বাংলাদেশের সকল নারী সূর্যের মত জ্বলে উঠুক
jugantor
বিশ্ব নারী দিবস
বাংলাদেশের সকল নারী সূর্যের মত জ্বলে উঠুক

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

০৮ মার্চ ২০২১, ০২:৩৫:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

লেখক রহমান মৃধার সহধর্মিণী মারিয়া

২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ সালে প্রথম আমেরিকার সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টি নারী দিবস পালন করার ওপর কথা বলে। পরে জার্মান কমিউনিস্ট এবং নারী অধিকারকর্মী ক্লারা জোসেফিন জেটকিন ১৯১০ সালে নারী দিবস পালনে ইউরোপে আলোড়ন সৃষ্টি করে। শেষে নারী দিবসটি জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয় ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রোববার ১৯১৩ সালে।

নারী দিবসের ওপর প্রথম জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বৈঠক হয় ১৯৭৫ সালে মেক্সিকোতে। ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে দিনটি পালনের জন্য মার্চের ৮ তারিখ ধার্য করা হয় ১৯৭৮ সালে। আর সেই থেকে পালিত হচ্ছে বিশ্ব নারী দিবস।

আমরা পুরুষ জাতি এবং নারী জাতি এই দুটো জাতি মিলে মানুষ জাতি। পুরুষ জাতির অঙ্গে বেশি পরিমাণ মাসেল থাকার কারণে তাদের ধারণা ছিল তারাই নারী জাতির ওপর সব ধরণের বাটপারি করবে। সেভাবেই চলে আসছে এখনও অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু না, নারী জাতি সময়ের সাথে পুরুষ জাতির দুর্বলতা উদঘাটন করতে থাকে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে।

পরিবার, সমাজ এবং দেশের দায়ভার থেকে শুরু করে সব বিষয়ে গুরুদায়িত্ব পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে চলেছে। নারীর প্রতি পুরুষের অবিচার, অত্যাচারের সমস্ত যন্ত্রতন্ত্র ভেঙে-চুরে তছনছ করে নারী জাতি বিশ্বের অনেক দেশের সিংহাসনে উপনীত হয়েছে।

‘পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’ ইসলাম ধর্মসহ প্রায় সব ধর্মেই নারীকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নারী হলেন মায়ের জাতি। যে মায়ের গর্ভ থেকে আমাদের জন্ম সে মায়ের জাতিকে যদি মর্যাদা না দেয়া হয় তাহলে তা কলঙ্কজনক হবে।

কোনো সমাজ ও রাষ্ট্র কতটা সভ্য বা উদার তা নির্ভর করে সেখানকার নারীদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানের ওপর। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নারী উন্নয়নে ব্যাপক সক্রিয়। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশে দুই নারী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন। আর সে কারণে দেশের খ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী হয়েছে সমাদৃত।

নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য অনেক নারী একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন। এখন অনেক ভালোর পিছে আবার মন্দও রয়েছে। যেমন বাংলাদেশ নারী শাসিত দেশ সত্ত্বেও ধর্ষণ হচ্ছে, হচ্ছে এখনও নারীর প্রতি অত্যাচার-অবিচার। এসব বন্ধ করতে হবে। দেশে নারীশিক্ষার হার ও কাজে অংশগ্রহণ বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বরং নারীর প্রতি সহিংসতার ভয়াবহতা বেড়েছে।

বাংলাদেশে নারীদের জীবনে গত ৫০ বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে, হয়তো অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু ইতিবাচক উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে কিছু নেতিবাচক ফলাফলও আছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নারীরা সামনে এগিয়ে এসেছে, কিন্তু তারা কি মুক্তি ও ন্যায়বিচার পাচ্ছে?

নারী তার ধর্ম, এলাকা, সম্প্রদায়ভেদে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যের প্রধান কারণই লিঙ্গ। বৈষম্য এবং সহিংসতাকে প্রতিহত করতে নারীদের কৌশলী হতে হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও নারীশ্রমিকেরা সমান পারিশ্রমিক, নিরাপদ কর্মপরিবেশ দাবি করেও পাচ্ছেন না।

শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি আর কারখানা দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা এখনো ঘটে চলেছে। একইসাথে অন্যায়-অবিচার হচ্ছে বিধায় ভয় পেয়ে পিছপা হলে চলবে না। কারণ ওই যে কবি বলেছেন, মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।

হঠাৎ যেমন কালো মেঘ ছেয়ে যাচ্ছে আকাশ, নামছে মুষলধারে বৃষ্টি। তার একটু পরেই আকাশ আলো করে উঠছে সূর্য। বিশ্ব নারী দিবসে বাংলাদেশের সকল নারী সূর্যের মত করে জ্বলে উঠুক ভালোবাসার আলো নিয়ে, যে আলো পুরুষ জাতিকে মানুষ হতে সাহায্য করবে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
বিশ্ব নারী দিবস

বাংলাদেশের সকল নারী সূর্যের মত জ্বলে উঠুক

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
০৮ মার্চ ২০২১, ০২:৩৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
লেখক রহমান মৃধার সহধর্মিণী মারিয়া
লেখক রহমান মৃধার সহধর্মিণী মারিয়া

২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ সালে প্রথম আমেরিকার সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টি নারী দিবস পালন করার ওপর কথা বলে। পরে জার্মান কমিউনিস্ট এবং নারী অধিকারকর্মী ক্লারা জোসেফিন জেটকিন ১৯১০ সালে নারী দিবস পালনে ইউরোপে আলোড়ন সৃষ্টি করে। শেষে নারী দিবসটি জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয় ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রোববার ১৯১৩ সালে।
 
নারী দিবসের ওপর প্রথম জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বৈঠক হয় ১৯৭৫ সালে মেক্সিকোতে। ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে দিনটি পালনের জন্য মার্চের ৮ তারিখ ধার্য করা হয় ১৯৭৮ সালে। আর সেই থেকে পালিত হচ্ছে বিশ্ব নারী দিবস।

আমরা পুরুষ জাতি এবং নারী জাতি এই দুটো জাতি মিলে মানুষ জাতি। পুরুষ জাতির অঙ্গে বেশি পরিমাণ মাসেল থাকার কারণে তাদের ধারণা ছিল তারাই নারী জাতির ওপর সব ধরণের বাটপারি করবে। সেভাবেই চলে আসছে এখনও অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু না, নারী জাতি সময়ের সাথে পুরুষ জাতির দুর্বলতা উদঘাটন করতে থাকে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। 
 
পরিবার, সমাজ এবং দেশের দায়ভার থেকে শুরু করে সব বিষয়ে গুরুদায়িত্ব পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে চলেছে। নারীর প্রতি পুরুষের অবিচার, অত্যাচারের সমস্ত যন্ত্রতন্ত্র ভেঙে-চুরে তছনছ করে নারী জাতি বিশ্বের অনেক দেশের সিংহাসনে উপনীত হয়েছে।
 
‘পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’ ইসলাম ধর্মসহ প্রায় সব ধর্মেই নারীকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নারী হলেন মায়ের জাতি। যে মায়ের গর্ভ থেকে আমাদের জন্ম সে মায়ের জাতিকে যদি মর্যাদা না দেয়া হয় তাহলে তা কলঙ্কজনক হবে। 

কোনো সমাজ ও রাষ্ট্র কতটা সভ্য বা উদার তা নির্ভর করে সেখানকার নারীদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানের ওপর। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নারী উন্নয়নে ব্যাপক সক্রিয়। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশে দুই নারী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন। আর সে কারণে দেশের খ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী হয়েছে সমাদৃত। 

নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য অনেক নারী একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন। এখন অনেক ভালোর পিছে আবার মন্দও রয়েছে। যেমন বাংলাদেশ নারী শাসিত দেশ সত্ত্বেও ধর্ষণ হচ্ছে, হচ্ছে এখনও নারীর প্রতি অত্যাচার-অবিচার। এসব বন্ধ করতে হবে। দেশে নারীশিক্ষার হার ও কাজে অংশগ্রহণ বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বরং নারীর প্রতি সহিংসতার ভয়াবহতা বেড়েছে।

বাংলাদেশে নারীদের জীবনে গত ৫০ বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে, হয়তো অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু ইতিবাচক উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে কিছু নেতিবাচক ফলাফলও আছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নারীরা সামনে এগিয়ে এসেছে, কিন্তু তারা কি মুক্তি ও ন্যায়বিচার পাচ্ছে? 

নারী তার ধর্ম, এলাকা, সম্প্রদায়ভেদে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যের প্রধান কারণই লিঙ্গ। বৈষম্য এবং সহিংসতাকে প্রতিহত করতে নারীদের কৌশলী হতে হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও নারীশ্রমিকেরা সমান পারিশ্রমিক, নিরাপদ কর্মপরিবেশ দাবি করেও পাচ্ছেন না। 

শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি আর কারখানা দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা এখনো ঘটে চলেছে। একইসাথে অন্যায়-অবিচার হচ্ছে বিধায় ভয় পেয়ে পিছপা হলে চলবে না। কারণ ওই যে কবি বলেছেন, মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। 

হঠাৎ যেমন কালো মেঘ ছেয়ে যাচ্ছে আকাশ, নামছে মুষলধারে বৃষ্টি। তার একটু পরেই আকাশ আলো করে উঠছে সূর্য। বিশ্ব নারী দিবসে বাংলাদেশের সকল নারী সূর্যের মত করে জ্বলে উঠুক ভালোবাসার আলো নিয়ে, যে আলো পুরুষ জাতিকে মানুষ হতে সাহায্য করবে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

০৭ মার্চ, ২০২১
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
আরও খবর