কানাডায় ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: চ্যালেঞ্জ কোথায়?’ শীর্ষক আলোচনা সভা
jugantor
কানাডায় ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: চ্যালেঞ্জ কোথায়?’ শীর্ষক আলোচনা সভা

  রাজীব আহসান, কানাডা থেকে  

১৯ অক্টোবর ২০২১, ০০:২৯:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

কানাডার ক্যালগেরিতে আলবার্টার প্রথম বাংলা অনলাইন পোর্টাল ‘প্রবাস বাংলা ভয়েস’র আয়োজনে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: চ্যালেঞ্জ কোথায়?’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


‘প্রবাস বাংলা ভয়েস’র প্রধান সম্পাদক আহসান রাজীব বুলবুলের সঞ্চালনায় আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী সাংবাদিক ও কানাডার নতুনদেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর। বিশেষ অতিথি ছিলেন এবিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ বাতেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মাহমুদ হাসান।

আলোচনায় অংশ নেন প্রকৌশলী আবদুল্লাহ রফিক, প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির, সিলেট এসোসিয়েশন অব ক্যালগেরীর সভাপতি রুপক দত্ত এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কিরন বনিক শংকর।


আলোচনায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে যে কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রবাসীরা সোচ্চার। সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হাজার বছরের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যে কোনো মূল্যে আমাদের ধরে রাখতে হবে।

প্রবাসী সাংবাদিক ও কানাডার নতুনদেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়েই এর প্রতিকার খুঁজতে হবে। সমস্যাকে অস্বীকার করলে, মোহনীয় সব শব্দাবলীতে আড়াল করে রাখলে সংকট বাড়বেই কেবল। তিনি বলেন, সমস্যাকে স্বীকার করুন, প্রকাশ্যে এবং বলিষ্ঠভাবে স্বীকার করুন, তারপর এর সমাধানের উদ্যোগ নিন।

কলামিস্ট মাহমুদ হাসান বলেন, বারবার কেন এমন হচ্ছে? এর প্রেক্ষাপট কোথায়? এর মূল ভিত্তি কোথায়? আমাদেরকে উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতা আরেকদিকে বলা হচ্ছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এই দুটির সাংঘর্ষিক বিষয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এর সমাধান আমরা আজও করতে পারিনি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বিশেষ অতিথি ড. মোহাম্মদ বাতেন বলেন, খুবই দুঃখজনক। ধিক্কার জানাই। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এক শ্রেণির অপশক্তি প্রতিনিয়তই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

প্রকৌশলী আবদুল্লাহ রফিক বলেন, ৭১ এর পরাজিত শক্তিরা এখনও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত। সুখী, সমৃদ্ধ অর্থনীতির অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতোই সুদৃঢ় লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তাতে কোনো অপশক্তি বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। অপশক্তি রোধে প্রয়োজন শুধু সমন্বয়ের।

সিলেট অ্যাসোসিয়েশন অব কেলগেরির সভাপতি রুপক দত্ত বলেন, আমরা বিস্মিত, হতবাক। এই কি সেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা? কোথায় আমরা? এই অপশক্তির উৎস কোথায়? তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের চৌমুহনী ও হাতিয়ার বুড়িরচরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অপরাধী যেই হোক, বাংলার মাটিতে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির বলেন, এ লজ্জা আমাদের সবার। এখনই যদি কঠোরভাবে এই অপশক্তির দমন না করি তাহলে ভবিষ্যতে এরা আরো বেশি করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। শুধু প্রশাসন নয়, সর্বস্তরের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আসুন এখনই ওদের নির্মূলে সোচ্চার হই। জনসচেতনতা গড়ে তুলি।

কিরন বনিক শংকর বলেন, বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যখন তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করছে, তখন চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিগোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যে হামলা চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ, অসাম্প্রদায়িকতার দেশ, প্রবাসে থেকে আপনজনদের উপর এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অপরাধী কোনো দলের নয়, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

কানাডায় ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: চ্যালেঞ্জ কোথায়?’ শীর্ষক আলোচনা সভা

 রাজীব আহসান, কানাডা থেকে 
১৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কানাডার ক্যালগেরিতে আলবার্টার প্রথম বাংলা অনলাইন পোর্টাল ‘প্রবাস বাংলা ভয়েস’র আয়োজনে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: চ্যালেঞ্জ কোথায়?’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


‘প্রবাস বাংলা ভয়েস’র প্রধান সম্পাদক আহসান রাজীব বুলবুলের সঞ্চালনায় আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী সাংবাদিক ও কানাডার নতুনদেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর। বিশেষ অতিথি ছিলেন এবিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ বাতেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মাহমুদ হাসান।

আলোচনায় অংশ নেন প্রকৌশলী আবদুল্লাহ রফিক, প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির, সিলেট এসোসিয়েশন অব ক্যালগেরীর সভাপতি রুপক দত্ত এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কিরন বনিক শংকর।


আলোচনায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে যে কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রবাসীরা সোচ্চার। সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হাজার বছরের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যে কোনো মূল্যে আমাদের ধরে রাখতে হবে।

প্রবাসী সাংবাদিক ও কানাডার নতুনদেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়েই এর প্রতিকার খুঁজতে হবে। সমস্যাকে অস্বীকার করলে, মোহনীয় সব শব্দাবলীতে আড়াল করে রাখলে সংকট বাড়বেই কেবল। তিনি বলেন, সমস্যাকে স্বীকার করুন, প্রকাশ্যে এবং বলিষ্ঠভাবে স্বীকার করুন, তারপর এর সমাধানের উদ্যোগ নিন।

কলামিস্ট মাহমুদ হাসান বলেন, বারবার কেন এমন হচ্ছে? এর প্রেক্ষাপট কোথায়? এর মূল ভিত্তি কোথায়? আমাদেরকে উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতা আরেকদিকে বলা হচ্ছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এই দুটির সাংঘর্ষিক বিষয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এর সমাধান আমরা আজও করতে পারিনি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বিশেষ অতিথি ড. মোহাম্মদ বাতেন বলেন, খুবই দুঃখজনক। ধিক্কার জানাই। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এক শ্রেণির অপশক্তি প্রতিনিয়তই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

প্রকৌশলী আবদুল্লাহ রফিক বলেন, ৭১ এর পরাজিত শক্তিরা এখনও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত। সুখী, সমৃদ্ধ অর্থনীতির অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতোই সুদৃঢ় লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তাতে কোনো অপশক্তি বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। অপশক্তি রোধে প্রয়োজন শুধু সমন্বয়ের।

সিলেট অ্যাসোসিয়েশন অব কেলগেরির সভাপতি রুপক দত্ত বলেন, আমরা বিস্মিত, হতবাক। এই কি সেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা? কোথায় আমরা? এই অপশক্তির উৎস কোথায়? তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের চৌমুহনী ও হাতিয়ার বুড়িরচরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অপরাধী যেই হোক, বাংলার মাটিতে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাদির বলেন, এ লজ্জা আমাদের সবার। এখনই যদি কঠোরভাবে এই অপশক্তির দমন না করি তাহলে ভবিষ্যতে এরা আরো বেশি করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। শুধু প্রশাসন নয়, সর্বস্তরের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আসুন এখনই ওদের নির্মূলে সোচ্চার হই। জনসচেতনতা গড়ে তুলি।

কিরন বনিক শংকর বলেন, বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যখন তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করছে, তখন চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিগোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যে হামলা চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ, অসাম্প্রদায়িকতার দেশ, প্রবাসে থেকে আপনজনদের উপর এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অপরাধী কোনো দলের নয়, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন