প্রবাসীদের লাশ বেওয়ারিশ হয়ে মাসের পর মাস পড়ে থাকে কেন? 
jugantor
প্রবাসীদের লাশ বেওয়ারিশ হয়ে মাসের পর মাস পড়ে থাকে কেন? 

  মো. কবীর হোসেন, জার্মানি থেকে  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৫১:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রায়ই খবর শুনতে পাওয়া যায়- অমুক দেশে তমুক বাংলাদেশির লাশ বেওয়ারিশ হয়ে পড়ে আছে! বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমজীবীদের জন্য এটা একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ প্রবাসে বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধারা মারা গেলে তাদের মৃতদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে এবং ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি অনেক বছরের৷ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরকারি ব্যবস্থাপনা ও খরচে লাশ দেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে দাবি জানিয়ে আসলেও সেটা আমলে নেয়নি বিগত ও বর্তমান বাংলাদেশ সরকার৷

জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য এমনকি ইউরোপেরও নানান দেশে অবৈধভাবে প্রচুর বাংলাদেশি যান৷ এদের অনেকেই ‘ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের' সদস্য নন৷ তবে তাদের অধিকাংশই কিন্তু রেমিটেন্স যোদ্ধা৷ অথচ বিদেশ বিভুঁইয়ে তাদের কারও কারও নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যু হলে, অনেক সময়ই অযত্নে বেওয়ারিশ হিসেবে কিংবা ‘অজ্ঞাতনামা' হিসেবে ভিনদেশের মাটিতেই কবর দেওয়া হয়৷

প্রবাসীরা মারা গেলে লাশ দেশে পাঠানোর জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেরাই চাঁদা বা তহবিল তুলে প্রবাসে মৃত প্রবাসীর লাশ দেশে তার সামর্থ্যহীন পরিবারের কাছে ফেরত পাঠান৷ অথচ আমাদের দূতাবাসগুলো খবরও রাখে না।

প্রবাসীরা বর্তমানে বছরে প্রায় ২০-২৫ বিলিয়ন ডলার পাঠাচ্ছেন৷ তার বিপরীতে কোনো প্রবাসী কর্মী বিদেশে মারা গেলে দেশে লাশ পরিবহণ ও দাফনের জন্য তার পরিবার কিছু অর্থ পায়৷ এছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদও কিছু পরিমাণ টাকা দেয়া হয়৷ সেই টাকা সরকারের নয়৷ প্রত্যেক কর্মীকে বিদেশে যেতে হলে প্রবাসী কল্যাণ তহবিলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখতে হয়৷ সেই টাকা থেকেই যারা মারা যান, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়৷ অর্থাৎ প্রবাসী কর্মীদের জমানো টাকাই কর্মীদের দেয়া হয়৷

যেসব রেমিটেন্স যোদ্ধা ‘ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের' সদস্য নন তাদের ‘ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের' সদস্য করার জন্য অনলাইনে ও সব দূতাবাসের মাধ্যমে জরুরিভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; যাতে করে কোনো প্রবাসী কর্মী মারা গেলে তার পরিবার যেন আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে পারেন।

প্রবাসীদের ‘কমন' অভিযোগ হলো যে, তারা যখন বিদেশে কোনো বিপদে পড়েন, আইনগত ঝামেলায় পড়েন বা কোনো কারণে আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তারা আমাদের দূতাবাসগুলোর কোনো সহায়তা পান না৷ দূতাবাসগুলো তাদের পাশে না থাকায় ওই সব দেশের কর্তৃপক্ষও তাদের সম্মান বা মর্যাদা দেয় না৷

রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে আহ্বান থাকবে প্রবাসী কর্মীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করুন। দেখবেন প্রবাসী কর্মীরা রাষ্ট্রের ১ নম্বর আয়ের উৎস হিসেবে জাতিকে উপহার দেবে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

প্রবাসীদের লাশ বেওয়ারিশ হয়ে মাসের পর মাস পড়ে থাকে কেন? 

 মো. কবীর হোসেন, জার্মানি থেকে 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রায়ই খবর শুনতে পাওয়া যায়- অমুক দেশে তমুক বাংলাদেশির লাশ বেওয়ারিশ হয়ে পড়ে আছে! বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমজীবীদের জন্য এটা একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ প্রবাসে বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধারা মারা গেলে তাদের মৃতদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে এবং ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি অনেক বছরের৷ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরকারি ব্যবস্থাপনা ও খরচে লাশ দেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে দাবি জানিয়ে আসলেও সেটা আমলে নেয়নি বিগত ও বর্তমান বাংলাদেশ সরকার৷
 
জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য এমনকি ইউরোপেরও নানান দেশে অবৈধভাবে প্রচুর বাংলাদেশি যান৷ এদের অনেকেই ‘ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের' সদস্য নন৷ তবে তাদের অধিকাংশই কিন্তু রেমিটেন্স যোদ্ধা৷ অথচ বিদেশ বিভুঁইয়ে তাদের কারও কারও নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যু হলে, অনেক সময়ই অযত্নে বেওয়ারিশ হিসেবে কিংবা ‘অজ্ঞাতনামা' হিসেবে ভিনদেশের মাটিতেই কবর দেওয়া হয়৷

প্রবাসীরা মারা গেলে লাশ দেশে পাঠানোর জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেরাই চাঁদা বা তহবিল তুলে প্রবাসে মৃত প্রবাসীর লাশ দেশে তার সামর্থ্যহীন পরিবারের কাছে ফেরত পাঠান৷ অথচ আমাদের দূতাবাসগুলো খবরও রাখে না।

প্রবাসীরা বর্তমানে বছরে প্রায় ২০-২৫ বিলিয়ন ডলার পাঠাচ্ছেন৷ তার বিপরীতে কোনো প্রবাসী কর্মী বিদেশে মারা গেলে দেশে লাশ পরিবহণ ও দাফনের জন্য তার পরিবার কিছু অর্থ পায়৷ এছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদও কিছু পরিমাণ টাকা দেয়া হয়৷ সেই টাকা সরকারের নয়৷ প্রত্যেক কর্মীকে বিদেশে যেতে হলে প্রবাসী কল্যাণ তহবিলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখতে হয়৷ সেই টাকা থেকেই যারা মারা যান, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়৷ অর্থাৎ প্রবাসী কর্মীদের জমানো টাকাই কর্মীদের দেয়া হয়৷

যেসব রেমিটেন্স যোদ্ধা ‘ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের' সদস্য নন তাদের ‘ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের' সদস্য করার জন্য অনলাইনে ও সব দূতাবাসের মাধ্যমে জরুরিভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; যাতে করে কোনো প্রবাসী কর্মী মারা গেলে তার পরিবার যেন আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে পারেন।

প্রবাসীদের ‘কমন' অভিযোগ হলো যে, তারা যখন বিদেশে কোনো বিপদে পড়েন, আইনগত ঝামেলায় পড়েন বা কোনো কারণে আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তারা আমাদের দূতাবাসগুলোর কোনো সহায়তা পান না৷ দূতাবাসগুলো তাদের পাশে না থাকায় ওই সব দেশের কর্তৃপক্ষও তাদের সম্মান বা মর্যাদা দেয় না৷ 

রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে আহ্বান থাকবে প্রবাসী কর্মীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করুন। দেখবেন প্রবাসী কর্মীরা রাষ্ট্রের ১ নম্বর আয়ের উৎস হিসেবে জাতিকে উপহার দেবে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন