হয়তো দুই দিন পরে ভাববে, আগে ভাবলে ক্ষতি কী
jugantor
হয়তো দুই দিন পরে ভাববে, আগে ভাবলে ক্ষতি কী

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১২:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

কিছুদিন আগে আমি সুইডেনের একটি পত্রিকায় ‘রেডিওর প্রচলন তখন আর এখন’ নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম। মূলত আমার ছোটবেলার স্মৃতিচারণে যে সব ইনোভেনশনের কথা বেশি মনে পড়ে, ব্যবহারিক দিক দিয়ে তার মধ্যে রেডিও নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে। কারণ বিনোদনের মাধ্যমগুলোর মধ্যে যেমন- সিনেমা, টেলিভিশন, বাইস্কপ, থিয়েটার, নর্তক, যাত্রা এসব কিছুর প্রচলন থাকা সত্ত্বেও রেডিও ছিল আমার বেশি প্রিয় ছোটবেলায়। সুইডেনে সরাসরি রেডিওর দেখা মেলেনি; তবে গাড়িতে বা টেলিফোনে রেডিও শোনার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন কিছু যখন আবিস্কৃত হয় স্বাভাবিকভাবে সবার নজর কিন্তু সেদিকেই যায়। যেমন- প্রথম টেলিফোনের আবিষ্কার হলো কথা বলার জন্য আজ সেই টেলিফোন কি শুধু কথা বলার জন্য ব্যবহার হচ্ছে? না। আমি যে প্রতিদিন লিখি সে কাজটিও কিন্তু টেলিফোনের মাধ্যমেই করে থাকি।

দেখা যাচ্ছে- আমরা মানুষ জাতি দিন দিন সবকিছু একজায়গা আনতে চেষ্টা করছি। আমরা যদি আমাদের নিয়ে ভাবি তাহলে দেখা যাচ্ছে আমরা সবকিছুর সমন্বয় ঘটাতে চেষ্টা করছি এবং যেটা সম্ভব হচ্ছে না তার কারণ ধরাছোঁয়ার বাইরে বিধায়। কিন্তু আমাদের ধ্যানে সেটা বিরাজমান। এসব দিকগুলো বিবেচনা করলে মনে হয় আমাদের অবদান উদ্ভাবনে নয় বরং আবিষ্কারে তারপরও আমরা উদ্ভাবন শব্দটি ব্যবহার করি। আমি এখনও দেখিনি আমরা যা নেই তেমন কিছু সৃষ্টি করেছি কারণ যা কিছু ইনোভেটিভ তার মূলে যে রহস্য রয়েছে তার নাম স্রষ্টা। তবে আমরা যে শক্তি এবং জ্ঞান পেয়েছি স্রষ্টার থেকে তার ব্যবহার করে নতুন নতুন জিনিসপত্র আবিষ্কার করে চলছি।

বেশি দিনের কথা নয় এমনকি এখনো প্রচলন রয়েছে সারা বিশ্বে যেমন কেনাকাটি করতে আমরা নানা দোকানে যাই। যেমন- সোনা কিনতে সোনার দোকানে যাই, মাছ কিনতে মাছের দোকানে যাই। আবার ইদানীং এমনও জায়গা রয়েছে যেমন একটি বড় মলে ঢুকলে সবকিছুই কিন্তু একই জায়গায় পাওয়া সম্ভব। তাহলে কি দাঁড়ালো ব্যাপারটা? আমরা প্রযুক্তি, আমাদের সেন্স, সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বয় ঘটাতে চেষ্টা করে চলছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিন্তু আমরা সফল হচ্ছি। বিষয়টি আরো একটি পরিস্কার করি। আজকের বাজারের টেলিফোন যাকে স্মার্ট ফোন বলছি, কী নেই এর মধ্যে ভাবুন! এবং কীভাবে সম্ভব হলো সবকিছুকে একত্রিত করা! তবে একত্রিত করার আগে প্রথমে কিন্তু এক এক করে সব কিছুর উদ্ভাবন বা আবিষ্কার করা লেগেছে। এখন যদি বলি পৃথিবীতে শত শত ধর্মের চর্চা রয়েছে এটাও আস্তে আস্তে একটি ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। শুধু তাই না আমাদের ভাবনায় আমরা নানাভাবে স্রষ্টাকে ভাগ বণ্টন করে নিয়েছি, সেটারও সংশোধন হয়ে যাবে সময়ের সাথে। আমরা মানুষ জাতি ধাপে ধাপে একটি পৃথিবী, একটি বিশ্বাস, একটি স্রষ্টা এই লক্ষ্যে যেদিন উপনীত হব সেদিন কি তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? আর সমাধান যদি হয়েই যায় তাহলে বেঁচে থাকার কি আর দরকার থাকবে?

তেল ফুরিয়ে গেলে আলো নিভে যাবে,
জ্ঞান ফুরিয়ে গেল মানুষ জ্ঞানহীন হবে।
শক্তি ফুরিয়ে গেলে মানুষ শক্তিহীন হবে,
রহস্য ফুরিয়ে গেলে কি সব শেষ হয়ে যাবে!

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

হয়তো দুই দিন পরে ভাববে, আগে ভাবলে ক্ষতি কী

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
০১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কিছুদিন আগে আমি সুইডেনের একটি পত্রিকায় ‘রেডিওর প্রচলন তখন আর এখন’ নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম। মূলত আমার ছোটবেলার স্মৃতিচারণে যে সব ইনোভেনশনের কথা বেশি মনে পড়ে, ব্যবহারিক দিক দিয়ে তার মধ্যে রেডিও নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে। কারণ বিনোদনের মাধ্যমগুলোর মধ্যে যেমন- সিনেমা, টেলিভিশন, বাইস্কপ, থিয়েটার, নর্তক, যাত্রা এসব কিছুর প্রচলন থাকা সত্ত্বেও রেডিও ছিল আমার বেশি প্রিয় ছোটবেলায়। সুইডেনে সরাসরি রেডিওর দেখা মেলেনি; তবে গাড়িতে বা টেলিফোনে রেডিও শোনার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন কিছু যখন আবিস্কৃত হয় স্বাভাবিকভাবে সবার নজর কিন্তু সেদিকেই যায়। যেমন- প্রথম টেলিফোনের আবিষ্কার হলো কথা বলার জন্য আজ সেই টেলিফোন কি শুধু কথা বলার জন্য ব্যবহার হচ্ছে? না। আমি যে প্রতিদিন লিখি সে কাজটিও কিন্তু টেলিফোনের মাধ্যমেই করে থাকি।

দেখা যাচ্ছে- আমরা মানুষ জাতি দিন দিন সবকিছু একজায়গা আনতে চেষ্টা করছি। আমরা যদি আমাদের নিয়ে ভাবি তাহলে দেখা যাচ্ছে আমরা সবকিছুর সমন্বয় ঘটাতে চেষ্টা করছি এবং যেটা সম্ভব হচ্ছে না তার কারণ ধরাছোঁয়ার বাইরে বিধায়। কিন্তু আমাদের ধ্যানে সেটা বিরাজমান। এসব দিকগুলো বিবেচনা করলে মনে হয় আমাদের অবদান উদ্ভাবনে নয় বরং আবিষ্কারে তারপরও আমরা উদ্ভাবন শব্দটি ব্যবহার করি। আমি এখনও দেখিনি আমরা যা নেই তেমন কিছু সৃষ্টি করেছি কারণ যা কিছু ইনোভেটিভ তার মূলে যে রহস্য রয়েছে তার নাম স্রষ্টা। তবে আমরা যে শক্তি এবং জ্ঞান পেয়েছি স্রষ্টার থেকে তার ব্যবহার করে নতুন নতুন জিনিসপত্র আবিষ্কার করে চলছি।

বেশি দিনের কথা নয় এমনকি এখনো প্রচলন রয়েছে সারা বিশ্বে যেমন কেনাকাটি করতে আমরা নানা দোকানে যাই। যেমন- সোনা কিনতে সোনার দোকানে যাই, মাছ কিনতে মাছের দোকানে যাই। আবার ইদানীং এমনও জায়গা রয়েছে যেমন একটি বড় মলে ঢুকলে সবকিছুই কিন্তু একই জায়গায় পাওয়া সম্ভব। তাহলে কি দাঁড়ালো ব্যাপারটা? আমরা প্রযুক্তি, আমাদের সেন্স, সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বয় ঘটাতে চেষ্টা করে চলছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিন্তু আমরা সফল হচ্ছি। বিষয়টি আরো একটি পরিস্কার করি। আজকের বাজারের টেলিফোন যাকে স্মার্ট ফোন বলছি, কী নেই এর মধ্যে ভাবুন! এবং কীভাবে সম্ভব হলো সবকিছুকে একত্রিত করা! তবে একত্রিত করার আগে প্রথমে কিন্তু এক এক করে সব কিছুর উদ্ভাবন বা আবিষ্কার করা লেগেছে। এখন যদি বলি পৃথিবীতে শত শত ধর্মের চর্চা রয়েছে এটাও আস্তে আস্তে একটি ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। শুধু তাই না আমাদের ভাবনায় আমরা নানাভাবে স্রষ্টাকে ভাগ বণ্টন করে নিয়েছি, সেটারও সংশোধন হয়ে যাবে সময়ের সাথে। আমরা মানুষ জাতি ধাপে ধাপে একটি পৃথিবী, একটি বিশ্বাস, একটি স্রষ্টা এই লক্ষ্যে যেদিন উপনীত হব সেদিন কি তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? আর সমাধান যদি হয়েই যায় তাহলে বেঁচে থাকার কি আর দরকার থাকবে?

তেল ফুরিয়ে গেলে আলো নিভে যাবে,
জ্ঞান ফুরিয়ে গেল মানুষ জ্ঞানহীন হবে।
শক্তি ফুরিয়ে গেলে মানুষ শক্তিহীন হবে,
রহস্য ফুরিয়ে গেলে কি সব শেষ হয়ে যাবে!

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর