দক্ষিণ আফ্রিকায় সিলেটি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু 
jugantor
দক্ষিণ আফ্রিকায় সিলেটি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু 

  শওকত বিন আশরাফ, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে   

০৭ মে ২০২১, ২১:১৬:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় গত বুধবার আরমান মিয়া নামের একজন বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আরমান মিয়াকে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করলেও এটি হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা কিনা, তা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীদের মধ্যে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে।

দেশটির জোহানেসবার্গ সংলগ্ন আলবার্টন এলাকায় বাংলাদেশের নরসিংদীর বাসিন্দা আলাউদ্দীনের দোকানে গত দুই মাস আগে চাকরি নেয় আরমান। ওই দোকানে চাকরি করার সময় গত বুধবার মধ্য রাতে বাসায় টয়লেট থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া পা ফ্লোরের সাথে লাগানো অবস্থায় আরমান মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই আরমানের সাথে থাকা অন্যরা প্রেমঘটিত কারণে আরমান আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দিলেও আরমান মিয়ার বাবা সোহরাব মিয়া টেলিফোনে জানান, তার দশ ছেলে-মেয়ের মধ্যে আরমান মিয়া সবার ছোট। সে ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। বড় দুই ছেলে দেশে কৃষিকাজ করছে। বোনরা সবাই বিবাহিত, সংসার করছে। তাদের কোনো ধার-দেনা ছিল না। তার ছেলের সাথে দেশে কোনো মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক আছে এটা পরিবারের কেউ জানে না। তবে ছেলে আরমান মিয়ার কেন কীভাবে মৃত্যু হলো তা নিয়ে পিতা সোহরাব মিয়া হতাশা প্রকাশ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় কেন কীভাবে মারা গেল সেটা তো দেশে থেকে কিছুই বুঝতে পারছি না।

তবে কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আরমান মিয়ার সঙ্গে তার এলাকার একটি মেয়ের প্রেম সম্পর্ক ছিল। মেয়ের বয়স বেশি হওয়ায় পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এ হতাশা থেকেই আরমান মিয়া আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা তাদের।

তবে আরমান মিয়ার এক আত্মীয় জানিয়েছেন, আলাউদ্দীনের দোকানে তারা দুইজন কাজ করত। আরেকজনের সাথে প্রায়ই তার কথাকাটাকাটি হতো, হয়তো কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আরমানকে সে খুন করে টয়লেটে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। আরমান মিয়া হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এদিকে লাশের ময়নাতদন্তের পর আগামীকাল সেইফ বাংলাদেশি নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে লাশ দক্ষিণ আফ্রিকায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের দায়িত্বশীল এসএইচ মোহাম্মদ মোশাররফ।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

দক্ষিণ আফ্রিকায় সিলেটি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু 

 শওকত বিন আশরাফ, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে  
০৭ মে ২০২১, ০৯:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় গত বুধবার আরমান মিয়া নামের একজন বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আরমান মিয়াকে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করলেও এটি হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা কিনা, তা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীদের মধ্যে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। 

দেশটির জোহানেসবার্গ সংলগ্ন আলবার্টন এলাকায় বাংলাদেশের নরসিংদীর বাসিন্দা আলাউদ্দীনের দোকানে গত দুই মাস আগে চাকরি নেয় আরমান। ওই দোকানে চাকরি করার সময় গত বুধবার মধ্য রাতে বাসায় টয়লেট থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া পা ফ্লোরের সাথে লাগানো অবস্থায় আরমান মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই আরমানের সাথে থাকা অন্যরা প্রেমঘটিত কারণে আরমান আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দিলেও আরমান মিয়ার বাবা সোহরাব মিয়া টেলিফোনে জানান, তার দশ ছেলে-মেয়ের মধ্যে আরমান মিয়া সবার ছোট। সে ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। বড় দুই ছেলে দেশে কৃষিকাজ করছে। বোনরা সবাই বিবাহিত, সংসার করছে। তাদের কোনো ধার-দেনা ছিল না। তার ছেলের সাথে দেশে কোনো মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক আছে এটা পরিবারের কেউ জানে না। তবে ছেলে আরমান মিয়ার কেন কীভাবে মৃত্যু হলো তা নিয়ে পিতা সোহরাব মিয়া হতাশা প্রকাশ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় কেন কীভাবে মারা গেল সেটা তো দেশে থেকে কিছুই বুঝতে পারছি না।

তবে কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আরমান মিয়ার সঙ্গে তার এলাকার একটি মেয়ের প্রেম সম্পর্ক ছিল। মেয়ের বয়স বেশি হওয়ায় পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এ হতাশা থেকেই আরমান মিয়া আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা তাদের।

তবে আরমান মিয়ার এক আত্মীয় জানিয়েছেন, আলাউদ্দীনের দোকানে তারা দুইজন কাজ করত। আরেকজনের সাথে প্রায়ই তার কথাকাটাকাটি হতো, হয়তো কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আরমানকে সে খুন করে টয়লেটে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। আরমান মিয়া হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। 

এদিকে লাশের ময়নাতদন্তের পর আগামীকাল সেইফ বাংলাদেশি নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে লাশ দক্ষিণ আফ্রিকায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের দায়িত্বশীল এসএইচ মোহাম্মদ মোশাররফ।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন