারে এটা তাদের নিজ জীবনের ব্যক্তিগত ঘটনা।

আমার বন্ধুর এ কাহিনী আমেরিকার জেএফ কেনেডি এয়ারপোর্টে শুরু। তারা দুজনেই কাজ করে এয়ারপোর্টে, একজনের বাড়ি ইটালি অন্যজনের বাড়ি বাংলাদেশে। সবার ধারণা হতে পারে বাংলাদেশি মানে আমি তাকে চিনি, হ্যাঁ আমি চিনি আমার বন্ধুকে। সে বিবাহিত তবে ইটালিয়ান মেম সাহেবা অবিবাহিত। তারা কাজের ফাঁকে একটু জায়গা করে নিয়েছে পরস্পর পরস্পরের প্রতি এবং সেটা ঘটেছে শুরু থেকে তাদের মনের অজান্তে।

বন্ধু প্রায়ই কাজ শুরু করে সকালে। লাঞ্চ বাড়ি থেকে নিয়ে যায় এবং সে ইটালিয়ান কলিগের জন্যও নিজ হাতে রান্না করা মুরগীর কলিজা পর্যন্ত নিয়ে তাকে মাসের পর মাস খাওয়াত। ইটালিয়ান বান্ধবী মনের আনন্দে আমার বন্ধুর খাবার খেয়েছে। চলছে এভাবে তাদের দিন, বন্ধু ভালোবাসা দিয়ে চলছে মাসের পর মাস।

হঠাৎ একদিন দেখে ইটালিয়ান বান্ধবী আরেক ছেলের হাত ধরে ঘুরছে ম্যানহাটনে। এটা দেখার পর বন্ধুর ঘুম হয়েছে হারাম, যদিও সে কখনও বা ঘুমায়, ঘুমের ঘোরে আমার বন্ধু একা একা কথা বলে ‘অলিভ অয়েলের তেল দিয়ে রাত তিনটায় উঠে তোর জন্য আমি মুরগীর কলিজা ভুনা করে তোরে খাওয়াই, আর তুই আরেক জনের সঙ্গে রঙ্গ করিস, হাতে হাত ধরে ঘুরিস?

আজ বন্ধুর বউ পুরো ঘটনা রেকর্ড করেছে ঘুমের ঘোরে একা একা কথা বলা। সকালে পুর ভিডিও দেখালে সে কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। শুধু বলেছে ঘুমের মধ্যে কী আবোল তাবোল বলেছি সেটা কেন তুমি ভিডিও করেছ? বন্ধুর স্ত্রী বলেছে প্রায়ই এই কথা স্বপ্নে বল নিশ্চয় কোন রহস্য রয়েছে। বন্ধুর মন এখন ভালো যাচ্ছে না।

গত সপ্তাহে ছিল সেই ইটালিয়ান বান্ধবীর জন্মদিন। সে গুগল থেকে একটি টেক্সট যোগাড় করেছে তার বান্ধবীর জন্মদিনে পাঠাবার জন্য। বন্ধু তার জন্মদিনে উইশ করেছে। গুগলের টেক্সটিতে লেখা রয়েছে “Be useless, so nobody can use you!”

বন্ধুর জন্মদিনের উইশ তার বান্ধবী পেয়েছে তবে কোন কমেন্ট করেনি। বন্ধু আমার পড়েছে ভাবনায়! তার বান্ধবী সবার কথা শুনে হাসে, তামাশা করে, কিন্তু বন্ধুর কথায় সে আর এখন আগের মত হাসে না।

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়া সে কি মোর অপরাধ। কবি নজরুলও তো ঠিক এমনটি করে বলেছিলেন। সবাই বলে ইটালিয়ান ভাষার মধ্যে রয়েছে রোমান্টিকের ছোঁয়া, মানলাম। তোমাকে পছন্দ করি কিন্তু তুমি তা বুঝতে পারনি তাই লিখেছি তাহলে তুমি গুড ফর নাথিং হয়েই থাক?

মনে হচ্ছে আমার মনের এ কথা তার হৃদয় স্পর্শ করেনি! আমি বন্ধুর কথাগুলো নিয়ে ভেবেছি। কয়েকজন সুইডিশদের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। সুইডিশ জাতি টেক্সটির সারমর্মটি ঠিকই ধরেছে যেটা আমার বন্ধুর ইটালিয়ান বান্ধবী ধরতে পারেনি।

বন্ধু বাসায় তার বাথরুমে দরজা বন্ধ করে ইদানীং গান গায়- ভালোবাসা দিলাম শুধু ভালোবাসা পেলাম না; আশায় আশায় দিন যে গেল আশা পূরণ হলো না। সে ওজন কমিয়েছে ১৬ কেজি। এখন তার চেষ্টা চলছে সিক্স প্যাক করার।

কোভিড-১৯ এ যখন সবাই লকডাউনে জানি না কে কী করেছে। তবে ঘরে বসে বন্ধু আমার স্প্যানিশ ভাষা শিখেছে। কাজের সবাই বেশ মুগ্ধ তাকে দেখে যখন সে ইংরেজির পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে।

সে আবার নানা ধরণের রান্না শিখেছে। যেমন স্প্যানিশ পাইয়েয়া, তরটিলিয়া, ইটালির রিসুত, তেরামিসু, সুইডিশ মিটবল, ক্যারোট কেক ইত্যাদি। তার এই বিরাট পরিবর্তন ঘরের শান্তি কিছুটা নষ্ট করতে বসেছে। কারণ তার স্ত্রীর সন্দেহ বেড়ে চলছে দিনের পর দিন।

অন্যদিকে ইটালিয়ান মেয়েটি কি তাহলে শুধু ছলনা করছে বন্ধুর সাথে? নাকি সে জাস্ট বন্ধু সুলভভাবে মিশে চলছে? এমনও তো হতে পারে সবই সেই ইটালিয়ান মেয়ে খেলা ভেবে নিয়েছে। এটা কি তাহলে কালচারাল পার্থক্যের কারণে চলছে ভুল বোঝাবুঝি? ইটালির প্রেম-প্রীতি, রীতিনীতি সে তো সরাসরি বিনিময় হয়। মুরগীর কলিজা খাইয়ে কী সেখানে প্রেমিকার মন পাওয়া সম্ভব?

ঘটনা শেয়ার করেছে বন্ধু আমার সঙ্গে। কী যে করি ভাবছি এখন আমি! হয়ত অনেকে বলবে কেন গিয়েছে বিবাহিত জীবনে প্রেমে জড়াতে, এটাই স্বাভাবিক। প্রেম কী তাহলে কিছুই মানে না? কী হবে এখন এবং কী করবে বন্ধু? জানি না আমার লিখা যখন বন্ধু পড়বে কী ভাববে সে!

শুনেছি প্রথম প্রেমের রীতি সাধারণত নিজে কাঁদে আর প্রিয়াকে কাঁদায় কিন্তু ফল ইন লাভ জেএফ কেনেডি এয়ারপোর্টে এতো তার প্রথম প্রেম না? তাহলে কী এবারের প্রেমও বন্ধুকে একাই কাঁদাবে? আমার এ লিখা যারা পড়ছে এই সময়, তারাও কী কারও কথা ভাবছেন এবং কারও ছবি চুপি চুপি হৃদয়ের মাঝে আঁকছেন?

জীবনে এ ধরণের কল্পনার ভালোবাসা মনের মধ্যে অনেকেরই ঘটে থাকে। কেউ সেটা প্রকাশ করে আবার কেউ করে না। আজ আমার বন্ধুর হৃদয়ে যে ঘটনাপ্রবাহটি বয়ে চলছে তা আমি শেয়ার করলাম সবার সঙ্গে। গল্পটি কল্পনার নয় এটা বাস্তব একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা একজন অনামিকা বন্ধুকে নিয়ে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

একটি বৈশ্বিক রিলেশনশিপের গল্প

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১৫ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জীবনে বহু ব্যর্থ এবং সফল প্রেমের কাহিনী শুনেছি, কাহিনী করেছি তবে এমনটি শুনিনি এর আগে। কোথায় লাইলি মজনু, রোমিও জুলিয়েট, চণ্ডিদাস সব ফেল মেরেছে আমার এক বন্ধুর প্রেমের কাছে। বন্ধু প্রেমে ব্যর্থ না সফল, এ মূহুর্ত পর্যন্ত বলা কঠিন। তবে সে ছ্যাঁক খাওয়ার ওপর আছে সত্বেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

অতীতের সব প্রেমে বিরহ বা বিচ্ছেদ ঘটেছে সেটা ছিল এলাকা ভিত্তিক অথবা স্কুল-কলেজে। সমাজে ধনী-গরীব বা ধর্মের ভিন্নতার কারণেও এমনটি ঘটেছে। আর এসব কারণে প্রেমের পূর্ণতা অনেক সময়ে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
 
বর্তমানে গ্লোবালাইজড পরিবেশে প্রেমের ধরণ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম তারপর ভাষা, বর্ণ বা ধর্মের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আবার প্রেম কখনও বা এক কেন্দ্রিক হয়ে থাকে যার ফলে মনে জ্বলে আগুন। প্রেম কী বয়স, সমাজ, পরিবার এসব মেনে চলে? নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। এবারের প্রেমের জটিলতা শুরু থেকেই। অনেকের কাছে এই বর্ণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনে হতে পারে এটা তাদের নিজ জীবনের ব্যক্তিগত ঘটনা।
 
আমার বন্ধুর এ কাহিনী আমেরিকার জেএফ কেনেডি এয়ারপোর্টে শুরু। তারা দুজনেই কাজ করে এয়ারপোর্টে, একজনের বাড়ি ইটালি অন্যজনের বাড়ি বাংলাদেশে। সবার ধারণা হতে পারে বাংলাদেশি মানে আমি তাকে চিনি, হ্যাঁ আমি চিনি আমার বন্ধুকে। সে বিবাহিত তবে ইটালিয়ান মেম সাহেবা অবিবাহিত। তারা কাজের ফাঁকে একটু জায়গা করে নিয়েছে পরস্পর পরস্পরের প্রতি এবং সেটা ঘটেছে শুরু থেকে তাদের মনের অজান্তে। 

বন্ধু প্রায়ই কাজ শুরু করে সকালে। লাঞ্চ বাড়ি থেকে নিয়ে যায় এবং সে ইটালিয়ান কলিগের জন্যও নিজ হাতে রান্না করা মুরগীর কলিজা পর্যন্ত নিয়ে তাকে মাসের পর মাস খাওয়াত। ইটালিয়ান বান্ধবী মনের আনন্দে আমার বন্ধুর খাবার খেয়েছে। চলছে এভাবে তাদের দিন, বন্ধু ভালোবাসা দিয়ে চলছে মাসের পর মাস। 

হঠাৎ একদিন দেখে ইটালিয়ান বান্ধবী আরেক ছেলের হাত ধরে ঘুরছে ম্যানহাটনে। এটা দেখার পর বন্ধুর ঘুম হয়েছে হারাম, যদিও সে কখনও বা ঘুমায়, ঘুমের ঘোরে আমার বন্ধু একা একা কথা বলে ‘অলিভ অয়েলের তেল দিয়ে রাত তিনটায় উঠে তোর জন্য আমি মুরগীর কলিজা ভুনা করে তোরে খাওয়াই, আর তুই আরেক জনের সঙ্গে রঙ্গ করিস, হাতে হাত ধরে ঘুরিস? 

আজ বন্ধুর বউ পুরো ঘটনা রেকর্ড করেছে ঘুমের ঘোরে একা একা কথা বলা। সকালে পুর ভিডিও দেখালে সে কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। শুধু বলেছে ঘুমের মধ্যে  কী আবোল তাবোল বলেছি সেটা কেন তুমি ভিডিও করেছ? বন্ধুর স্ত্রী বলেছে প্রায়ই এই কথা স্বপ্নে বল নিশ্চয় কোন রহস্য রয়েছে। বন্ধুর মন এখন ভালো যাচ্ছে না।

গত সপ্তাহে ছিল সেই ইটালিয়ান বান্ধবীর জন্মদিন। সে গুগল থেকে একটি টেক্সট যোগাড় করেছে তার বান্ধবীর জন্মদিনে পাঠাবার জন্য। বন্ধু তার জন্মদিনে উইশ করেছে। গুগলের টেক্সটিতে লেখা রয়েছে “Be useless, so nobody can use you!” 

বন্ধুর জন্মদিনের উইশ তার বান্ধবী পেয়েছে তবে কোন কমেন্ট করেনি। বন্ধু আমার পড়েছে ভাবনায়! তার বান্ধবী সবার কথা শুনে হাসে, তামাশা করে, কিন্তু বন্ধুর কথায় সে আর এখন আগের মত হাসে না। 

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়া সে কি মোর অপরাধ। কবি নজরুলও তো ঠিক এমনটি করে বলেছিলেন। সবাই বলে ইটালিয়ান ভাষার মধ্যে রয়েছে রোমান্টিকের ছোঁয়া, মানলাম। তোমাকে পছন্দ করি কিন্তু তুমি তা বুঝতে পারনি তাই লিখেছি তাহলে তুমি গুড ফর নাথিং হয়েই থাক? 

মনে হচ্ছে আমার মনের এ কথা তার হৃদয় স্পর্শ করেনি! আমি বন্ধুর কথাগুলো নিয়ে ভেবেছি। কয়েকজন সুইডিশদের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। সুইডিশ জাতি টেক্সটির সারমর্মটি ঠিকই ধরেছে যেটা আমার বন্ধুর ইটালিয়ান বান্ধবী ধরতে পারেনি।

বন্ধু বাসায় তার বাথরুমে দরজা বন্ধ করে ইদানীং গান গায়- ভালোবাসা দিলাম শুধু ভালোবাসা পেলাম না; আশায় আশায় দিন যে গেল আশা পূরণ হলো না। সে ওজন কমিয়েছে ১৬ কেজি। এখন তার চেষ্টা চলছে সিক্স প্যাক করার। 

কোভিড-১৯ এ যখন সবাই লকডাউনে জানি না কে কী করেছে। তবে ঘরে বসে বন্ধু আমার স্প্যানিশ ভাষা শিখেছে। কাজের সবাই বেশ মুগ্ধ তাকে দেখে যখন সে ইংরেজির পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে। 

সে আবার নানা ধরণের রান্না শিখেছে। যেমন স্প্যানিশ পাইয়েয়া, তরটিলিয়া, ইটালির রিসুত, তেরামিসু, সুইডিশ মিটবল, ক্যারোট কেক ইত্যাদি। তার এই বিরাট পরিবর্তন ঘরের শান্তি কিছুটা নষ্ট করতে বসেছে। কারণ তার স্ত্রীর সন্দেহ বেড়ে চলছে দিনের পর দিন।

অন্যদিকে ইটালিয়ান মেয়েটি কি তাহলে শুধু ছলনা করছে বন্ধুর সাথে? নাকি সে জাস্ট বন্ধু সুলভভাবে মিশে চলছে? এমনও তো হতে পারে সবই সেই ইটালিয়ান মেয়ে খেলা ভেবে নিয়েছে। এটা কি তাহলে কালচারাল পার্থক্যের কারণে চলছে ভুল বোঝাবুঝি? ইটালির প্রেম-প্রীতি, রীতিনীতি সে তো সরাসরি বিনিময় হয়। মুরগীর কলিজা খাইয়ে কী সেখানে প্রেমিকার মন পাওয়া সম্ভব? 

ঘটনা শেয়ার করেছে বন্ধু আমার সঙ্গে। কী যে করি ভাবছি এখন আমি! হয়ত অনেকে বলবে কেন গিয়েছে বিবাহিত জীবনে প্রেমে জড়াতে, এটাই স্বাভাবিক। প্রেম কী তাহলে কিছুই মানে না? কী হবে এখন এবং কী করবে বন্ধু? জানি না আমার লিখা যখন বন্ধু পড়বে কী ভাববে সে! 

শুনেছি প্রথম প্রেমের রীতি সাধারণত নিজে কাঁদে আর প্রিয়াকে কাঁদায় কিন্তু ফল ইন লাভ জেএফ কেনেডি এয়ারপোর্টে এতো তার প্রথম প্রেম না? তাহলে কী এবারের প্রেমও বন্ধুকে একাই কাঁদাবে? আমার এ লিখা যারা পড়ছে এই সময়, তারাও কী কারও কথা ভাবছেন এবং কারও ছবি চুপি চুপি হৃদয়ের মাঝে আঁকছেন? 

জীবনে এ ধরণের কল্পনার ভালোবাসা মনের মধ্যে অনেকেরই ঘটে থাকে। কেউ সেটা প্রকাশ করে আবার কেউ করে না। আজ আমার বন্ধুর হৃদয়ে যে ঘটনাপ্রবাহটি বয়ে চলছে তা আমি শেয়ার করলাম সবার সঙ্গে। গল্পটি কল্পনার নয় এটা বাস্তব একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা একজন অনামিকা বন্ধুকে নিয়ে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম