স্বাধীনতা শব্দটি কী করে এত প্রিয় হয়ে ওঠে?
jugantor
স্বাধীনতা শব্দটি কী করে এত প্রিয় হয়ে ওঠে?

  আজিজুল আম্বিয়া, যুক্তরাজ্য থেকে  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০১:২২:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

শুরুটা বাড়িভাড়া নিয়ে করি। আমি যখন লন্ডনে একটি পরিবারের সঙ্গে একটি কক্ষ ভাড়া নিলাম। আমি তাদের নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছি, কিন্তু যিনি পুরো বাড়িটা ভাড়া নিয়েছেন তিনি কীভাবে যে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছেন তা তিনি নিজেই জানেন না। তিনি বলছেন, আপনি ঐ জিনিসটা ভালো করে পরিষ্কার করে রাখবেন, আপনি এ সময় থেকে এ সময়ের মধ্যে আপনার কাজ শেষ করবেন। আসলে এই বাড়িটার মালিকও যে আমি এটা তিনি ভুলে গেছেন।

এখান থেকে শুরু হয় চিন্তা তাহলে তো আমি পরাধীন হয়ে রইলাম। তখন সিদ্ধান্ত হলো একা বাড়িভাড়া করি। এরপর আমি আমার মতো করে ঘুম থেকে উঠি, দরজা খুলতে শব্দ হলে আর অসুবিধা হয় না। তার মানে মনে মনে আমি স্বাধীন। আর এটাই একটা অনিয়মের বিজয়। এবার ফিরলাম দেশ স্বাধীন পূর্ববর্তী অবস্থায়, দেশ আমাদের, কিন্তু চাকরির সুবিধা ভোগ করবে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। ব্যাংকের টাকা পূর্ব পাকিস্তানের, চলে যাবে পশ্চিম পাকিস্তান, মায়ের ভাষা বাংলা, না সরকার চাইলো পূর্ব পাকিস্তানে বাংলার পরিবর্তে উর্দু হবে রাষ্ট্র ভাষা, এই যে চাপিয়ে দেওয়া এটাই মানুষকে বাধ্য করে নতুন একটি পথ খুঁজতে আর তার নামই হচ্ছে স্বাধীনতা।

তখন ১৯৫২ সাল। প্রথম শুরু ভাষা আন্দোলনের। আমরা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের জীবনের বিনিময়ে রক্ষা করলাম নিজের ভাষাকে। সে সংগ্রাম যে কতটা যৌক্তিক ছিল তা বুঝিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা দিয়ে। তারপর ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুথান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির কথা, বাঙালির চিন্তা পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর কাছে। আর মূলত এ থেকেই শুরু স্বাধীনতা সংগ্রামের।

২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু গ্রেফতারের পূর্বে স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে যান, পরবর্তীতে তা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নান পাঠ করেন।

৯ মাস সংগ্রামের পরে স্বাধীনতা লাভ করে বাঙালিরা। স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ লোক শহীদ হোন, ইজ্জত হারান অনেক মা, বোন। পক্ষান্তরে স্বাধীনতা শব্দটি এভাবেই আমাদের হলো। আর আমরা এখন নিজস্ব দেশ, নিজস্ব পতাকা নিয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল একটি জাতি বলা যায়। আজকে আমরা পাকিস্তানসহ অনেক দেশকে পিছনে ফেলে বিশ্বের কাছে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি। এসবের পেছনে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা বিশাল ভূমিকা রাখছেন। তাই সময়ের দাবি প্রবাসী ভাইদের জন্য ভিআইপি মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই প্রবাসী বাঙালিরা বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায় করতেও কাজ করেছিল। তাই সরকারের কাছে আবেদন প্রবাসীদের এ দাবিকে আপনারা সম্মানের সঙ্গে বাস্তবায়ন করুন দয়া করে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

স্বাধীনতা শব্দটি কী করে এত প্রিয় হয়ে ওঠে?

 আজিজুল আম্বিয়া, যুক্তরাজ্য থেকে 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ০১:২২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শুরুটা বাড়িভাড়া নিয়ে করি। আমি যখন লন্ডনে একটি পরিবারের সঙ্গে একটি কক্ষ ভাড়া নিলাম। আমি তাদের নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছি, কিন্তু যিনি পুরো বাড়িটা ভাড়া নিয়েছেন তিনি কীভাবে যে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছেন তা তিনি নিজেই জানেন না। তিনি বলছেন, আপনি ঐ জিনিসটা ভালো করে পরিষ্কার করে রাখবেন, আপনি এ সময় থেকে এ সময়ের মধ্যে আপনার কাজ শেষ করবেন। আসলে এই বাড়িটার মালিকও যে আমি এটা তিনি ভুলে গেছেন।

এখান থেকে শুরু হয় চিন্তা তাহলে তো আমি পরাধীন হয়ে রইলাম। তখন সিদ্ধান্ত হলো একা বাড়িভাড়া করি। এরপর আমি আমার মতো করে ঘুম থেকে উঠি, দরজা খুলতে শব্দ হলে আর অসুবিধা হয় না। তার মানে মনে মনে আমি স্বাধীন। আর এটাই একটা অনিয়মের বিজয়। এবার ফিরলাম দেশ স্বাধীন পূর্ববর্তী অবস্থায়, দেশ আমাদের, কিন্তু চাকরির সুবিধা ভোগ করবে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। ব্যাংকের টাকা পূর্ব পাকিস্তানের, চলে যাবে পশ্চিম পাকিস্তান, মায়ের ভাষা বাংলা, না সরকার চাইলো পূর্ব পাকিস্তানে বাংলার পরিবর্তে উর্দু হবে রাষ্ট্র ভাষা, এই যে চাপিয়ে দেওয়া এটাই মানুষকে বাধ্য করে নতুন একটি পথ খুঁজতে আর তার নামই হচ্ছে স্বাধীনতা। 

তখন ১৯৫২ সাল। প্রথম শুরু ভাষা আন্দোলনের। আমরা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের জীবনের বিনিময়ে রক্ষা করলাম নিজের ভাষাকে। সে সংগ্রাম যে কতটা যৌক্তিক ছিল তা বুঝিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা দিয়ে। তারপর ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুথান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির কথা, বাঙালির চিন্তা পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর কাছে। আর মূলত এ থেকেই শুরু স্বাধীনতা সংগ্রামের।

২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু গ্রেফতারের পূর্বে স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে যান, পরবর্তীতে তা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নান পাঠ করেন। 

৯ মাস সংগ্রামের পরে স্বাধীনতা লাভ করে বাঙালিরা। স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ লোক শহীদ হোন, ইজ্জত হারান অনেক মা, বোন। পক্ষান্তরে স্বাধীনতা শব্দটি এভাবেই আমাদের হলো। আর আমরা এখন নিজস্ব দেশ, নিজস্ব পতাকা নিয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল একটি জাতি বলা যায়। আজকে আমরা পাকিস্তানসহ অনেক দেশকে পিছনে ফেলে বিশ্বের কাছে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি। এসবের পেছনে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা বিশাল ভূমিকা রাখছেন। তাই সময়ের দাবি প্রবাসী ভাইদের জন্য ভিআইপি মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই প্রবাসী বাঙালিরা বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায় করতেও কাজ করেছিল। তাই সরকারের কাছে আবেদন প্রবাসীদের এ দাবিকে আপনারা সম্মানের সঙ্গে বাস্তবায়ন করুন দয়া করে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন