সাংবাদিক অহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক
jugantor
সাংবাদিক অহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক

  সাগর চৌধুরী, সৌদি আরব থেকে  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫০:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক অহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, অহিদুল ইসলাম একজন নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ছিলেন। তিনি তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণেও অনেক অবদান রেখেছেন।ড. মোমেন মরহুম অহিদুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে আরও শোক বার্তা দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— টেলিভিশন রির্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রাব), বাংলাদেশ প্রবাসী ক্লাব, এশিয়ান জার্নালিস্ট হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন পূর্বাঞ্চল শাখা, সাংস্কৃতিক সংগঠন- শ্যাডো, সৌদি আরবে প্রবাসী আওয়ামী পরিবার, জাতীয় পার্টি, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড কাউন্সিল সৌদি আরব শাখা, বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক সংস্থা (বাপ্রসাস), বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরাম, সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক ফোরাম, রিপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইলেকট্রনিক মিডিয়া সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা অ্যাসোসিয়েশন, বাংলা রাইটার্স ফোরাম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেক ব্যাক্তি ও সংগঠন ।

শোকবার্তায় তারা বলেন, একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অহিদুল ইসলাম মহৎ হৃদয়ের অধিকারী একজন নিবেদিতপ্রাণ পরোপকারী মানুষ ছিলেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় বহুগুণে গুণান্বিত মেধাবী দেশপ্রেমী মানুষটি সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের জন্য আমৃত্যু কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ অবজারভার, ইনকিলাব, চিত্রালী, মুখোমুখিসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জীবিকার টানে দেশ থেকে প্রবাসে পাড়ি দিয়ে পেশাদারি সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে জন্মভূমি বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন বিদেশিদের মাঝে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক "রিয়াদ ডেইলি"র সাথে সাপ্তাহিক "বাংলা বিনোদন" প্রকাশ করে প্রবাসী বাঙালিদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত রাখতেন । একুশে টিভি, কালেরকণ্ঠ, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন মৃত্যুর আগপর্যন্ত ।

সাহিত্য পত্রিকা বাংলা রাইটার্স সম্পাদনা ছাড়াও প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর "প্রবাস বাংলা" সম্পাদনা করতেন। বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার জন্য সৌদি আরবে নজরুল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন মহৎ এই মানুষটি। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ রেখে সমসাময়িক বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে গঠন করেন- বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক সংস্থা (বাপ্রসাস) ।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং সচিব ফখরুল ইসলাম তার শোকবার্তায় লিখেন- অহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ দূতাবাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দূতাবাস চত্বরে স্থাপিত লোগো, বঙ্গবন্ধু কর্নার, বঙ্গবন্ধু মঞ্চ, বঙ্গবন্ধু ফটো সিরিজের ডিজাইন করেছেন। তিনি দূতাবাসের প্রেস উইংকে বিভিন্ন পরামর্শ ও অনুষ্ঠান কভারেজ করে নানাভাবে সহায়তা করেন।

উল্লেখ্য, ২৭ নভেম্বর শুক্রবার বুকে ব্যথা অনুভব করায় রিয়াদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অহিদুল ইসলামকে। রাতে তার হার্টে রিং বসানো হয়। পর দিন শনিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।

অহিদুল ইসলাম ১৯৫৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্ত্রী সামসুন্নাহার জলি ব্যক্তিজীবনে একজন "ফুল শিল্পী" । তার দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

সাংবাদিক অহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক

 সাগর চৌধুরী, সৌদি আরব থেকে 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক অহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, অহিদুল ইসলাম একজন নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ছিলেন। তিনি তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণেও অনেক অবদান রেখেছেন।ড. মোমেন মরহুম অহিদুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে আরও শোক বার্তা দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— টেলিভিশন রির্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রাব), বাংলাদেশ প্রবাসী ক্লাব, এশিয়ান জার্নালিস্ট হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন পূর্বাঞ্চল শাখা, সাংস্কৃতিক সংগঠন- শ্যাডো,  সৌদি আরবে প্রবাসী আওয়ামী পরিবার, জাতীয় পার্টি, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড কাউন্সিল সৌদি আরব শাখা, বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক সংস্থা (বাপ্রসাস), বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরাম, সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক ফোরাম, রিপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইলেকট্রনিক মিডিয়া সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা অ্যাসোসিয়েশন, বাংলা রাইটার্স ফোরাম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেক ব্যাক্তি ও সংগঠন ।

শোকবার্তায় তারা বলেন, একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অহিদুল ইসলাম মহৎ হৃদয়ের অধিকারী একজন নিবেদিতপ্রাণ পরোপকারী মানুষ ছিলেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় বহুগুণে গুণান্বিত মেধাবী দেশপ্রেমী মানুষটি সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের জন্য আমৃত্যু কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ অবজারভার, ইনকিলাব, চিত্রালী, মুখোমুখিসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জীবিকার টানে দেশ থেকে প্রবাসে পাড়ি দিয়ে পেশাদারি সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে জন্মভূমি বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন বিদেশিদের মাঝে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক "রিয়াদ ডেইলি"র সাথে সাপ্তাহিক "বাংলা বিনোদন" প্রকাশ করে প্রবাসী বাঙালিদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত রাখতেন । একুশে টিভি, কালেরকণ্ঠ, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন মৃত্যুর আগপর্যন্ত । 

সাহিত্য পত্রিকা বাংলা রাইটার্স সম্পাদনা ছাড়াও প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর "প্রবাস বাংলা" সম্পাদনা করতেন। বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার জন্য সৌদি আরবে নজরুল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন মহৎ এই মানুষটি। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ রেখে সমসাময়িক বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে গঠন করেন- বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক সংস্থা (বাপ্রসাস) । 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং সচিব ফখরুল ইসলাম তার শোকবার্তায় লিখেন- অহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ দূতাবাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দূতাবাস চত্বরে স্থাপিত লোগো, বঙ্গবন্ধু কর্নার, বঙ্গবন্ধু মঞ্চ, বঙ্গবন্ধু ফটো সিরিজের ডিজাইন করেছেন। তিনি দূতাবাসের প্রেস উইংকে বিভিন্ন পরামর্শ ও অনুষ্ঠান কভারেজ করে নানাভাবে সহায়তা করেন। 

উল্লেখ্য, ২৭ নভেম্বর শুক্রবার বুকে ব্যথা অনুভব করায় রিয়াদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অহিদুল ইসলামকে। রাতে তার হার্টে রিং বসানো হয়। পর দিন শনিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।

অহিদুল ইসলাম ১৯৫৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্ত্রী সামসুন্নাহার জলি ব্যক্তিজীবনে একজন "ফুল শিল্পী" । তার দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন