ফ্রান্সের প্যারিস গেট নবযৌবনে বিকশিত বিজয়ী প্রতীক!
jugantor
ফ্রান্সের প্যারিস গেট নবযৌবনে বিকশিত বিজয়ী প্রতীক!

  সৈয়দ মুন্তাছির রিমন, ফ্রান্স থেকে  

১৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:৫৫:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্মভূমি ফ্রান্সের প্যারিস নগরী। যে নগরী ভ্রমণপিপাসুদের স্বপ্নের বাসস্থান। এ বাসস্থানের ইতিহাস আর ঐতিহ্য শত শত বছরজুড়ে মেধা ও জ্ঞান অন্বেষীদের আহার জুগিয়ে আসছে অনন্ত সময়। আর সময়ের তালে তালে ফরাসি মানবতা ও ভ্রাতৃত্ব সব জাতির কাছে সমাদৃত হয়ে উঠে।

প্যারিস নগরীর বিভিন্ন স্থাপত্যের ভিড়ে দৃষ্টি অবলোকন করলে ভেসে আসে শিল্পের প্রতিচ্ছবি। যে শিল্প আধুনিক, পরিকল্পিত, বৈজ্ঞানিক, স্বাধীনতা, সভ্যতা ও ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন বহন করে চলছে। এই প্যারিস শহরের পুরো নিদর্শনগুলো ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র সেন নদীর তীর ঘেঁষে বিকশিত হয়েছে। প্যারিস শুধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়। বরং দুই হাজারের বেশি বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও সমাদৃত।

কিন্তু আজ ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি স্থান হলো প্যারিস গেট। এই নামেই তাদের কাছে খ্যাত। এদিকে এই প্যারিস নগরীতে সবাই আইফেল টাওয়ার দেখতে আসে। কিন্তু আইফেল টাওয়ারের মোহমায়ায় ভ্রমণপিপাসুরা অনেকে স্মৃতিস্তম্ভ বা প্যারিস গেটকে ভুলে যায়। তবে আসলেই কী এর নাম প্যারিস গেট? ফরাসি জাতিরা এই গেটকে কী নামে সম্বোধন করে? প্যারিস শহরে এরকম অনেক স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা আছে। প্রতিটি স্থাপনাই আলাদা আলাদা ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্মৃতি ও নাম বহন করে।

ঠিক তেমনি এই প্যারিস গেট নামে বাংলাদেশিদের কাছে খ্যাত স্মৃতিসৌধের নাম হলও-আর্ক দ্য ত্রিয়োম্ফ (Arc de Triomphe)। এই নামে সবাই চিনলেও তার আরেকটি নাম আছে ফরাসি ভাষায় Arc de Triomphe de l'Etoile। যার অর্থ- বিজয়ী তারকা স্তম্ভ বা বিজয়ী তারকা স্মৃতিসৌধ কিংবা বিজয়ী খিলান। ফরাসি জাতির এই বিজয়ী তারকা স্মৃতিসৌধটি অভিজাত এলাকা ও বিখ্যাত শঁজেলিজে মহারাস্তার পশ্চিম প্রান্তে এবং প্লাস দ্য লেতোয়ালের কেন্দ্রে অবস্থিত। এই মিলন স্থলটি কালের ধারাবহিকতায় ২৬ রাস্তার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।

১৮০৫ সালে ফরাসি বিপ্লব ও নেপোলিয়নের অস্টার্লিজ যুদ্ধের দুর্দান্ত সাফল্যের পরে নেপোলিয়ন তার ১৫ আগস্ট জন্মদিনে ১৮০৬ সালে স্মৃতিসৌধটি চালু করেন।

স্মৃতিসৌধের বুকে শত শত জেনারেল ও যুদ্ধের নাম দিয়ে সজ্জিত করা হয়। স্মৃতিসৌধের নিচে ১৯২১ সালে যুক্ত হয় ফ্রান্সের অজানা সৈনিকের সমাধি। আর সেখানে ১৯৩৩ সালে প্রথম জ্বলে ওঠে স্মরণ শিখা। তার আলোয় প্রতিটি সন্ধ্যা বিজয়ের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে আজ অবধি। বর্তমানে বিজয়ী স্মৃতিসৌধের শৈল্পিক উন্নয়ন সাধনের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আর গত কয়েক দিন আগে ১৬ দিনের জন্য পলিপ্রোপিলিন ফ্যাব্রিক ও লাল দড়ি-কাপড় দিয়ে মোড়ানো হয়। আর তাতেই ভ্রমণপিপাসুদের নজর কেড়ে নেয়।

অবশেষে এখানে বসবাসরত সব নাগরিকের মনের ক্যানভাসে উঁকি দেয় বিজয়গাথা ইতিহাস। যে ইতিহাস ফরাসি চেতনাকে সবার মাঝে বিলিয়ে দিয়ে সৃষ্টি করে মহান মানবতা। যেন স্মৃতিসৌধটি পৃথিবীর সব জাতির ভেদাভেদ ভুলে জন্ম দেয় মনুষ্যত্ব। আর নবযৌবনে মানুষের জয়গান গেয়ে এক বিকশিত বিজয়ী প্রতীক।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ফ্রান্সের প্যারিস গেট নবযৌবনে বিকশিত বিজয়ী প্রতীক!

 সৈয়দ মুন্তাছির রিমন, ফ্রান্স থেকে 
১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্মভূমি ফ্রান্সের প্যারিস নগরী। যে নগরী ভ্রমণপিপাসুদের স্বপ্নের বাসস্থান। এ বাসস্থানের ইতিহাস আর ঐতিহ্য শত শত বছরজুড়ে মেধা ও জ্ঞান অন্বেষীদের আহার জুগিয়ে আসছে অনন্ত সময়। আর সময়ের তালে তালে ফরাসি মানবতা ও ভ্রাতৃত্ব সব জাতির কাছে সমাদৃত হয়ে উঠে।

প্যারিস নগরীর বিভিন্ন স্থাপত্যের ভিড়ে দৃষ্টি অবলোকন করলে ভেসে আসে শিল্পের প্রতিচ্ছবি। যে শিল্প আধুনিক, পরিকল্পিত, বৈজ্ঞানিক, স্বাধীনতা, সভ্যতা ও ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন বহন করে চলছে। এই প্যারিস শহরের পুরো নিদর্শনগুলো ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র সেন নদীর তীর ঘেঁষে বিকশিত হয়েছে। প্যারিস শুধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়। বরং দুই হাজারের বেশি বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও সমাদৃত।
 
কিন্তু আজ ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি স্থান হলো প্যারিস গেট। এই নামেই তাদের কাছে খ্যাত। এদিকে এই প্যারিস নগরীতে সবাই আইফেল টাওয়ার দেখতে আসে। কিন্তু আইফেল টাওয়ারের মোহমায়ায় ভ্রমণপিপাসুরা অনেকে স্মৃতিস্তম্ভ বা প্যারিস গেটকে ভুলে যায়। তবে আসলেই কী এর নাম প্যারিস গেট? ফরাসি জাতিরা এই গেটকে কী নামে সম্বোধন করে? প্যারিস শহরে এরকম অনেক স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা আছে। প্রতিটি স্থাপনাই আলাদা আলাদা ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্মৃতি ও নাম বহন করে। 

ঠিক তেমনি এই প্যারিস গেট নামে বাংলাদেশিদের কাছে খ্যাত স্মৃতিসৌধের নাম হলও-আর্ক দ্য ত্রিয়োম্ফ (Arc de Triomphe)। এই নামে সবাই চিনলেও তার আরেকটি নাম আছে ফরাসি ভাষায় Arc de Triomphe de l'Etoile। যার অর্থ- বিজয়ী তারকা স্তম্ভ বা বিজয়ী তারকা স্মৃতিসৌধ কিংবা বিজয়ী খিলান। ফরাসি জাতির এই বিজয়ী তারকা স্মৃতিসৌধটি অভিজাত এলাকা ও বিখ্যাত শঁজেলিজে মহারাস্তার পশ্চিম প্রান্তে এবং প্লাস দ্য লেতোয়ালের কেন্দ্রে অবস্থিত। এই মিলন স্থলটি কালের ধারাবহিকতায় ২৬ রাস্তার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। 

১৮০৫ সালে ফরাসি বিপ্লব ও নেপোলিয়নের অস্টার্লিজ যুদ্ধের দুর্দান্ত সাফল্যের পরে নেপোলিয়ন তার ১৫ আগস্ট জন্মদিনে ১৮০৬ সালে স্মৃতিসৌধটি চালু করেন। 

স্মৃতিসৌধের বুকে শত শত জেনারেল ও যুদ্ধের নাম দিয়ে সজ্জিত করা হয়। স্মৃতিসৌধের নিচে ১৯২১ সালে যুক্ত হয় ফ্রান্সের অজানা সৈনিকের সমাধি। আর সেখানে ১৯৩৩ সালে প্রথম জ্বলে ওঠে স্মরণ  শিখা। তার আলোয়  প্রতিটি সন্ধ্যা বিজয়ের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে আজ অবধি। বর্তমানে বিজয়ী স্মৃতিসৌধের শৈল্পিক উন্নয়ন সাধনের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আর গত কয়েক দিন আগে ১৬ দিনের জন্য পলিপ্রোপিলিন ফ্যাব্রিক ও লাল দড়ি-কাপড় দিয়ে মোড়ানো হয়। আর তাতেই ভ্রমণপিপাসুদের নজর কেড়ে নেয়।

অবশেষে এখানে বসবাসরত সব নাগরিকের মনের ক্যানভাসে উঁকি দেয় বিজয়গাথা ইতিহাস। যে ইতিহাস ফরাসি চেতনাকে সবার মাঝে বিলিয়ে দিয়ে সৃষ্টি করে মহান মানবতা। যেন স্মৃতিসৌধটি পৃথিবীর সব জাতির ভেদাভেদ ভুলে জন্ম দেয় মনুষ্যত্ব। আর নবযৌবনে মানুষের জয়গান গেয়ে এক বিকশিত বিজয়ী প্রতীক।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন