পর্তুগাল প্রবাসীদের মাঝে নেই রমজানের চিরাচরিত উৎসব
jugantor
পর্তুগাল প্রবাসীদের মাঝে নেই রমজানের চিরাচরিত উৎসব

  ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে  

২১ এপ্রিল ২০২১, ২১:০৩:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বের সব মুসলমানদের মতো পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজে পবিত্র মাহে রমজান মাসের রোজা পালন করেন। কিন্তু বর্তমান মহামারি পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে, প্রবাসীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্মুখীন হচ্ছেন প্রতিবন্ধকতার।

রমজান মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য এবং বাহারি ইফতারি ক্রয়ের জন্য পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত মারতিম মুনিজ এলাকার অন্তর্গত রুয়া দো বেনফরমোসোয় (রাস্তার নাম) সারিবদ্ধভাবে অবস্থিত বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য সামগ্রীর দোকান এবং রেস্টুরেন্টগুলো থেকে দৈনন্দিন বাজার এবং ইফতার ক্রয়ের জন্য দুপুরের পর থেকেই জড়ো হতে শুরু করতেন। কিন্তু মহামারির কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন আকার ধারণ করেছে; বর্তমানে লোকসমাগম নেই বললেই চলে।
বাংলাদেশি পণ্যের সুপার মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় জানতে চাইলে ব্যাবসায়ীরা জানান, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সবসময়ই চাহিদা বেশি থাকায় আমরা পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিশেষ মূল্য ছাড় প্রদান করি। কিন্তু এ বছর চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে; যে কোনো স্বাভাবিক মাসের তুলনায় অনেক কম অথচ যা বিগত বছরগুলোতে ছিল দ্বিগুণের মতো।

রেস্টুরেন্টগুলোর পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ। বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে আলাপকালে তারা জানায়, কার্যত এক বছর বন্ধ থাকার পর লকডাউন তুলে দেয়ার কারণে আশা প্রকাশ করছিলেন পূর্বের মতো ইফতার বিক্রি করতে পারবেন এতে অন্তত মাসিক ব্যয় তুলে আনা সম্ভব হবে কিন্তু পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় খুবই সামান্য, বিক্রয় নেই বললেই চলে। রমজানের প্রথমার্ধে এরকম পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না রেস্টুরেন্ট মালিকরা। শুধুমাত্র ব্যবসা চালিয়ে নেয়ার জন্য লোকসান দিয়ে ইফতারের পসরা সাজিয়েছেন।

রাজধানী লিসবনের এই এলাকাটিতেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালনায় দুটি মসজিদ রয়েছে, প্রতি বছর মসজিদগুলোতে ইফতারের আয়োজন এবং খতমে তারাবির নামাজ আদায়ের আয়োজন করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইফতার আয়োজন বাতিল করা হলেও স্বল্পসংখ্যক উপস্থিতি নিয়ে খতমে তারাবি পড়ানো হচ্ছে। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধির কারণে সীমিত সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা সাধারণত পরিবার-পরিজনদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণ করেন; সে বিষয়ে বিভিন্ন মানিট্রান্সফার গুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, রমজানের শুরুতেই প্রবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে প্রেরণ করেন তা পূর্বের রমজান মাসগুলো থেকে কম হলেও অন্যান্য স্বাভাবিক মাসের তুলনায় বেশি। মানি ট্রান্সফার ভেদে অর্থ প্রেরণের তারতম্য ছিল; তবে যদিও তারা ভেবে রেখেছিলেন হয়তো প্রবাসীরা খুব বেশি অর্থ দেশে প্রেরণ করতে পারবেন না, ফলে অবাক হলেও উষ্ণ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। কেননা প্রবাসীরা নিজেদের আয় কম থাকা সত্ত্বেও আয়ের সবটুকু দিয়ে পরিবারের মাঝে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

পর্তুগাল প্রবাসীদের মাঝে নেই রমজানের চিরাচরিত উৎসব

 ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে 
২১ এপ্রিল ২০২১, ০৯:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বের সব মুসলমানদের মতো পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজে পবিত্র মাহে রমজান মাসের রোজা পালন করেন। কিন্তু বর্তমান মহামারি পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে, প্রবাসীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্মুখীন হচ্ছেন প্রতিবন্ধকতার।

রমজান মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য এবং বাহারি ইফতারি ক্রয়ের জন্য পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত মারতিম মুনিজ এলাকার অন্তর্গত রুয়া দো বেনফরমোসোয় (রাস্তার নাম) সারিবদ্ধভাবে অবস্থিত বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য সামগ্রীর দোকান এবং  রেস্টুরেন্টগুলো থেকে দৈনন্দিন বাজার এবং ইফতার ক্রয়ের জন্য দুপুরের পর থেকেই  জড়ো হতে শুরু করতেন। কিন্তু মহামারির কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন আকার ধারণ করেছে; বর্তমানে লোকসমাগম নেই বললেই চলে।
বাংলাদেশি পণ্যের সুপার মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় জানতে চাইলে ব্যাবসায়ীরা জানান, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সবসময়ই চাহিদা বেশি থাকায় আমরা পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিশেষ মূল্য ছাড় প্রদান করি। কিন্তু এ বছর চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে; যে কোনো স্বাভাবিক মাসের তুলনায় অনেক কম অথচ যা বিগত বছরগুলোতে ছিল দ্বিগুণের মতো।

রেস্টুরেন্টগুলোর পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ। বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে আলাপকালে তারা জানায়, কার্যত এক বছর বন্ধ থাকার পর লকডাউন তুলে দেয়ার কারণে আশা প্রকাশ করছিলেন পূর্বের মতো ইফতার বিক্রি করতে পারবেন এতে অন্তত মাসিক ব্যয় তুলে আনা সম্ভব হবে কিন্তু পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় খুবই সামান্য, বিক্রয় নেই বললেই চলে। রমজানের প্রথমার্ধে এরকম পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না রেস্টুরেন্ট মালিকরা। শুধুমাত্র ব্যবসা চালিয়ে নেয়ার জন্য লোকসান দিয়ে ইফতারের পসরা সাজিয়েছেন।

রাজধানী লিসবনের এই এলাকাটিতেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালনায় দুটি মসজিদ রয়েছে,  প্রতি বছর মসজিদগুলোতে  ইফতারের আয়োজন  এবং খতমে তারাবির নামাজ আদায়ের আয়োজন করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইফতার আয়োজন বাতিল করা হলেও স্বল্পসংখ্যক উপস্থিতি নিয়ে খতমে তারাবি পড়ানো হচ্ছে। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধির কারণে সীমিত সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা সাধারণত পরিবার-পরিজনদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণ করেন; সে বিষয়ে বিভিন্ন মানিট্রান্সফার গুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, রমজানের শুরুতেই প্রবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে প্রেরণ করেন তা পূর্বের রমজান মাসগুলো থেকে কম হলেও অন্যান্য স্বাভাবিক মাসের তুলনায় বেশি। মানি ট্রান্সফার ভেদে অর্থ প্রেরণের তারতম্য ছিল; তবে যদিও তারা ভেবে রেখেছিলেন হয়তো প্রবাসীরা খুব বেশি অর্থ দেশে প্রেরণ করতে পারবেন না, ফলে অবাক হলেও উষ্ণ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। কেননা প্রবাসীরা নিজেদের আয় কম থাকা সত্ত্বেও আয়ের  সবটুকু দিয়ে পরিবারের মাঝে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন