একজন সুইডিশ ফায়ারম্যানের সঙ্গে কিছুক্ষণ
jugantor
একজন সুইডিশ ফায়ারম্যানের সঙ্গে কিছুক্ষণ

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:২৭:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

সুইডিশ ফায়ারম্যান টোমি লিন্ডকিভিস্ত। ছবি: রহমান মৃধা

আজ হাঁটতে বেরিয়েছি বন্ধু টোমি লিন্ডকিভিস্তের সঙ্গে। তার সঙ্গে সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশী হিসেবেই নয়; তার ছেলে এবং আমার মেয়ে সমবয়সি। তারা নার্সারি থেকে শুরু করে নবম শ্রেণি পর্যন্ত একই সঙ্গে লেখাপড়া করেছে। টোমি স্টকহোম ফায়ার ব্রিগেডে এবং একটি ইউনিটের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে নিয়জিত। সময় এবং সুযোগ হলে মাঝেমধ্যে হাঁটতে পথে নানা বিষয়ের ওপর তার সঙ্গে আলোচনা করি।

আজ তার ইউনিটের কাজ কী জিজ্ঞেস করলাম। যেমন রাতের ডিউটিতে তারা কী করে ইত্যাদি। উত্তরে বললো, নিরিবিলি সময়ে নানা বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ চলে নতুন চিন্তাচেতনা নিয়ে। যেমন গত দুই দিন আগে ড্রাইভিংয়ের যন্ত্রপাতি সব ঠিক আছে কিনা তা চেক করার জন্য সন্ধ্যা আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত তারা স্টকহোম সিটি হলের সামনে (সিটি হলে বার্ষিক নোবেল পুরষ্কার অনুষ্ঠান এবং নৈশ ভোজশালা আয়োজন করা হয়) ড্রাইভিং করেছে। এরপরে রাতের ডিনার সেরে টিম বিল্ডিংয়ের ওপর কাজ করেছে।

আমি বললাম সে আবার কী? উত্তরে টোমি বললো, যখন অন্যের বিপদে নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করতে হয় তখন পরস্পর পরস্পরের ওপর যাতে বিশ্বাস না হারায় তার জন্যই এই টিম বিল্ডিং। তাছাড়া এক স্টেশনে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাদের থেকে সে বিষয়ের ওপর জানা এবং শেখা বা যদি কিছু জানানোর থাকে তাও জানানো হয়। আবার প্রতিদিনই রাস্তার দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে নানা ধরনের বিপদে তার টিম কাজ করে। শরীর ঠিক রাখার জন্য সব সময় শরীরচর্চা ইত্যাদি করে।

তাকে জিজ্ঞেস করলাম অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে রেডি হয়ে গন্তব্য স্থলে পৌঁছতে কত সময় লাগে? সে বললো, নির্ভর করে দূরত্বের ওপর। তবে সব মিলে সর্বোপরি সাত মিনিট, এর মধ্যেই আমরা গন্তব্য স্থলে পৌঁছে থাকি। নানা কথা বলতে বলতে গতকাল সন্ধ্যার একটি ঘটনার কথা তুলে ধরলো।

শীতের সময় প্রায়ই শোনা যায় অনেকে লেকের মাঝে হাঁটতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। বেশ কয়েকদিন ধরে তুষারপাত হচ্ছে সুইডেনে। বাংলাদেশের সেই আষাঢ় শ্রাবণ মাসের মত ঝরছে, তবে বৃষ্টি না; তুষার।

তুষার যখন পড়ে তখন তাপমাত্রা জিরো ডিগ্রির মতো থাকে, তুষার পড়া বন্ধ হলে সাধারণত তাপমাত্রা উঠানামা করে। বর্তমানে সুইডেনের তাপমাত্রা মাইনাসে থাকায় পুরো দেশ বরফে ঢাকা পড়েছে। গাছে কোনো পাতা নেই তবে তুষারে ঢেকেছে পুরো পরিবেশকে। যার ফলে অন্ধকারের চেয়ে কিছুটা আলোময় পরিবেশ বাইরে।

এমন সুন্দর পরিবেশে টিন এজের কিছু ছেলেমেয়ে সন্ধ্যায় বাইরে তুষারে খেলাধুলা করতে করতে হঠাৎ বাল্টিক সাগরে পা দেয়। তারা মনে করেছে সাগর জমে গেছে। জমেছে ঠিকই তবে পুরোপুরি শক্ত হয়নি। তারপর তুষারে ঢাকা পড়ার কারণে বোঝার উপায় নেই পানির উপরের বরফ কতটা শক্ত। এদের মধ্যে একটি ছেলে সাগরের পানিতে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ১১২ ইমারজেন্সিতে ছেলেটির খেলার সাথীরা ফোন করে। ঘটনাটি ঘটেছে টোমির রেঞ্জের মাঝে। সে তখন তার টিম নিয়ে এসে ছেলেটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে দিয়ে যায়।

বাংলাদেশের ফায়ার ব্রিগেডের দৈনন্দিন কাজের ওপর কিছুদিন আগে একটি রিপোর্ট নজরে পড়েছিল যেমন তারা খবর দেওয়ার আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা পরে আসে। এসে ছাইভস্মের মাঝে পানি ঢালে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও আজ অবধি প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। যেসব উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নেই সেখানে আগুন লাগলে পার্শ্ববর্তী উপজেলার ফায়ার স্টেশনে খবর দিয়ে দমকল বাহিনী আনতে হয়।

তবে অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করে প্রতিটি বিভাগকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জেনেছি। দেশ এবং দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত আরও আধুনিকায়ন করা দরকার। বহুতল ভবনের অগ্নিনির্বাপণের জন্য মই থেকে শুরু করে নানা ধরণের যন্ত্রপাতি থাকা দরকার। শুধু আশ্বাস থাকলে হবে না বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে যতটুকু জেনেছি, অগ্নিকাণ্ডের সময় সব জায়গায় পানি সহজে পাওয়া যায় না। তাই তারা ওয়াসাকে বিশেষ কিছু স্থানে হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপনের তাগিদ দিয়েছে; কিন্তু আজ পর্যন্ত হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপিত হয়নি।

উন্নত বিশ্ব যেমন সুইডেনে অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার মিক্সড যন্ত্রটি ব্যবহার করে, যা দিয়ে অল্প পানি ব্যয়েই অগ্নিনির্বাপণ সম্ভব। এসব যন্ত্র বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসে নেই। কবে সংযোজন হবে তা এখনও জানা যায়নি।

ফায়ার স্টেশনগুলোতে জনবলেরও ঘাটতি আছে। নতুন স্টেশন চালু হলে প্রশিক্ষিত দমকল কর্মীর ঘাটতি আরও প্রকট হবে। তারপরও প্রশ্ন আছে কর্মরত ফায়ারম্যানদের অনেকের শারীরিক যোগ্যতা নিয়ে। যাইহোক উপরের বর্ণনায় এটাই পরিষ্কার, বাংলাদেশ ফায়ার ব্রিগেডে পর্যাপ্ত পরিমাণ মানসম্মত যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। আবার যন্ত্রপাতির ঠিকমত যত্ন না নেবার কারণে অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

টোমি বেশ গর্বের সঙ্গে বললো, নাগরিকদের জীবনে স্বস্তি দেয়াই তাদের কাজ। সে ফায়ার ব্রিগেডের ওপর পারদর্শী তাই নানা বিষয়ের ওপর জানলাম। ভাবনায় এলো শেয়ার করি তার কর্মের অংশটুকু সবার সঙ্গে। যাইহোক আজকে টোমি একটি নোটিস দিয়েছে যেন কেউ হাঁটতে পথে বাল্টিক সাগরে না নামে। কারণ কমপক্ষে চার সেন্টিমিটার বরফ পানির উপর জমা হতে হবে। তাপমাত্রা কয়েক দিন যাবত মাইনাসে থাকার পর বরফের উপর দিয়ে হাঁটাহাঁটি থেকে শুরু করে স্কি করা সম্ভব হবে। বাড়ির পাশে বাল্টিক সাগর ঠাণ্ডায় জমে গেছে সত্বর হাঁটব তার উপর দিয়ে, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

একজন সুইডিশ ফায়ারম্যানের সঙ্গে কিছুক্ষণ

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সুইডিশ ফায়ারম্যান টোমি লিন্ডকিভিস্ত। ছবি: রহমান মৃধা
সুইডিশ ফায়ারম্যান টোমি লিন্ডকিভিস্ত। ছবি: রহমান মৃধা

আজ হাঁটতে বেরিয়েছি বন্ধু টোমি লিন্ডকিভিস্তের সঙ্গে। তার সঙ্গে সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশী হিসেবেই নয়; তার ছেলে এবং আমার মেয়ে সমবয়সি। তারা নার্সারি থেকে শুরু করে নবম শ্রেণি পর্যন্ত একই সঙ্গে লেখাপড়া করেছে। টোমি স্টকহোম ফায়ার ব্রিগেডে এবং একটি ইউনিটের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে নিয়জিত। সময় এবং সুযোগ হলে মাঝেমধ্যে হাঁটতে পথে নানা বিষয়ের ওপর তার সঙ্গে আলোচনা করি। 

আজ তার ইউনিটের কাজ কী জিজ্ঞেস করলাম। যেমন রাতের ডিউটিতে তারা কী করে ইত্যাদি। উত্তরে বললো, নিরিবিলি সময়ে নানা বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ চলে নতুন চিন্তাচেতনা নিয়ে। যেমন গত দুই দিন আগে ড্রাইভিংয়ের যন্ত্রপাতি সব ঠিক আছে কিনা তা চেক করার জন্য সন্ধ্যা আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত তারা স্টকহোম সিটি হলের সামনে (সিটি হলে বার্ষিক নোবেল পুরষ্কার অনুষ্ঠান এবং নৈশ ভোজশালা আয়োজন করা হয়) ড্রাইভিং করেছে। এরপরে রাতের ডিনার সেরে টিম বিল্ডিংয়ের ওপর কাজ করেছে। 

আমি বললাম সে আবার কী? উত্তরে টোমি বললো, যখন অন্যের বিপদে নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করতে হয় তখন পরস্পর পরস্পরের ওপর যাতে বিশ্বাস না হারায় তার জন্যই এই টিম বিল্ডিং। তাছাড়া এক স্টেশনে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাদের থেকে সে বিষয়ের ওপর জানা এবং শেখা বা যদি কিছু জানানোর থাকে তাও জানানো হয়। আবার প্রতিদিনই রাস্তার দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে নানা ধরনের বিপদে তার টিম কাজ করে। শরীর ঠিক রাখার জন্য সব সময় শরীরচর্চা ইত্যাদি করে।

তাকে জিজ্ঞেস করলাম অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে রেডি হয়ে গন্তব্য স্থলে পৌঁছতে কত সময় লাগে? সে বললো, নির্ভর করে দূরত্বের ওপর। তবে সব মিলে সর্বোপরি সাত মিনিট, এর মধ্যেই আমরা গন্তব্য স্থলে পৌঁছে থাকি। নানা কথা বলতে বলতে গতকাল সন্ধ্যার একটি ঘটনার কথা তুলে ধরলো।

শীতের সময় প্রায়ই শোনা যায় অনেকে লেকের মাঝে হাঁটতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। বেশ কয়েকদিন ধরে তুষারপাত হচ্ছে সুইডেনে। বাংলাদেশের সেই আষাঢ় শ্রাবণ মাসের মত ঝরছে, তবে বৃষ্টি না; তুষার।
 
তুষার যখন পড়ে তখন তাপমাত্রা জিরো ডিগ্রির মতো থাকে, তুষার পড়া বন্ধ হলে সাধারণত তাপমাত্রা উঠানামা করে। বর্তমানে সুইডেনের তাপমাত্রা মাইনাসে থাকায় পুরো দেশ বরফে ঢাকা পড়েছে। গাছে কোনো পাতা নেই তবে তুষারে ঢেকেছে পুরো পরিবেশকে। যার ফলে অন্ধকারের চেয়ে কিছুটা আলোময় পরিবেশ বাইরে।

এমন সুন্দর পরিবেশে টিন এজের কিছু ছেলেমেয়ে সন্ধ্যায় বাইরে তুষারে খেলাধুলা করতে করতে হঠাৎ বাল্টিক সাগরে পা দেয়। তারা মনে করেছে সাগর জমে গেছে। জমেছে ঠিকই তবে পুরোপুরি শক্ত হয়নি। তারপর তুষারে ঢাকা পড়ার কারণে বোঝার উপায় নেই পানির উপরের বরফ কতটা শক্ত। এদের মধ্যে একটি ছেলে সাগরের পানিতে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ১১২ ইমারজেন্সিতে ছেলেটির খেলার সাথীরা ফোন করে। ঘটনাটি ঘটেছে টোমির রেঞ্জের মাঝে। সে তখন তার টিম নিয়ে এসে ছেলেটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে দিয়ে যায়।

বাংলাদেশের ফায়ার ব্রিগেডের দৈনন্দিন কাজের ওপর কিছুদিন আগে একটি রিপোর্ট নজরে পড়েছিল যেমন তারা খবর দেওয়ার আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা পরে আসে। এসে ছাইভস্মের মাঝে পানি ঢালে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও আজ অবধি প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। যেসব উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নেই সেখানে আগুন লাগলে পার্শ্ববর্তী উপজেলার ফায়ার স্টেশনে খবর দিয়ে দমকল বাহিনী আনতে হয়।
 
তবে অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করে প্রতিটি বিভাগকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জেনেছি। দেশ এবং দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত আরও আধুনিকায়ন করা দরকার। বহুতল ভবনের অগ্নিনির্বাপণের জন্য মই থেকে শুরু করে নানা ধরণের যন্ত্রপাতি থাকা দরকার। শুধু আশ্বাস থাকলে হবে না বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে যতটুকু জেনেছি, অগ্নিকাণ্ডের সময় সব জায়গায় পানি সহজে পাওয়া যায় না। তাই তারা ওয়াসাকে বিশেষ কিছু স্থানে হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপনের তাগিদ দিয়েছে; কিন্তু আজ পর্যন্ত হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপিত হয়নি।
 
উন্নত বিশ্ব যেমন সুইডেনে অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার মিক্সড যন্ত্রটি ব্যবহার করে, যা দিয়ে অল্প পানি ব্যয়েই অগ্নিনির্বাপণ সম্ভব। এসব যন্ত্র বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসে নেই। কবে সংযোজন হবে তা এখনও জানা যায়নি।
 
ফায়ার স্টেশনগুলোতে জনবলেরও ঘাটতি আছে। নতুন স্টেশন চালু হলে প্রশিক্ষিত দমকল কর্মীর ঘাটতি আরও প্রকট হবে। তারপরও প্রশ্ন আছে কর্মরত ফায়ারম্যানদের অনেকের শারীরিক যোগ্যতা নিয়ে। যাইহোক উপরের বর্ণনায় এটাই পরিষ্কার, বাংলাদেশ ফায়ার ব্রিগেডে পর্যাপ্ত পরিমাণ মানসম্মত যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। আবার যন্ত্রপাতির ঠিকমত যত্ন না নেবার কারণে অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

টোমি বেশ গর্বের সঙ্গে বললো, নাগরিকদের জীবনে স্বস্তি দেয়াই তাদের কাজ। সে ফায়ার ব্রিগেডের ওপর পারদর্শী তাই নানা বিষয়ের ওপর জানলাম। ভাবনায় এলো শেয়ার করি তার কর্মের অংশটুকু সবার সঙ্গে। যাইহোক আজকে টোমি একটি নোটিস দিয়েছে যেন কেউ হাঁটতে পথে বাল্টিক সাগরে না নামে। কারণ কমপক্ষে চার সেন্টিমিটার বরফ পানির উপর জমা হতে হবে। তাপমাত্রা কয়েক দিন যাবত মাইনাসে থাকার পর বরফের উপর দিয়ে হাঁটাহাঁটি থেকে শুরু করে স্কি করা সম্ভব হবে। বাড়ির পাশে বাল্টিক সাগর ঠাণ্ডায় জমে গেছে সত্বর হাঁটব তার উপর দিয়ে, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
২৮ জানুয়ারি, ২০২১
আরও খবর