সরকারি খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর দাবি
jugantor
সরকারি খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর দাবি

  সাদেক রিপন, কুয়েত থেকে  

১৯ আগস্ট ২০২২, ২৩:৩৩:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ও প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে কর্মের খোঁজে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পাড়ি জমান দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে পরবাসে। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা বসবাস করেন। এদের বড় একটি অংশ রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়ায়।

অদক্ষ অর্ধশিক্ষিত বাংলাদেশি তরুণরা প্রবাসে এসে কৃষিকাজে, নির্মাণ শ্রমিক, ক্লিনিং, স্থানীয়দের বাসাবাড়ির কাজ, সিকিউরিটি, কলকারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এসব কাজে পরিশ্রম বেশি হলেও মজুরি কম। কোনোরকমে পরিবার চলে। নিজের সুখ-আনন্দ ত্যাগ করে পরিবারের সদস্যদের সুখের আশায় ছুটে চলা এই মানুষগুলো যখন স্ট্রোক করে, দুর্ঘটনায় অথবা অসুস্থ হয়ে মারা যায় বিদেশের মাটিতে- তখন এই প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠাতে হয় নিজ খরচে। মালিকের পক্ষ হতে সহযোগিতা করা হয় নামমাত্র, বেশিরভাগ সময় কোনো ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয় না। তখন কমিউনিটির বিভিন্ন নেতা ঘুরে ঘুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে মরদেহ দেশে পাঠাতে হয়। যার ভাগ্যে সেটাও জোটে না, তার মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে পড়ে থাকে মাসের পর মাস।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার কুয়েত প্রবাসী নুর আলম মোল্লা বলেন, আমাদের বলা হয় রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমাদের বৈধপথে পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মারা গেলে পরিচিতজনের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে ও চাঁদা তুলে তাদের মরদেহ দেশে পরিবারের কাছে পাঠাতে হয়। অনেকের ভাগ্যে সেটাও জুটে না। ফলে তাদের মরদেহ পড়ে থাকে হাসপাতালের মর্গে। দেশে আত্মীয়স্বজনরা অপেক্ষায় থাকেন কবে আসবে প্রবাসীর মরদেহ, শেষবারের জন্য দুচোখ ভরে দেখবেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ, বিদেশের মাটিতে কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ যেন সরকারি খরচে পরিবার ও স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

কুয়েত মীরসরাই সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অন্য প্রবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তারপর মরদেহ দেশে পাঠাতে হয়। সরকার ইচ্ছা করলে বিনাখরচে রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ বিমানের মাধ্যমে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

সরকারি খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর দাবি

 সাদেক রিপন, কুয়েত থেকে 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১১:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ও প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে কর্মের খোঁজে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পাড়ি জমান দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে পরবাসে। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা বসবাস করেন। এদের বড় একটি অংশ রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়ায়।

অদক্ষ অর্ধশিক্ষিত বাংলাদেশি তরুণরা প্রবাসে এসে কৃষিকাজে, নির্মাণ শ্রমিক, ক্লিনিং, স্থানীয়দের বাসাবাড়ির কাজ, সিকিউরিটি, কলকারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এসব কাজে পরিশ্রম বেশি হলেও মজুরি কম। কোনোরকমে পরিবার চলে। নিজের সুখ-আনন্দ ত্যাগ করে পরিবারের সদস্যদের সুখের আশায় ছুটে চলা এই মানুষগুলো যখন স্ট্রোক করে, দুর্ঘটনায় অথবা অসুস্থ হয়ে মারা যায় বিদেশের মাটিতে- তখন এই প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠাতে হয় নিজ খরচে। মালিকের পক্ষ হতে সহযোগিতা করা হয় নামমাত্র, বেশিরভাগ সময় কোনো ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয় না। তখন কমিউনিটির বিভিন্ন নেতা ঘুরে ঘুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে মরদেহ দেশে পাঠাতে হয়। যার ভাগ্যে সেটাও জোটে না, তার মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে পড়ে থাকে মাসের পর মাস।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার কুয়েত প্রবাসী নুর আলম মোল্লা বলেন, আমাদের বলা হয় রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমাদের বৈধপথে পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মারা গেলে পরিচিতজনের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে ও চাঁদা তুলে তাদের মরদেহ দেশে পরিবারের কাছে পাঠাতে হয়। অনেকের ভাগ্যে সেটাও জুটে না। ফলে তাদের মরদেহ পড়ে থাকে হাসপাতালের মর্গে। দেশে আত্মীয়স্বজনরা অপেক্ষায় থাকেন কবে আসবে প্রবাসীর মরদেহ, শেষবারের জন্য দুচোখ ভরে দেখবেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ, বিদেশের মাটিতে কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ যেন সরকারি খরচে পরিবার ও স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

কুয়েত মীরসরাই সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অন্য প্রবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তারপর মরদেহ দেশে পাঠাতে হয়। সরকার ইচ্ছা করলে বিনাখরচে রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ বিমানের মাধ্যমে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন