সিডনির লাকেম্বায় আল্পনায় বাংলার বৈশাখ

  হ্যাপি রহমান, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে ২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

সিডনিতে বর্ষবরণ

মিষ্টি মুখ, পান্তা-ইলিশ আর নতুন দেশি পোশাক লুঙ্গি-গামছা, শাড়ি-পাঞ্জাবিতে বাঙালিরা বর্ষবরণ করে নেয় পহেলা বৈশাখে। বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশ যেন সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটির সানকিতে এর পরিবেশনাই যেন খাঁটি বাঙালিয়ানার মুন্সিয়ানা।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আল্পনা, মুখোশ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা! এসবের সঙ্গে বৈশাখ উদযাপন বা বর্ষবরণের যোগসূত্র কবে কখন কেন এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল এর সঠিক ব্যাখ্যা কোনো দিনপঞ্জিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নাই। তবে হালখাতা করতেন ব্যবসায়ীরা। সেটাই ছিল প্রধান।

গত ১৪ই এপ্রিল শনিবার পয়লা বৈশাখ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ভিন্ন মাত্রার আমেজ বয়ে এনেছিল। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রাণের শহর লাকেম্বা। দেশের আদলে গড়ে উঠা ছোট্ট বাংলাদেশ হিসেবেও পরিচিত প্রবাসীদের কাছে।

আয়োজকগণ বেশ আগে থেকেই পূর্ব অনুমতি নিয়ে রেখেছিলেন এখানকার প্রশাসন থেকে। এদিনে এলাকাটির রেলওয়ে প্যারেড রাস্তায় সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। রাস্তাটির একপ্রান্তে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিলো।

ঢাকার রমনার বটমূলে বর্ষবরণের আয়োজনের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখেই সম্পন্ন হয় বৈশাখের প্রথম প্রহর। পান্তা-ইলিশে মুখ ও মুখোশের পহেলা বৈশাখ। প্রথমবারের মত ছিল এ আয়োজন।

ভোরের সূর্যালোকের সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী বর্ষবরণের এ উৎসব শুরু হয়। রঙ আর তুলিতে লাকেম্বার রেলওয়ে প্যারেড রাস্তাটি নানা আল্পনায় সজ্জিত করে তোলে প্রবাসী বাঙালিরা। আগত অতিথিদের কেউ কেউ ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউর মিল খোঁজেন এ সময়ে।

মঞ্চে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরের বৈশাখের প্রথম প্রহরকে। এরপর স্থানীয় কবি-শিল্পীদের কবিতা-গান পরিবেশনের মাধ্যমে এ উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।

যৌথভাবে এ উৎসব আয়োজন করে বাংলা হাব ও রেলওয়ে প্যারেড ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে স্থানীয় সংগঠন ওপেন ফ্রেন্ডস সার্কেল সহযোগিতা করে।

উল্লেখ, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশিদের বসতি এখানে। ফলে, পথের গলিতে সহজেই দেখা মেলে লুঙ্গি-গামছা পরিহিত দেশি ভাই, শাড়ি, সেলোয়ার-কামিজ, চুড়ি ও কপালে টিপ সাজে আপা/ভাবীদের।

এ দৃশ্য প্রত্যেক প্রবাসী বাঙালিদের প্রিয়মুখ ভুলে থাকার ছায়া দিয়ে, মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে নেয়। উস্কে দেয় দেশপ্রেমও। বিদেশটা কর্মব্যস্ততার। ঘণ্টায় উপার্জন করতে হয়। কাজে গেলে পয়সা, না গেলে হিসাবের খাতা শূন্য!

এছাড়া দিনটি পড়েছিলো উইক অ্যান্ডে। সবার সাপ্তাহিক ছুটি। সঙ্গে যোগ হয়েছে বাচ্চাদের স্কুল হলি ডে, তাই অস্ট্রেলিয়ায় ছুটির আমেজে এবারের বৈশাখ যুগিয়েছে উৎসবের বর্ণিল আনন্দ।

আয়োজকদের অন্যতম আশরাফ ও মুনির বিশ্বাস জানান, মূলতঃ পরিপূর্ণ দেশীয় আমেজ ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন। পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসব। পুরাতনকে ভুলে নতুনকে আলিঙ্গন করার দিন। এদিনে ধর্ম-বর্ণ ভুলে বাঙালি আলোড়িত হয়, আন্দোলিত হয়।

তারা জানান, নানান বর্ণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনন্দঘন বর্ষবরণ হয় ঢাকায়। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয় রমনার বটমূলে। বাসীরা হাজার মাইল দূরে থেকে এ আয়োজনে সম্পৃক্ত হতে না পেরে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। অজান্তেই কেঁদে উঠি। পাওয়া- না পাওয়ার এই অব্যক্ত বেদনা ভুলতেই লাকেম্বায় এ আয়োজন। আগামীতে সবার সহযোগিতায় এ আয়োজন বৃহৎ ও ব্যাপক আকারে উদযাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলা নববর্ষ ১৪২৫

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×