কানাডায় ‘নাইন ইলেভেনের শিক্ষা’ নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা
jugantor
কানাডায় ‘নাইন ইলেভেনের শিক্ষা’ নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা

  রাজীব আহসান, কানাডা থেকে  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৪:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

কানাডার ক্যালগেরিতে আলবার্টার প্রথম বাংলা অনলাইন পোর্টাল ‘প্রবাস বাংলা ভয়েস’র আয়োজনে প্রধান সম্পাদক আহসান রাজীব বুলবুলের সঞ্চালনায় "নাইন ইলেভেনের শিক্ষা: উগ্রবাদ দমনে বিশ্ব সম্প্রদায় কতটা সফল?" বিষয়ক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় প্রধান অতিথি ও মূল বক্তা ছিলেন প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান।

আলোচনায় অংশ নেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী প্রকৌশলী আবদুল্লা রফিক এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্ত হন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট, শিল্পী ও যুক্তরাষ্ট্রের উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জীবন বিশ্বাস।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ৯/১১ এর বিশ বছর অতিক্রান্ত হলেও সন্ত্রাস এখনো বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সন্ত্রাসীরা এখনো তৎপর। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বক্তারা সারা বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বানজানান।

প্রবাসী সাংবাদিক এবং নতুনদেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে সেদিনের মতো সমন্বিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা পরবর্তীতে আর দেখা যায়নি। ৯/১১ এর জের ধরে বদলে গেছে বিশ্ব আর বৈশ্বিক রাজনীতি। বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিভাজন শুরু হয়ে ৯/১১’র মাধ্যমে। তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, নাইন ইলেভেন ছিল প্রগতি আর মানবতার বিরুদ্ধে উগ্রপন্থার চরম আস্ফালন। এর সাথে জড়িত ছিল এক ধরনের চরমপন্থার ভ্রান্ত বিশ্বাস। এই বিশ্বাস আর চরমপন্থাকে মোকাবেলায় গত বিশ বছরে বিশ্ব মোড়লেরা কাড়ি কাড়ি ডলার খরচ করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে চরম পন্থাকে মোকাবেলার যে কৌশল প্রয়োগ করেছে, মানবিক সমাজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে এর ফলাফল নিতান্তই সামান্য।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। মানবিক বিপর্যয়। ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করার জঘন্যতম ঘটনা যা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি ওই দিন যে সমস্ত পরিবার তাদের আপনজনদের হারিয়েছেন তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী প্রকৌশলী আবদুল্লা রফিক বলেন, ৯/১১-এর পর বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলা থেমে থেমে হুঙ্কার দিয়ে উঠেছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের দমন করার জন্য বিশ্ব এখন একত্রিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও এখন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ‘জিরো’ টলারেন্স দেখাচ্ছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে ৯/১১ এর মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা আর দেখা যাবে না।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট, শিল্পী, ও যুক্তরাষ্ট্রের উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জীবন বিশ্বাস বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। ওদের নির্মূলে সোচ্চার হতে হবে। আর তার জন্য সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে নতুন প্রজন্মকে একটি নতুন পৃথিবী উপহার দেয়ার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। আমরা আর কোনো ৯/১১ দেখতে চাই না।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

কানাডায় ‘নাইন ইলেভেনের শিক্ষা’ নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা

 রাজীব আহসান, কানাডা থেকে 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কানাডার ক্যালগেরিতে আলবার্টার প্রথম বাংলা অনলাইন পোর্টাল ‘প্রবাস বাংলা ভয়েস’র আয়োজনে প্রধান সম্পাদক আহসান রাজীব বুলবুলের সঞ্চালনায় "নাইন ইলেভেনের শিক্ষা: উগ্রবাদ দমনে বিশ্ব সম্প্রদায় কতটা সফল?" বিষয়ক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় প্রধান অতিথি ও মূল বক্তা ছিলেন প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান।

আলোচনায় অংশ নেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী প্রকৌশলী আবদুল্লা রফিক এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্ত হন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট, শিল্পী  ও যুক্তরাষ্ট্রের উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জীবন বিশ্বাস।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ৯/১১ এর বিশ বছর অতিক্রান্ত হলেও সন্ত্রাস এখনো বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সন্ত্রাসীরা এখনো তৎপর। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বক্তারা সারা বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রবাসী সাংবাদিক এবং নতুনদেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে সেদিনের মতো সমন্বিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা পরবর্তীতে আর দেখা যায়নি। ৯/১১ এর জের ধরে বদলে গেছে বিশ্ব আর বৈশ্বিক রাজনীতি। বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিভাজন শুরু হয়ে ৯/১১’র মাধ্যমে। তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, নাইন ইলেভেন ছিল প্রগতি আর মানবতার বিরুদ্ধে উগ্রপন্থার চরম আস্ফালন। এর সাথে জড়িত ছিল এক ধরনের চরমপন্থার ভ্রান্ত বিশ্বাস। এই বিশ্বাস আর চরমপন্থাকে মোকাবেলায় গত বিশ বছরে বিশ্ব মোড়লেরা কাড়ি কাড়ি ডলার খরচ করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে চরম পন্থাকে মোকাবেলার যে কৌশল প্রয়োগ করেছে, মানবিক সমাজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে এর ফলাফল নিতান্তই সামান্য।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। মানবিক বিপর্যয়। ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করার জঘন্যতম ঘটনা যা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি ওই দিন যে সমস্ত পরিবার তাদের আপনজনদের হারিয়েছেন তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী প্রকৌশলী আবদুল্লা রফিক বলেন, ৯/১১-এর পর বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলা থেমে থেমে হুঙ্কার দিয়ে উঠেছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের দমন করার জন্য বিশ্ব এখন একত্রিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও এখন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ‘জিরো’ টলারেন্স দেখাচ্ছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে ৯/১১ এর মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা আর দেখা যাবে না।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট, শিল্পী, ও যুক্তরাষ্ট্রের উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জীবন বিশ্বাস বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। ওদের নির্মূলে সোচ্চার হতে হবে। আর তার জন্য সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে নতুন প্রজন্মকে একটি নতুন পৃথিবী উপহার দেয়ার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। আমরা আর কোনো ৯/১১ দেখতে চাই না।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন