নর্থ সাইপ্রাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে দালালদের প্রতারণা 
jugantor
নর্থ সাইপ্রাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে দালালদের প্রতারণা 

  মাহাফুজুল হক চৌধুরী, সাইপ্রাস থেকে  

১১ আগস্ট ২০২১, ০০:৫৮:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

পূর্ব ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র ‘সাইপ্রাস’ সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের আগে তেমন একটা ধারণা ছিল না। এখনো যে সবাই ভালোভাবে চেনে তাও নয়। মিডিয়ার বদৌলতে যারা সাইপ্রাসকে চেনে তারাও অনেক কিছুই সঠিক তথ্য জানে না।
সমগ্র ইউরোপে ‘সাইপ্রাস’ দেশটির বেশ সুপরিচিতি রয়েছে। ইউরোপের দশম বৃহত্তম দ্বীপ সাইপ্রাস। ইউরোপের সবচেয়ে বৃহত্তম দ্বীপ রয়েছে গ্রেট ব্রিটেনে; যার আয়তন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার। দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ ‘আইসল্যান্ড’; যার আয়তন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ রয়েছে আয়ারল্যান্ডে; যার আয়তন প্রায় ৮৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। তবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস; যার আয়তন প্রায় ৯২৫১ বর্গকিলোমিটার।

সাইপ্রাস দেশটি ব্রিটিশ উপনিবেশ দ্বারা ১৯১৪ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত শাসিত ছিল৷ ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ শাসনের পতন ঘটিয়ে প্রথম স্বাধীনতা লাভ করে সাইপ্রাস। সাইপ্রাস যখন ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে তখন সাইপ্রাসের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ লোক ছিল তুরস্ক থেকে আসা তুর্কিশ সিপ্রিয়ট। বাকি ৭০ শতাংশ জনসংখ্যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ছিল এখানকার স্থানীয় সিপ্রিয়ট এবং বাকিরা গ্রিস থেকে আসা গ্রিক সিপ্রিয়ট। যদিও তুর্কিশরা ছাড়া বাকিরা গ্রিক সিপ্রিয়ট বলেই পরিচিত। ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর এখানে চলে গ্রিস এবং তুরস্কের একক আধিপত্য। গ্রিক সাইপ্রাসে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া তুর্কিশরা এক সময় নিজেরাই সাইপ্রাসকে আলাদা রাষ্ট্র দাবি করে বসে। তারই প্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালে তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের যুদ্ধ লেগে সাইপ্রাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সাইপ্রাস থেকে একটি অংশ তুরস্ক কেড়ে নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করে। যদিও এ দেশটিকে এখনো কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি।

পৃথিবীর মানচিত্রেও এ দেশটির কোনো অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে সাইপ্রাসের বাকি অংশ ২০০৪ সালে গ্রিসের সহায়তায় ইউরোপ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। গ্রিক সিপ্রিয়টরা এখনো পুরো দেশকে সাইপ্রাস বলে দাবি করলেও তুর্কিশরা এটাকে তুর্কি সাইপ্রাস নামে জানে। এটা সাইপ্রাসের উত্তর অংশ হওয়ায় এটাকে নর্থ সাইপ্রাসও বলা হয়। নর্থ সাইপ্রাস এবং গ্রিক সাইপ্রাস একইসঙ্গে হলেও দুই দেশের সবকিছুই আলাদা। এক দেশের সঙ্গে অন্যদেশের কোনো কিছুরই মিল নেই। নর্থ সাইপ্রাসে যে কাজের বেতন ৪০০ ইউরো গ্রিক সাইপ্রাসে সেই কাজের বেতন ৮০০ ইউরো। তবে নর্থ সাইপ্রাসে কাজের যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এশিয়ানদের জন্য তা গ্রিক সাইপ্রাসে নেই।

গ্রিক সাইপ্রাসে কাজ পাওয়া অনেক কষ্ট, কিন্তু নর্থ সাইপ্রাসের ক্ষেত্রে সেটা অনেক সহজ। গ্রিক সাইপ্রাসে কাজের ভিসায় আসলেও এক-দুই বছরের বেশি লিগ্যাল থাকতে পারে না। সেটার অনেক কারণ আছে, কিন্তু নর্থ সাইপ্রাসে কাজের ভিসায় আসলে যতদিন ইচ্ছা লিগ্যালভাবে থাকা যায়।

গ্রিক সাইপ্রাসে এখন আগের মতো রিফিউজি ফাইল গ্রহণ করে না, করলেও স্বল্প কয়েক দিন থাকার অনুমতি দেয় এবং কন্ট্রাক্ট বিয়েও বন্ধ হয়ে যায়। আগে নর্থ সাইপ্রাস থেকে গ্রিক সাইপ্রাস পার হওয়ার পথে ধরা খেলে কিছুদিন ক্যাম্পে রেখে ছেড়ে দিত। কিন্তু বর্তমানে কেউ বর্ডার পার হওয়ার সময় ধরা খেলে ৬ মাস জেলে রেখে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়। একদিকে গ্রিক সাইপ্রাসে যেমন বেড়েছে আইনের কঠোরতা, তেমনি নর্থ সাইপ্রাসেও বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি সরকারের নজরবন্দিতে৷ নর্থ সাইপ্রাসে বর্তমানে প্রায় ৬-৮ হাজার বাংলাদেশি রয়েছে। তার ভেতর অধিকাংশ লোকই দালালির সঙ্গে জড়িত।

২০১৭ সালের পর নর্থ সাইপ্রাসে ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক ধস নামে। যেখানে তুর্কিশ ১ লিরার মান বাংলাদেশের ৩০ টাকার ওপরে ছিল সেটা এখন দশ টাকায় পরিণত হয়। কিন্তু সে হারে বাড়েনি মানুষের বেতন, বেড়েছে আরো সেখানকার খরচ৷ ২ হাজার লিরায় যেখানে আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যেত সেখানে এখন ২০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। যার ফলে যারা আগে কাজ করত তারাও কাজ ছেড়ে দিয়ে দালালি পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের সহজ সরল মানুষ যারা নর্থ সাইপ্রাস সম্পর্কে কোনোকিছুই জানে না, তাদের ইউরোপ বলে এবং লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে এখানে এনে সর্বশান্ত করছে। বর্তমানে নর্থ সাইপ্রাসে কোনোভাবেই বাংলাদেশি ২০-৩০ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব নয়। দালালরা লাখ টাকা আয়ের গল্প গুজব দিলেও এসব মিথ্যা। অথচ একেকটা ভিসার দাম নিচ্ছে তারা ৬-৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এখানে আসতে লাগে ৩ লাখ টাকার মতো।

কয়েকজন দালালের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে দেড় লাখ টাকায় এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট করা যেত, সেটা এখন আড়াই লাখে পৌঁছেছে। কিন্তু এ টাকা তুলতে নর্থ সাইপ্রাসে ৩-৪ বছর চলে যাবে। অনেকেই তার ভেতরেই দেশে চলে যায়। এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশ হতে আসা প্রবাসীদের অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানে এসে। দালালরা তাদের এখানে এনে বিপদে ফেলে ছেড়ে দেয়। ৫০ হাজার ১ লাখ টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলে এখানে আসার পর দেখে সব ভুয়া। কোনো কাজই তারা দেয় না।

উল্টো নানারকম ব্ল্যাকমেইল করে, পাসপোর্ট আটকিয়ে রাখে, অতিরিক্ত টাকা দাবি করে।

ইতোমধ্যে নর্থ সাইপ্রাস সরকার সবকিছু কঠোর নজরদারিতে রেখেছে। যদি নর্থ সাইপ্রাসের ভিসা আর চালু না হয় একদিকে বেকার হয়ে যাবে সেখানকার দালালরা, অন্যদিকে নিঃস্ব হওয়া থেকে বেঁচে যাবে হাজার হাজার বাংলাদেশি। সাধারণত কোনো দেশের ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়া মোটেও সুখবর নয়, কিন্তু নর্থ সাইপ্রাসের ক্ষেত্রে এটা সুখবর হওয়ার পেছনে একমাত্র দালালদের প্রতারণা প্ররোচনাই দায়ী।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

নর্থ সাইপ্রাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে দালালদের প্রতারণা 

 মাহাফুজুল হক চৌধুরী, সাইপ্রাস থেকে 
১১ আগস্ট ২০২১, ১২:৫৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পূর্ব ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র ‘সাইপ্রাস’ সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের আগে তেমন একটা ধারণা ছিল না। এখনো যে সবাই ভালোভাবে চেনে তাও নয়। মিডিয়ার বদৌলতে যারা সাইপ্রাসকে চেনে তারাও অনেক কিছুই সঠিক তথ্য জানে না। 
সমগ্র ইউরোপে ‘সাইপ্রাস’ দেশটির বেশ সুপরিচিতি রয়েছে। ইউরোপের দশম বৃহত্তম দ্বীপ সাইপ্রাস। ইউরোপের সবচেয়ে বৃহত্তম দ্বীপ রয়েছে গ্রেট ব্রিটেনে; যার আয়তন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার। দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ ‘আইসল্যান্ড’; যার আয়তন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ রয়েছে আয়ারল্যান্ডে; যার আয়তন প্রায় ৮৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। তবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস; যার আয়তন প্রায় ৯২৫১ বর্গকিলোমিটার। 

সাইপ্রাস দেশটি ব্রিটিশ উপনিবেশ দ্বারা ১৯১৪ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত শাসিত ছিল৷ ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ শাসনের পতন ঘটিয়ে প্রথম স্বাধীনতা লাভ করে সাইপ্রাস। সাইপ্রাস যখন ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে তখন সাইপ্রাসের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ লোক ছিল তুরস্ক থেকে আসা তুর্কিশ সিপ্রিয়ট। বাকি ৭০ শতাংশ জনসংখ্যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ছিল এখানকার স্থানীয় সিপ্রিয়ট এবং বাকিরা গ্রিস থেকে আসা গ্রিক সিপ্রিয়ট। যদিও তুর্কিশরা ছাড়া বাকিরা গ্রিক সিপ্রিয়ট বলেই পরিচিত। ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর এখানে চলে গ্রিস এবং তুরস্কের একক আধিপত্য। গ্রিক সাইপ্রাসে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া তুর্কিশরা এক সময় নিজেরাই সাইপ্রাসকে আলাদা রাষ্ট্র দাবি করে বসে। তারই প্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালে তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের যুদ্ধ লেগে সাইপ্রাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সাইপ্রাস থেকে একটি অংশ তুরস্ক কেড়ে নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করে। যদিও এ দেশটিকে এখনো কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। 

পৃথিবীর মানচিত্রেও এ দেশটির কোনো অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে সাইপ্রাসের বাকি অংশ ২০০৪ সালে গ্রিসের সহায়তায় ইউরোপ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। গ্রিক সিপ্রিয়টরা এখনো পুরো দেশকে সাইপ্রাস বলে দাবি করলেও তুর্কিশরা এটাকে তুর্কি সাইপ্রাস নামে জানে। এটা সাইপ্রাসের উত্তর অংশ হওয়ায় এটাকে নর্থ সাইপ্রাসও বলা হয়। নর্থ সাইপ্রাস এবং গ্রিক সাইপ্রাস একইসঙ্গে হলেও দুই দেশের সবকিছুই আলাদা। এক দেশের সঙ্গে অন্যদেশের কোনো কিছুরই মিল নেই। নর্থ সাইপ্রাসে যে কাজের বেতন ৪০০ ইউরো গ্রিক সাইপ্রাসে সেই কাজের বেতন ৮০০ ইউরো। তবে নর্থ সাইপ্রাসে কাজের যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এশিয়ানদের জন্য তা গ্রিক সাইপ্রাসে নেই।

গ্রিক সাইপ্রাসে কাজ পাওয়া অনেক কষ্ট, কিন্তু নর্থ সাইপ্রাসের ক্ষেত্রে সেটা অনেক সহজ। গ্রিক সাইপ্রাসে কাজের ভিসায় আসলেও এক-দুই বছরের বেশি লিগ্যাল থাকতে পারে না। সেটার অনেক কারণ আছে, কিন্তু নর্থ সাইপ্রাসে কাজের ভিসায় আসলে যতদিন ইচ্ছা লিগ্যালভাবে থাকা যায়।

গ্রিক সাইপ্রাসে এখন আগের মতো রিফিউজি ফাইল গ্রহণ করে না, করলেও স্বল্প কয়েক দিন থাকার অনুমতি দেয় এবং কন্ট্রাক্ট বিয়েও বন্ধ হয়ে যায়। আগে নর্থ সাইপ্রাস থেকে গ্রিক সাইপ্রাস পার হওয়ার পথে ধরা খেলে কিছুদিন ক্যাম্পে রেখে ছেড়ে দিত। কিন্তু বর্তমানে কেউ বর্ডার পার হওয়ার সময় ধরা খেলে ৬ মাস জেলে রেখে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়। একদিকে গ্রিক সাইপ্রাসে যেমন বেড়েছে আইনের কঠোরতা, তেমনি নর্থ সাইপ্রাসেও বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি সরকারের নজরবন্দিতে৷ নর্থ সাইপ্রাসে বর্তমানে প্রায় ৬-৮ হাজার বাংলাদেশি রয়েছে। তার ভেতর অধিকাংশ লোকই দালালির সঙ্গে জড়িত।

২০১৭ সালের পর নর্থ সাইপ্রাসে ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক ধস নামে। যেখানে তুর্কিশ ১ লিরার মান বাংলাদেশের ৩০ টাকার ওপরে ছিল সেটা এখন দশ টাকায় পরিণত হয়। কিন্তু সে হারে বাড়েনি মানুষের বেতন, বেড়েছে আরো সেখানকার খরচ৷ ২ হাজার লিরায় যেখানে আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যেত সেখানে এখন ২০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। যার ফলে যারা আগে কাজ করত তারাও কাজ ছেড়ে দিয়ে দালালি পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের সহজ সরল মানুষ যারা নর্থ সাইপ্রাস সম্পর্কে কোনোকিছুই জানে না, তাদের ইউরোপ বলে এবং লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে এখানে এনে সর্বশান্ত করছে। বর্তমানে নর্থ সাইপ্রাসে কোনোভাবেই বাংলাদেশি ২০-৩০ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব নয়। দালালরা লাখ টাকা আয়ের গল্প গুজব দিলেও এসব মিথ্যা। অথচ একেকটা ভিসার দাম নিচ্ছে তারা ৬-৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু  এখানে আসতে লাগে ৩ লাখ টাকার মতো। 

কয়েকজন দালালের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে দেড় লাখ টাকায় এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট করা যেত, সেটা এখন আড়াই লাখে পৌঁছেছে। কিন্তু এ টাকা তুলতে নর্থ সাইপ্রাসে ৩-৪ বছর চলে যাবে। অনেকেই তার ভেতরেই দেশে চলে যায়। এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশ হতে আসা প্রবাসীদের অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানে এসে। দালালরা তাদের এখানে এনে বিপদে ফেলে ছেড়ে দেয়। ৫০ হাজার ১ লাখ টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলে এখানে আসার পর দেখে সব ভুয়া। কোনো কাজই তারা দেয় না।

উল্টো নানারকম ব্ল্যাকমেইল করে, পাসপোর্ট আটকিয়ে রাখে, অতিরিক্ত টাকা দাবি করে।

ইতোমধ্যে নর্থ সাইপ্রাস সরকার সবকিছু কঠোর নজরদারিতে রেখেছে। যদি নর্থ সাইপ্রাসের ভিসা আর চালু না হয় একদিকে বেকার হয়ে যাবে সেখানকার দালালরা, অন্যদিকে নিঃস্ব হওয়া থেকে বেঁচে যাবে হাজার হাজার বাংলাদেশি। সাধারণত কোনো দেশের ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়া মোটেও সুখবর নয়, কিন্তু নর্থ সাইপ্রাসের ক্ষেত্রে এটা সুখবর হওয়ার পেছনে একমাত্র দালালদের প্রতারণা প্ররোচনাই দায়ী।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন