ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর
jugantor
ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর

  ড. মো. মঞ্জুরে মওলা মঞ্জুর, ফিনল্যান্ড থেকে  

২৮ আগস্ট ২০২১, ২০:০৬:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

১৯৭৪ সাল। তৎকালীন সমাজের বেশকিছু নমস্য ব্যক্তিবর্গ নিজেদের কায়েমি স্বার্থ হাসিল করার জন্য একটি নাটক মঞ্চস্থ করেছিল। বাসন্তী রানীর জাল পরিহিত ছবি, যা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। উন্নয়নের ভারসাম্য না থাকায় ৪৫ বছর পরেও শুনতে হয় কুড়িগ্রামের চিলমারির জেলে পাড়ার সেই বাসন্তী রানীকে আশ্রয় নিতে হয়েছে পেশায় ভিক্ষুক তার এক ভাইয়ের বাড়িতে!

অসম উন্নয়নের প্রতীক, বর্তমান বাসন্তী রানীর অবস্থা। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যেতে পারে বহুবিধ কারণের অন্যতম, ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর। ফুলবানু কারা, কী এদের পরিচয় এবং এদের ফুসুর-ফাসুর কি ফ্যাশন না ফ্যাসাদের আলামত? প্রিয় পাঠক, এই প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখে আজকের নিবন্ধ।

১৯৭৫ সাল। প্রথম শ্রেণীর ছাত্র, পাঠ্যবইয়ের বাইরে খুব মনে ধরেছিল বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের অনবদ্য সৃষ্টি ‘ভোলানাথ’। পরীক্ষার খাতায় ভোলানাথ লিখেছিল তিন এবং চার এর গুণফল বারো এর জায়গায় নব্বই। মাস্টার মহাশয়ের কাছে গনিতে শূন্য নম্বর পেয়ে ভোলানাথ বলেছিল, তিন এবং চার এর গুণফল বারো এর জায়গায় নব্বই লিখলে দোষের কি বরং আমি তো ঢের বেশি লিখেছি। এটাই ছিল ভোলানাথের গর্ব।

আসুন একটু দেখে নেওয়া যাক কোন ধরনের চরিত্রের অধিকারী, ভোলানাথরা। এরা বিশ্ববন্দিত প্রতারক শ্রেণীভুক্ত। অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম আ্যবাগনেল জুনিয়র চরিত্রের আদলে স্টিফেন স্পিলবার্গের বায়োপিক ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ ছবির গল্পের মতো। এছাড়া রাজানুকম্পা পেতে সদাগ্রহী, রাজাজ্ঞা পালনে পটু এবং বেশভূষায় নিখুঁত এই ভোলানাথ শ্রেণী ফুলবানুদের ছদ্মবেশে ভরে গেছে বাংলার রাজপ্রাসাদ। শ্রুতি আছে, পল্লবগ্রাহী ও রাজনীতিজ্ঞ এই ফুলবানুরাই নাকি রাজার অলিখিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, উন্নয়নতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের রাজ্যনীতি লিখতে সদা হন্তদন্ত।

এ কারণে বাক-চাতুরী, বাকসর্বস্ব, বাক্যবাণ এই ফুলবানুদের বুদ্ধির জালে শান্তিপ্রিয় রাজা অনেকটাই আজ শান্ত নয় শ্রান্ত। হয়ত এহেন অবস্থায় রাজা তার ক্লান্ততা দূর করার জন্য মনে মনে গাইতে শুরু করেছেন নজরুল ইসলাম পরিচালিত ১৯৭০ সালের বাংলাদেশি রোম্যান্টিক চলচ্চিত্র ‘স্বরলিপি’-এর একটি জনপ্রিয় গান, ‘তোমাদের ঐ রাজ প্রাসাদে তোমরা থাক, থাক থাক, যাব আমি যাব এবার যাব...’।

না। শান্তিপ্রিয় রাজাকে বাংলার রাজাসনেই থাকতে হবে এবং শান্তিরক্ষক রাজা হিসেবে বন্ধ করত হবে, ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর। কারণ ফুলবানুরাই বড় বড় কথা বলে সমাজে বাগ্মী সেজে বাকরোধ করতে চলেছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের, হর্ম্য কিংবা বর্মের আদলে জনগণের দৈনন্দিন চাহিদার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য তৈরি করতে চলেছে নুতাতন্তু। করোনাকালীন সময়ে তাই হুমায়ুন আহমেদের লেখা উপন্যাস ‘দেয়াল’ এর ৯৭ পৃষ্ঠার প্রতিচ্ছবি মিলছে গ্রামে-গঞ্জে কিংবা মফস্বল শহরে। এ কারণেই বাসন্তী রানীদের আজো আশ্রয় নিতে হচ্ছে পেশায় ভিক্ষুক-ভাইদের বাড়িতে। এহেন অবস্থা চলতে থাকলে অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটতে পারে, কয়েকটি বিপ্লব। উদাহরণ হিসেবে ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব কিংবা ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব-এর কথা, শান্তিপ্রিয় রাজার মনে রাখা জরুরি বললে ভুল হবে না।

প্রসঙ্গক্রমে, ব্রিটিশদের ফুসুর-ফাসুর বুঝতে না পারায়, প্রায় তিন’শ বছরের মোঘল সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল ১৮৫৭ সালে। ১৯২৪ সালে প্রায় সাত’শ বছরের বিশাল উসমানীয় (অটোম্যান) সাম্রাজ্যের-পত্তন নয় পতন হয়েছিল যার অন্যতম কারণ ছিল, উসমানীয়-রাজ্যের শাসকদের জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর ফুসুর-ফাসুর বুঝতে না পারার সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় সাম্রাজ্যের যুদ্ধমন্ত্রী ইসমাইল এনভারের নির্দেশে যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যবিন্যাসে অদূরদর্শিতা।

প্রিয় পাঠক, বাংলার রাজাকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার অসমবিন্যাশের প্রতীক বাসন্তী রানীদের বর্তমান অবস্থা, ফুলবানুদের চরিত্র, বিভিন্ন বিপ্লবের কথা, মোঘল কিংবা উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের কথা মনে রাখার পাশাপাশি এও মনে রাখা প্রয়োজন, কেন ফুলবানুরা রাজার অলিখিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, উন্নয়নতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের রাজ্যনীতি লিখতে সদা হন্তদন্ত? লেখার কলেবর বাড়ানোর জন্য নয়, এখানে একটি ছোট্ট উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে এভাবে, ফ্রেন্স ভাষায় ইসলামকে সামনে রেখে ২০২২ সালের কাল্পনিক উপন্যাস সুমিশন (বাংলা অর্থ-সমর্পণ) লিখেছেন, ফ্রান্সের বিখ্যাত জীবিত লেখক মিশেলহুয়েলবেক। পণ্ডিত সমালোচকদের ধারনা, মিশেল হুয়েলবেক সাহিত্যের ছদ্মবেশে ইসলামবিরোধী ভীতি ছড়ানোর জন্য বইটি লিখেছেন। কারণ হুয়েলবেক তাঁর সুমিশন বইটিতে লিখেছেন ‘ফ্রান্সে ইসলামী শাসন কায়েম হয়েছে... আর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হচ্ছে কোরআন। যদিও লা-ফিগারো-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিশেল হুয়েলবেক বলেছেন, ‘আলোকিত মানুষের শূন্যতার চেয়ে ইসলামও ভালো’।

উপরের উদাহরণ ফেরেজবাজ ফুলবানুদের জলসা ঘরে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করলেও করতে পারে। তবে বাংলার রাজাকে বাহ্যদৃষ্টি নয় বরং বাহ্যেন্দ্রিয়ের (পাঁচ ইন্দ্রিয়) মাধ্যমে উপরের উদাহরণ বুঝতে হবে, অনেকটা এভাবে- এক. কেন ফুলবানুরা রাজার অলিখিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, উন্নয়নতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের রাজ্যনীতি লিখতে সদা হন্তদন্ত? দুই. বাংলার বিকাশোন্মুখ জনগোষ্ঠীর জন্য পাঠশালা, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, কিংবা মহাবিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে ফুলবানুরা কি ধরনের তথ্য-উপাত্তের সংযোজন, পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের সমন্বয় সাধন করেছে? এই দু’টি প্রশ্নের উত্তরের ব্যবচ্ছেদ ঘটাতে পারলেই শান্তিপ্রিয় রাজার কর্নমহোদ্বয় বুঝতে পারবে, ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর। অন্যথায়, বাংলার রাজার কর্ণগহ্বরে কখনো পৌঁছাবে না ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর।

লেখক: ড. মো. মঞ্জুরে মওলা মঞ্জুর, শিক্ষক, সার্কুলার অর্থনীতি এক্সপার্ট ও সমাজবিজ্ঞানী, আলতো বিশ্ববিদ্যালয়, ফিনল্যান্ড থেকে, munjur.sa@gamil.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর

 ড. মো. মঞ্জুরে মওলা মঞ্জুর, ফিনল্যান্ড থেকে 
২৮ আগস্ট ২০২১, ০৮:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

১৯৭৪ সাল। তৎকালীন সমাজের বেশকিছু নমস্য ব্যক্তিবর্গ নিজেদের কায়েমি স্বার্থ হাসিল করার জন্য একটি নাটক মঞ্চস্থ করেছিল। বাসন্তী রানীর জাল পরিহিত ছবি, যা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। উন্নয়নের ভারসাম্য না থাকায় ৪৫ বছর পরেও শুনতে হয় কুড়িগ্রামের চিলমারির জেলে পাড়ার সেই বাসন্তী রানীকে আশ্রয় নিতে হয়েছে পেশায় ভিক্ষুক তার এক ভাইয়ের বাড়িতে!

অসম উন্নয়নের প্রতীক, বর্তমান বাসন্তী রানীর অবস্থা। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যেতে পারে বহুবিধ কারণের অন্যতম, ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর। ফুলবানু কারা, কী এদের পরিচয় এবং এদের ফুসুর-ফাসুর কি ফ্যাশন না ফ্যাসাদের আলামত? প্রিয় পাঠক, এই প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখে আজকের নিবন্ধ।  

১৯৭৫ সাল। প্রথম শ্রেণীর ছাত্র, পাঠ্যবইয়ের বাইরে খুব মনে ধরেছিল বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের অনবদ্য সৃষ্টি ‘ভোলানাথ’। পরীক্ষার খাতায় ভোলানাথ লিখেছিল তিন এবং চার এর গুণফল বারো এর জায়গায় নব্বই। মাস্টার মহাশয়ের কাছে গনিতে শূন্য নম্বর পেয়ে ভোলানাথ বলেছিল, তিন এবং চার এর গুণফল বারো এর জায়গায় নব্বই লিখলে দোষের কি বরং আমি তো ঢের বেশি লিখেছি। এটাই ছিল ভোলানাথের গর্ব।

আসুন একটু দেখে নেওয়া যাক কোন ধরনের চরিত্রের অধিকারী, ভোলানাথরা। এরা বিশ্ববন্দিত প্রতারক শ্রেণীভুক্ত। অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম আ্যবাগনেল জুনিয়র চরিত্রের আদলে স্টিফেন স্পিলবার্গের বায়োপিক ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ ছবির গল্পের মতো। এছাড়া রাজানুকম্পা পেতে সদাগ্রহী, রাজাজ্ঞা পালনে পটু এবং বেশভূষায় নিখুঁত এই ভোলানাথ শ্রেণী ফুলবানুদের ছদ্মবেশে ভরে গেছে বাংলার রাজপ্রাসাদ। শ্রুতি আছে, পল্লবগ্রাহী ও রাজনীতিজ্ঞ এই ফুলবানুরাই নাকি রাজার অলিখিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, উন্নয়নতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের রাজ্যনীতি লিখতে সদা হন্তদন্ত।

এ কারণে বাক-চাতুরী, বাকসর্বস্ব, বাক্যবাণ এই ফুলবানুদের বুদ্ধির জালে শান্তিপ্রিয় রাজা অনেকটাই আজ শান্ত নয় শ্রান্ত। হয়ত এহেন অবস্থায় রাজা তার ক্লান্ততা দূর করার জন্য মনে মনে গাইতে শুরু করেছেন নজরুল ইসলাম পরিচালিত ১৯৭০ সালের বাংলাদেশি রোম্যান্টিক চলচ্চিত্র ‘স্বরলিপি’-এর একটি জনপ্রিয় গান, ‘তোমাদের ঐ রাজ প্রাসাদে তোমরা থাক, থাক থাক, যাব আমি যাব এবার যাব...’।

না। শান্তিপ্রিয় রাজাকে বাংলার রাজাসনেই থাকতে হবে এবং শান্তিরক্ষক রাজা হিসেবে বন্ধ করত হবে, ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর। কারণ ফুলবানুরাই বড় বড় কথা বলে সমাজে বাগ্মী সেজে বাকরোধ করতে চলেছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের, হর্ম্য কিংবা বর্মের আদলে জনগণের দৈনন্দিন চাহিদার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য তৈরি করতে চলেছে নুতাতন্তু। করোনাকালীন সময়ে তাই হুমায়ুন আহমেদের লেখা উপন্যাস ‘দেয়াল’ এর ৯৭ পৃষ্ঠার প্রতিচ্ছবি মিলছে গ্রামে-গঞ্জে কিংবা মফস্বল শহরে। এ কারণেই বাসন্তী রানীদের আজো আশ্রয় নিতে হচ্ছে পেশায় ভিক্ষুক-ভাইদের বাড়িতে। এহেন অবস্থা চলতে থাকলে অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটতে পারে, কয়েকটি বিপ্লব। উদাহরণ হিসেবে ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব কিংবা ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব-এর কথা, শান্তিপ্রিয় রাজার মনে রাখা জরুরি বললে ভুল হবে না।

প্রসঙ্গক্রমে, ব্রিটিশদের ফুসুর-ফাসুর বুঝতে না পারায়, প্রায় তিন’শ বছরের মোঘল সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল ১৮৫৭ সালে। ১৯২৪ সালে প্রায় সাত’শ বছরের বিশাল উসমানীয় (অটোম্যান) সাম্রাজ্যের-পত্তন নয় পতন হয়েছিল যার অন্যতম কারণ ছিল, উসমানীয়-রাজ্যের শাসকদের জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর ফুসুর-ফাসুর বুঝতে না পারার সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় সাম্রাজ্যের যুদ্ধমন্ত্রী ইসমাইল এনভারের নির্দেশে যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যবিন্যাসে অদূরদর্শিতা।

প্রিয় পাঠক, বাংলার রাজাকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার অসমবিন্যাশের প্রতীক বাসন্তী রানীদের বর্তমান অবস্থা, ফুলবানুদের চরিত্র, বিভিন্ন বিপ্লবের কথা, মোঘল কিংবা উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের কথা মনে রাখার পাশাপাশি এও মনে রাখা প্রয়োজন, কেন ফুলবানুরা  রাজার অলিখিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, উন্নয়নতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের রাজ্যনীতি লিখতে সদা হন্তদন্ত? লেখার কলেবর বাড়ানোর জন্য নয়, এখানে একটি ছোট্ট উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে এভাবে, ফ্রেন্স ভাষায় ইসলামকে সামনে রেখে ২০২২ সালের কাল্পনিক উপন্যাস সুমিশন (বাংলা অর্থ-সমর্পণ) লিখেছেন, ফ্রান্সের বিখ্যাত জীবিত লেখক মিশেলহুয়েলবেক। পণ্ডিত সমালোচকদের ধারনা, মিশেল হুয়েলবেক সাহিত্যের ছদ্মবেশে ইসলামবিরোধী ভীতি ছড়ানোর জন্য বইটি লিখেছেন। কারণ হুয়েলবেক তাঁর সুমিশন বইটিতে লিখেছেন ‘ফ্রান্সে ইসলামী শাসন কায়েম হয়েছে... আর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হচ্ছে কোরআন। যদিও লা-ফিগারো-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিশেল হুয়েলবেক বলেছেন, ‘আলোকিত মানুষের শূন্যতার চেয়ে ইসলামও ভালো’।

উপরের উদাহরণ ফেরেজবাজ ফুলবানুদের জলসা ঘরে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করলেও করতে পারে। তবে বাংলার রাজাকে বাহ্যদৃষ্টি নয় বরং বাহ্যেন্দ্রিয়ের (পাঁচ ইন্দ্রিয়) মাধ্যমে উপরের উদাহরণ বুঝতে হবে, অনেকটা এভাবে- এক. কেন ফুলবানুরা রাজার অলিখিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, উন্নয়নতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের রাজ্যনীতি লিখতে সদা হন্তদন্ত? দুই. বাংলার বিকাশোন্মুখ জনগোষ্ঠীর জন্য পাঠশালা, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, কিংবা মহাবিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে ফুলবানুরা কি ধরনের তথ্য-উপাত্তের সংযোজন, পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের সমন্বয় সাধন করেছে? এই দু’টি প্রশ্নের উত্তরের ব্যবচ্ছেদ ঘটাতে পারলেই শান্তিপ্রিয় রাজার কর্নমহোদ্বয় বুঝতে পারবে, ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর। অন্যথায়, বাংলার রাজার কর্ণগহ্বরে কখনো পৌঁছাবে না ফুলবানুদের ফুসুর-ফাসুর।

লেখক: ড. মো. মঞ্জুরে মওলা মঞ্জুর, শিক্ষক, সার্কুলার অর্থনীতি এক্সপার্ট ও সমাজবিজ্ঞানী, আলতো বিশ্ববিদ্যালয়, ফিনল্যান্ড থেকে, munjur.sa@gamil.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর