পর্তুগালে ভোট প্রদানে অনাগ্রহ অভিবাসীদের
jugantor
পর্তুগালে ভোট প্রদানে অনাগ্রহ অভিবাসীদের

  ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৭:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৭ সালের মোট অভিবাসীদের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৭১১ জন যা বেড়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৫ জনে। কিন্তু অভিবাসী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার তালিকা আপডেট হয়নি।

পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রণালয় এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০১৭ বিদেশি ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৮২৫ জন, যা চার বছর পর বেড়েছে মাত্র ৬১ জন। বর্তমান ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮৮৬ জনে। দেশের মোট ভোটার ৯৩ লাখ ৬ হাজার ১২০ জন হিসেবে বিদেশি ভোটার মোট ভোটারের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

পর্তুগালে সংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী পর্তুগালের বসবাসকারী পর্তুগিজ ভাষাভাষীর কিছু দেশের এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকরা নিবন্ধনের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার অধিকার লাভ করেন। তবে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিকদের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাবার পরেই ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারেন।

পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসীরা সাধারণত এ দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পর্তুগাল ছেড়ে এবং বিশ্বের উন্নত দেশে পাড়ি জমান। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পর্তুগিজ নাগরিক কাজী আনিস মাহমুদ জানান, মূলত আর্থিক নিরাপত্তার কারণে পর্তুগাল ছেড়ে যাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাছাড়া পিতা-মাতার পর্তুগিজ ভাষায় অনভিজ্ঞতা এবং সন্তানকে ইংরেজি বা অধিকতর উচ্চশিক্ষার সুযোগের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সাথে সাথে পর্তুগাল ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন তারা।

পর্তুগালে ২৬ সেপ্টেম্বরের মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচনে দুজন প্রবাসী বাংলাদেশি রানা তাসলিম উদ্দিন ও শাহ আলম কাজল যথাক্রমে লিসবন এবং পোর্তো মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দল সোস্যালিস্ট পার্টির পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিদেশি ভোটার সম্পর্কে শাহ আলম কাজল এবং রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশি ভোটারের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এর অন্যতম প্রধান কারণ অধিকাংশ বাংলাদেশিরা নাগরিকত্ব পেয়ে পর্তুগাল ছেড়েছেন।

উভয় প্রার্থী জানান, যেহেতু আমরা সোস্যালিস্ট পার্টির পক্ষে নির্বাচন করছি, সে ক্ষেত্রে স্থানীয় নাগরিকদের ভোটে আমরা নির্বাচিত হব। তবে এ পর্যন্ত যে সকল বাংলাদেশিরা বিগত দশকে পর্তুগালে এসেছেন তারা যদি পর্তুগাল না ছেড়ে যেতেন তাহলে হয়তো চিত্রটা ভিন্ন রকম হতো এবং আমরা আরো বেশি শক্তিশালী হতাম। এমনকি জাতীয় নির্বাচনে আমাদের পথ সুগম হতো।

তারা আশা প্রকাশ করেন ভবিষ্যতে হয়তো বা নতুন প্রজন্ম পর্তুগালে অবস্থান করবে এবং নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

পর্তুগালে ভোট প্রদানে অনাগ্রহ অভিবাসীদের

 ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৭ সালের মোট অভিবাসীদের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৭১১ জন যা বেড়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৫ জনে। কিন্তু অভিবাসী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার তালিকা আপডেট হয়নি।

পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রণালয় এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০১৭ বিদেশি ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৮২৫ জন, যা চার বছর পর বেড়েছে মাত্র ৬১ জন। বর্তমান ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮৮৬ জনে। দেশের মোট ভোটার ৯৩ লাখ ৬ হাজার ১২০ জন হিসেবে বিদেশি ভোটার মোট ভোটারের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

পর্তুগালে সংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী পর্তুগালের বসবাসকারী পর্তুগিজ ভাষাভাষীর কিছু দেশের এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকরা নিবন্ধনের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার অধিকার লাভ করেন। তবে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিকদের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাবার পরেই ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারেন।

পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসীরা সাধারণত এ দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পর্তুগাল ছেড়ে এবং বিশ্বের উন্নত দেশে পাড়ি জমান। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পর্তুগিজ নাগরিক কাজী আনিস মাহমুদ জানান, মূলত আর্থিক নিরাপত্তার কারণে পর্তুগাল ছেড়ে যাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাছাড়া পিতা-মাতার পর্তুগিজ ভাষায় অনভিজ্ঞতা এবং সন্তানকে ইংরেজি বা অধিকতর উচ্চশিক্ষার সুযোগের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সাথে সাথে পর্তুগাল ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন তারা।

পর্তুগালে ২৬ সেপ্টেম্বরের মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচনে দুজন প্রবাসী বাংলাদেশি রানা তাসলিম উদ্দিন ও শাহ আলম কাজল যথাক্রমে লিসবন এবং পোর্তো মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দল সোস্যালিস্ট পার্টির পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিদেশি ভোটার সম্পর্কে শাহ আলম কাজল এবং রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশি ভোটারের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এর অন্যতম প্রধান কারণ অধিকাংশ বাংলাদেশিরা নাগরিকত্ব পেয়ে পর্তুগাল ছেড়েছেন।

উভয় প্রার্থী জানান, যেহেতু আমরা সোস্যালিস্ট পার্টির পক্ষে নির্বাচন করছি, সে ক্ষেত্রে স্থানীয় নাগরিকদের ভোটে আমরা নির্বাচিত হব। তবে এ পর্যন্ত যে সকল বাংলাদেশিরা বিগত দশকে পর্তুগালে এসেছেন তারা যদি পর্তুগাল না ছেড়ে যেতেন তাহলে হয়তো চিত্রটা ভিন্ন রকম হতো এবং আমরা আরো বেশি শক্তিশালী হতাম। এমনকি জাতীয় নির্বাচনে আমাদের পথ সুগম হতো।

তারা আশা প্রকাশ করেন ভবিষ্যতে হয়তো বা নতুন প্রজন্ম পর্তুগালে অবস্থান করবে এবং নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন