বাবা হারানোর স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি
jugantor
বাবা হারানোর স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি

  মো. আলম হোসেন, বেলজিয়াম থেকে  

২০ জুন ২০২১, ০১:৪০:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

আস্থা, ভরসা আর পরম নির্ভরতার নাম বাবা। বাবা এমন এক বৃক্ষ, যে বৃক্ষের ছায়ায় আস্থার খোরাকে বেঁচে থাকার শক্তি পায় সন্তান। প্রতিটি সন্তানের কাছেই বাবা মানে শক্তি আর সাহস। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। এ ভালোবাসা বিশেষ কোনো একদিনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না।

বাবা-মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ। যদিও বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ দিন হিসেবে প্রতি বছর নির্দিষ্ট করে একটি দিন পালিত হয়ে আসছে। আসলে বাবা-মায়ের জন্য ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট দিন নেই। সন্তানের জন্য প্রতিদিন বাবা দিবস এবং প্রতিদিনই মা দিবস। বাবা মানে একটু শাসন, অনেক ভালোবাসা। প্রতিটি মানুষের জীবনে বাবা ছাদ হয়ে থাকেন।
কালবৈশাখী ঝড়ে হঠাৎ ভেঙে যাওয়া বটবৃক্ষের মতো হয়তো কারও কারও জীবনে বাবা নামক বৃক্ষটি হারিয়ে যায়। তখন বটবৃক্ষের নিচে থাকা গাছগুলোর মতো বাবাহারা সন্তাদের সমস্ত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ মোকাবেলা করে পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়। অনেকে হয়তো ঝড়ের তাণ্ডবে জীবন থেকেই হারিয়ে যান।

বাবা একটি শব্দ ও দুটি বর্ণের হৃদয়ের স্পন্দন। বাবাকে নিয়ে যত কথা, যত স্মৃতি সেটি কয়েক কোটি শব্দ দিয়েও পূরণ করার নয়। আমার বাবা ১৯৮৮ সালের ২২ এপ্রিল ৯ বৈশাখ ৫ রমজান দিবাগত রাতে তারাবি নামাজের সময় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে কাঁদিয়ে গেলেন আমাদের। দেখতে দেখতে ৩৩টি বছর চলে গেল। কিন্তু আজও বাবার স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। বাকি জীবনের জন্য খুঁজে পাচ্ছি আত্মবিশ্বাস।

আমি গর্ব করি আমার বাবাকে নিয়ে। আমার বাবা মরহুম সোনাহর আলী কাচাঁ মিয়া ছিলেন একজন সৎ, প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। অল্প সময়েই তার নাম ডাক সুনাম বিশ্বনাথসহ সিলেটের ব্যপক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এক সময় তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের একজন জনপ্রিয় ইউপি সদস্য হয়ে ওঠেন। তিনি পালেরচক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। যে কারণে তাকে অনেকে কাচাঁ মেম্বার নামে বেশি স্মরণ করে থাকেন।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে উনার বলিষ্ঠ ভূমিকা সবসময় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখনো তার সহযোদ্ধারা তাকে নিয়ে গল্প করে, একজন সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। আমার কাছে আমার বাবা পুরো পৃথিবীর সেরা বাবা। কোনো দিবসে নয়, যতদিন বেঁচে আছি বাবাকে নিয়ে আমার প্রতিটিক্ষণ মধুময় হয়ে থাকবে। ‘বাবা আমি তোমাকে ভালোবাসি’- এই কথাটি কোনোদিন বলা হয়নি। বাবা সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আর মিস করি প্রতিনিয়ত।

আমি একজন সৎ সাহসী ও বিপ্লবী মানুষের সন্তান, যার পরিচয় দিতে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। আমার বয়স যখন সাত বছর তখন বাবাকে হারালাম বড় হয়ে যখন সমাজে চলাফেরা করি মাথার ওপর বাবার ছায়া কী জিনিস হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারি। বাবা হারানো স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি। বাবা সবসময় আমাদের নিয়ে গর্ব করতেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

বাবা হারানোর স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি

 মো. আলম হোসেন, বেলজিয়াম থেকে 
২০ জুন ২০২১, ০১:৪০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আস্থা, ভরসা আর পরম নির্ভরতার নাম বাবা। বাবা এমন এক বৃক্ষ, যে বৃক্ষের ছায়ায় আস্থার খোরাকে বেঁচে থাকার শক্তি পায় সন্তান। প্রতিটি সন্তানের কাছেই বাবা মানে শক্তি আর সাহস। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। এ ভালোবাসা বিশেষ কোনো একদিনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না। 

বাবা-মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ। যদিও বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ দিন হিসেবে প্রতি বছর নির্দিষ্ট করে একটি দিন পালিত হয়ে আসছে। আসলে বাবা-মায়ের জন্য ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট দিন নেই। সন্তানের জন্য প্রতিদিন বাবা দিবস এবং প্রতিদিনই মা দিবস। বাবা মানে একটু শাসন, অনেক ভালোবাসা। প্রতিটি মানুষের জীবনে বাবা ছাদ হয়ে থাকেন।
কালবৈশাখী ঝড়ে হঠাৎ ভেঙে যাওয়া বটবৃক্ষের মতো হয়তো কারও কারও জীবনে বাবা নামক বৃক্ষটি হারিয়ে যায়। তখন বটবৃক্ষের নিচে থাকা গাছগুলোর মতো বাবাহারা সন্তাদের সমস্ত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ মোকাবেলা করে পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়। অনেকে হয়তো ঝড়ের তাণ্ডবে জীবন থেকেই হারিয়ে যান।

বাবা একটি শব্দ ও দুটি বর্ণের হৃদয়ের স্পন্দন। বাবাকে নিয়ে যত কথা, যত স্মৃতি সেটি কয়েক কোটি শব্দ দিয়েও পূরণ করার নয়। আমার বাবা ১৯৮৮ সালের ২২ এপ্রিল ৯ বৈশাখ ৫ রমজান দিবাগত রাতে তারাবি নামাজের সময় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে কাঁদিয়ে গেলেন আমাদের। দেখতে দেখতে ৩৩টি বছর চলে গেল। কিন্তু আজও বাবার স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। বাকি জীবনের জন্য খুঁজে পাচ্ছি আত্মবিশ্বাস।

আমি গর্ব করি আমার বাবাকে নিয়ে। আমার বাবা মরহুম সোনাহর আলী কাচাঁ মিয়া ছিলেন একজন সৎ, প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। অল্প সময়েই তার নাম ডাক সুনাম বিশ্বনাথসহ সিলেটের ব্যপক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এক সময় তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের একজন জনপ্রিয় ইউপি সদস্য হয়ে ওঠেন। তিনি পালেরচক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। যে কারণে তাকে অনেকে কাচাঁ মেম্বার নামে বেশি স্মরণ করে থাকেন।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে উনার বলিষ্ঠ ভূমিকা সবসময় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখনো তার সহযোদ্ধারা তাকে নিয়ে গল্প করে, একজন সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। আমার কাছে আমার বাবা পুরো পৃথিবীর সেরা বাবা। কোনো দিবসে নয়, যতদিন বেঁচে আছি বাবাকে নিয়ে আমার প্রতিটিক্ষণ মধুময় হয়ে থাকবে। ‘বাবা আমি তোমাকে ভালোবাসি’- এই কথাটি কোনোদিন বলা হয়নি। বাবা সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আর মিস করি প্রতিনিয়ত। 

আমি একজন সৎ সাহসী ও বিপ্লবী মানুষের সন্তান, যার পরিচয় দিতে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। আমার বয়স যখন সাত বছর তখন বাবাকে হারালাম  বড় হয়ে যখন সমাজে চলাফেরা করি মাথার ওপর বাবার ছায়া কী জিনিস হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারি। বাবা হারানো স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি। বাবা সবসময় আমাদের নিয়ে গর্ব করতেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন