মানবপাচারের কারণ বের করে সমাধানের আহ্বান বাংলাদেশের
jugantor
মানবপাচারের কারণ বের করে সমাধানের আহ্বান বাংলাদেশের

  কৌশলী ইমা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে   

২৫ নভেম্বর ২০২১, ০১:১৭:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মানবপাচারের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ুজনিত নাজুক পরিস্থিতি এবং সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির মতো বহুমুখী কারণে সৃষ্ট মানবপাচারের কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) মানবপাচার রোধে জাতিসংঘের বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার মূল্যায়নের ওপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে শক্তিশালী আইনি কাঠামো, বহু-অংশীজনের অংশীদারিত্ব ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি আরও বলেন, মানবপাচার একটি গুরুতর অপরাধ; যা মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার মৌলিক নীতিগুলোর পরিপন্থী।

মানবপাচার রোধে শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত বিভিন্ন আইন, নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, শ্রমিক পাচারসহ মানবপাচার ও চোরাচালানের মধ্যে যে যোগসাজশ রয়েছে তা আমলে নিয়েই আমরা জাতীয় পর্যায়ে মানবপাচার বিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকি। এছাড়া এ বিষয়ক আইন প্রণয়নে আমরা পালারমো প্রটোকল অনুসরণ করেছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকে এসডিজি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সন্নিবেশিত করেছে; যা মানবপাচার রোধে ভূমিকা রেখেছে। পাচারের শিকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান ও এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনজিও, সুশীল সমাজসহ অন্যান্য সংস্থার কাজের স্বীকৃতি প্রদান করেন তিনি।

বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় মানবপাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন তিনি। এর মূল কারণ হিসেবে প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন; যা রোহিঙ্গাদের ক্রমাগতভাবে হতাশায় নিমজ্জিত করছে। তিনি শ্রমিক পাচার হ্রাসে শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক সাধারণ পরিষেদ রেজুলেশনের আওতায় দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মানবপাচার প্রতিরোধে বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূলায়ন করা হয়। সভায় এ বিষয়ক একটি রাজনৈতিক ঘোষণা গৃহীত হয়।

মূল আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, নাইজেরিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য ও ইউএনওডিসি একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট আয়োজন করে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

মানবপাচারের কারণ বের করে সমাধানের আহ্বান বাংলাদেশের

 কৌশলী ইমা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে  
২৫ নভেম্বর ২০২১, ০১:১৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মানবপাচারের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ুজনিত নাজুক পরিস্থিতি এবং সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির মতো বহুমুখী কারণে সৃষ্ট মানবপাচারের কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। 

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) মানবপাচার রোধে জাতিসংঘের বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার মূল্যায়নের ওপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে শক্তিশালী আইনি কাঠামো, বহু-অংশীজনের অংশীদারিত্ব ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি আরও বলেন, মানবপাচার একটি গুরুতর অপরাধ; যা মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার মৌলিক নীতিগুলোর পরিপন্থী।

মানবপাচার রোধে শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত বিভিন্ন আইন, নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, শ্রমিক পাচারসহ মানবপাচার ও চোরাচালানের মধ্যে যে যোগসাজশ রয়েছে তা আমলে নিয়েই আমরা জাতীয় পর্যায়ে মানবপাচার বিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকি। এছাড়া এ বিষয়ক আইন প্রণয়নে আমরা পালারমো প্রটোকল অনুসরণ করেছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকে এসডিজি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সন্নিবেশিত করেছে; যা মানবপাচার রোধে ভূমিকা রেখেছে। পাচারের শিকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান ও এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনজিও, সুশীল সমাজসহ অন্যান্য সংস্থার কাজের স্বীকৃতি প্রদান করেন তিনি।

বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় মানবপাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন তিনি। এর মূল কারণ হিসেবে প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন; যা রোহিঙ্গাদের ক্রমাগতভাবে হতাশায় নিমজ্জিত করছে। তিনি শ্রমিক পাচার হ্রাসে শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক সাধারণ পরিষেদ রেজুলেশনের আওতায় দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মানবপাচার প্রতিরোধে বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূলায়ন করা হয়। সভায় এ বিষয়ক একটি রাজনৈতিক ঘোষণা গৃহীত হয়।

মূল আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, নাইজেরিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য ও ইউএনওডিসি একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট আয়োজন করে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন