পর্তুগালে মহামারির মাঝেও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত
jugantor
পর্তুগালে মহামারির মাঝেও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত

  ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে  

১৩ মে ২০২১, ২২:০২:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

পর্তুগালে মহামারির মাঝেও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের জামাত

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের মারতিম‌ মুনিজ পার্কে প্রায় ৫ হাজার মুসল্লি নিয়ে দেশটির সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮ টায় লিসবনের বাইতুল মোকারম মসজিদ ও মারতিম‌ মুনিজ জামে মসজিদের উদ্যোগে এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ জামাতকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোরসবচেয়ে বড় ঈদ জামাত বলা হচ্ছে।

স্থানীয় পর্তুগিজ নাগরিকসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশসহ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া মহাদেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা এবার ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রবাসে এতো বড় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পেরে বাংলাদেশি প্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা আনন্দে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

নামাজের শুরুতে বালাদেশ ইসলামিক সেন্টার বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের ইমাম অধ্যাপক মাওলানা আবু সাঈদ এবং মাতরতিম মুনিজ মসজিদের ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন ঈদুল ফিতর নামাজের তাৎপর্য এবং রমজানের মহিমায় কথা সকলের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ আদায় করায় নামাজ শেষে উপস্থিতি মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান মাওলানা মো. আবু সাঈদ। দেশে-বিদেশে সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

মহামারির মাঝে এত বড় পরিসরে ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজন সম্পন্ন করেতে পেরে লিসবন প্রশাসনের শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন মারতিম‌ মুনিজ জামে মসজিদের সেক্রেটারি সাজিদ মোহাম্মদ ও বাইতুল মোকারম মসজিদের (লিসবন) প্রেসিডেন্ট রানা তাসলিম উদ্দিন।

নামাজ শেষে রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, এত বড় একটি ঈদ জামাত আয়োজন আমাদের জন্য বগ চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা সেই চ্যালেঞ্জে সফল। আমরা পর্তুগিজ স্থানীয় পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পারব। অবশেষে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করতে পেরেছি। সেজন্য মহান আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া জানাই। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের উদ্দেশে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই।

খোলা আকাশের নিচে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে যান প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

মাত্র ৪ মাস আগে পর্তুগালে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের কোন ঈদগাহে নামাজ আদায় করছি। তবে পার্থক্য এই যে, নামাজ শেষে ফিরে প্রিয়জনের সান্নিধ্য পাওয়া হবে না।

মারতিম‌ মুনিজ পার্ক ছাড়া পর্তুগালের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লিসবন পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পর্তুগালের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পর্তুতে হযরত হামজা (রা:) মসজিদে সকাল ৮টায় এবং সকাল ৯ টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় হযরত বেলাল (র.) মসজিদে সকাল পৌনে ৭টায় এবং সকাল ৮টায় আয়েশা সিদ্দিকা মসজিদে এবং সোয়া ৭টায় অদিভেলাসে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, প্রবাস জীবনের ঈদের আনন্দটা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। কারো কারো কাছে ঈদুল ফিতরের নামাজের মধ্য দিয়েই ঈদ শেষ হয়। ছুটি না থাকায় চলে যেতে হয় কর্মক্ষেত্রে। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে প্রবাসীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন কর্মযজ্ঞে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

পর্তুগালে মহামারির মাঝেও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত

 ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে 
১৩ মে ২০২১, ১০:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পর্তুগালে মহামারির মাঝেও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের জামাত
লিসবনের মারতিম‌ মুনিজ পার্কে ৫ হাজার মুসল্লি নিয়ে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত। ছবি: যুগান্তর

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের মারতিম‌ মুনিজ পার্কে প্রায় ৫ হাজার মুসল্লি নিয়ে দেশটির সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮ টায় লিসবনের বাইতুল মোকারম মসজিদ ও মারতিম‌ মুনিজ জামে মসজিদের উদ্যোগে এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ জামাতকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত বলা হচ্ছে।

স্থানীয় পর্তুগিজ নাগরিকসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশসহ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া মহাদেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা এবার ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করেছেন। 

প্রবাসে এতো বড় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পেরে বাংলাদেশি প্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা আনন্দে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

নামাজের শুরুতে বালাদেশ ইসলামিক সেন্টার বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের ইমাম অধ্যাপক মাওলানা আবু সাঈদ এবং মাতরতিম মুনিজ মসজিদের ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন ঈদুল ফিতর নামাজের তাৎপর্য এবং রমজানের মহিমায় কথা সকলের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন।  

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ আদায় করায় নামাজ শেষে উপস্থিতি মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান মাওলানা মো. আবু সাঈদ।  দেশে-বিদেশে সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

মহামারির মাঝে এত বড় পরিসরে ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজন সম্পন্ন করেতে পেরে লিসবন প্রশাসনের শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন মারতিম‌ মুনিজ জামে মসজিদের সেক্রেটারি সাজিদ মোহাম্মদ ও বাইতুল মোকারম মসজিদের (লিসবন) প্রেসিডেন্ট রানা তাসলিম উদ্দিন।

নামাজ শেষে রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন,  এত বড় একটি ঈদ জামাত আয়োজন আমাদের জন্য বগ চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা সেই চ্যালেঞ্জে সফল। আমরা পর্তুগিজ স্থানীয় পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পারব। অবশেষে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করতে পেরেছি। সেজন্য মহান আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া জানাই। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের উদ্দেশে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই।

খোলা আকাশের নিচে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে যান প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

মাত্র ৪ মাস আগে পর্তুগালে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের কোন ঈদগাহে নামাজ আদায় করছি। তবে পার্থক্য এই যে, নামাজ শেষে ফিরে প্রিয়জনের সান্নিধ্য পাওয়া হবে না।

মারতিম‌ মুনিজ পার্ক ছাড়া পর্তুগালের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লিসবন পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। 

পর্তুগালের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পর্তুতে হযরত হামজা (রা:) মসজিদে সকাল ৮টায় এবং সকাল ৯ টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয়  হযরত বেলাল (র.) মসজিদে সকাল পৌনে ৭টায় এবং সকাল ৮টায়  আয়েশা সিদ্দিকা মসজিদে এবং সোয়া ৭টায় অদিভেলাসে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, প্রবাস জীবনের ঈদের আনন্দটা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। কারো কারো কাছে ঈদুল ফিতরের নামাজের মধ্য দিয়েই ঈদ শেষ হয়। ছুটি না থাকায় চলে যেতে হয় কর্মক্ষেত্রে। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে প্রবাসীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন কর্মযজ্ঞে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন