মরুর বুকে একটি বাংলাদেশ
jugantor
মরুর বুকে একটি বাংলাদেশ

  লুৎফুর রহমান, আমিরাত থেকে  

০৬ মে ২০২১, ২১:২০:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রবাসে কতভাবেই তুলে ধরা যায় নিজ দেশকে। ভিনদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি আর দেশের সংস্কৃতি-ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরতে শারজাহের বাঙালি অধ্যুষিত রোলা পার্কের কাছে বারকোড রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার দেশপ্রেমিক চারজন যুবক। তারা সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। মনজুরুল হক, সেলিম পারভেজ, এনামুল হক ও আবু বক্কর। এই চারজনের স্বপ্নের জমিন বারকোড রেস্টুরেন্ট। এ রেস্টুরেন্ট বাংলাদেশ আর বাঙালি জীবনকে এতটা শুদ্ধস্বরে রেখেছে- এটার নাম 'বাংলাকোড' হলে আরো ভালো হতো।

১৯৫২ থেকে ১৯৭১ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য শোভা পাচ্ছে রেস্তোরাঁর ভিতরে। এটি রেস্তোরাঁ নাকি ভিনদেশে একটি বাংলাদেশি জাদুঘর, তা পরখ করে বুঝে নিতে হবে। ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খানসহ গণ্যমান্যরা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান. বীর চট্টলা, বারকোডসহ দেশে রয়েছে তাদের ২০টিরও অধিক প্রতিষ্ঠানের ছোঁয়া। ভিনদেশে নিজের দেশকে তুলে ধরতে পারায় এর পরিচালক মনজুরুল হক অনেক খুশি।
উপর তলায় আছে বাচ্চাদের জন্য খেলার জায়গা। রয়েছে দেশীয় পরিবেশে শৌচাগার এবং টিনের বেড়া দিয়ে হারানো দিনের শিশু সাহিত্য এবং চোর-পুলিশসহ নানা বাঙালি ধাচের খেলার আবহ। এ রেস্তোরাঁয় ৯৯ ভাগ শ্রমিকই বাংলাদেশি। পরিচালক সেলিম পারভেজ তাদের শ্রমিকদের সুবিধা প্রদানসহ আন্তরিকতার কথা জানান।

গুণগতমান উন্নত পরিবেশ এত কিছুর পরও অন্যান্য রেস্তোরাঁ থেকে এখানের খাবারের দাম তুলনামুলক কম। বিদেশিরাও এমন আলোকসজ্জা আর বাংলাদেশি আমেজ দেখে যেমন খুমি তেমনি খুশি দেশীয় খাবার খেয়ে বাঙালিরাও।
এ রেস্তোরাঁয় দেশের ক্যাম্পাস লাইফসহ বাঙালির জাতীয় জীবনের ফেলে আসা দিন যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। এমন কাজ ভিনদেশেও করতে পারায় তারা আনন্দিত বলে জানান পরিচালক আবু বক্কর।
আমিরাতে থাকা ১০ লাখ বাংলাদেশির কাছে এ রেস্টুরেন্ট দেশের আমেজ দিতে সক্ষম হবে- এমনটি ধারণা সাধারণ প্রবাসীদের। একই সঙ্গে বিদেশিদের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ নানা গৌরবগাথা আবার স্মরণ করাবে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

মরুর বুকে একটি বাংলাদেশ

 লুৎফুর রহমান, আমিরাত থেকে 
০৬ মে ২০২১, ০৯:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রবাসে কতভাবেই তুলে ধরা যায় নিজ দেশকে। ভিনদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি আর দেশের সংস্কৃতি-ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরতে শারজাহের বাঙালি অধ্যুষিত রোলা পার্কের কাছে বারকোড রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার দেশপ্রেমিক চারজন যুবক। তারা সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। মনজুরুল হক, সেলিম পারভেজ, এনামুল হক ও আবু বক্কর। এই চারজনের স্বপ্নের জমিন বারকোড রেস্টুরেন্ট। এ রেস্টুরেন্ট বাংলাদেশ আর বাঙালি জীবনকে এতটা শুদ্ধস্বরে রেখেছে- এটার নাম 'বাংলাকোড' হলে আরো ভালো হতো।

১৯৫২ থেকে ১৯৭১ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য শোভা পাচ্ছে রেস্তোরাঁর ভিতরে। এটি রেস্তোরাঁ নাকি ভিনদেশে একটি বাংলাদেশি জাদুঘর, তা পরখ করে বুঝে নিতে হবে। ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খানসহ গণ্যমান্যরা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান. বীর চট্টলা, বারকোডসহ দেশে রয়েছে তাদের ২০টিরও অধিক প্রতিষ্ঠানের ছোঁয়া। ভিনদেশে নিজের দেশকে তুলে ধরতে পারায় এর পরিচালক মনজুরুল হক অনেক খুশি।
উপর তলায় আছে বাচ্চাদের জন্য খেলার জায়গা। রয়েছে দেশীয় পরিবেশে শৌচাগার এবং টিনের বেড়া দিয়ে হারানো দিনের শিশু সাহিত্য এবং চোর-পুলিশসহ নানা বাঙালি ধাচের খেলার আবহ। এ রেস্তোরাঁয় ৯৯ ভাগ শ্রমিকই বাংলাদেশি। পরিচালক সেলিম পারভেজ তাদের শ্রমিকদের সুবিধা প্রদানসহ আন্তরিকতার কথা জানান।

গুণগতমান উন্নত পরিবেশ এত কিছুর পরও অন্যান্য রেস্তোরাঁ থেকে এখানের খাবারের দাম তুলনামুলক কম। বিদেশিরাও এমন আলোকসজ্জা আর বাংলাদেশি আমেজ দেখে যেমন খুমি তেমনি খুশি দেশীয় খাবার খেয়ে বাঙালিরাও।
এ রেস্তোরাঁয় দেশের ক্যাম্পাস লাইফসহ বাঙালির জাতীয় জীবনের ফেলে আসা দিন যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। এমন কাজ ভিনদেশেও করতে পারায় তারা আনন্দিত বলে জানান পরিচালক আবু বক্কর।
আমিরাতে থাকা ১০ লাখ বাংলাদেশির কাছে এ রেস্টুরেন্ট দেশের আমেজ দিতে সক্ষম হবে- এমনটি ধারণা সাধারণ প্রবাসীদের। একই সঙ্গে বিদেশিদের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ নানা গৌরবগাথা আবার স্মরণ করাবে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর