দক্ষিণ আফ্রিকায় ৭ লাখ টাকার জন্য বাংলাদেশি খুন
jugantor
দক্ষিণ আফ্রিকায় ৭ লাখ টাকার জন্য বাংলাদেশি খুন

  শওকত বিন আশরাফ, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে  

৩০ জুলাই ২০২১, ০০:২৯:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক আরেকজন বাংলাদেশি নাগরিকের হাতে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৭ লাখ টাকা দেশে পাঠাতে গিয়ে এ খুনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

১৯ জুলাই প্রিটোরিয়া শহরের নর্থ প্রিটোরিয়ায় শ্বাসরোধ করে হাফেজ রাফিউল ইসলামকে হত্যা করে রাস্তার ধারে লাশ রেখে ছবি তুলে করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে রাফিউলের ব্যবসায়িক পার্টনার অপর বাংলাদেশি নাগরিক মুহাম্মদ শরিফ। হাফেজ রাফিউল ইসলাম মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চাঁড়িগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপরদিকে রাফিউল ইসলাম খুনের দায়ে অভিযুক্ত মুহাম্মদ শরিফ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গুর্তিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রাফিউল ইসলাম খুনের ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাফিউলের দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী পিতা বাদল মিয়া রাফিউলের বন্ধুবান্ধব ও প্রিটোরিয়ায় বসবাসকারী অসংখ্য বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত হয়ে নয়, রাফিউল ইসলামকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।

রাফিউলের প্রবাসী পিতা জানিয়েছেন, দেশটির নর্থওয়েস্ট প্রদেশের ব্রেস্ট এলাকার মাবুলুকা লোকেশনে শরিফের সঙ্গে জাবুলা শপের পার্টনার ছিল হাফেজ রাফিউল। রাফিউলের ছোটভাই ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, তার বড়ভাই রাফিউল গত বছর মায়ের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে শরিফের সঙ্গে দোকানের পার্টনার হয়। সেই থেকে শরিফের সঙ্গে রাফিউলের পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

রাফিউলের পিতা বাদল মিয়া জানিয়েছেন, জুন মাসের ২৪ তারিখ রাফিউল ইসলাম বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ৭ লাখ টাকা সমপরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার রেন্ড শরিফের কাছে দেয়। শরিফ টাকাগুলো সাইন সাপ্লাই চেইন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির বিজনেস অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো জমা নেয়। ওই অ্যাকাউন্টটি ছিল একজন লোকাল ইন্ডিয়ান নাগরিকের। ক্যারন নামের এই ইন্ডিয়ান নাগরিক শরিফের অনলাইন বিজনেস পার্টনার। টাকা দেওয়ার এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও শরিফ বাংলাদেশে রাফিউলের বাড়িতে টাকা পরিশোধ না করায় রাফিউল শরিফ দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে শরিফ তার ইন্ডিয়ান পার্টনার ক্যারনের সহযোগিতায় গত ১৯ জুলাই শ্বাসরোধ করে রাফিউলকে খুন করে লাশ রাস্তার ধারে বসিয়ে রাখে। পরে শরিফ নিজেই রাফিউলের করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে প্রচার করে।

এদিকে ২৫ তারিখ রাফিউলের লাশ দেশে পৌঁছলে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাফিউলের পরিবার তাদের ছেলে হত্যার বিচার চেয়েছে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৭ লাখ টাকার জন্য বাংলাদেশি খুন

 শওকত বিন আশরাফ, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে 
৩০ জুলাই ২০২১, ১২:২৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক আরেকজন বাংলাদেশি নাগরিকের হাতে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৭ লাখ টাকা দেশে পাঠাতে গিয়ে এ খুনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

১৯ জুলাই প্রিটোরিয়া শহরের নর্থ প্রিটোরিয়ায় শ্বাসরোধ করে হাফেজ রাফিউল ইসলামকে হত্যা করে রাস্তার ধারে লাশ রেখে ছবি তুলে করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে রাফিউলের ব্যবসায়িক পার্টনার অপর বাংলাদেশি নাগরিক মুহাম্মদ শরিফ। হাফেজ রাফিউল ইসলাম মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চাঁড়িগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপরদিকে রাফিউল ইসলাম খুনের দায়ে অভিযুক্ত মুহাম্মদ শরিফ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গুর্তিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রাফিউল ইসলাম খুনের ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাফিউলের দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী পিতা বাদল মিয়া রাফিউলের বন্ধুবান্ধব ও প্রিটোরিয়ায় বসবাসকারী অসংখ্য বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত হয়ে নয়, রাফিউল ইসলামকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।

রাফিউলের প্রবাসী পিতা জানিয়েছেন, দেশটির নর্থওয়েস্ট প্রদেশের ব্রেস্ট এলাকার মাবুলুকা লোকেশনে শরিফের সঙ্গে জাবুলা শপের পার্টনার ছিল হাফেজ রাফিউল। রাফিউলের ছোটভাই ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, তার বড়ভাই রাফিউল গত বছর মায়ের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে শরিফের সঙ্গে দোকানের পার্টনার হয়। সেই থেকে শরিফের সঙ্গে রাফিউলের পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

রাফিউলের পিতা বাদল মিয়া জানিয়েছেন, জুন মাসের ২৪ তারিখ রাফিউল ইসলাম বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ৭ লাখ টাকা সমপরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার রেন্ড শরিফের কাছে দেয়। শরিফ টাকাগুলো সাইন সাপ্লাই চেইন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির বিজনেস অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো জমা নেয়। ওই অ্যাকাউন্টটি ছিল একজন লোকাল ইন্ডিয়ান নাগরিকের। ক্যারন নামের এই ইন্ডিয়ান নাগরিক শরিফের অনলাইন বিজনেস পার্টনার। টাকা দেওয়ার এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও শরিফ বাংলাদেশে রাফিউলের বাড়িতে টাকা পরিশোধ না করায় রাফিউল শরিফ দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে শরিফ তার ইন্ডিয়ান পার্টনার ক্যারনের সহযোগিতায় গত ১৯ জুলাই শ্বাসরোধ করে রাফিউলকে খুন করে লাশ রাস্তার ধারে বসিয়ে রাখে। পরে শরিফ নিজেই রাফিউলের করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে প্রচার করে। 

এদিকে ২৫ তারিখ রাফিউলের লাশ দেশে পৌঁছলে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাফিউলের পরিবার তাদের ছেলে হত্যার বিচার চেয়েছে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন