কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের সঙ্গে টরন্টোয় লেখক-আড্ডা 
jugantor
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের সঙ্গে টরন্টোয় লেখক-আড্ডা 

  রাজীব আহসান, কানাডা থেকে  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩২:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে উদ্বিগ্ন নন, বরং প্রচণ্ড আশাবাদী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের সিংহভাগই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা এবং পরিকল্পনা নিয়েই বড় হচ্ছে। দেশের মানুষও একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তরে ভালো কিছুর স্বপ্ন নিয়েই সামনে এগিয়ে যায়।

কানাডার স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় টরন্টোয় পাঠক, ভক্ত, শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে এক লেখক আড্ডায় তিনি এ কথা বলেন। কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় টরন্টো ফিল্ম ফোরামের মাল্টিকালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই লেখক-আড্ডায় কবি আসাদ চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সভাপতি এনায়েত করীম বাবুল এতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

আনিসুল হক তার বক্তব্যে নিজের লেখক হয়ে ওঠার কাহিনী বর্ণনার পাশাপাশি নিজের সম্প্রতি সমাপ্ত উপন্যাস, সমসাময়িক কবি লেখকদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে নিজের ভাবনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

নতুন প্রজন্ম সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে লেখক আনিসুল হক বলেন, তরুণদের বড় একটি অংশই বই এবং অন্যান্য টেক্সট পড়েন। বিভিন্ন ফোরামে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করেন; যাতে তাদের পড়াশোনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকতা এবং মিডিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, মিডিয়ার কাজ হচ্ছে সরকারকে পাহারা দিয়ে রাখা। গনতন্ত্রের স্বার্থেই মিডিয়াকে এটি করতে হয়। কার্যকর গণতন্ত্রে সবসময়ই মিডিয়া এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ ভূমিকা রাখে। এতে সরকারই উপকৃত হয়।

কবি আসাদ চৌধুরী তার বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের মেধা এবং প্রতিভার প্রশংসা করে বলেন, লেখক হিসেবে আনিসুল হক জনপ্রিয় কিন্তু তার সবচেয়ে বড়গুণ তার বিনয়। অকপটে অন্য লেখকের প্রশংসা করা এবং অগ্রজদের সম্মান করার ক্ষেত্রে তিনি অকৃপণ।

আনিসুল হকের ‘রক্তে আঁকা ভোর’ উপন্যাসকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে অসাধারণ কাজ হিসেবে অভিহিত করে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, ইতিহাসকে আশ্রয় করে উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে আনিসুল হক ইতিহাসের প্রতি সত্যনিষ্ঠ থেকেছেন।

নতুনদেশের প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় দাপটের সাথে বিচরণের মাধ্যমে আনিসুল হক নিজেকে স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ভাবধারায় নাগরিকদের মানস গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের সঙ্গে টরন্টোয় লেখক-আড্ডা 

 রাজীব আহসান, কানাডা থেকে 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে উদ্বিগ্ন নন, বরং প্রচণ্ড আশাবাদী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের সিংহভাগই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা এবং পরিকল্পনা নিয়েই বড় হচ্ছে। দেশের মানুষও একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তরে ভালো কিছুর স্বপ্ন নিয়েই সামনে এগিয়ে যায়।

কানাডার স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় টরন্টোয় পাঠক, ভক্ত, শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে এক লেখক আড্ডায় তিনি এ কথা বলেন। কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় টরন্টো ফিল্ম ফোরামের মাল্টিকালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই লেখক-আড্ডায় কবি আসাদ চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সভাপতি এনায়েত করীম বাবুল এতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। 

আনিসুল হক তার বক্তব্যে নিজের লেখক হয়ে ওঠার কাহিনী বর্ণনার পাশাপাশি নিজের সম্প্রতি সমাপ্ত উপন্যাস,  সমসাময়িক কবি লেখকদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে নিজের ভাবনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। 

নতুন প্রজন্ম সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে লেখক আনিসুল হক বলেন, তরুণদের বড় একটি অংশই বই এবং অন্যান্য টেক্সট পড়েন। বিভিন্ন ফোরামে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করেন; যাতে তাদের পড়াশোনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকতা এবং মিডিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে  আনিসুল হক বলেন, মিডিয়ার কাজ হচ্ছে সরকারকে পাহারা দিয়ে রাখা। গনতন্ত্রের স্বার্থেই মিডিয়াকে এটি করতে হয়। কার্যকর গণতন্ত্রে সবসময়ই মিডিয়া এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ ভূমিকা রাখে। এতে সরকারই উপকৃত হয়। 

কবি আসাদ চৌধুরী তার বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের মেধা এবং প্রতিভার প্রশংসা করে বলেন, লেখক হিসেবে আনিসুল হক জনপ্রিয় কিন্তু তার সবচেয়ে বড়গুণ তার বিনয়। অকপটে অন্য লেখকের প্রশংসা করা এবং অগ্রজদের সম্মান করার ক্ষেত্রে তিনি অকৃপণ। 

আনিসুল হকের ‘রক্তে আঁকা ভোর’ উপন্যাসকে  মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে অসাধারণ কাজ হিসেবে অভিহিত করে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন,  ইতিহাসকে আশ্রয় করে উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে আনিসুল হক ইতিহাসের প্রতি সত্যনিষ্ঠ থেকেছেন।  

নতুনদেশের প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় দাপটের সাথে বিচরণের মাধ্যমে আনিসুল হক নিজেকে স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ভাবধারায় নাগরিকদের মানস গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন