কর্মী নিয়োগে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অটল মালয়েশিয়ার কয়েকটি সংস্থা
jugantor
কর্মী নিয়োগে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অটল মালয়েশিয়ার কয়েকটি সংস্থা

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে  

২৮ জুন ২০২২, ২৩:৫০:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার শুরু থেকেই নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট না করার দাবি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। সবার জন্য বাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি তাদের।

এদিকে ২৬ জুন রোববার জাতীয় সংসদে পয়ন্টে অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে, মালয়েশিয়ায় র্কমী পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘টালবাহানা’ না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কোনো সিন্ডিকেটে না করে সব রিক্রুটিং এজন্সেরি জন্য কর্মী পাঠানোর সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।

এর মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের ২৫ এজেন্সির মাধ্যমে বাজার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে দেশটির কয়েকটি সংস্থা।

মালয়েশিয়ার লেবার ল রিফর্ম কোয়ালিশন (এলএলআরসি), মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) এবং মালয়েশিয়া এইচআর ফোরাম বলছে, সবার জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখা উচিত। কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে মালয়েশিয়ার শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২৭ জুন মালয়েশিয়ান এমপ্লার্স ফেডারেশনের (এমইএফ) সভাপতি দাতুক সৈয়দ হুসেন হুসমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারের পদক্ষেপকে "শুধুমাত্র নামকরা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সাথে লেনদেন এবং অসাধু মধ্যস্থতাকারীদের এড়াতে" নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পদক্ষেপকে দেখেন।

এদিকে নিয়োগকর্তাদের আদেশ পূরণের জন্য কর্মীদের প্রয়োজন, কিন্তু শ্রমিকদের জন্য আমাদের হতাশা, আমরাও চাই না যে আমাদের পণ্যগুলো সীমান্তে কাস্টমস দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হোক, যেমনটি সম্প্রতি কিছু মালয়েশিয়ান কোম্পানির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেক করে সৈয়দ হুসেন বলেন, ৯ মার্চ মার্কিন কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক শ্রম ব্যবহার করার কারণে মালয়ার পাম তেলের ৪.১৮ মিলিয়ন মূল্যের পণ্যও চালান বাজেয়াপ্ত করেছে। উপরন্তু, গত বছর, মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর তৈরি গ্লাভসের বেশ কয়েকটি বড় চালানও একই ধরনের অভিযোগের কারণে জব্দ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি কোটা নির্ধারণ করেনি যেখান থেকে অভিবাসী শ্রম নিতে সম্মত হয়েছে।

লেবার ল রিফর্ম কোয়ালিশন (এলএলআরসি) চেয়ারম্যান এন গোপাল কিশনাম বলছেন, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কীভাবে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারাও বাধ্যতামূলক শ্রমের জন্য আংশিকভাবে দায়ী। কোম্পানির মালিকরা নয়, তবে তাদের অধীনস্থরা আংশিকভাবে দায়ী।

মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সি বেছে নিয়েছে, এজেন্সিগুলোর নাম প্রকাশ করেনি। মালয়েশিয়া এইচআর ফোরামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরুলকুমার সিঙ্গারাভেলু বলেছেন, একটি স্বনামধন্য এজেন্সি নির্বাচন করার এবং একচেটিয়াকরণ এড়ানোর সর্বোত্তম উপায় ছিল এজেন্সি নির্বাচনের জন্য একটি উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া, যেখানে উভয় দেশ দ্বারা যৌথভাবে নির্বাচিত একটি স্বাধীন দল কাজ করত।

এদিকে এমটিইউসির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এফেন্ডি আব্দুল গনি বলছেন, এমটিইউসি বছরের পর বছর ধরে দেশ নির্বিশেষে সরকার টু সরকার (জিটুজি) সরাসরি বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে আমরা প্রবর্তিত যে কোনও প্রক্রিয়াকে সমর্থন করি যতক্ষণ না এটি তৃতীয় পক্ষ, এজেন্ট, আউটসোর্সিং কোম্পানি বা নিয়োগকর্তাদের জড়িত না করে।

মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান মালয়েশিয়ার আইন প্রণেতা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে পড়েছেন, ২৫টি এজেন্সি কোটা ঘোষণার পর বাংলাদেশের অসংখ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে৷ ২০ জুন সারাভানান ঘোষণা করেছিলেন, ২৫টি এজেন্সির সাথে আরও ২৫০টি এজেন্সিকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত করা হবে। এ ঘোষণায় আবার বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্নমতের মুখোমুখি হয়েছেন মানবসম্পদমন্ত্রী।

সারাভানান বলছেন, বাংলাদেশি ২৫ এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মানবপাচারসহ অভিবাসী ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অবস্থান উন্নত করতে। অভিবাসন একটি বৈশ্বিক এবং জটিল সমস্যা; যা অবশ্যই সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক জারি করা ব্যক্তি পাচারের বার্ষিক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বর্তমানে একটি প্রতিকূল অবস্থানে রয়েছে এবং এটি অবশ্যই সূক্ষ্মভাবে মোকাবেলা করা উচিত বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

কর্মী নিয়োগে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অটল মালয়েশিয়ার কয়েকটি সংস্থা

 আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে 
২৮ জুন ২০২২, ১১:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার শুরু থেকেই নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট না করার দাবি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। সবার জন্য বাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি তাদের।

এদিকে ২৬ জুন রোববার জাতীয় সংসদে পয়ন্টে অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে, মালয়েশিয়ায় র্কমী পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘টালবাহানা’ না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কোনো সিন্ডিকেটে না করে সব রিক্রুটিং এজন্সেরি জন্য কর্মী পাঠানোর সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।

এর মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের ২৫ এজেন্সির মাধ্যমে বাজার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে দেশটির কয়েকটি সংস্থা।

মালয়েশিয়ার লেবার ল রিফর্ম কোয়ালিশন (এলএলআরসি), মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) এবং মালয়েশিয়া এইচআর ফোরাম বলছে, সবার জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখা উচিত। কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে মালয়েশিয়ার শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২৭ জুন মালয়েশিয়ান এমপ্লার্স ফেডারেশনের (এমইএফ) সভাপতি দাতুক সৈয়দ হুসেন হুসমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারের পদক্ষেপকে "শুধুমাত্র নামকরা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সাথে লেনদেন এবং অসাধু মধ্যস্থতাকারীদের এড়াতে" নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পদক্ষেপকে দেখেন।

এদিকে নিয়োগকর্তাদের আদেশ পূরণের জন্য কর্মীদের প্রয়োজন, কিন্তু শ্রমিকদের জন্য আমাদের হতাশা, আমরাও চাই না যে আমাদের পণ্যগুলো সীমান্তে কাস্টমস দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হোক, যেমনটি সম্প্রতি কিছু মালয়েশিয়ান কোম্পানির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেক করে সৈয়দ হুসেন বলেন, ৯ মার্চ মার্কিন কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক শ্রম ব্যবহার করার কারণে মালয়ার পাম তেলের ৪.১৮ মিলিয়ন মূল্যের পণ্যও চালান বাজেয়াপ্ত করেছে। উপরন্তু, গত বছর, মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর তৈরি গ্লাভসের বেশ কয়েকটি বড় চালানও একই ধরনের অভিযোগের কারণে জব্দ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি কোটা নির্ধারণ করেনি যেখান থেকে অভিবাসী শ্রম নিতে সম্মত হয়েছে।

লেবার ল রিফর্ম কোয়ালিশন (এলএলআরসি) চেয়ারম্যান এন গোপাল কিশনাম বলছেন, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কীভাবে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারাও বাধ্যতামূলক শ্রমের জন্য আংশিকভাবে দায়ী। কোম্পানির মালিকরা নয়, তবে তাদের অধীনস্থরা আংশিকভাবে দায়ী।

মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সি বেছে নিয়েছে, এজেন্সিগুলোর নাম প্রকাশ করেনি। মালয়েশিয়া এইচআর ফোরামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরুলকুমার সিঙ্গারাভেলু বলেছেন, একটি স্বনামধন্য এজেন্সি নির্বাচন করার এবং একচেটিয়াকরণ এড়ানোর সর্বোত্তম উপায় ছিল এজেন্সি নির্বাচনের জন্য একটি উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া, যেখানে উভয় দেশ দ্বারা যৌথভাবে নির্বাচিত একটি স্বাধীন দল কাজ করত।

এদিকে এমটিইউসির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এফেন্ডি আব্দুল গনি বলছেন, এমটিইউসি বছরের পর বছর ধরে দেশ নির্বিশেষে সরকার টু সরকার (জিটুজি) সরাসরি বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে আমরা প্রবর্তিত যে কোনও প্রক্রিয়াকে সমর্থন করি যতক্ষণ না এটি তৃতীয় পক্ষ, এজেন্ট, আউটসোর্সিং কোম্পানি বা নিয়োগকর্তাদের জড়িত না করে।

মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান মালয়েশিয়ার আইন প্রণেতা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে পড়েছেন, ২৫টি এজেন্সি কোটা ঘোষণার পর বাংলাদেশের অসংখ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে৷ ২০ জুন সারাভানান ঘোষণা করেছিলেন, ২৫টি এজেন্সির সাথে আরও ২৫০টি এজেন্সিকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত করা হবে। এ ঘোষণায় আবার বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্নমতের মুখোমুখি হয়েছেন মানবসম্পদমন্ত্রী।

সারাভানান বলছেন, বাংলাদেশি ২৫ এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মানবপাচারসহ অভিবাসী ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অবস্থান উন্নত করতে। অভিবাসন একটি বৈশ্বিক এবং জটিল সমস্যা; যা অবশ্যই সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক জারি করা ব্যক্তি পাচারের বার্ষিক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বর্তমানে একটি প্রতিকূল অবস্থানে রয়েছে এবং এটি অবশ্যই সূক্ষ্মভাবে মোকাবেলা করা উচিত বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান।
 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন