কানাডার পরিবর্তে নান্দনিক ভুটান থেকে ঘুরে আসুন
jugantor
কানাডার পরিবর্তে নান্দনিক ভুটান থেকে ঘুরে আসুন

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২৯:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

দেখতে ইউরোপ বা কানাডার মত মনে হলেও এটা মূলত নান্দনিক ভুটানের দৃশ্য। ছবি: পিন্টারেস্ট

আমি কিছুদিন আগে ভুটান সম্পর্কে লিখেছিলাম। সব দিক দিয়ে আমাদের দেশের পাশের একটি চমৎকার দেশ। তা সত্ত্বেও খুব একটা আলোচনা হয় না দেশটি সম্পর্কে। অনেকে ইউরোপ বা আমেরিকায় যেতে পাগল অথচ রয়েছে বাড়ির পাশে কী সুন্দর একটি দেশ। জানি না কতজন সেখানে যেতে পাগল। সময় এবং সামর্থ্য থাকলে ঘুরে আসুন ভুটান। দেখবেন ভালো লাগবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের অনেকেই কানাডায় যেতে পাগল। কারণ সেখানে ইংরেজি ভাষার প্রচলন। কেউ পড়াশোনা, কেউ চাকরি, কেউ আবার দেশের অর্থ পাচার করে সেখানে বেগম পাড়া তৈরি করে বসবাস করছে। শুনেছি দেশের টাকা পাচার করতে যারা সাহায্য করেন তাদের মধ্যে দূতাবাসও জড়িত।

যদি তথ্যটি সত্য হয় তবে কেন এর প্রতিবাদ হয় না? দূতাবাসের সাহায্যে দেশের অর্থ পাচার করে বিদেশে অনেকেই প্রতিষ্ঠিত। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব দূতাবাসের কাজ কী এবং কী দায়িত্ব তাদের পালন করার কথা, আর কী করছে তারা সে বিষয় তদন্ত করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে গত কয়েকদিন আগে লিখেছি। দেখা যাক কর্তৃপক্ষ কী করেন।

দেশকে সোনার বাংলা করতে হলে সবাইকে কাজ করতে হবে যার যার জায়গা থেকে। আসছে স্বাধীনতার মাস, পঞ্চাশ বছরের পূর্ণরূপ ধারণ করবে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। শুধু গা শিউরে উঠলেই হবে না।

দেশকে, দেশের মানুষকে বিশ্বের বুকে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। অতীতের সমস্ত গ্লানির বিসর্জন দিতে হবে আর উৎসর্গ করতে হবে আমাদের নিবেদিত প্রাণ দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে।

আসুন এবার কানাডা সম্পর্কে একটু জানি। দেশটি আমেরিকার পাশে অবস্থিত, স্বাভাবিকভাবেই তারা সব সময় আমেরিকার মতো এমনকি তাদের চেয়ে উন্নতমানের মন-মানসিকতার সাথে একটি আউটস্ট্যান্ডিং দেশ হিসেবে পরিচিত হতে চায়। কানাডা গত কয়েক বছর ধরে চমৎকার পারফরমেন্স করে চলেছে। গণতন্ত্রের বেস্ট প্রাকটিস এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের প্রতি যথেষ্ট রেসপেক্ট দেখাতে পেরেছে।

কানাডা প্রায় দশ বছর ধরে শিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তারা শিক্ষা প্রশিক্ষণের শুরুতেই খেলাধুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বেশি। যাতে করে দেশের জনগণকে হাসপাতাল এবং ডাক্তারের সংস্পর্শে খুব বেশি আসা না লাগে। খেলাধুলোকে শিক্ষা প্রশিক্ষণের অন্যান্য বিষয়ের মত গুরুত্ব দেবার কারণে দেখা যাচ্ছে কানাডা বিশ্বের প্রথম স্থানটি দখল করতে চলেছে বিভিন্ন স্পোর্টসে।

গত দশ বছর আগে শিক্ষা-প্রশিক্ষণের এই ভিন্নধর্মী পরিবর্তনের কারণে আজকের কানাডার নতুন প্রজন্ম বিশ্বের উদীয়মান তারকাদের শীর্ষে। ভুটান এবং কানাডাকে বেঞ্চ মার্কিং হিসেবে ব্যবহৃত করা যেতে পারে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশিক্ষণের পরিবর্তনে, যা নিঃসন্দেহে হতে পারে শিক্ষার দিকনির্দেশনার জন্য একটি চমৎকার উপায়।

অন্যদিকে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেটা হলো আমরা বসবাস করছি ভারতের পাশে। পাশের দেশ হিসেবে সম্পর্কটি সরকারিভাবে ভালো হলেও জনগণের মতামতটি ভিন্ন। যার ফলে সারাক্ষণ কিছু না কিছু আলোচনা হয়।

ভালোর চেয়ে খারাপ খবরের প্রচলন হয় বেশি। খারাপ খবরগুলো সহজে ছড়ানো যায়। আবার ডকুমেন্ট বা সঠিক তথ্য ছাড়া খবর প্রচার করা বেশ সহজ। যার ফলে সর্বত্রই যে বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয় তা হলো গুজব। তারপর দেশের খবরের টপ লিস্টে কী কী জিনিস সর্বাধিক পাঠকের নজর কাড়ে দেখেছেন কি কখনও ভেবে?

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

কানাডার পরিবর্তে নান্দনিক ভুটান থেকে ঘুরে আসুন

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দেখতে ইউরোপ বা কানাডার মত মনে হলেও এটা মূলত নান্দনিক ভুটানের দৃশ্য। ছবি: পিন্টারেস্ট
দেখতে ইউরোপ বা কানাডার মত মনে হলেও এটা মূলত নান্দনিক ভুটানের দৃশ্য। ছবি: পিন্টারেস্ট

আমি কিছুদিন আগে ভুটান সম্পর্কে লিখেছিলাম। সব দিক দিয়ে আমাদের দেশের পাশের একটি চমৎকার দেশ। তা সত্ত্বেও খুব একটা আলোচনা হয় না দেশটি সম্পর্কে। অনেকে ইউরোপ বা আমেরিকায় যেতে পাগল অথচ রয়েছে বাড়ির পাশে কী সুন্দর একটি দেশ। জানি না কতজন সেখানে যেতে পাগল। সময় এবং সামর্থ্য থাকলে ঘুরে আসুন ভুটান। দেখবেন ভালো লাগবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের অনেকেই কানাডায় যেতে পাগল। কারণ সেখানে ইংরেজি ভাষার প্রচলন। কেউ পড়াশোনা, কেউ চাকরি, কেউ আবার দেশের অর্থ পাচার করে সেখানে বেগম পাড়া তৈরি করে বসবাস করছে। শুনেছি দেশের টাকা পাচার করতে যারা সাহায্য করেন তাদের মধ্যে দূতাবাসও জড়িত। 

যদি তথ্যটি সত্য হয় তবে কেন এর প্রতিবাদ হয় না? দূতাবাসের সাহায্যে দেশের অর্থ পাচার করে বিদেশে অনেকেই প্রতিষ্ঠিত। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব দূতাবাসের কাজ কী এবং কী দায়িত্ব তাদের পালন করার কথা, আর কী করছে তারা সে বিষয় তদন্ত করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে গত কয়েকদিন আগে লিখেছি। দেখা যাক কর্তৃপক্ষ কী করেন। 

দেশকে সোনার বাংলা করতে হলে সবাইকে কাজ করতে হবে যার যার জায়গা থেকে। আসছে স্বাধীনতার মাস, পঞ্চাশ বছরের পূর্ণরূপ ধারণ করবে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। শুধু গা শিউরে উঠলেই হবে না। 

দেশকে, দেশের মানুষকে বিশ্বের বুকে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। অতীতের সমস্ত গ্লানির বিসর্জন দিতে হবে আর উৎসর্গ করতে হবে আমাদের নিবেদিত প্রাণ দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে। 

আসুন এবার কানাডা সম্পর্কে একটু জানি। দেশটি আমেরিকার পাশে অবস্থিত, স্বাভাবিকভাবেই তারা সব সময় আমেরিকার মতো এমনকি তাদের চেয়ে উন্নতমানের মন-মানসিকতার সাথে একটি আউটস্ট্যান্ডিং দেশ হিসেবে পরিচিত হতে চায়। কানাডা গত কয়েক বছর ধরে চমৎকার পারফরমেন্স করে চলেছে। গণতন্ত্রের বেস্ট প্রাকটিস এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের প্রতি যথেষ্ট রেসপেক্ট দেখাতে পেরেছে।  

কানাডা প্রায় দশ বছর ধরে শিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তারা শিক্ষা প্রশিক্ষণের শুরুতেই খেলাধুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বেশি। যাতে করে দেশের জনগণকে হাসপাতাল এবং ডাক্তারের সংস্পর্শে খুব বেশি আসা না লাগে। খেলাধুলোকে শিক্ষা প্রশিক্ষণের অন্যান্য বিষয়ের মত গুরুত্ব দেবার কারণে দেখা যাচ্ছে কানাডা বিশ্বের প্রথম স্থানটি দখল করতে চলেছে বিভিন্ন স্পোর্টসে। 

গত দশ বছর আগে শিক্ষা-প্রশিক্ষণের এই ভিন্নধর্মী পরিবর্তনের কারণে আজকের কানাডার নতুন প্রজন্ম বিশ্বের উদীয়মান তারকাদের শীর্ষে। ভুটান এবং কানাডাকে বেঞ্চ মার্কিং হিসেবে ব্যবহৃত করা যেতে পারে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশিক্ষণের পরিবর্তনে, যা নিঃসন্দেহে হতে পারে শিক্ষার দিকনির্দেশনার জন্য একটি চমৎকার উপায়। 

অন্যদিকে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেটা হলো আমরা বসবাস করছি ভারতের পাশে। পাশের দেশ হিসেবে সম্পর্কটি সরকারিভাবে ভালো হলেও জনগণের মতামতটি ভিন্ন। যার ফলে সারাক্ষণ কিছু না কিছু আলোচনা হয়। 

ভালোর চেয়ে খারাপ খবরের প্রচলন হয় বেশি। খারাপ খবরগুলো সহজে ছড়ানো যায়। আবার ডকুমেন্ট বা সঠিক তথ্য ছাড়া খবর প্রচার করা বেশ সহজ। যার ফলে সর্বত্রই যে বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয় তা হলো গুজব। তারপর দেশের খবরের টপ লিস্টে কী কী জিনিস সর্বাধিক পাঠকের নজর কাড়ে দেখেছেন কি কখনও ভেবে?

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
২৮ জানুয়ারি, ২০২১