ফ্রাঙ্কফুট বইমেলায় সরাফ আহমেদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
jugantor
ফ্রাঙ্কফুট বইমেলায় সরাফ আহমেদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

  হাবিবুল্লাহ আল বাহার, জার্মানি থেকে  

২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩৭:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুটে ৭৩তম আন্তর্জাতিক বইমেলার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে প্রথমা প্রকাশনের সদ্য প্রকাশিত “১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড: প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার দুঃসহ দিন” বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। বইটির লেখক জার্মানি প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক সরাফ আহমেদ।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসীম কুমার দে, একুশে পদকপ্রাপ্ত জার্মান প্রবাসী কবি নাজমুন নেসা পিয়ারি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর, জার্মানির বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, বইটির লেখক সরাফ আহমেদ এবং স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মীসহ প্রবাসী বাঙালিরা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর তার দুই কন্যা, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার জার্মানিতে অবস্হান ও তাদের দুঃখভরা জীবনের ঘটনাবলী নিয়ে “১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড: প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার দুঃসহ দিন” বইটি রচিত হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে জার্মানিতে বসবাসরত সাংবাদিক সরাফ আহমেদ তুলে এনেছেন অজানা তথ্য, উদ্ধার করেছেন দলিলপত্র, ইন্দিরা গান্ধী, ওয়াজেদ মিয়া, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার অপ্রকাশিত চিঠি, প্রেস ক্লিপিংস এবং ছবি। বাংলায় অনুবাদ করেছেন আর্কাইভে রাখা জার্মান সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধ।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, প্রথাগত লেখক এবং গবেষক না হয়েও একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সৃজনশীলতা আর পরিশ্রম দিয়ে কতটা অসাধ্য সাধন করতে পারেন তার উদাহরণ এ বই। রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, এই জার্মানিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যাদের দুঃসময়ের অজানা ইতিহাস বইটির প্রধান উপজীব্য, যা আগামী দিনে গবেষকদের জন্য মূল্যবান দলিল হিসাবে কাজ করবে। জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের পরিচালক কবি সাংবাদিক মিনার মনসূর বলেন বঙ্গবন্ধুর পরিবারের শোকাবহ মৃত্যুর পর তার দুই কন্যাকে কতটা দুঃখ ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল তা এ বইটি পড়ে জানা যাবে।

লেখক সরাফ আহমেদ বলেন, জার্মানিতে আসার কারণেই প্রাণে বেঁচে যান দুই কন্যা। তবে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ১০টি দিন তাদের কাছে হয়ে উঠেছিল যেন ১০ বছরের সমান। তারা কিভাবে কোথায় ছিলেন, কারাই বা সেই রুদ্ধশ্বাস সময়ে বিপদের সাথি হয়েছিলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংবাদপত্র, জার্মানির সেই সময়কার রাজনীতিক বা জার্মানরা বিষয়টি কিভাবে দেখেছিলেন, সেই সব ঘটনা-নতুন প্রজন্ম ও গবেষকদের কাছে সেসব তুলে ধরার তাগাদা থেকেই এ বইটি লেখা। বঙ্গবন্ধুপ্রেমী সবাইকে বইটি পড়া উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রথমা প্রকাশনের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জার্মানি প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ড. হুমায়ূন কবীর, হাসিব মাহমুদ, হামিদুল খান, মহুয়া কবীর, মাহজাবিন আহমেদ, শুদ্ধস্বর ডটকম প্রধান সম্পাদক হাবিবউল্লা বাবুল, জার্মান বাংলা প্রেস ক্লাবের খান লিটন, সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ আল বাহার এবং পারিজাত প্রকাশনার শওকত হোসেন প্রমুখ।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ফ্রাঙ্কফুট বইমেলায় সরাফ আহমেদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

 হাবিবুল্লাহ আল বাহার, জার্মানি থেকে 
২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুটে ৭৩তম আন্তর্জাতিক বইমেলার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে প্রথমা প্রকাশনের সদ্য প্রকাশিত “১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড: প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার দুঃসহ দিন” বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। বইটির লেখক জার্মানি প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক সরাফ আহমেদ। 

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসীম কুমার দে, একুশে পদকপ্রাপ্ত জার্মান প্রবাসী কবি নাজমুন নেসা পিয়ারি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর, জার্মানির বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, বইটির লেখক সরাফ আহমেদ এবং স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মীসহ প্রবাসী বাঙালিরা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর তার দুই কন্যা, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার জার্মানিতে অবস্হান ও তাদের দুঃখভরা জীবনের ঘটনাবলী নিয়ে “১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড: প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার দুঃসহ দিন” বইটি রচিত হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে জার্মানিতে বসবাসরত সাংবাদিক সরাফ আহমেদ তুলে এনেছেন অজানা তথ্য, উদ্ধার করেছেন দলিলপত্র, ইন্দিরা গান্ধী, ওয়াজেদ মিয়া, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার অপ্রকাশিত চিঠি, প্রেস ক্লিপিংস এবং ছবি। বাংলায় অনুবাদ করেছেন আর্কাইভে রাখা জার্মান সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধ। 

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, প্রথাগত লেখক এবং গবেষক না হয়েও একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সৃজনশীলতা আর পরিশ্রম দিয়ে কতটা অসাধ্য সাধন করতে পারেন তার উদাহরণ এ বই। রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, এই জার্মানিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যাদের দুঃসময়ের অজানা ইতিহাস বইটির প্রধান উপজীব্য, যা আগামী দিনে গবেষকদের জন্য মূল্যবান দলিল হিসাবে কাজ করবে। জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের পরিচালক কবি সাংবাদিক মিনার মনসূর বলেন বঙ্গবন্ধুর পরিবারের শোকাবহ মৃত্যুর পর তার দুই কন্যাকে কতটা দুঃখ ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল তা এ বইটি পড়ে জানা যাবে। 

লেখক সরাফ আহমেদ বলেন, জার্মানিতে আসার কারণেই প্রাণে বেঁচে যান দুই কন্যা। তবে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ১০টি দিন তাদের কাছে হয়ে উঠেছিল যেন ১০ বছরের সমান। তারা কিভাবে কোথায় ছিলেন, কারাই বা সেই রুদ্ধশ্বাস সময়ে বিপদের সাথি হয়েছিলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংবাদপত্র, জার্মানির সেই সময়কার রাজনীতিক বা জার্মানরা বিষয়টি কিভাবে দেখেছিলেন, সেই সব ঘটনা-নতুন প্রজন্ম ও গবেষকদের কাছে সেসব তুলে ধরার তাগাদা থেকেই এ বইটি লেখা। বঙ্গবন্ধুপ্রেমী সবাইকে বইটি পড়া উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রথমা প্রকাশনের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জার্মানি প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ড. হুমায়ূন কবীর, হাসিব মাহমুদ, হামিদুল খান, মহুয়া কবীর, মাহজাবিন আহমেদ, শুদ্ধস্বর ডটকম প্রধান সম্পাদক হাবিবউল্লা বাবুল, জার্মান বাংলা প্রেস ক্লাবের খান লিটন, সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ আল বাহার এবং পারিজাত প্রকাশনার শওকত হোসেন প্রমুখ।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন