প্রয়োজনে আমিরাত সরকারের সহযোগিতা নিন
jugantor
প্রয়োজনে আমিরাত সরকারের সহযোগিতা নিন

  আব্দুল্লাহ আল শাহীন, ইউএই থেকে  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৩:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে শ্রমিক সংগঠনগুলো খুবই ঐক্যবদ্ধ। বিশেষ করে শ্রমিক ইউনিয়ন বেশি ঐক্যবদ্ধ। মাঝে-মধ্যে দেখা যায়, দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো অঘটন ঘটলে সব শ্রমিক এক হয়ে কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি আদায়ে বেশ সোচ্চার। শ্রম অধিকার আদায়ে সারাবিশ্বে অনেক ইতিহাস রয়েছে। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকারের ফলপ্রসূ ১ মে বা শ্রমিক দিবস।

একজন সাধারণ প্রবাসী হিসেবে শ্রম ও শ্রমের মর্যাদা পাশাপাশি শ্রমের ফলাফল নিয়ে বেশ সচেতন। শ্রম নিজের মন ও শরীরের সমন্বয়ে ঘটে, শ্রমের মর্যাদা মনুষ্যত্ব থেকে আসে, ফলাফল পুরো জাতি ভোগ করে। তবে প্রবাসীদের সমস্যায় তেমন কাউকেই কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে আটকা পড়া ৫০ হাজার প্রবাসীর সঙ্গে আমরাও দুঃখ অনুভব করছি।

১৩ মে থেকে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কয়েক হাজার বাংলাদেশি। গত ৩০ আগস্ট ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিলেও আমিরাত শর্ত দিয়েছে ফ্লাইটের ৬ ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে র্যা পিড পিসিআর টেস্ট করে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসতে হবে। এতেই দেখা দিয়েছে সমস্যা। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান মাত্র এক সপ্তাহে আমিরাতের চাওয়া পূরণ করে প্রবাসীদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে এক মাস পূর্বে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো ল্যাব স্থাপন সম্ভব হয়নি।

প্রবাসীরা ইতোমধ্যে মানববন্ধন, অনশন, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেও বিমানবন্দরে র্যা পিড পিসিআর ল্যাব স্থাপন করাতে পারেনি।

দেশে আটকা পড়া ৫০ হাজার প্রবাসীর সঙ্গে তাদের পারিবারের ভাগ্য সম্পৃক্ত। প্রবাসীরা মাস দুয়েক দেশে থাকার পর কী পরিমাণ অর্থাভাব দেখা দেয় একজন ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না। আরব আমিরাত থেকে কোম্পানিগুলো কর্মীদের ফেরত আসার জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছে। অনেকের আবার ভিসার মেয়াদও চলে গেছে।

ফ্লাইট চালু না হলে চাকরি হারানোর ভয়ের পাশাপাশি দেশের এহেন কার্যকলাপে প্রবাসীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সামান্য এক ল্যাব (একটি রাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই সামান্য) বসাতে এতো দিন লাগবে কেন? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকেও অসম্মান করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ল্যাব ইস্যুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পাচ্ছে; যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। গণমাধ্যমে প্রতিদিন সংবাদ হচ্ছে, প্রবাসীদের কান্নার ছবি শিরোনাম হচ্ছে তবুও কেন সুরাহ হচ্ছে না?

এখনো সময় আছে বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব না হলে আমিরাত সরকারের সহযোগিতা গ্রহণ করা যায়। শ্রীলঙ্কা বা ভারত সফর করেও জটিলতা দূর করা সম্ভব হতে পারে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

প্রয়োজনে আমিরাত সরকারের সহযোগিতা নিন

 আব্দুল্লাহ আল শাহীন, ইউএই থেকে 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে শ্রমিক সংগঠনগুলো খুবই ঐক্যবদ্ধ। বিশেষ করে শ্রমিক ইউনিয়ন বেশি ঐক্যবদ্ধ। মাঝে-মধ্যে দেখা যায়, দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো অঘটন ঘটলে সব শ্রমিক এক হয়ে কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি আদায়ে বেশ সোচ্চার। শ্রম অধিকার আদায়ে সারাবিশ্বে অনেক ইতিহাস রয়েছে। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকারের ফলপ্রসূ ১ মে বা শ্রমিক দিবস।

একজন সাধারণ প্রবাসী হিসেবে শ্রম ও শ্রমের মর্যাদা পাশাপাশি শ্রমের ফলাফল নিয়ে বেশ সচেতন। শ্রম নিজের মন ও শরীরের সমন্বয়ে ঘটে, শ্রমের মর্যাদা মনুষ্যত্ব থেকে আসে, ফলাফল পুরো জাতি ভোগ করে। তবে প্রবাসীদের সমস্যায় তেমন কাউকেই কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে আটকা পড়া ৫০ হাজার প্রবাসীর সঙ্গে আমরাও দুঃখ অনুভব করছি। 

১৩ মে থেকে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কয়েক হাজার বাংলাদেশি। গত ৩০ আগস্ট ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিলেও আমিরাত শর্ত দিয়েছে ফ্লাইটের ৬ ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে র্যা পিড পিসিআর টেস্ট করে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসতে হবে। এতেই দেখা দিয়েছে সমস্যা। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান মাত্র এক সপ্তাহে আমিরাতের চাওয়া পূরণ করে প্রবাসীদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে এক মাস পূর্বে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো ল্যাব স্থাপন সম্ভব হয়নি।

প্রবাসীরা ইতোমধ্যে মানববন্ধন, অনশন, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেও বিমানবন্দরে র্যা পিড পিসিআর ল্যাব স্থাপন করাতে পারেনি। 

দেশে আটকা পড়া ৫০ হাজার প্রবাসীর সঙ্গে তাদের পারিবারের ভাগ্য সম্পৃক্ত। প্রবাসীরা মাস দুয়েক দেশে থাকার পর কী পরিমাণ অর্থাভাব দেখা দেয় একজন ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না। আরব আমিরাত থেকে কোম্পানিগুলো কর্মীদের ফেরত আসার জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছে। অনেকের আবার ভিসার মেয়াদও চলে গেছে।

ফ্লাইট চালু না হলে চাকরি হারানোর ভয়ের পাশাপাশি দেশের এহেন কার্যকলাপে প্রবাসীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সামান্য এক ল্যাব (একটি রাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই সামান্য) বসাতে এতো দিন লাগবে কেন? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকেও অসম্মান করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ল্যাব ইস্যুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পাচ্ছে; যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। গণমাধ্যমে প্রতিদিন সংবাদ হচ্ছে, প্রবাসীদের কান্নার ছবি শিরোনাম হচ্ছে তবুও কেন সুরাহ হচ্ছে না?

এখনো সময় আছে বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব না হলে আমিরাত সরকারের সহযোগিতা গ্রহণ করা যায়। শ্রীলঙ্কা বা ভারত সফর করেও জটিলতা দূর করা সম্ভব হতে পারে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন