অসহায়দের পাশে কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম
jugantor
অসহায়দের পাশে কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম

  রাজীব আহসান, কানাডা থেকে  

১৯ আগস্ট ২০২২, ২৩:১৯:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার গাবতলী থানার সোনারায় ইউনিয়নের সাবেকপাড়া গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সুদূর কানাডায় প্রবাস জীবনযাপন করলেও মাতৃভূমির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায় নিজ গ্রামের গরিব ও বেকার যুবকদের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। এছাড়া গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, প্রবাস জীবনযাপন করলেও হৃদয়ে থাকে বাংলাদেশ। নিজ গ্রামের গরিব দুঃখী মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নিজস্ব তহবিল থেকে গরিব দুস্থ ও অসহায় জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছি। এদের মধ্যে যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না তাদেরকে নগদ টাকা সাহায্য দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এ পর্যন্ত মোট ১৯ জন গরিব, অসহায় ও দুস্থকে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছি।

তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য- এ চেতনা থেকেই যাদের থাকার ঘর নেই, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট ভোগ করছেন, তাদের নতুন ঘরের ব্যবস্থা করেছি। এ পর্যন্ত মোট ৪ জন গরিব মানুষকে নতুন টিনের ঘরের ব্যবস্থা করেছি।

গ্রামের ছোট ছেলেমেয়ে বয়স্ক মহিলাদের ইসলামিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিল্ডিং করে মক্তব স্থাপন করেছি এবং মক্তবকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য একজন ম্যানেজার, একজন মহিলা ও একজন পুরুষ মাওলানা নিয়োগ দিয়েছি। যেখানে সকালে ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের ও বিকালে বয়স্ক মহিলারা শিক্ষা গ্রহণ করেন। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের নাস্তার ব্যবস্থা করেছি, যাতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় উৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে আমার মা-বাবার নাম অনুসারে রইছ উদ্দিন শাহ বাবু এবং লাইলী খাতুন এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা চালু করেছি। যেখানে একজন হাফেজ শিক্ষকসহ মোট ১৫ জন এতিম ও গরিব বাচ্চারা প্রতিপালিত হবে এবং ভবিষ্যতে হাফেজ হবে। এছাড়াও এলাকায় বন্যার সময় বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করেছি এবং কোভিড-১৯-এর সময় গরিব দুস্থ মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, আলুসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি এবং পুরো রমজান মাসে গরিব দুস্থদের ইফতারিসহ খাবারের ব্যবস্থা করেছি।

নুরুল ইসলাম বলেন, নিজ বংশের মসজিদ টিন শেড থেকে বিল্ডিংয়ে রূপান্তর এবং উন্নয়নের জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকা দান করেছি এবং পার্শ্ববর্তী আরও ৪টি মসজিদ উন্নয়নের জন্য ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি।

নুরুল ইসলাম পীরগাছা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ঢাকা সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে বিএ পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে জাপানি ভাষা শেখেন। তিনি প্রায় ৮ বছর জাপানে ছিলেন এবং সেখানে উচ্চতর অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অব কম্পিউটার সায়েন্স এবং ডিপ্লোমা অন কুলিনারি আর্টস করেন।

তিনি বাংলা, ইংলিশ, জাপানিজ, হিন্দি ও উর্দু ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভারত, বাহরাইন, জাপান, হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালটা, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা। সর্বশেষ কানাডাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

নুরুল ইসলাম নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করে রেস্টুরেন্ট বিজনেসের পাশাপাশি ট্রান্সপোর্ট বিসনেস, গ্রোসারি বিসনেসসহ বিভিন্ন বিসনেসের সাথে জড়িত এবং কানাডাতে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী।

নুরুল ইসলাম ১৯৬৮ সালে সাবেকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত রইছ উদ্দিন শাহ বাবু, মাতা মৃত লাইলী খাতুন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়।

নূরুল ইসলামের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রী রুমা ইসলাম একজন গৃহিণী।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

অসহায়দের পাশে কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম

 রাজীব আহসান, কানাডা থেকে 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১১:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার গাবতলী থানার সোনারায় ইউনিয়নের সাবেকপাড়া গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সুদূর কানাডায় প্রবাস জীবনযাপন করলেও মাতৃভূমির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায় নিজ গ্রামের গরিব ও বেকার যুবকদের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। এছাড়া গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, প্রবাস জীবনযাপন করলেও হৃদয়ে থাকে বাংলাদেশ। নিজ গ্রামের গরিব দুঃখী মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নিজস্ব তহবিল থেকে গরিব দুস্থ ও অসহায় জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছি। এদের মধ্যে যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না তাদেরকে নগদ টাকা সাহায্য দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এ পর্যন্ত মোট ১৯ জন গরিব, অসহায় ও দুস্থকে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছি।

তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য- এ চেতনা থেকেই যাদের থাকার ঘর নেই, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট ভোগ করছেন, তাদের নতুন ঘরের ব্যবস্থা করেছি। এ পর্যন্ত মোট ৪ জন গরিব মানুষকে নতুন টিনের ঘরের ব্যবস্থা করেছি।

গ্রামের ছোট ছেলেমেয়ে বয়স্ক মহিলাদের ইসলামিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিল্ডিং করে মক্তব স্থাপন করেছি এবং মক্তবকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য একজন ম্যানেজার, একজন মহিলা ও একজন পুরুষ মাওলানা নিয়োগ দিয়েছি। যেখানে সকালে ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের ও বিকালে বয়স্ক মহিলারা শিক্ষা গ্রহণ করেন। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের নাস্তার ব্যবস্থা করেছি, যাতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় উৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে আমার মা-বাবার নাম অনুসারে রইছ উদ্দিন শাহ বাবু এবং লাইলী খাতুন এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা চালু করেছি। যেখানে একজন হাফেজ শিক্ষকসহ মোট ১৫ জন এতিম ও গরিব বাচ্চারা প্রতিপালিত হবে এবং ভবিষ্যতে হাফেজ হবে। এছাড়াও এলাকায় বন্যার সময় বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করেছি এবং কোভিড-১৯-এর সময় গরিব দুস্থ মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, আলুসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি এবং পুরো রমজান মাসে গরিব দুস্থদের ইফতারিসহ খাবারের ব্যবস্থা করেছি।

নুরুল ইসলাম বলেন, নিজ বংশের মসজিদ টিন শেড থেকে বিল্ডিংয়ে রূপান্তর এবং উন্নয়নের জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকা দান করেছি এবং পার্শ্ববর্তী আরও ৪টি মসজিদ উন্নয়নের জন্য ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি।

নুরুল ইসলাম পীরগাছা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ঢাকা সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে বিএ পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে জাপানি ভাষা শেখেন। তিনি প্রায় ৮ বছর জাপানে ছিলেন এবং সেখানে উচ্চতর অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অব কম্পিউটার সায়েন্স এবং ডিপ্লোমা অন কুলিনারি আর্টস করেন।

তিনি বাংলা, ইংলিশ, জাপানিজ, হিন্দি ও উর্দু ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভারত, বাহরাইন, জাপান, হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালটা, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা। সর্বশেষ কানাডাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

নুরুল ইসলাম নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করে রেস্টুরেন্ট বিজনেসের পাশাপাশি ট্রান্সপোর্ট বিসনেস, গ্রোসারি বিসনেসসহ বিভিন্ন বিসনেসের সাথে জড়িত এবং কানাডাতে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী।

নুরুল ইসলাম ১৯৬৮ সালে সাবেকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত রইছ উদ্দিন শাহ বাবু, মাতা মৃত লাইলী খাতুন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়।

নূরুল ইসলামের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রী রুমা ইসলাম একজন গৃহিণী।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন