সুইডেনেও বাংলাদেশিদের এ কী হাল!
jugantor
সুইডেনেও বাংলাদেশিদের এ কী হাল!

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

০২ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:১১:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

তারা আমাকে অতীতে দেখেছে কম করে হলেও চারবার। তারপরও এবার দেখে না দেখার ভান করে রইল। আমি এসেছি কাজে, তাদের মতে ভান করতে পারলাম না। করোনার কারণে ওয়েটিংরুমের চেয়ারগুলো বেশ দূরত্বে রাখা হয়েছে। একটু বসলাম। ভাবলাম জিজ্ঞেস করবে কী চাই বা কাকে দরকার। কিছুই কেউ বললো না। শেষে উঠে রিসিপশনের মহিলার দিকে এগিয়ে যেতেই সে পিছনে যে জায়গাটুকু ফাঁকা ছিল সেদিকে সরে গেল।

বুঝলাম করোনার ভয়ে সে এমনটি করেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম খুব কি কাছে দাঁড়িয়েছি? তাছাড়া ইন বিটুইন টেবিল রয়েছে। তবুও নিজেই কিছুটা পিছনে সরে গিয়ে বললাম, 'সাইমা ম্যাডাম আছেন'? (সাইমা ম্যাডাম অ্যাম্বাসির ফার্স্ট সেক্রেটারি) উত্তরে বললো, 'না', সবে বের হয়ে ফিলিপাইন অ্যাম্বাসিতে গেছেন।

ওহ! 'আমি আজ বারোটায় এসে আমার এবং আমার ছেলেমেয়ের পাসপোর্ট নিয়ে যাবো', বলেছিলাম গতকাল। তিনি বলেছিলেন 'ঠিক আছে'। রিসিপশনিস্ট বললো, আপনি ওদেরকে জিজ্ঞেস করেন। ওরা পাসপোর্ট ইস্যু করে। দেয়ালের মাঝখানে ছোট্ট একটি কাঁচের জানালা বসানো যাতে করে পরস্পর পরস্পরকে দেখতে পারে। জানালার নিচে একটু ফাঁকা রয়েছে যেন কথোপকথন হয় এবং পাসপোর্ট ডেলিভারি করা যায়।

জানালার সামনে দাঁড়ালাম, ছোট্ট একটি রুমের ভিতর দুইজন কাজ করছে। আমাকে দেখে কিছুক্ষণ পরে উঠে এসে বললো, কী চাই? বললাম, সাইমা ম্যাডামের সঙ্গে কথা হয়েছিল আমার পাসপোর্ট নিতে আসার ব্যাপারে। ভদ্রলোক উত্তরে বললেন, দুটোর সময় পাসপোর্ট ডেলিভারি দেই, এখন হবে না।

আমি বললাম, সাইমা ম্যাডাম কিছু বলেননি? বললেন, না, তাছাড়া আজ দেশে তার শ্বাশুড়ি মারা গেছেন তাই তিনি অফিস ছেড়ে বাসায় চলে গেছেন। যাইহোক ভাবলাম ভুলে গেছেন হয়তবা। তাহলে আমাকে ফিরে যেতে হবে। বাইরে বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে তবুও আবার আসতে হবে।

এমন সময় আরেক ভদ্রলোক বললেন, আচ্ছা, আপনার রিসিটটা দিন দেখি। বললাম রিসিট তো নেই; তবে সাইমা ম্যাডাম পুরানো পাসপোর্ট আনতে বলেছিলেন, সেটা সাথে আছে। দিব? বললেন, দিন আর আপনার ছেলেমেয়ের নামটি লিখে দিন এখানে।

সবকিছু দেবার পর বললেন, একটু বসুন, দেখছি। হঠাৎ দরজা খুলে সেকেন্ড সেক্রেটারি রিসিপশনে অন্য আরেক ভদ্রলোকের পাসপোর্ট দিতে এসে আমাকে দেখেছে। আরে রহমান ভাই আপনি এখানে বসে? বললাম পাসপোর্ট নিতে এসেছি। বললেন, 'ভিতরে আসেন' বলেই নিয়ে গেলেন তার রুমে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট না নিয়ে এসেছি। তার হাতে বেশ কাজ সত্ত্বেও মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে কথা বলছেন। এর মধ্যে আমার পাসপোর্ট রিসিভ করার জন্য তিনটি কাগজে সই করতে হলো। সব শেষ হতেই সেকেন্ড সেক্রেটারি ফোন দিলেন রাষ্ট্রদূতকে। তার অনলাইন মিটিং শেষ হতেই বের হয়ে বললেন, আমি আসছি, হাত ধুয়ে আসি।

কিছুক্ষণের মধ্যে নিয়ে গেলেন আমাকে রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের রুমে। সৌজন্যতা শেষ করতেই চা দিতে বললেন। যে ভদ্রলোক চা দিয়ে গেলেন সেও আমাকে রিসিপশনে দেখেছে অথচ হাই হ্যালো কিছুই বললেন না? আমি যে এর আগে চারবার এখানে এসেছি তাদেরকে হাই হ্যালো বলেছি সত্ত্বেও সম্পর্ক তৈরি করতে পারিনি।

ছোটবেলায় বাড়িতে কাজের লোকদের দেখতাম মা যেটা বলতেন সেটাই করেছে কখনও তাদেরকে দিয়ে কিছু করাতে পারিনি। যদিও মিশেছি আন্তরিকতার সাথে তবুও কোনো কথা শুনতো না তারা। কথায় বলে বাঁশের চেয়ে কুঞ্চি শক্ত। বস না বললে কিছুই করা যাবে না।

বহু বছর পরে বাংলাদেশের বাইরে একই জিনিস নজরে পড়লো। আমার প্রায় চল্লিশ বছর বিদেশে বাস; যেখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ বাংলাদেশের মত নয়। এ সমাজে যদি কেউ মস্তবড় অফিসার না হয় বা নামের আগে বা পরে পদবি না থাকে কিছু যায় আসে না। তবে বাংলাদেশে শুধু অফিস আদালত নয় ডিসক্রিমিনেশন রয়েছে ঘরে,পরিবারে সমাজে।

তাছাড়া নিন্মমানের কর্মচারীরা সব সময় অবহেলিত, যার কারণে তাদের এমন ধরণের আচরণ। ঘটনাটি না ঘটলে হয়তবা কখনও লেখা হত না। আমি যেহেতু পরিবর্তনের পক্ষে তাই ঘটনাটি তুলে ধরলাম জাস্ট ফর রিফ্লেকশন এবং শিক্ষণীয় হিসাবে কাউকে ছোট করার জন্য নয়।

যাইহোক বাড়িতে ফিরতে পথে বসে বসে ভাবছি, তাহলে এই কারণেই পুরো দেশের সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায়! তিনি যখন যা করতে বলবেন তখনই সব হবে। সেইভাবে সিস্টেম তৈরি হয়ে গেছে দেশের সর্বাঙ্গে। কী মনে হয়, এর জন্য কি কিছুই করার নেই আমাদের?

আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে আমাদের দায়িত্ব না নেই তবে হবে কি বাংলাকে সোনার বাংলা করা সম্ভব? পরম করুণাময় রাব্বুল আলামিনকে স্মরণ করার পর “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” এই জাতীয় সংগীতটি দিয়ে ছোটবেলায় স্কুল শুরু করেছি, কী মিন করেছি এ কথাগুলো বলে তখন!

ভালোবাসা তাকে তো ধরা, ছোঁয়া বা দেখা যায় না, মাপা যায় না, সে তো শুধু অনুভূতির বিষয়। এখন সেই অনুভূতিই যদি না থাকে তবে মুখে মুখে বললে কী হবে? অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে কি সহজভাবে মেলামেশা করা সম্ভব নয়? তাদেরকে আপন করে নিলে আমার বিশ্বাস তাদের মধ্যে ভয় এবং জড়তা দূর হবে।

মনের জড়তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে সমাজের জড়তা দূর হবে না। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে সুপ্রশিক্ষণ চালু করতে হবে, যেখানে ম্যানার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা আশু প্রয়োজন।

পরস্পরের প্রতি সদয় হতে হবে, কারো উপর অসন্তোষ পুষে রাখলে হবে না। একজন মানুষ আজ আমার কাছে ভালো, তার মানে এই নয় যে সে সবসময়ই ভালো থাকবে। কিন্তু তারপরও আমাদের ধারণাকে সেইভাবে গড়তে হবে যে মানুষটি সব সময়ই যেন ভালো থাকে।

অনেক সফল লোক আছেন যাদের হয়তবা উচ্চশিক্ষা নেই। এর অর্থ এই নয় যে কঠোর পরিশ্রম করলে সফল হওয়া সম্ভব হবে না! আমরা যতটুকু জ্ঞানই অর্জন করি না কেন সেটাই জীবনের মূলধন। আমি আমার কথার মর্যাদা রাখবো এবং অন্যদের কাছেও সেটা আশা করি।

আমি মনে করি আমাদের আশাটি যেন সমসময় পজিটিভ থাকে। মানুষের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে, তবে অন্যরাও আমার সাথে ভালো আচরণ করবে। আর যদি এমনটি না হয় তবে শুধু যন্ত্রণাই পাবো। এই যন্ত্রণা পাবার ভয়ে সবকিছু এড়িয়ে গেলে হবে কি সোনার বাংলা গড়া? এটার বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে হবে।

আমরা যদি সমৃদ্ধি চাই তবে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এর জন্য দরকার সুশিক্ষা, কোয়ালিটি লাইফ এবং ম্যানারিজম। সমাজের শ্রেণিবিভেদের পরিবর্তন আনতে হলে পরিবার থেকে পরিবর্তন শুরু করতে হবে, তার জন্য প্রথমে দরকার বাবা-মার সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারপর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মস্থল। Together we can make it happen.

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

সুইডেনেও বাংলাদেশিদের এ কী হাল!

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
০২ জানুয়ারি ২০২১, ০৪:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

তারা আমাকে অতীতে দেখেছে কম করে হলেও চারবার। তারপরও এবার দেখে না দেখার ভান করে রইল। আমি এসেছি কাজে, তাদের মতে ভান করতে পারলাম না। করোনার কারণে ওয়েটিংরুমের চেয়ারগুলো বেশ দূরত্বে রাখা হয়েছে। একটু বসলাম। ভাবলাম জিজ্ঞেস করবে কী চাই বা কাকে দরকার। কিছুই কেউ বললো না। শেষে উঠে রিসিপশনের মহিলার দিকে এগিয়ে যেতেই সে পিছনে যে জায়গাটুকু ফাঁকা ছিল সেদিকে সরে গেল। 

বুঝলাম করোনার ভয়ে সে এমনটি করেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম খুব কি কাছে দাঁড়িয়েছি? তাছাড়া ইন বিটুইন টেবিল রয়েছে। তবুও নিজেই কিছুটা পিছনে সরে গিয়ে বললাম, 'সাইমা ম্যাডাম আছেন'? (সাইমা ম্যাডাম অ্যাম্বাসির ফার্স্ট সেক্রেটারি) উত্তরে বললো, 'না', সবে বের হয়ে ফিলিপাইন অ্যাম্বাসিতে গেছেন। 

ওহ! 'আমি আজ বারোটায় এসে আমার এবং আমার ছেলেমেয়ের পাসপোর্ট নিয়ে যাবো', বলেছিলাম গতকাল। তিনি বলেছিলেন 'ঠিক আছে'। রিসিপশনিস্ট বললো, আপনি ওদেরকে জিজ্ঞেস করেন। ওরা পাসপোর্ট ইস্যু করে। দেয়ালের মাঝখানে ছোট্ট একটি কাঁচের জানালা বসানো যাতে করে পরস্পর পরস্পরকে দেখতে পারে। জানালার নিচে একটু ফাঁকা রয়েছে যেন কথোপকথন হয় এবং পাসপোর্ট ডেলিভারি করা যায়। 

জানালার সামনে দাঁড়ালাম, ছোট্ট একটি রুমের ভিতর দুইজন কাজ করছে। আমাকে দেখে কিছুক্ষণ পরে উঠে এসে বললো, কী চাই? বললাম, সাইমা ম্যাডামের সঙ্গে কথা হয়েছিল আমার পাসপোর্ট নিতে আসার ব্যাপারে। ভদ্রলোক উত্তরে বললেন, দুটোর সময় পাসপোর্ট ডেলিভারি দেই, এখন হবে না। 

আমি বললাম, সাইমা ম্যাডাম কিছু বলেননি? বললেন, না, তাছাড়া আজ দেশে তার শ্বাশুড়ি মারা গেছেন তাই তিনি অফিস ছেড়ে বাসায় চলে গেছেন। যাইহোক ভাবলাম ভুলে গেছেন হয়তবা। তাহলে আমাকে ফিরে যেতে হবে। বাইরে বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে তবুও আবার আসতে হবে। 

এমন সময় আরেক ভদ্রলোক বললেন, আচ্ছা, আপনার রিসিটটা দিন দেখি। বললাম রিসিট তো নেই; তবে সাইমা ম্যাডাম পুরানো পাসপোর্ট আনতে বলেছিলেন, সেটা সাথে আছে। দিব? বললেন, দিন আর আপনার ছেলেমেয়ের নামটি লিখে দিন এখানে। 

সবকিছু দেবার পর বললেন, একটু বসুন, দেখছি। হঠাৎ দরজা খুলে সেকেন্ড সেক্রেটারি রিসিপশনে অন্য আরেক ভদ্রলোকের পাসপোর্ট দিতে এসে আমাকে দেখেছে। আরে রহমান ভাই আপনি এখানে বসে? বললাম পাসপোর্ট নিতে এসেছি। বললেন, 'ভিতরে আসেন' বলেই নিয়ে গেলেন তার রুমে। 

অ্যাপয়েন্টমেন্ট না নিয়ে এসেছি। তার হাতে বেশ কাজ সত্ত্বেও মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে কথা বলছেন। এর মধ্যে আমার পাসপোর্ট রিসিভ করার জন্য তিনটি কাগজে সই করতে হলো। সব শেষ হতেই সেকেন্ড সেক্রেটারি ফোন দিলেন রাষ্ট্রদূতকে। তার অনলাইন মিটিং শেষ হতেই বের হয়ে বললেন, আমি আসছি, হাত ধুয়ে আসি। 

কিছুক্ষণের মধ্যে নিয়ে গেলেন আমাকে রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের রুমে। সৌজন্যতা শেষ করতেই চা দিতে বললেন। যে ভদ্রলোক চা দিয়ে গেলেন সেও আমাকে রিসিপশনে দেখেছে অথচ হাই হ্যালো কিছুই বললেন না? আমি যে এর আগে চারবার এখানে এসেছি তাদেরকে হাই হ্যালো বলেছি সত্ত্বেও সম্পর্ক তৈরি করতে পারিনি। 

ছোটবেলায় বাড়িতে কাজের লোকদের দেখতাম মা যেটা বলতেন সেটাই করেছে কখনও তাদেরকে দিয়ে কিছু করাতে পারিনি। যদিও মিশেছি আন্তরিকতার সাথে তবুও কোনো কথা শুনতো না তারা। কথায় বলে বাঁশের চেয়ে কুঞ্চি শক্ত। বস না বললে কিছুই করা যাবে না। 

বহু বছর পরে বাংলাদেশের বাইরে একই জিনিস নজরে পড়লো। আমার প্রায় চল্লিশ বছর বিদেশে বাস; যেখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ বাংলাদেশের মত নয়। এ সমাজে যদি কেউ মস্তবড় অফিসার না হয় বা নামের আগে বা পরে পদবি না থাকে কিছু যায় আসে না। তবে বাংলাদেশে শুধু অফিস আদালত নয় ডিসক্রিমিনেশন রয়েছে ঘরে,পরিবারে সমাজে। 

তাছাড়া নিন্মমানের কর্মচারীরা সব সময় অবহেলিত, যার কারণে তাদের এমন ধরণের আচরণ। ঘটনাটি না ঘটলে হয়তবা কখনও লেখা হত না। আমি যেহেতু পরিবর্তনের পক্ষে তাই ঘটনাটি তুলে ধরলাম জাস্ট ফর রিফ্লেকশন এবং শিক্ষণীয় হিসাবে কাউকে ছোট করার জন্য নয়। 

যাইহোক বাড়িতে ফিরতে পথে বসে বসে ভাবছি, তাহলে এই কারণেই পুরো দেশের সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায়! তিনি যখন যা করতে বলবেন তখনই সব হবে। সেইভাবে সিস্টেম তৈরি হয়ে গেছে দেশের সর্বাঙ্গে। কী মনে হয়, এর জন্য কি কিছুই করার নেই আমাদের? 

আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে আমাদের দায়িত্ব না নেই তবে হবে কি বাংলাকে সোনার বাংলা করা সম্ভব? পরম করুণাময় রাব্বুল আলামিনকে স্মরণ করার পর “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” এই জাতীয় সংগীতটি দিয়ে ছোটবেলায় স্কুল শুরু করেছি, কী মিন করেছি এ কথাগুলো বলে তখন! 

ভালোবাসা তাকে তো ধরা, ছোঁয়া বা দেখা যায় না, মাপা যায় না, সে তো শুধু অনুভূতির বিষয়। এখন সেই অনুভূতিই যদি না থাকে তবে মুখে মুখে বললে কী হবে? অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে কি সহজভাবে মেলামেশা করা সম্ভব নয়? তাদেরকে আপন করে নিলে আমার বিশ্বাস তাদের মধ্যে ভয় এবং জড়তা দূর হবে। 

মনের জড়তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে সমাজের জড়তা দূর হবে না। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে সুপ্রশিক্ষণ চালু করতে হবে, যেখানে ম্যানার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা আশু প্রয়োজন।

পরস্পরের প্রতি সদয় হতে হবে, কারো উপর অসন্তোষ পুষে রাখলে হবে না। একজন মানুষ আজ আমার কাছে ভালো, তার মানে এই নয় যে সে সবসময়ই ভালো থাকবে। কিন্তু তারপরও আমাদের ধারণাকে সেইভাবে গড়তে হবে যে মানুষটি সব সময়ই যেন ভালো থাকে।

অনেক সফল লোক আছেন যাদের হয়তবা উচ্চশিক্ষা নেই। এর অর্থ এই নয় যে কঠোর পরিশ্রম করলে সফল হওয়া সম্ভব হবে না! আমরা যতটুকু জ্ঞানই অর্জন করি না কেন সেটাই জীবনের মূলধন। আমি আমার কথার মর্যাদা রাখবো এবং অন্যদের কাছেও সেটা আশা করি। 

আমি মনে করি আমাদের আশাটি যেন সমসময় পজিটিভ থাকে। মানুষের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে, তবে অন্যরাও আমার সাথে ভালো আচরণ করবে। আর যদি এমনটি না হয় তবে শুধু যন্ত্রণাই পাবো। এই যন্ত্রণা পাবার ভয়ে সবকিছু এড়িয়ে গেলে হবে কি সোনার বাংলা গড়া? এটার বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে হবে।

আমরা যদি সমৃদ্ধি চাই তবে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এর জন্য দরকার সুশিক্ষা, কোয়ালিটি লাইফ এবং ম্যানারিজম। সমাজের শ্রেণিবিভেদের পরিবর্তন আনতে হলে পরিবার থেকে পরিবর্তন শুরু করতে হবে, তার জন্য প্রথমে দরকার বাবা-মার সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারপর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মস্থল। Together we can make it happen.  

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
২৮ জানুয়ারি, ২০২১