স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পর্তুগালের তিন ধাপের পরিকল্পনা
jugantor
স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পর্তুগালের তিন ধাপের পরিকল্পনা

  ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:৫২:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পর্তুগালে আগস্ট থেকে তিনটি ধাপে করোনা মহামারির কারণে জারি করা বিধিনিষেধের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টোনিও কস্তা এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ৭০ শতাংশ এবং অক্টোবরের শেষে ৮৫ শতাংশ নাগরিক ভ্যাকসিনের আওতায় চলে আসবে। অতএব আমরা আস্তে আস্তে লকডাউন শিথিল করতে পারি।

তিন ধাপের প্রথমে ১ আগস্ট থেকে রাত ১১টার পর জনগণের চলাচলে বাধা নেই। সকল প্রকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে খোলা-বন্ধের সময়সূচি সংক্রান্ত আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পূর্বের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে খোলা-বন্ধ করতে পারবে। পানশালা-রেস্টুরেন্ট নিয়ম অনুযায়ী খুলতে পারবে। বাধ্যতামূলক টেলিওয়ার্ক শিথিল করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বা পাবলিক ইভেন্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

ভ্রমণ, হোটেল, মোটেলে বা পর্যটকদের আবাসস্থলে অবস্থানকালে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার বিকাল ৭টা থেকে) এবং সরকারি ছুটির দিনে রেস্টুরেন্টের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে, ব্যায়ামাগার, ক্যাসিনো এবং ব্যক্তিগত যেকোনো অনুষ্ঠানে ১০ জনের বেশি জমায়েত হলে ইইউ ডিজিটাল করোনা সার্টিফিকেট বা করোনা নেগেটিভ টেস্ট বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপে সেপ্টেম্বর থেকে পাবলিক প্লেসে এবং খোলা জায়গায় মাস্কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার লাঘব করা হয়েছে, পাবলিক সার্ভিস গুলোতে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সেবা গ্রহণ করা যাবে। রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফে অভ্যন্তরে একই গ্রুপের ৮ জন এবং বাইরে ১৫ জন বসতে পারবে, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার ৭৫ শতাংশ অতিথি গ্রহণ করতে পারবে।

তৃতীয় ধাপে আগামী অক্টোবর থেকে সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও বেকারি এবং সকল ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার সমপরিমাণ জনসমাগমের উপস্থিতি গ্রহণ করা যাবে। ডিস্কো খুলে দেওয়া হবে, তবে গ্রাহকদের ইইউ ডিজিটাল করোনা সার্টিফিকেট বা করোনা নেগেটিভ টেস্ট প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিটি ধাপে এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে এখানে উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হলো।

পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, এই পরিকল্পনার ফলে পর্যটকদের পর্তুগালে ভ্রমণে আকৃষ্ট করবে। কেননা এতদিন সবকিছু অনিয়ন্ত্রিতভাবে বন্ধ থাকায় পর্যটকরা কিছুটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে সরকারের এই সুন্দর পরিকল্পনা এবং অধিকাংশ জনগণ ভ্যাকসিনের আওতায় চলে আসার কারণে আমাদের মনে আশার সঞ্চার হচ্ছে। আমরা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরতে পারলেও কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

পর্যটন অধ্যুষিত ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম অচলাবস্থা এবং অর্থনীতির চাকা গতিশীল করার লক্ষ্যে উচ্চ সংক্রমণ হারের মাঝেও টিকা কার্যক্রমে আস্থা রেখেই পর্তুগিজ সরকারের এ সিদ্ধান্ত। তবে হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ এবং মৃত্যুহারের আধিক্যের কারণে এখন দেখার বিষয় সরকারের এ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কিনা।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পর্তুগালের তিন ধাপের পরিকল্পনা

 ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:৫২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পর্তুগালে আগস্ট থেকে তিনটি ধাপে করোনা মহামারির কারণে জারি করা বিধিনিষেধের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টোনিও কস্তা এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ৭০ শতাংশ এবং অক্টোবরের শেষে ৮৫ শতাংশ নাগরিক ভ্যাকসিনের আওতায় চলে আসবে। অতএব আমরা আস্তে আস্তে লকডাউন শিথিল করতে পারি।

তিন ধাপের প্রথমে ১ আগস্ট থেকে রাত ১১টার পর জনগণের চলাচলে বাধা নেই। সকল প্রকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে খোলা-বন্ধের সময়সূচি সংক্রান্ত আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পূর্বের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে খোলা-বন্ধ করতে পারবে। পানশালা-রেস্টুরেন্ট নিয়ম অনুযায়ী খুলতে পারবে। বাধ্যতামূলক টেলিওয়ার্ক শিথিল করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বা পাবলিক ইভেন্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

ভ্রমণ, হোটেল, মোটেলে বা পর্যটকদের আবাসস্থলে অবস্থানকালে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার বিকাল ৭টা থেকে) এবং সরকারি ছুটির দিনে রেস্টুরেন্টের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে, ব্যায়ামাগার, ক্যাসিনো এবং ব্যক্তিগত যেকোনো অনুষ্ঠানে ১০ জনের বেশি জমায়েত হলে ইইউ ডিজিটাল করোনা সার্টিফিকেট বা করোনা নেগেটিভ টেস্ট বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপে সেপ্টেম্বর থেকে পাবলিক প্লেসে এবং খোলা জায়গায় মাস্কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার লাঘব করা হয়েছে, পাবলিক সার্ভিস গুলোতে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সেবা গ্রহণ করা যাবে। রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফে অভ্যন্তরে একই গ্রুপের ৮ জন এবং বাইরে ১৫ জন বসতে পারবে, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার ৭৫ শতাংশ অতিথি গ্রহণ করতে পারবে।

তৃতীয় ধাপে আগামী অক্টোবর থেকে সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও বেকারি এবং সকল ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার সমপরিমাণ জনসমাগমের উপস্থিতি গ্রহণ করা যাবে। ডিস্কো খুলে দেওয়া হবে, তবে গ্রাহকদের ইইউ ডিজিটাল করোনা সার্টিফিকেট বা করোনা নেগেটিভ টেস্ট প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিটি ধাপে এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে এখানে উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হলো।

পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, এই পরিকল্পনার ফলে পর্যটকদের পর্তুগালে ভ্রমণে আকৃষ্ট করবে। কেননা এতদিন সবকিছু অনিয়ন্ত্রিতভাবে বন্ধ থাকায় পর্যটকরা কিছুটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে সরকারের এই সুন্দর পরিকল্পনা এবং অধিকাংশ জনগণ ভ্যাকসিনের আওতায় চলে আসার কারণে আমাদের মনে আশার সঞ্চার হচ্ছে। আমরা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরতে পারলেও কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

পর্যটন অধ্যুষিত ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম অচলাবস্থা এবং অর্থনীতির চাকা গতিশীল করার লক্ষ্যে উচ্চ সংক্রমণ হারের মাঝেও টিকা কার্যক্রমে আস্থা রেখেই পর্তুগিজ সরকারের এ সিদ্ধান্ত। তবে হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ এবং মৃত্যুহারের আধিক্যের কারণে এখন দেখার বিষয় সরকারের এ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কিনা।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন