করোনাকালে অবদান রাখায় ফ্রান্সে বিদেশি কর্মীদের নাগরিকত্ব!
jugantor
করোনাকালে অবদান রাখায় ফ্রান্সে বিদেশি কর্মীদের নাগরিকত্ব!

  সৈয়দ মুন্তাছির রিমন, ফ্রান্স থেকে  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৫:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ফ্রান্সের নাগরিকত্ব প্রদান

বিশ্বে প্রতিটি দেশের একাংশ জনগণ অভিবাসী প্রত্যাশা করে। তাদের কেউ রাজনৈতিক, সামাজিক, যুদ্ধবিবাদ, অর্থনৈতিকও কাজের মাধ্যমে দেশান্তরিত হয়। কিন্ত সব সমস্যার জন্য প্রতিটি রাষ্ট্র জেনেভা কনভেনশনের আওতায় বিভিন্ন মেয়াদে আশ্রয় প্রদান করেন। তবে কোন দেশ তার রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান করে না। তাই এই নাগরিকত্ব পেতে হলে অনেকটা সময় ব্যয় ও সেদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভাষার জ্ঞান থাকতে হয়। তারপর একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

ফ্রান্সে যারা নাগরিকত্বহীন বসবাস করছেন তাদের অনেকের স্বপ্ন হলো ফরাসি নাগরিক বা জাতীয়তা পাওয়া। ফ্রান্সে নাগরিকত্ব পাওয়ার অনেক কারণের মাঝে তিনটি নীতিবাক্য রয়েছে। ফরাসিতে তা হলো "লিবের্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নিতে"। বাংলা যার অর্থ- স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ব।
কিন্ত করোনাকালে বিশেষ অবদান রাখার কারণে ফরাসি সরকার বিদেশীকর্মীদের নাগরিকত্ব প্রদান করেছেন। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব বিষয়ক প্রতিনিধি মার্লিন শিয়াপ্পা জানিয়েছেন ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে সামনের লাইনে ১২ হাজারেও বেশি বিদেশীকর্মীদের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে তিনি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে কোভিড-১৯ সংকটের সময় বিদেশি কর্মীদের জন্য যারা প্রথমসারিতে কাজ করেছেন তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত ও সহজ করা হবে। বিদেশি শ্রমিক যারা করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালীন কাজ করেছেন "প্রথম সারিতে" ও "জাতির প্রতি তাদের সংযুক্তি দেখিয়েছেন" সেই সব বিদেশি নাগরিকদের ন্যাচুরালাইজেশন করা হবে বলে জানান।
সূত্র জানায় এই আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সজুড়ে ১৬৩৮১টি ফাইল প্রিফেকচারে জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে ১২০১২ বিদেশি ফরাসি নাগরিকত্ব পেয়েছেন; যা ফ্রান্সের মানবতা নামক রাজধানীর খেতাবটি আরো সমৃদ্ধ হলো।
এছাড়া নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনগুলো দেখার ক্ষেত্রে বসবাসের সময়কাল দুই বছরের কমানো হয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আইনে ৫ বছর বসবাস করার নিয়ম দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সময় ৫ বছর হ্রাস করে ২ বছর সময়ে ফরাসি জাতীয়তা বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আরও জানা যায়, যেসব কর্মীর জাতীয়তা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন- স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা, শিশুদের দেখাশোনাকারী, ক্যাশিয়ার, হোমহেল্পার, আবর্জনা সংগ্রহকারী।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

করোনাকালে অবদান রাখায় ফ্রান্সে বিদেশি কর্মীদের নাগরিকত্ব!

 সৈয়দ মুন্তাছির রিমন, ফ্রান্স থেকে 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফ্রান্সের নাগরিকত্ব প্রদান
করোনাকালে বিশেষ অবদান রাখার কারণে ফরাসি সরকার বিদেশীকর্মীদের নাগরিকত্ব প্রদান করেছে

বিশ্বে প্রতিটি দেশের একাংশ জনগণ অভিবাসী প্রত্যাশা করে। তাদের কেউ রাজনৈতিক, সামাজিক, যুদ্ধবিবাদ, অর্থনৈতিক ও কাজের মাধ্যমে দেশান্তরিত হয়। কিন্ত সব সমস্যার জন্য প্রতিটি রাষ্ট্র জেনেভা কনভেনশনের আওতায় বিভিন্ন মেয়াদে আশ্রয় প্রদান করেন। তবে কোন দেশ তার রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান করে না। তাই এই নাগরিকত্ব পেতে হলে অনেকটা সময় ব্যয় ও সেদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভাষার জ্ঞান থাকতে হয়। তারপর একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

ফ্রান্সে যারা নাগরিকত্বহীন বসবাস করছেন তাদের অনেকের স্বপ্ন হলো ফরাসি নাগরিক বা জাতীয়তা পাওয়া। ফ্রান্সে নাগরিকত্ব পাওয়ার অনেক কারণের মাঝে তিনটি নীতিবাক্য রয়েছে। ফরাসিতে তা হলো "লিবের্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নিতে"। বাংলা যার অর্থ- স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ব।
কিন্ত করোনাকালে বিশেষ অবদান রাখার কারণে ফরাসি সরকার বিদেশীকর্মীদের নাগরিকত্ব প্রদান করেছেন। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব বিষয়ক প্রতিনিধি মার্লিন শিয়াপ্পা জানিয়েছেন ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে সামনের লাইনে ১২ হাজারেও বেশি বিদেশীকর্মীদের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে তিনি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে কোভিড-১৯ সংকটের সময় বিদেশি কর্মীদের জন্য যারা প্রথমসারিতে কাজ করেছেন তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত ও সহজ করা হবে। বিদেশি শ্রমিক যারা করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালীন কাজ করেছেন "প্রথম সারিতে" ও "জাতির প্রতি তাদের সংযুক্তি দেখিয়েছেন" সেই সব বিদেশি নাগরিকদের ন্যাচুরালাইজেশন করা হবে বলে জানান। 
সূত্র জানায় এই আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সজুড়ে ১৬৩৮১টি ফাইল প্রিফেকচারে জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে ১২০১২ বিদেশি ফরাসি নাগরিকত্ব পেয়েছেন; যা ফ্রান্সের মানবতা নামক রাজধানীর খেতাবটি আরো সমৃদ্ধ হলো। 
এছাড়া নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনগুলো দেখার ক্ষেত্রে বসবাসের সময়কাল দুই বছরের কমানো হয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আইনে ৫ বছর বসবাস করার নিয়ম দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সময় ৫ বছর হ্রাস করে ২ বছর সময়ে ফরাসি জাতীয়তা বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আরও জানা যায়, যেসব কর্মীর জাতীয়তা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন- স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা, শিশুদের দেখাশোনাকারী, ক্যাশিয়ার, হোমহেল্পার, আবর্জনা সংগ্রহকারী। 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন