বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করছে ইয়ুথ হাব
jugantor
বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করছে ইয়ুথ হাব

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া  

২১ মে ২০২২, ২৩:৪৫:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

ইয়ুথ হাব একটি যুব নেতৃত্বাধীন সংস্থা, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাথে সঙ্গতি রেখে টেক শিক্ষা, উদ্যোক্তা, সামাজিক উদ্ভাবন এবং যুব উন্নয়নে কাজ করছে।

পাভেল সারওয়ার (বাংলাদেশ), সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী (বাংলাদেশ) এবং নিরাজ ভুসাল (নেপাল) এই সহ-প্রতিষ্ঠাতারা ইয়ুথ হাব প্রতিষ্ঠা করেছেন; যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও যুবকদের মধ্যে একটি খুব সহজ কিন্তু শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়- আপনি যা পছন্দ করেন তা করুন, অন্যদের অনুপ্রাণিত করুন এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করুন।

ইয়ুথ হাব তরুণদের উৎপাদনশীল এবং যোগ্য নাগরিক হওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে এবং বিশেষ করে মেয়েদের, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তায় শিক্ষিত ও সক্ষম করতে কাজ করছে। সংস্থাটি শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের শক্তিকে একত্রিত করে পরিবর্তন তৈরি করছে যাতে প্রতিটি যুবকের ভবিষ্যতের জন্য জীবনের এবং দক্ষতার সর্বোত্তম সূচনা হয়। আজ পর্যন্ত তাদের প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষাদিক বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছে।

ইয়ুথ হাব মূলত মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও নেপাল ভিত্তিক হলেও নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা সহ অন্যান্য কয়েকটি দেশে প্রকল্প ও চেপ্টার রয়েছে।

ইয়ুথ হাবের সভাপতি পাভেল সারওয়ার বলেন, আমরা মূলত ৬ থেকে ১৬ এবং ১৭ থেকে ৩৫ এই দুইটি বয়স ভিত্তিক শ্রেণী নিয়ে কাজ করছি। আমাদের অন্যতম একটি উদ্যোগ হল "স্কুল কোডার্স" যার উদ্দেশ্য হল ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর সাথে পরিচিত করা, তাদের কোডিং সম্পর্কে মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো, শিক্ষার্থীদের তাদের স্কুল জীবন থেকে কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট করা, আইসিটি ও স্টেম এবং বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত তাদের দক্ষতা উন্নত করা। 'কোড' লিখতে, আইসিটি ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে এবং বিভিন্ন তথ্য পেতে সাহায্য করা।

ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ভিবিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী শিশু-কিশোর সহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সহযোগিতায় দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের স্কুল পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, স্থানীয় মালয়েশিয়ান ও প্রবাসী বাংলাদেশি ১০০০ এর বেশি শিশু কিশোর ইয়ুথ হাব থেকে স্ক্রেচ, পাইথন, এমআইটি এপ ইনভেন্টর, এপ মেকার প্লাস শিখছে।

এছাড়া মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রবাসী শিশু কিশোরদের নিয়ে "মুজিব ও বাংলাদেশ" হ্যাকাথনের আয়োজন করে। প্রবাসী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর অংশীদার কাঁরতে ২০১৭ সাল থেকে কোডিং কোর্স, বিভিন্ন কর্মশালা, বুট ক্যাম্প এর আয়োজন করছে।

গার্লস ইন আইসিটি- এই উদ্যোগটি স্থানীয় মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেয়ে এবং তরুণীদের লক্ষ্য করে যারা আইসিটি এবং স্টেমের প্রতি আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি, যদি মেয়েরা আইসিটি”র সঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন কাজ এবং পদ্ধতিগুলি বুঝতে পারে, তাহলে তারা তাদের সম্প্রদায়, তাদের কর্মস্থলে এবং সরকারে কীভাবে আইসিটি ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে গভীর ধারণা পাবে। ইয়ুথ হাব সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষার প্রচারের জন্য "মেয়েদের জন্য সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা" ইভেন্টের আয়োজন করে আসছে।

আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিরাজ ভুসাল (নেপাল) বলেন, শিক্ষা অপেক্ষা গ্রহণযোগ্য আর কোনো কিছুই হতে পারে না। বিশেষত আমাদের উদ্যোগ গুলো প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজের আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে। এ লক্ষ্যে যুবকদের, স্কুলের শিক্ষার্থী, একাডেমিক, উদ্যোক্তা, শিল্প বিশেষজ্ঞ, পিতামাতা, সরকারী কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারকদের একত্রে আনার জন্য নিরলস কাজ করছি।

সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, প্রোগ্রামিং ওয়ার্কশপ, স্কুল হলিডে প্রোগ্রাম, ক্যারিয়ার টক, ওপেন হাউস ডে, গার্লস ইনোভেশন বুট ক্যাম্প, সামিট ও কনফারেন্স এর আয়োজন করে ইয়ুথ হাব।

একজন শিশুর ধীরে ধীরে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠা বেশিরভাগই একজন যোগ্য এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিক্ষকের উপর নির্ভর করে। সেজন্য আমরা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তাই আমরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্থরের শিক্ষকদের গুগল ফর এডুকেশনের উপর বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে শিক্ষাকে আরও ফলপ্রসূ এবং অর্থবহ করে তুলি।

১৮ থেকে ৩৫ বছর পর্যায়ে উদ্যোক্তা দক্ষতা অর্জনের জন্য যুবক, শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা, শিল্প বিশেষজ্ঞ, সরকারী কর্মকর্তাদের এক প্ল্যাটফর্মের অধীনে নিয়ে আসার লক্ষ্যে স্কুলপ্রেইনার কাজ করছে। ইয়ুথ হাব উদ্যোক্তাদের তথ্য, সহায়তা, পরামর্শদাতা এবং ক্যারিয়ার বিকাশের প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

ইয়ুথ হাবের সাধারন সম্পাদক সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী বলেন, আমরা তরুণদের দক্ষতা উন্নীত করার জন্য অনেক প্রকল্প চালাচ্ছি। আমরা প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, ঞঠঊঞ (ঃবপযহরপধষ ধহফ াড়পধঃরড়হধষ বফঁপধঃরড়হ ধহফ ঃৎধরহরহম), উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা এবং বিশ্বব্যাপী লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করছি।

সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী বলেন, পিরিয়ড নারীদের জন্য একটি প্রাকৃতিক শারীরিক প্রক্রিয়া, যা তাদের সুস্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু বাংলাদেশে এটি অবহেলিত। স্যানিটারি ন্যাপকিনের অপর্যাপ্ত ব্যবহারের কারণে মারাত্মক সংক্রমণ, এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। বেশিরভাগ মহিলারা তাদের স্বামী, বাবা বা ভাইকে এই পণ্যগুলি কিনতে বলতে লজ্জা বা দ্বিধা বোধ করেন। বাংলাদেশে মাত্র ১৪% মহিলা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছেন এবং অনেকেই তাদের পিরিয়ডে অস্বাস্থ্যকর থাকেন।
এ সমস্যা সমাধানে ইয়ুথ হাব ত্রিকোণোমিতি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে। সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ ও পিরিয়ড সচেতনাতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৭ হাজার নারীদের মাঝে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করেছে।

এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বাংলাদেশের যেকোনো দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানো, বিশেষ করে শীতের সময় শীতার্তদের জন্য গরম পোশাক ও বন্যা এর সময় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে। লকডাউনের সময় মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা সহ বাংলাদেশ বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিনামূল্যে কোরআন বিতরণ, স্কুলে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছে।

করোনা মহামারীর শুরুর দিকে ইয়ুথ হাব ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ নামের উদ্যোগটি গ্রহণ করে। ঘরে বসেও পথ দেখানো সম্ভব এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী গুগল ম্যাপে বিভিন্ন জরুরি সেবার স্থান গুলো যুক্ত করা হয়। এই উদ্যোগে ৩১ হাজারের বেশি তরুণ তরুণী লক্ষাধিক নতুন স্থান ম্যাপে যূক্ত করে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে একটি বড় প্রভাব তৈরি করে।

নানাবিধ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংস্থাটির যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। শিশু-কিশোর, যুব, নারী উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক কাজের অবদানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সম্মাননা ও সনদ গ্রহণ করে সংগঠনটি।
এছাড়া ইয়ুথ হাব সরকারি বেসকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সস্থা এর সাথে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন সভা সেমিনারের নিয়মিত আয়োজন করে আসছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইয়ুথ হাব কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী তরুণ ও নারীদের আত্ম উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।

তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্বের দরবারে উঁচুতে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করছে ইয়ুথ হাব।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করছে ইয়ুথ হাব

 আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া 
২১ মে ২০২২, ১১:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইয়ুথ হাব একটি যুব নেতৃত্বাধীন সংস্থা, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাথে সঙ্গতি রেখে টেক শিক্ষা, উদ্যোক্তা, সামাজিক উদ্ভাবন এবং যুব উন্নয়নে কাজ করছে।

পাভেল সারওয়ার (বাংলাদেশ), সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী (বাংলাদেশ) এবং নিরাজ ভুসাল (নেপাল) এই সহ-প্রতিষ্ঠাতারা ইয়ুথ হাব প্রতিষ্ঠা করেছেন; যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও যুবকদের মধ্যে একটি খুব সহজ কিন্তু শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়- আপনি যা পছন্দ করেন তা করুন, অন্যদের অনুপ্রাণিত করুন এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করুন।

ইয়ুথ হাব তরুণদের উৎপাদনশীল এবং যোগ্য নাগরিক হওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে এবং বিশেষ করে মেয়েদের, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তায় শিক্ষিত ও সক্ষম করতে কাজ করছে। সংস্থাটি শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের শক্তিকে একত্রিত করে পরিবর্তন তৈরি করছে যাতে প্রতিটি যুবকের ভবিষ্যতের জন্য জীবনের এবং দক্ষতার সর্বোত্তম সূচনা হয়। আজ পর্যন্ত তাদের প্রকল্পের মাধ্যমে  লক্ষাদিক বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছে।

ইয়ুথ হাব মূলত মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও নেপাল ভিত্তিক হলেও নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা  সহ অন্যান্য কয়েকটি দেশে প্রকল্প ও চেপ্টার রয়েছে।

ইয়ুথ হাবের সভাপতি পাভেল সারওয়ার বলেন, আমরা মূলত ৬ থেকে ১৬ এবং ১৭ থেকে ৩৫ এই দুইটি বয়স ভিত্তিক শ্রেণী নিয়ে কাজ করছি। আমাদের অন্যতম একটি উদ্যোগ হল "স্কুল কোডার্স" যার উদ্দেশ্য হল ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর সাথে পরিচিত করা, তাদের কোডিং সম্পর্কে মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো, শিক্ষার্থীদের তাদের স্কুল জীবন থেকে কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট করা, আইসিটি ও স্টেম এবং বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত তাদের দক্ষতা উন্নত করা। 'কোড' লিখতে, আইসিটি ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি তরুণদের  অনুপ্রাণিত করতে এবং বিভিন্ন তথ্য  পেতে সাহায্য করা।

ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ভিবিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী শিশু-কিশোর সহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সহযোগিতায় দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের স্কুল পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, স্থানীয় মালয়েশিয়ান ও প্রবাসী বাংলাদেশি ১০০০ এর বেশি শিশু কিশোর ইয়ুথ হাব থেকে স্ক্রেচ, পাইথন, এমআইটি এপ ইনভেন্টর, এপ মেকার প্লাস শিখছে।

এছাড়া মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রবাসী শিশু কিশোরদের নিয়ে "মুজিব ও বাংলাদেশ" হ্যাকাথনের আয়োজন করে। প্রবাসী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর অংশীদার কাঁরতে ২০১৭ সাল থেকে কোডিং কোর্স, বিভিন্ন কর্মশালা, বুট ক্যাম্প এর আয়োজন করছে।

গার্লস ইন আইসিটি-  এই উদ্যোগটি স্থানীয় মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেয়ে এবং তরুণীদের লক্ষ্য করে যারা আইসিটি এবং স্টেমের প্রতি আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি, যদি মেয়েরা আইসিটি”র সঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন কাজ এবং পদ্ধতিগুলি বুঝতে পারে, তাহলে তারা তাদের সম্প্রদায়, তাদের কর্মস্থলে এবং সরকারে কীভাবে আইসিটি ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে গভীর ধারণা পাবে। ইয়ুথ হাব সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষার প্রচারের জন্য "মেয়েদের জন্য সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা" ইভেন্টের আয়োজন করে আসছে।

আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিরাজ ভুসাল (নেপাল) বলেন, শিক্ষা অপেক্ষা  গ্রহণযোগ্য আর কোনো কিছুই হতে পারে না। বিশেষত আমাদের উদ্যোগ গুলো প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজের আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে। এ লক্ষ্যে যুবকদের, স্কুলের শিক্ষার্থী, একাডেমিক, উদ্যোক্তা, শিল্প বিশেষজ্ঞ, পিতামাতা, সরকারী কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারকদের একত্রে আনার জন্য নিরলস কাজ করছি।

সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, প্রোগ্রামিং ওয়ার্কশপ, স্কুল হলিডে প্রোগ্রাম, ক্যারিয়ার টক, ওপেন হাউস ডে, গার্লস ইনোভেশন বুট ক্যাম্প, সামিট ও কনফারেন্স এর আয়োজন করে ইয়ুথ হাব।

একজন শিশুর ধীরে ধীরে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠা বেশিরভাগই একজন যোগ্য এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিক্ষকের উপর নির্ভর করে। সেজন্য আমরা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তাই আমরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্থরের শিক্ষকদের গুগল ফর এডুকেশনের উপর বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ  এর মাধ্যমে শিক্ষাকে আরও ফলপ্রসূ এবং অর্থবহ করে তুলি।

১৮ থেকে ৩৫ বছর পর্যায়ে উদ্যোক্তা দক্ষতা অর্জনের জন্য যুবক, শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা, শিল্প বিশেষজ্ঞ, সরকারী কর্মকর্তাদের এক প্ল্যাটফর্মের অধীনে নিয়ে আসার লক্ষ্যে স্কুলপ্রেইনার কাজ করছে। ইয়ুথ হাব উদ্যোক্তাদের তথ্য, সহায়তা, পরামর্শদাতা এবং ক্যারিয়ার বিকাশের প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

ইয়ুথ হাবের সাধারন সম্পাদক সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী বলেন, আমরা তরুণদের দক্ষতা উন্নীত করার জন্য অনেক প্রকল্প চালাচ্ছি। আমরা প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, ঞঠঊঞ (ঃবপযহরপধষ ধহফ াড়পধঃরড়হধষ বফঁপধঃরড়হ ধহফ ঃৎধরহরহম), উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা এবং বিশ্বব্যাপী লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করছি।

সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী বলেন, পিরিয়ড নারীদের জন্য একটি প্রাকৃতিক শারীরিক প্রক্রিয়া, যা তাদের সুস্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু বাংলাদেশে এটি অবহেলিত। স্যানিটারি ন্যাপকিনের অপর্যাপ্ত ব্যবহারের কারণে মারাত্মক সংক্রমণ, এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। বেশিরভাগ মহিলারা তাদের স্বামী, বাবা বা ভাইকে এই পণ্যগুলি কিনতে বলতে লজ্জা বা দ্বিধা বোধ করেন। বাংলাদেশে মাত্র ১৪% মহিলা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছেন এবং অনেকেই তাদের পিরিয়ডে অস্বাস্থ্যকর থাকেন।
এ সমস্যা সমাধানে ইয়ুথ হাব ত্রিকোণোমিতি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে। সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ ও পিরিয়ড সচেতনাতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৭ হাজার নারীদের মাঝে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করেছে।

এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে  রোহিঙ্গাদের  স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বাংলাদেশের যেকোনো দূর্যোগে  ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানো, বিশেষ করে শীতের সময় শীতার্তদের জন্য গরম পোশাক ও বন্যা এর সময় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে। লকডাউনের সময় মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা সহ বাংলাদেশ বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিনামূল্যে কোরআন বিতরণ, স্কুলে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছে।

করোনা মহামারীর শুরুর দিকে ইয়ুথ হাব ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ নামের উদ্যোগটি গ্রহণ করে।  ঘরে বসেও পথ দেখানো সম্ভব এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী  গুগল ম্যাপে বিভিন্ন জরুরি সেবার স্থান গুলো যুক্ত করা হয়। এই উদ্যোগে ৩১ হাজারের বেশি  তরুণ তরুণী লক্ষাধিক নতুন স্থান ম্যাপে যূক্ত করে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে একটি বড় প্রভাব তৈরি করে। 

নানাবিধ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংস্থাটির যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। শিশু-কিশোর, যুব, নারী উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক কাজের অবদানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সম্মাননা ও সনদ গ্রহণ করে সংগঠনটি।
এছাড়া ইয়ুথ হাব সরকারি বেসকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সস্থা এর সাথে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন সভা সেমিনারের নিয়মিত আয়োজন করে আসছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইয়ুথ হাব কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী তরুণ ও নারীদের আত্ম উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।

তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্বের দরবারে উঁচুতে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করছে ইয়ুথ হাব।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন