আমি সবিনয়ে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
jugantor
আমি সবিনয়ে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৩৫:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

আমার এক ব্রিটিশ বন্ধু এই মহূর্তে বাংলাদেশ ভ্রমণে রয়েছে। বন্ধু বাংলা পড়তে পারে, লিখতে পারে না। সে ছবিসহ ইংরেজিতে যে কমেন্টস করেছে সেটা নিম্নরূপ—

“সরকারি অফিসে এমন পোস্টার দেখলে লজ্জা লাগে। এটা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, বাঙালি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত জাতি। আপনি কি ইংল্যান্ড বা সুইডেনে এরকম পোস্টার কল্পনা করতে পারেন?”

বন্ধু জানে আমি লিখি, সে জানে আমি বিষয়টি দেখে আর কিছু না হোক রিফ্লেক্ট করব। ফেসবুকের পেজে ছবিটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেসেঞ্জারে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কিছু মতামত এবং মন্তব্য দেখলাম। যেমন লিখেছে- “বাংলাদেশের তুলনায় ইংল্যান্ড বা সুইডেনে প্রসঙ্গ ভিন্ন। প্রতিটি দেশের নিজস্ব উন্নয়ন স্তর রয়েছে এবং সেই উন্নয়ন স্তরের সাথে সামাজিক বৈশিষ্ট্য বিরাজমান। আপনার বন্ধুর উচিৎ আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এবং বাস্তবে এর পরিণতি বিষয়ে অধ্যয়ন করা।”

মন্তব্যটি দেখে মনে হলো, একদল শিক্ষিত সমাজ বিষয়টির বিশ্লেষণ যদি এভাবে দিতে পারে সেখানে সাধারণ মানুষের কাছে এটা কোন ঘটনাই নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষ এসব ‘সাইন বোর্ড’দেখে স্বস্তি পায়। তারা ভাবে যাক ভালো যে এখানে অন্তত দুর্নীতি হয় না ইত্যাদি।

আমি বিষয়টি নিয়ে আর কিছু না লিখি, বরং কয়েকটি বিষয় নিয়ে কিছু রিফ্লেক্ট করি। ইদানীং দেশে প্রায়ই দেখি একজন আরেক জনকে জিজ্ঞেস করছে, যেমন ভাই, আপনি নামাজ পড়েন? একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে এমনটি প্রশ্ন করতেই পারে, এবং খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা একজন চাকরিজীবীকে প্রশ্ন করতে পারি না, যেমন ভাই আপনি কি দুর্নীতি করেন? বা ভাই, আপনি কি বিবাহিত এবং আপনি কি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করেন?

এখানে তিনটি বিষয়ের ওপর তিন ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে। মুসলমান হলেই যে সবাই নামাজ পড়ে তা নয় আবার চাকরি করলেই যে সবাই দুর্নীতি করে সেটাও সঠিক নয়। তবে বিয়ে করলে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস হয় এটাই স্বাভাবিক। কারণ বিয়ে করার উদ্দেশ্যই কিন্তু সহবাস করা।

এ ধরনের সহজ জিনিস বুঝতে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এবং বাস্তবে এর পরিণতি বিষয়ে অধ্যয়ণ করতে হবে এটা এর আগে কখনো শুনিনি!

আমি মনে করি রাষ্ট্রের উচিত হবে অনতিবিলম্বে এ ধরনের সমস্ত ‘সাইন বোর্ড’তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া। এ ধরনের ‘সাইন বোর্ড’জাতি তথা দেশের জন্য অপমানজনক বার্তা। এতে স্পষ্ট যে, দেশে শুধু দুর্নীতি হয় তা নয়, দুর্নীতি সর্বজন স্বীকৃত।

সাইন বোর্ড না থাকলেও হয়ত দুর্নীতি হবে, তবে জনসমাজে এ ধরনের ‘দুর্নীতি’অন্তত একটি নীতিতে পরিণত হবে না!

একটি গল্প মনে পড়ে গেল। ব্যাংকে ডাকাত ঢুকে সব টাকা পয়সা নিয়ে যাবার বেলা হঠাৎ দুইজন গ্রাহক ডাকাতদের দেখে ফেলে। গ্রাহক দুইজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তারা ব্যাংকে এসেছিল মূলত টাকা তুলতে। তো ডাকাতদের মধ্যে একজন হঠাৎ বন্দুক সামনের দিকে ধরে জিজ্ঞেস করল- এই কে দেখেছিস আমাদের? সত্যি কথা বল, নইলে গুলি করে দুজনকেই মেরে ফেলব? স্বামী তাড়াহুড়ো করে উত্তরে বলল- আমি না, আমার স্ত্রী দেখেছে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

আমি সবিনয়ে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমার এক ব্রিটিশ বন্ধু এই মহূর্তে বাংলাদেশ ভ্রমণে রয়েছে। বন্ধু বাংলা পড়তে পারে, লিখতে পারে না। সে ছবিসহ ইংরেজিতে যে কমেন্টস করেছে সেটা নিম্নরূপ—

“সরকারি অফিসে এমন পোস্টার দেখলে লজ্জা লাগে। এটা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, বাঙালি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত জাতি। আপনি কি ইংল্যান্ড বা সুইডেনে এরকম পোস্টার কল্পনা করতে পারেন?”

বন্ধু জানে আমি লিখি, সে জানে আমি বিষয়টি দেখে আর কিছু না হোক রিফ্লেক্ট করব। ফেসবুকের পেজে ছবিটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেসেঞ্জারে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কিছু মতামত এবং মন্তব্য দেখলাম। যেমন লিখেছে- “বাংলাদেশের তুলনায় ইংল্যান্ড বা সুইডেনে প্রসঙ্গ ভিন্ন। প্রতিটি দেশের নিজস্ব উন্নয়ন স্তর রয়েছে এবং সেই উন্নয়ন স্তরের সাথে সামাজিক বৈশিষ্ট্য বিরাজমান। আপনার বন্ধুর উচিৎ আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এবং বাস্তবে এর পরিণতি বিষয়ে অধ্যয়ন করা।”

মন্তব্যটি দেখে মনে হলো, একদল শিক্ষিত সমাজ বিষয়টির বিশ্লেষণ যদি এভাবে দিতে পারে সেখানে সাধারণ মানুষের কাছে এটা কোন ঘটনাই নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষ এসব ‘সাইন বোর্ড’দেখে স্বস্তি পায়। তারা ভাবে যাক ভালো যে এখানে অন্তত দুর্নীতি হয় না ইত্যাদি।

আমি বিষয়টি নিয়ে আর কিছু না লিখি, বরং কয়েকটি বিষয় নিয়ে কিছু রিফ্লেক্ট করি। ইদানীং দেশে প্রায়ই দেখি একজন আরেক জনকে জিজ্ঞেস করছে, যেমন ভাই, আপনি নামাজ পড়েন? একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে এমনটি প্রশ্ন করতেই পারে, এবং খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা একজন চাকরিজীবীকে প্রশ্ন করতে পারি না, যেমন ভাই আপনি কি দুর্নীতি করেন? বা ভাই, আপনি কি বিবাহিত এবং আপনি কি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করেন?

এখানে তিনটি বিষয়ের ওপর তিন ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে। মুসলমান হলেই যে সবাই নামাজ পড়ে তা নয় আবার চাকরি করলেই যে সবাই দুর্নীতি করে সেটাও সঠিক নয়। তবে বিয়ে করলে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস হয় এটাই স্বাভাবিক। কারণ বিয়ে করার উদ্দেশ্যই কিন্তু সহবাস করা।

এ ধরনের সহজ জিনিস বুঝতে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এবং বাস্তবে এর পরিণতি বিষয়ে অধ্যয়ণ করতে হবে এটা এর আগে কখনো শুনিনি!

আমি মনে করি রাষ্ট্রের উচিত হবে অনতিবিলম্বে এ ধরনের সমস্ত ‘সাইন বোর্ড’তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া। এ ধরনের ‘সাইন বোর্ড’জাতি তথা দেশের জন্য অপমানজনক বার্তা। এতে স্পষ্ট যে, দেশে শুধু দুর্নীতি হয় তা নয়, দুর্নীতি সর্বজন স্বীকৃত।

সাইন বোর্ড না থাকলেও হয়ত দুর্নীতি হবে, তবে জনসমাজে এ ধরনের ‘দুর্নীতি’অন্তত একটি নীতিতে পরিণত হবে না!

একটি গল্প মনে পড়ে গেল। ব্যাংকে ডাকাত ঢুকে সব টাকা পয়সা নিয়ে যাবার বেলা হঠাৎ দুইজন গ্রাহক ডাকাতদের দেখে ফেলে। গ্রাহক দুইজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তারা ব্যাংকে এসেছিল মূলত টাকা তুলতে। তো ডাকাতদের মধ্যে একজন হঠাৎ বন্দুক সামনের দিকে ধরে জিজ্ঞেস করল- এই কে দেখেছিস আমাদের? সত্যি কথা বল, নইলে গুলি করে দুজনকেই মেরে ফেলব? স্বামী তাড়াহুড়ো করে উত্তরে বলল- আমি না, আমার স্ত্রী দেখেছে।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন