লন্ডনে ফ্রিম্যানশিপ সম্মাননা পেলেন আহমেদ উস সামাদ জেপি
jugantor
লন্ডনে ফ্রিম্যানশিপ সম্মাননা পেলেন আহমেদ উস সামাদ জেপি

  মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, লন্ডন থেকে  

০৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:৩১:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রিটিশ বাঙালি আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি গ্রেট ব্রিটেনের সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লণ্ডন’ সম্মাননা পেয়েছেন।

সোমবার ৫ অক্টোবর লন্ডনের গিল্ডহলে এক অনুষ্ঠানে উচ্চ আন্তর্জাতিক মর্যাদা সম্পন্ন এ পুরস্কার আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপির হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ক্লার্ক টু দি চ্যাম্বারলেইন মুরে ক্রেইগের আহবানে ‘ডিক্লেরেশন অব দ্য ফ্রিম্যান’ পড়তে দেন আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীকে।

অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর হাতে সম্মাননাটি তুলে দেন ক্লার্ক টু দ্য চ্যাম্বারলেইন মুরে ক্রেইগ। ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা পাওয়ার পর আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন- আমার এই সম্মাননা কমিউনিটির মানুষকে কল্যাণমুলক কাজে উৎসাহিত করবে- এটাই আমার অ্যাচিভমেন্ট।

উল্লেখ্য, এ বিরল সম্মান তাদেরই দেয়া হয়, যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখে আসছেন যুগ যুগ ধরে। এ সম্মানজনক পুরস্কার ব্রিটেনের রাজ পরিবারের ১১ জন সদস্য পেয়েছেন।
তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- প্রিন্স জর্জ-ডিউক অব ক্যামব্রিজ, প্রিন্সেস ডায়না, প্রিন্স চার্লস-প্রিন্স অব ওয়েলস, প্রিন্স এ্যাডওয়ার্ড-আর্ল অব ওয়াসেক্স প্রমুখ।

উচ্চ মর্যাদার এ পুরস্কার ব্রিটেনের বর্তমান রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয় এবং তাঁর মা এলিজাবেথ প্রথম দুজনকেই দেওয়া হয়। তাছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল, মার্গারেট থেচারসহ ডিউক অব ওয়েলিংটন, নেলসন ম্যাণ্ডেলো, জওহর লাল নেহেরু, আর্চ বিশপ অব ক্যান্টারবেরি, জাতিসংঘের প্রাক্তন মহসচিব কফি আনান এ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশের সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের কৃতীসন্তান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি।
তিনি প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন বাংলাদেশে। আহমেদ উস সামাদ নিজ গ্রামের দুর্গাপুর প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ফেঞ্চুগঞ্জ ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি হাই স্কুলে ও পিপিএম হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি চলে আসেন যুক্তরাজ্যে। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী বাথ শহরের সিটি অফ বাথ কলেজ থেকে ও-লেভেল পাশ করার পর ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে প্রথম ভর্তি হন সাউথ ব্রিস্টল কলেজে এবং পরে এ বিষয়ে উচ্চ ডিগ্রি শেষ করেন সিটি অব বাথ কলেজে।

উচ্চশিক্ষা শেষ করেই আহমেদ চৌধুরী আত্মনিয়োগ করেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠায়। ১৯৯১ সাল থেকে ‘কমনওয়েলথ জাজেস এণ্ড ম্যাজিস্ট্রেট এসোসিয়েশন’ এর আজীবন সদস্য আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী একজন সমাজ-সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তিত্ব; যিনি নিজস্ব সংস্কৃতি, ক্রীড়া ইত্যাদির উন্নয়নে গ্রেট ব্রিটেন ও বাংলাদেশে অহনির্শী কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৯১ সালে সততা, নিষ্ঠা, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার নিরিখে আহমেদ চৌধুরী ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্য থেকে ‘জাস্টিস অফ পিস’ (জেপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়ে বাথ বেঞ্চের একজন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

লন্ডনে ফ্রিম্যানশিপ সম্মাননা পেলেন আহমেদ উস সামাদ জেপি

 মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, লন্ডন থেকে 
০৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রিটিশ বাঙালি আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি গ্রেট ব্রিটেনের সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লণ্ডন’ সম্মাননা পেয়েছেন।

সোমবার ৫ অক্টোবর লন্ডনের গিল্ডহলে এক অনুষ্ঠানে উচ্চ আন্তর্জাতিক মর্যাদা সম্পন্ন এ পুরস্কার আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপির হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ক্লার্ক টু দি চ্যাম্বারলেইন মুরে ক্রেইগের আহবানে ‘ডিক্লেরেশন অব দ্য ফ্রিম্যান’ পড়তে দেন আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীকে।
 
অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর হাতে সম্মাননাটি তুলে দেন ক্লার্ক টু দ্য চ্যাম্বারলেইন মুরে ক্রেইগ। ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা পাওয়ার পর আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন- আমার এই সম্মাননা কমিউনিটির মানুষকে কল্যাণমুলক কাজে উৎসাহিত করবে- এটাই আমার অ্যাচিভমেন্ট।

উল্লেখ্য, এ বিরল সম্মান তাদেরই দেয়া হয়, যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখে আসছেন যুগ যুগ ধরে। এ সম্মানজনক পুরস্কার ব্রিটেনের রাজ পরিবারের ১১ জন সদস্য পেয়েছেন। 
তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- প্রিন্স জর্জ-ডিউক অব ক্যামব্রিজ, প্রিন্সেস ডায়না, প্রিন্স চার্লস-প্রিন্স অব ওয়েলস, প্রিন্স এ্যাডওয়ার্ড-আর্ল অব ওয়াসেক্স প্রমুখ।
 
উচ্চ মর্যাদার এ পুরস্কার ব্রিটেনের বর্তমান রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয় এবং তাঁর মা এলিজাবেথ প্রথম দুজনকেই দেওয়া হয়। তাছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল, মার্গারেট থেচারসহ ডিউক অব ওয়েলিংটন, নেলসন ম্যাণ্ডেলো, জওহর লাল নেহেরু, আর্চ বিশপ অব ক্যান্টারবেরি, জাতিসংঘের প্রাক্তন মহসচিব কফি আনান এ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশের সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের কৃতীসন্তান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি।
তিনি প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন বাংলাদেশে। আহমেদ উস সামাদ নিজ গ্রামের দুর্গাপুর প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ফেঞ্চুগঞ্জ ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি হাই স্কুলে ও পিপিএম হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি চলে আসেন যুক্তরাজ্যে। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী বাথ শহরের সিটি অফ বাথ কলেজ থেকে ও-লেভেল পাশ করার পর ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে প্রথম ভর্তি হন সাউথ ব্রিস্টল কলেজে এবং পরে এ বিষয়ে উচ্চ ডিগ্রি শেষ করেন সিটি অব বাথ কলেজে।

উচ্চশিক্ষা শেষ করেই আহমেদ চৌধুরী আত্মনিয়োগ করেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠায়। ১৯৯১ সাল থেকে ‘কমনওয়েলথ জাজেস এণ্ড ম্যাজিস্ট্রেট এসোসিয়েশন’ এর আজীবন সদস্য আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী একজন সমাজ-সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তিত্ব; যিনি নিজস্ব সংস্কৃতি, ক্রীড়া ইত্যাদির উন্নয়নে গ্রেট ব্রিটেন ও বাংলাদেশে অহনির্শী কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৯১ সালে সততা, নিষ্ঠা, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার নিরিখে আহমেদ চৌধুরী ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্য থেকে ‘জাস্টিস অফ পিস’ (জেপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়ে বাথ বেঞ্চের একজন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন